শিশু চিকিৎসক ডাঃ আলমগীর হোসেন শিমুল

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • শিশু চিকিৎসক ডাঃ আলমগীর হোসেন শিমুল

শিশু চিকিৎসক ডাঃ আলমগীর হোসেন শিমুল A page about your child's health and well-being from a child physician.

শিশুর অপুষ্টি নিয়ে আজ একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যসমৃদ্ধ, চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত কিন্তু সহজবোধ্য আলোচনা করলাম যা প্রতিটি বাবা–মায়...
23/12/2025

শিশুর অপুষ্টি নিয়ে আজ একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যসমৃদ্ধ, চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত কিন্তু সহজবোধ্য আলোচনা করলাম যা প্রতিটি বাবা–মায়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও শিক্ষণীয়।

শিশুর অপুষ্টি (Malnutrition): করণীয়, কারণ, লক্ষণ, ডায়াগনসিস ও ব্যবস্থাপনা — পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন।

শিশুর অপুষ্টি বলতে বোঝায় যখন শিশু তার বয়স, ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না—ফলে তার বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক/শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

⭐ ১. শিশু অপুষ্টি কেন হয়? (Causes)

শিশু অপুষ্টির জন্য একাধিক কারণ জড়িত থাকে—

ক. পুষ্টিকর খাবারের অভাব শিশুর অপুষ্টি হয়
• পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার না খাওয়া
• খাদ্যে প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজের ঘাটতি থাকা

খ. শিশুর খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া
• শিশু রোগে আক্রান্ত হলে
• শিশুর বমি/ডায়রিয়া হলে
• আয়রন, জিঙ্কের ঘাটতি হলে

গ. শিশুর শরীরে ও রক্তে বারবার ইনফেকশন হওয়া
• শিশুর ঘন ঘন ডায়রিয়া হলে
• শিশুর বারে বারে নিউমোনিয়া হলে
• শিশুর দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন যক্ষ্মা বা TB হলে

শিশুর পেটে কৃমির সংক্রমণ হওয়া Worm infestation
→ কৃমি শরীর পেটের অভ্যন্তরীণ রক্ত চুষে খেয়ে শিশুর রক্ত থেকে পুষ্টি কমিয়ে দেয়।

ঘ. শিশুর ভুল খাদ্যাভ্যাস
• শিশুকে শুধুই দুধ খাওয়ানো হলে (২ বছরের পর)
• খাবারের সময় মোবাইল/টিভি দেখানো হলে
• জাঙ্ক ফুড খেলে
• কোমল পানীয়ের অভ্যাস হলে

ঙ. শিশুর সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ
• অর্থনৈতিক সমস্যা
• পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার অভাব
• মায়ের অজ্ঞতা
• মায়ের অপুষ্টি

চ. শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা রোগ
• শিশুর হৃদপিন্ডের রোগ
• ডায়াবেটিস মেলাইটাস
• হরমোন জনিত রোগ
• শিশুর জেনেটিক রোগ ইত্যাদি

⭐ ২. শিশু অপুষ্টির লক্ষণ (Symptoms & Signs)

দৃশ্যমান লক্ষণ
• খুব শুকিয়ে যাওয়া, হাত–পা পাতলা
• পেট ফুলে থাকা বা বড়ো দেখা
• চুল ঝরে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া
• ত্বক শুষ্ক, ফাটা, দাগ
• চোখ অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে

বৃদ্ধির সমস্যা
• ওজন ঠিকমতো না বাড়া (weight faltering)
• উচ্চতা কমে যাওয়া (stunting)
• বয়স অনুযায়ী BMI কম

আচরণগত পরিবর্তন
• দুর্বলতা, বেশি কান্নাকাটি
• খেতে না চাওয়া
• মনোযোগ কমে যাওয়া

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা
• বারবার ঠান্ডা–জ্বর
• বারবার ডায়রিয়া
• ক্ষত সারতে সময় লাগা

⭐ ৩. শিশু অপুষ্টির ধরণ (Types of Malnutrition)

(১) Acute malnutrition (বদ–ওজন / wasting)
• দ্রুত ওজন কমে যায়
• গুরুতর হলে Severe Acute Malnutrition (SAM)

(২) Chronic malnutrition (খাটো বৃদ্ধি / stunting)
• দীর্ঘদিন ধরে অপুষ্টির কারণে উচ্চতা কমে যায়

(৩) Underweight
• বয়স অনুযায়ী ওজন কম

(৪) Micronutrient deficiency
• আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন A, D, B12, Folate ইত্যাদির ঘাটতি

⭐ ৪. কিভাবে বাবা-মা বুঝবেন শিশুর অপুষ্টি হয়েছে?

