12/01/2026
আমরা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) নিয়ে বেশি কথা বলি, কিন্তু লো ব্লাড প্রেশার বা নিম্ন রক্তচাপও অনেক ক্ষেত্রে সমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। লো ব্লাড প্রেশার বলতে সাধারণত রক্তচাপ 90/60 mmHg-এর নিচে থাকাকে বোঝায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি জন্মগতভাবে কম থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না, তবে অনেকের জন্য এটি হতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
লো ব্লাড প্রেশার হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিশেষ করে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও কিডনিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, দুর্বলতা, মনোযোগের অভাব এমনকি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, দীর্ঘদিন অসুস্থ রোগী ও নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে লো ব্লাড প্রেশারকে হালকাভাবে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
অনেক সময় পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে সাময়িকভাবে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। আবার কখনো এটি হতে পারে হরমোনজনিত সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা হৃদরোগের পূর্বাভাস। তাই লো ব্লাড প্রেশারের কারণ জানা এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতন পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লো ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করুন। গরম আবহাওয়া, জ্বর, ডায়রিয়া বা বেশি ঘাম হলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা উপকারী। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত লবণ গ্রহণ উপকারী হতে পারে। কারণ সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত লবণ হৃদরোগ ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিজে নিজে মাত্রা বাড়াবেন না। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল, ফোলেট ও আয়রনযুক্ত খাবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট লো ব্লাড প্রেশারে সহায়ক।
লো ব্লাড প্রেশার সবসময় আলাদা কোনো রোগ না হলেও এটি শরীরের ভেতরের অসামঞ্জস্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে কারণ শনাক্ত করা গেলে এবং খাদ্যাভ্যাস, পানি পানের পরিমাণ ও জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই রক্তচাপকে স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম ও নিয়মিত খাবার গ্রহণ, প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ ব্যবহার, পুষ্টিকর ফলমূল ও আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য এই সাধারণ বিষয়গুলো লো ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা থেকে বিরত থাকাও সমান জরুরি।
ডা. মো: আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