06/02/2023
লাল চালের উপকারিতা!
সুস্বাস্থ্যের জন্য লাল চাল খাওয়ার উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা হলো—
হজম প্রক্রিয়াতে
লাল চালে ফাইবার বা আঁশ থাকে। বেশি বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার সুফলের মধ্যে রয়েছে—
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা পাওয়া
নিয়মিত পায়খানার অভ্যাস তৈরি হওয়া
কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যাওয়া
ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
লাল চালে অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। এই ধরনের ফাইবার হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি নাড়িভুঁড়ির ভেতরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরিতে অবদান রাখে। এসব ব্যাকটেরিয়া পেটের সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া রোধে
চালে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকে। কার্বোহাইড্রেট ভেঙে আমাদের রক্তে সুগার তৈরি হয়। যেই খাবারগুলো খেলে রক্তে আস্তে আস্তে সুগারের পরিমাণ বাড়ে, হুট করে অনেক বেড়ে যায় না—সেই খাবারগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
সাদা চালের ভাত রক্তে সুগারের পরিমাণ খুব দ্রুত বাড়ায়। শরীর খুব তাড়াতাড়ি এই চাল ভেঙে সুগার তৈরি করতে পারে। ফলে অল্প সময়ে রক্তের সুগার অনেক বেড়ে যায়।
অন্যদিকে লাল চালের ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এটি ভাঙতে শরীরের বেশ সময় লাগে। রক্তে সুগারের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন কম প্রয়োজন হয়। সেই সাথে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। এভাবে লাল চাল টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমায় এবং রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
হৃৎপিণ্ডের সুস্থতায়
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীর রোগসহ অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে লাল চালের মতো পূর্ণশস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা বেশি পূর্ণশস্য খায় তাদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কম থাকে।
দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে
লাল চালের কুড়ায় ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’ নামক কিছু রোগ প্রতিরোধক পদার্থ থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়াও লাল চাল ও অন্যান্য পূর্ণশস্য হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
লাল চালে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের কোষের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে। এভাবেও এটি হৃদরোগ, ক্যান্সার ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায় লাল চালের ভাত, ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
লাল চাল খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ
আপনার যদি মনে হয় যে আপনি খাদ্যাভ্যাসে একটা পরিবর্তন আনবেন, রিফাইন্ড গ্রেইনের বদলে হোলগ্রেইন বা গোটা শস্যদানা বেশী খাবেন, তাহলে আপনার জন্য ৩টি পরামর্শ।
১. আস্তে আস্তে শুরু করুন। প্রথমে নতুন কিছু খেলে সেটার স্বাদ ভালো না-ই লাগতে পারে। একেবারে পুরোটা না বদলে অল্প অল্প করে বদলাতে পারেন।
সাদা ভাতের সাথে কিছু লাল ভাত মিশিয়ে খেলেন। রুটি খেলে একটা সাদা আটার রুটি, তার সাথে একটা লাল আটার রুটি খেলেন। তারপর ধীরে ধীরে আপনি হয়তো সেই স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।
২. ভাত রুটি ছাড়াও অন্যান্য হোলগ্রেইন খেতে পারেন। যেমন, নাস্তায় খাওয়ার জন্য ওটস কিনে রাখতে পারেন।
৩. অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। লাল আটা ও চাল খেলেই যে পরিমাণে বেশী খাওয়া যাবে, তা কিন্তু না। সুষম খাবারের অংশ হিসেবে আপনি লাল চাল আর লাল আটা পরিমাণ মতো খাবেন।
সাধারণত দেখা যায় আমরা পুরো প্লেট ভাত নিয়ে অল্প একটু তরকারি দিয়ে খাই। এটা না করে চেষ্টা করবেন প্রতি বেলায় প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি ফলমূল রাখতে।
লাল চাল খাওয়ার ঝুঁকি
আর্সেনিক
সাধারণ চালের মতো লাল চালেও সামান্য আর্সেনিক থাকে। এই ক্ষুদ্র পরিমাণ আর্সেনিক ক্ষতিকর নয়। তবে বছরের পর বছর একটানা লাল চাল খাওয়া চালিয়ে গেলে সেটি বিপদজনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
আর্সেনিকের ঝুঁকি কমাতে চাইলে চাল বেশি করে পানি দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়। যেমন, নির্দিষ্ট পরিমাণ লাল চালে ৬ গুণ পানি দিয়ে রান্না এবং ভাত সেদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত পানি ফেলে দিয়ে খেলে আর্সেনিকের পরিমাণ কমে যায়। এ ছাড়া লাল চালের পাশাপাশি অন্যান্য পূর্ণশস্য (যেমন: লাল আটার রুটি) খেলেও আর্সেনিকের ঝুঁকি কমে।
অ্যালার্জি
যদিও চালে সাধারণত অ্যালার্জি দেখা যায় না, কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। লাল চালে অ্যালার্জি থাকলে বমি বা পেট খারাপ হতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে, র্যাশ অথবা মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। আপনার যদি মনে হয় চালে আপনার অ্যালার্জি রয়েছে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।