বাড়িতে লক্ষ্য করার বিষয়
• যেভাবে বয়স বাড়ছে, সে তুলনায় ওজন বাড়ছে না
• আগের মতো খেতে চায় না
• কয়েক সপ্তাহ/মাস ধরে অল্প অল্প খাচ্ছে
• একই বয়সি বাচ্চাদের তুলনায় শিশুটি বেশি দুর্বল বা খাটো

শিশু বিশেষজ্ঞ কর্তৃক অপুষ্ট শিশুর যা যা মেপে দেখা হয় :
• Weight-for-height Z-score
• MUAC (Mid Upper Arm Circumference)
• Edema
• BMI-for-age

MUAC < 11.5 cm = SAM (গুরুতর অপুষ্টি)
MUAC 11.5–12.5 cm = Moderate malnutrition

⭐ ৫. শিশুর অপুষ্টি নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা
• রক্ত পরীক্ষা
• CBC (অ্যানিমিয়া বা রক্ত শুন্যতা মেপে দেখা হয়)
• Serum albumin
• Serum Electrolytes
• Vitamin D
• Serum B12
• Serum Ferritin
• iron profile
• পায়খানা পরীক্ষা করে
- Worm infestation হয়েছে কিনা বোঝা যায়
- GI malabsorption হয়েছে কিনা বোঝা যায়
• অন্যান্য পরীক্ষা
- TB screening (বারবার অসুখ হলে)
- Thyroid profile ( শারীরিক বৃদ্ধি কম হলে)

⭐ ৬. এখন করণীয় (Management Plan)

এ অংশটি বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

🍀 (১) শিশুকে পুষ্টিকর খাবার সঠিক সময়ে দেওয়া

১–২ বছরের শিশু (প্রতি দিনে ৫–৬ বার খাবার খাওয়ানো)
প্রতিবার এনার্জি ডেন্স খাবার খাওয়ানো
প্রতিদিন:
• ডিম
• খিচুড়ি
• মুগডাল
• ঘরে তৈরি করা দই
• কলা
• ভাত + ডিম ভাজা বা মাছ/মাংস
• শাক
• সবজি

২–৫ বছরের শিশু (প্রতি দিন ৩ টি বড় মিল খাওয়ানো + ২–৩ টি স্ন্যাক্স খাওয়ানো)
প্রতিদিন:
• ১–২ টি ডিম
• ১ গ্লাস দুধ
• মাংস/মাছ
• সবজি, ফল
• গুঁড়ো দুধ + কলা + বাদাম দিয়ে স্মুদি

স্কুল–গোয়িং শিশু

শুধুমাত্র পারিবারিক খাবার
• জাঙ্ক ফুড শতভাগ বন্ধ বা নিষিদ্ধ
• হেলদি ব্রেকফাস্ট
• Lunchbox:
- ডিম স্যান্ডউইচ
- চিকেন-ভেজিটেবল রোল
- ফল

🍀 (২) বিশেষ পুষ্টি (Therapeutic foods)

গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুকে হাসপাতালের শিশু বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী:
• RUTF (Ready to Use Therapeutic Food)
• F-75, F-100 ডায়েট

🍀 (৩) ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট

• Multivitamin syrup
• Zinc
• Iron (শিশুর রক্তের CBC রিপোর্ট অনুযায়ী)
• Vitamin D3 drops

শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি ঔষধের ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।

🍀 (৪) বারবার ইনফেকশন কমানোর ব্যবস্থা
• Worm treatment ( প্রতি ৬ মাস পরপর)
• হাত ধোয়া
• বিশুদ্ধ পানি
• স্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহার

🍀 (৫) শিশুকে শিশু পুষ্টি বিষয়ক বিশেষজ্ঞর নিয়মিত ফলো–আপ করাতে নিয়ে যাওয়া
• শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে ওজন মাপা
• প্রতি ৩ মাস অন্তর উচ্চতা মাপা
• শিশুর ওজন-উচ্চতার চিত্র গ্রাফে প্লট করা

⭐ ৭. বাবা–মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা (Practical Tips)

✔ খাওয়ানোর সময় মোবাইল/টিভি দেবেন না
✔ জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা না করে খাবারকে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আকর্ষণীয় করুন
✔ প্রতিদিন নতুন খাবার পরিচয় করান
✔ পুরো পরিবার একই খাবার খেলে শিশু উৎসাহিত হয়
✔ ঘরে তৈরি খাবার সবচেয়ে ভালো
✔ অসুখ থেকে সেরে ওঠার সময় শিশুকে অতিরিক্ত পুষ্টি দিন (“catch-up growth”)
✔ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন

⭐ ৮. আপনার শিশুকে কখন শিশু পুষ্টি বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে?

• শিশু একদম খেতে চায় না
• গত ২–৩ মাসে ওজন বাড়েনি
• MUAC < 12.5 cm
•চোখ ঢেবে গেছে
• শিশু বেশি দুর্বল
• শিশুর ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া
• শিশুর হাত–পা ফুলে (edema) গেছে।

⭐ উপসংহার

শিশু পুষ্টি বিষয়ক বিশেষজ্ঞর পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর অপুষ্টি দ্রুত শনাক্ত করে সঠিক সময়ে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন প্রদান । শিশুর শরীরের ও রক্তের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং শিশু পুষ্টি বিষয়ক বিশেষজ্ঞর নিকট নিয়মিত ফলো–আপের মাধ্যমে শিশুর অপুষ্টি ৯০% ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। বাবা–মায়ের সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই শিশুর সুস্থ বিকাশের মূল চাবিকাঠি।

দয়াকরে আপনারা সবাই সচেতন হবেন।

মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা, আপনার সন্তানের জন্য আশীর্বাদ।

পোস্টটি শেয়ার করুন। অসংখ্য বাবা-মায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই পোষ্টটি পড়া অত্যন্ত জরুরী।

ধন্যবাদ 🙏

ডা. মানিক মজুমদার

10/12/2025

এই শীতে কয়েকটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে।
১. রাতে পানি গরম করে ফ্লাক্সে রাখুন।
সকালে ঠান্ডা পানি খাবেন না। পানির সাথে গরম পানি মিশিয়ে দিন জগে একবারে।
বাচ্চাদেরকে বললেও ওরা গরম পানি মিশায় খায় না।
একবারে আপনি মিশায়ে দেন।

২. বাচ্চাদেএ সোয়েটার এর মধ্যে উলের অপশন রাখবেন না। তিনটা বা চারটা রাখবেন যাতে একটা ধুইলে আর তিনটা এভেলেবল থাকে।

৩. আদা, দারচিনি, গোলমরিচ দিয়ে রং চা করে খাওয়াবেন।

৪. রাতে ঘুমানোর সময় এক গ্লাস দুধ সাথে একটু করে হলুদের গুড়া মিশিয়ে খাওয়াবেন। এটাই ন্যাচারাল এন্টিবায়োটিক।

৫. খাবারে রসুনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

৬. শীতের সবজিগুলাই গরম একটু পেটে গ্যাস করে তাই খাবার রান্নার সময় একটু মেথি ফোড়ন দিন।

মেথি হচ্ছে ন্যাচারাল গ্যাসের মেডিসিন।

৭. বাচ্চা সর্দি কাশি লাগলে steambath শুরু করতে হবে।

৮. ক্রিমির মেডিসিন সময় মত দিতে হবে যদি কক্সবাজার ঘুরে আসেন তাহলে মেডিসিন আবার দিতে হবে।

৯. বাচ্চাদের কে থেকে প্রতিদিন গোসল করানোর দরকার নেই এখন একদিন পরপর করাবেন, চুলে যে ন মোটেও পানি না থাকে এমন ভাবে মুছবেন। চুল ভেজা থাকলেই এদের ঠান্ডা লেগে যায়।

১০. সকালবেলা একটু ভেজলিন লাগিয়ে দিন শিশুর নাকের চারপাশে এতে করে শুকনা সর্দি জমে থাকবে না।

১১. ভিটামিন সি চুষতে দেন।

১২. আপনি যদি gluthathaon নিতে থাকেন তাহলে অবশ্যই সাথে c vit নিতে হবে

১৩.ভিটামিন ডি লেভেল যাদের 15 থেকে ২৫ এর ভিতরে
তারা ভিটামিন ডি ৪০ হাজার সপ্তাহে দুইবার নিবেন। সাথে ম্যাগনেসিয়াম নিবেন।

১৪.রোদে বসলে ভারী কাপড় চোপড় দিয়ে রোদে বসলে তাহলে কোন উপকার হবে না।

১৫. এই শীতে বাচ্চারা প্রচুর ঘামে।

ব্যায়াম বা খেলাধুলার পরে যে ঘামটা আসে সেটার একটা নিয়ম আছে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে ফেলতে হয়। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিবেন। ঘাম থেকে আসা অবস্থায় যদি বাথরুমে ঢুকে বাচ্চা পানি ঢালতে থাকে অবশ্যই ঠান্ডা লাগবে।

১৬.বিকাল তিনটা বাজলেই ঘরের জানালা সব বন্ধ করে ফেলুন ঘর গরম করে ফেলেন।
বাচ্চারা পড়তে বসলে যাতে কোনভাবেই ঠান্ডা না লাগে।

১৭. যে বাচ্চার কফের রঙ একদম হলুদ হয়ে যাবে সে বাচ্চাকে প্রতিদিন একটু একটু করে গোসল দিতে হবে যাতে পাতলা হয়ে নাক দিয়ে ঝরে চলে আসে।

১৮. যেসব বাচ্চা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে অবশ্যই বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় মাস্ক পড়ান।

১৯. টনসিলের সমস্যা যাদের বড়দের বা বাচ্চাদের অবশ্যই বাইরে যাওয়ার সময় মানকি cap পড়তে হবে।

২০.পিরিয়ডের যেই প্যান্টি গুলো থাকে এগুলো ভালো হবার পরে গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকায়ে খটখোটা করে তারপর রাখবেন। ছয় সাত মাস পরে পাল্টে ফেলুন।

২১. যে বাচ্চা একদম কথা শুনে না গায় কোন গরম কাপড় রাখেনা অনেক বেশি ঠান্ডা যে জায়গায় সেখানে অবশ্যই বাচ্চাকে রসুন তেল মালিশ করে রাখুন।

২২. এখন গ্রামে বেশ ঠান্ডা পড়ছে খুব সাবধানে থাকুন।

২৩. প্রতিদিন নিয়ম করে বাচ্চাকে রোদে দিন।

২৪. সন্ধ্যার পর বাচ্চাদেরকে আর বের না করেন।

২৫. কাশি অনেক বেশি থাকলে ডাক্তার ছাড়া কোন ওষুধ দিবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত বুকে সর্দি বা কফ বসে গেছে কিনা আপনি শিওর না হবেন উল্টাপাল্টা ওষুধ দিবেন না।

২৬. যে বাচ্চার নাক দিয়ে পানি পড়ছে কিন্তু খালি পায়ে হাঁটতেছে ওকে আপনি ঠিকমতো সারায়ে তুলতে পারবেন না।

২৭. ওষুধের থেকেও যত্ন ইম্পরট্যান্ট।

২৮. যে বাচ্চার প্রতিমাসে ঠান্ডা লাগতেছে তার মানে সেই বাচ্চার রক্ত সল্পতা হচ্ছে, ভিটামিন D সল্পতা থাকতে পারে।

২৯. বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরবেন ফিরবেন ঠিক আছে কিন্তু আপনার আনন্দ যেন মাটি না হয় সে ক্ষেত্রে সব প্রিকশনস আপনি নিয়ে রাখবেন। কারণ ও অসুস্থ থাকলে আপনি আনন্দ নিয়ে ঘুরতে পারবেন না।

৩০. দৈনিক একটা কমলা বাচ্চারা খাবে।

আমি এর আগে কখনও টিপিকাল বিকাশ স্ক্যামে পড়িনি। কিন্তু আজ অল্পের জন্য এক স্ক্যাম থেকে বেঁচে গেলাম। আর স্ক্যাম এর চেয়ে বড় ক...
08/12/2025

আমি এর আগে কখনও টিপিকাল বিকাশ স্ক্যামে পড়িনি। কিন্তু আজ অল্পের জন্য এক স্ক্যাম থেকে বেঁচে গেলাম। আর স্ক্যাম এর চেয়ে বড় কথা, এই ঘটনাটা আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে আমরা যে সো কল্ড এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করি এবং আমাদের পার্সোনাল বা প্রোফেশনাল জীবন সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে শেয়ার করি, সেটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

গত রাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তাই আজ প্রায় ৭টার মধ্যেই ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় শুয়েই একটু scroll করছিলাম। হঠাৎ আমার বিজনেস WhatsApp এ একটা নাম্বার থেকে মেসেজ এলো, সঙ্গে একটা কল। নম্বরটা সেভ করা না থাকলেও কলার নেম এ আমার এক Coworker এর নাম ও তার ছবি দেখাচ্ছিল। রিসিভ করে সালাম দিয়েই কল কেটে দিল। ভাবলাম সকাল সকাল হয়তো বিরক্ত করতে চায়নি, তাই কেটে দিয়েছে।

তারপর মেসেজে সেই পরিচিত ব্যক্তির মতো করেই লিখল, "Vai, akta help lagto. Ammu k hospital e admit koraichi, kisu tk lagto bks a." আমি জানতাম যে উনার ammu মাঝে মাঝে অসুস্থ থাকেন। তাই সন্দেহ হয়নি। সরাসরি বললাম বিকাশ নম্বর দিতে এবং কত টাকা পাঠাতে হবে।

সে আরেকটা নম্বর দিল আর বলল ৫০০০ টাকা পাঠাতে। আমি ঠিক পাঠাতে যাব এমন সময় মনে হলো, আমরা তো সব লেনদেন করি ব্যাংকে। বিকাশে নিয়ে হঠাৎ ঝামেলায় গেল কেন এই মানুষটা? তাই WhatsApp এ তাকে কল দিলাম। সে আবার কেটে দিল। বলল, "ভাই, টাকা পাঠান. আমি পরে কথা বলছি." এখানেই শুরু হলো সন্দেহ।

সঙ্গে সঙ্গে Truecaller এ চেক করে দেখি নম্বরটা এবং যেই নম্বরে টাকা পাঠাতে বলেছে সেটাও স্ক্যামারের এর।

এখন মূল কথা হলো, বিকাশ স্ক্যাম তো খুবই প্রচলিত বিষয়। কিন্তু এখানে আমাকে অবাক করেছে কয়েকটা দিক।

১. স্ক্যামার রা এখন আমাদের সোশাল মিডিয়া থেকে ছবি নিয়ে স্ক্যামের কাজে ব্যবহার করছে।

২. তারা আমাদের ফোনের Contact list পর্যন্ত পেয়ে যাচ্ছে, যা সবচেয়ে ভয়ংকর।

৩. তারা যার নামে স্ক্যাম করবে তার ব্যক্তিগত জীবনে কাদের সাথে কেমন সম্পর্ক, কাদের সাথে উঠাবসা সেগুলোউ নজর রাখছে।

হয়তো কিছুদিন পর মানুষ এই স্ক্যাম গুলোকেও শনাক্ত করতে পারবে এবং তখন এই মাদারবোর্ড গুলো আরও নতুন আর আরও ভয়ংকর পদ্ধতি বের করবে।

সবাইকে সাবধানে থাকার অনুরোধ রইল।
Collected

ছবিতে সাদা শার্ট পরা যাকে দেখা যাচ্ছে সে হচ্ছে Downtown Brooklyn এর Chase ব্যাংক এর একটা ব্রাঞ্চ এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার! ও...
08/12/2025

ছবিতে সাদা শার্ট পরা যাকে দেখা যাচ্ছে সে হচ্ছে Downtown Brooklyn এর Chase ব্যাংক এর একটা ব্রাঞ্চ এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার!
ওর নাম হচ্ছে জেরার্ড!

বলে রাখি JP Morgan Chase ব্যাংক হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ব্যাংক!

ওর পাশে ওয়াকার এ বসা মহিলা যাকে দেখা যাচ্ছে সে ব্যাংক এর একজন সাধারন কাস্টমার! এসেছে কিছু টাকা deposit করতে!

পাশে দাঁড়িয়ে জেরার্ড কি করছে জানেন?
ওই কাস্টমারকে কফি বানিয়ে দিচ্ছে! হ্যাঁ, জেরার্ড ছিলো গ্লাস কম্পার্টমেন্ট এর ভিতরে! আর মহিলা তার চেক জমা দিয়ে বসে অপেক্ষা করছিলো! তখন জেরার্ড বের হয়ে এসে তাকে কফি অফার করে ও নিজেই কফি বানিয়ে দেয়! এবং মহিলা ৩ বার সুগার চাইলে ৩ বার সুগার এনে দেয়!

ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হলেও ব্যাংকে ম্যানেজার এর আলাদা কোন রুম বরাদ্দ নাই! সাধারন সকল ব্যাংকারদের সাথেই সে কাজ করে! ব্রাঞ্চে কাস্টমার বেশি হয়ে গেলে জেরার্ড নিজেও একটা উইন্ডোতে বসে কাস্টমার ডিলিং করা শুরু করে দেয়!

এই ব্রাঞ্চে সর্বমোট কর্মকর্তা আছে ৮ জন!
অর্থাৎ, ৮ জন মিলেই এত বড় একটা ব্যাংক এর এত বড় একটা ব্রাঞ্চ কোন ঝামেলা ছাড়াই শেষ করে প্রতিদিন!

আরেকটা বিষয় ৫ টায় ব্যাংক টাইম শেষ হয়! আর ব্যাংক এর সবাই ৫:২০ থেকে ৫:৩০ এর মধ্যে সকল কাজ শেষ করে ব্যাংক বন্ধ করে বের হয়ে যায়!

আর আমাদের দেশে ব্যাংক এর কাজ ৪টায় শেষ করেও সবাই বের হতে হতে ৭/৭:৩০ বাজে! এরা যে কি করে এত সময় এরাই ভালো জানে!
আর এক একটা ব্রাঞ্চে ২০/৩০ জন মানুষ কাজ করে! কিন্তু তাও বিশাল লাইন লেগে থাকে! আর তাদের ব্যাবহার তো না বলাই ভালো!

আর আমাদের এক একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এর কাছে যাওয়াও দুষ্কর! ওনাদের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আগে সালাম দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে কারন উনি কম্পিউটারে আল্লাহ জানে কি জরুরী কাজ করে যে আপনার সালাম এর উত্তর দিবে ১ মিনিট পরে!
১ মিনিট পরে আপনার দিকে এমনভাবে চোখ কুচকে তাকাবে as if আপনি তার পকেট মারতে আসছেন!

আমাদের এত ভাব এর কারনেই ব্যাংক এর এই অবস্থা! সকল ব্যাংক লুটে লুটেরাগুলা ভাগছে!
Courtesy: Shaiful Azam Dipu

06/12/2025

মা ও শিশুর শীতকালীন যত্নের একগুচ্ছ টিপস

লিখেছেন ইশরাত জাহান ইনু

আমাদের দেশে শীতকাল বেশ অল্প সময়ের জন্য আসে।এর ব্যাপ্তিকাল সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর অঞ্চলগুলোতে শীতের তীব্রতা ততটা অনুভূত না হলেও গ্রামাঞ্চলে শীতের বেশ প্রভাব এখনো লক্ষ্যণীয়।

এই সময় মা ও শিশুদের বেশ ভাল রকমের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। নতুবা ঋতু বদলের সাথে সাথে তারা শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়।

বাচ্চাদের যত্ন

বাচ্চাদের রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে একটু দুর্বল হয়। তাই রোগাক্রান্ত হবার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া উত্তম। বাচ্চাদের শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা যায়।

১.এক বছরের বেশি বয়সী বাচ্চা হলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মধু মেশানো গরম পানি দেওয়া যেতে পারে , সাথে দু'এক ফোঁটা আদার রস। মধু এবং আদার রসে ঠান্ডা ,কফ- কাশির জন্য বেশ উপকার পাওয়া যায়।

২. বাচ্চাদের সব সময় হালকা কুসুম গরম পানি খাওয়ানো উচিত। এজন্য প্রয়োজন বোধে সার্বক্ষণিকভাবে একটি ফ্লাক্সে গরম পানি রাখা যায়। শীতে ঠান্ডার জন্য বাচ্চাদের পানি খাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়, যা তাদের শরীরের জন্য ভালো না। কিন্তু এভাবে কুসুম গরম পানি খেতে দিলে বাচ্চাদের চাহিদামত পানি খাওয়ানো যাবে।

৩. বাসায় থাকাকালীন সময়ে বাচ্চাদের মোজা বা স্যান্ডেল পরানো। যাদের ঠান্ডার সমস্যা বেশি তাদের জন্য মোজা পরে স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে থাকা বেশ উপকারী। ফ্লোরের ঠান্ডা মাটিতে হাঁটলে সর্দি-কাশি বেড়ে যেতে পারে।

৪. ফুলস্লিভ জামা বা পাতলা সোয়েটার পরে থাকলে তাদের জন্য আরামদায়ক হবে। বাহিরে বের হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত গরম কাপড়, মাফলার, টুপি, মোজা, হাত মোজা পরিয়ে বাচ্চাদের বের করা উচিত।

৫. যেসব বাচ্চা মাত্র হামাগুড়ি দেয়, শীতকালটা তাদের জন্য তূলনামূলক বেশি বিপদজনক। এ বয়সে বাচ্চারা কোলে থাকতে চায় না । তারা মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াতে চায়। সেক্ষেত্রে তাদের ভারী পাজামা, মোজা ও হাত মোজা পরিয়ে মাটিতে ছাড়া উচিত। সম্ভব হলে বাচ্চার হামাগুড়ি দেওয়ার জায়গা গুলোতে কার্পেট বিছাতে পারলে আরো ভালো হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কার্পেটাকে প্রতিনিয়ত পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে কার্পেটের ধুলোবালি বাচ্চার সর্দি-কাশির কারণ না হয়।

৬. ছোট বাচ্চাদের গরম ভাব বড়দের তুলনায় বেশি। দেখা যায় তারা গায়ে লেপ, কম্বল কিছুই রাখে না, বারবার ফেলে দেয়। আবার ঘেমে তাদের মাথা ভিজে যায়, বালিশ ভিজে যায়। এভাবেও তাদের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এসব বাচ্চাদের ফুল স্লিভ রম্পার জাতীয় জামা পরিয়ে দিলে ঠান্ডার হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়। ফানেল কাপড়ের স্লিপিং স্যুট গুলোও বেশ কাজে দেয়।

৭. আবহাওয়া শুষ্ক থাকার কারণে বাচ্চাদের গাল, ঠোঁট ইত্যাদি ফেটে যায়। চামড়ার রুক্ষ হয়ে যায়। তখন ভ্যাসলিন এবং মশ্চারাইজার ধরনের লোশন ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। খেয়াল রাখবেন, ত্বকের স্পর্শকাতরতার জন্য বাচ্চাদের আর বড়দের এসব টয়লেট্রিজ আইটেমে ভিন্নতা থাকে। তাই তাদের জন্য আলাদা করে কিনুন।

৮. শীতের দিনে সবাই চা, কফি খেতে বেশ পছন্দ করে। বড়দের চা-কফির সময়ে বাচ্চাদের দুধ, হরলিক্স, ওভালটিন (যে যেটা পছন্দ করে) জাতীয় গরম পানীয় খেতে দিলে তাদের জন্য ভালো হবে।

৯. শীতে অনেক বাচ্চাদের-ই সর্দি, হাঁচি, কাশি শুরু হয়ে চলতে থাকে। এক্ষেত্রে গরম পানি, রং চা খাওয়া, গরম ভাপ নেয়া বেশ উপকারী। যেসব বাচ্চাদের ঠান্ডাজনিত এলার্জি সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

১০. শীতের দিনে বাচ্চাদের গোসল করতে চায়না। সে ক্ষেত্রে গোসলের আগে তাদের যদি রোদে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখা যায় এবং তারা খেলাধুলা করে তবে বাসায় ফিরে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে ফেলবে। গোসলের আগে সরিষার তেল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি শরীরে মাখলে তাদের আরাম লাগবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুস্বাস্থ্যের অন্যতম নিয়ামক।

১১. ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ইত্যাদি সমস্যা থাকলে বাসায় দুই দিন দেখার পর জ্বরের মাত্রা যদি না কমে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই নিয়ে যাওয়া উচিত।বিশেষ করে একদম ছোট বাচ্চা যারা কথা বলতে পারে না তাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি সতর্ক থাকা উচিত।

১২. সর্দি-আক্রান্ত ছোট শিশুরা নিজেরা নাক পরিষ্কার করতে পারেনা।সে ক্ষেত্রে নাক পরিষ্কার এর জন্য সাকার (Sucker) ব্যবহার করা যেতে পারে। সাকার দিয়ে নাক পরিষ্কার করা হলে পীড়িত বাচ্চা আরাম বোধ করে।

১৩. শীতের সময় একদম ছোট শিশুদের ডায়াপার পরিয়ে রাখলে বাচ্চা ও মা দুজনেই আরাম পায় । বারবার জামা কাপড়, কাথা নষ্ট হবে না । বাচ্চারও ঠান্ডা লাগবে না। তবে নির্দিষ্ট বিরতিতে ডায়াপার বদলে দেয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরী।

১৪. শীতের সকালের রোদ বেশ নরম ও মিষ্টি হয়।এ সময় মা ও শিশু সবারই শরীরের রোধ লাগানো উচিত। এই রোদে আছে ভিটামিন ডি, যা আমাদের হাড় মজবুত হতে সাহায্য করে। বর্তমান জীবনযাত্রার ধরণের কারণে ভিটামিন ডি’র অভাব বর্তমানে বৈশ্বিক মহামরির পর্যায়ে চলে গেছে। আমাদের শরীরে নানাবিধ সমস্যার সাথে এই ভিটামিনের অভাবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগ আছে এবং সাধারণত খাবার দিয়ে এর চাহিদা পূরণ হয়না। তাই আমাদের সবারই উচিত দিনে ৩০ মিনিট রোদে থাকা।

১৫. আমাদের দেশের বাসা গুলো শীতকালের জন্য উপযোগী না। দরজা-জানালার ফাঁক, ভেন্টিলেটর দিয়ে বাতাস ঢুকে। অনেক ক্ষেত্রে গাছের জন্য বেশ কিছু বাসায় রোদ পড়ে না। এছাড়া উত্তর দিকের বাসাগুলোতে বেশ ঠান্ডা হয়। এসব বাসায় যদি নবজাতক থাকে এবং ছোট বাচ্চা থাকে তবে তারা ঠাণ্ডায় বেশ কষ্ট পায়।সে ক্ষেত্রে যদি রুম হিটার ব্যবহার করা যায় তবে বাচ্চাদের জন্য বেশ উপকার হবে, ঠান্ডায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

১৬. শীতের সময় ভিটামিন-সি জাতীয় ফল যেমন লেবু কমলা মাল্টা আমলকি ইত্যাদি খাবারগুলো বাচ্চাদের বেশি বেশি করে খাওয়ানো যায়। ঠাণ্ডা সমস্যার জন্য ভিটামিন-সি জাতীয় ফল বেশ উপকারী। যেসব বাচ্চারা চিবিয়ে খেতে পারে না তাদের ফলগুলোর রস খাওয়ানো যেতে পারে।

মায়ের যত্ন

১. শীতকালে স্তন্যদানকারী মায়েদের বেশ সতর্ক থাকা উচিত। তারা এমনভাবে কাজ করবেন যাতে তাদের ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

২. থালাবাসন ধোয়া ধুয়ি কাজ করার সময় তারা যদি হাতে গ্লাভস পরে কাজ করতে পারেন তবে উপকার পাবেন। জামা কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করতে পারেন। যদি এভাবে সম্ভব না হয় তবে ধোয়াধুয়ির জন্য তারা সাহায্যকারী নিয়োগ করতে পারেন। অথবা দিনের উষ্ণ সময়ে ধোয়ার কাজ সেরে ফেলতে পারেন।

৩. পানি পানের ক্ষেত্রে হালকা গরম পানি পান করুন। স্তন্যদায়ী মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত। ঠান্ডার কারণে পানি পানের প্রবণতা অনেকেরই কমে যায়। তাই ফ্লাক্সে গরম পানি রাখলে সেটা মিশিয়ে সহজেই কুসুম গরম পানি বারবার খাওয়া যায়।

৪. সকালে ঘুম থেকে উঠে আদা মধু গরম পানি একসাথে মিশিয়ে খেলে তাদের জন্য বেশ উপকারী হবে।আর যদি হালকা ঠান্ডা লেগে যায়, সেক্ষেত্রে আদা- রং চা, মশলা চা বেশ ভালো কাজে দেয়।

৫. আদা মধুর পাশাপাশি এলাচ, দারচিনিও উপকারী। পুরো শীতকাল জুড়ে, বিশেষ করে ঠান্ডা লাগলে কালিজিরা অবশ্যই খাওয়া উচিত৷ সেটা হতে পারে খাবারের সাথে মিশিয়ে যেমন ডাল রান্নার সময় কিছু কালিজিরা দিয়ে দেওয়া৷

৬. পরিষ্কার পরিছন্নতা মায়েদের জন্য খুব জরুরী। মায়েদের গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করে গোসল করা উচিত। এতে তাদের ঠান্ডা লেগে যাবার আশঙ্কা কমে যায়। গোসলের পর যদি তারা রোদে যেতে পারেন, তবে এটি তাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

৭. সদ্য প্রসূতি মা সহ ছোট বাচ্চাদের মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম দরকার হয়। সে ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। মা যদি সুস্থ থাকেন, তবে পুরো পরিবার সুস্থতা ও শান্তি বিরাজ করবে।
শীতে মা ও শিশু দুজনের শরীরে বেশ নাজুক অবস্থায় থাকে। তাই আগে থেকে যদি সতর্ক থাকা যায় তবে রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা অনেকখানি কমে যায়। ঠান্ডা জ্বর সর্দি-কাশি যদি অনেকদিন ধরে হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

যে ৭টি খেলা শিশুদের খেলতে দেবেন না।বাদল সৈয়দ আপনার শিশু পৃথিবীর সম্পদ। আপনি এ সম্পদকে বড় করছেন-এটি অনেক বড় সৌভাগ্য!শিশুক...
05/12/2025

যে ৭টি খেলা শিশুদের খেলতে দেবেন না।
বাদল সৈয়দ

আপনার শিশু পৃথিবীর সম্পদ। আপনি এ সম্পদকে বড় করছেন-এটি অনেক বড় সৌভাগ্য!

শিশুকে গড়ে তোলার সময় আপনাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- সে কী ধরনের খেলা খেলছে।

মুরিব্বিরা বলে গেছেন-
'খেলায় বাড়ে, খেলায় পড়ে।'

এর অর্থ হলো, সঠিক খেলাটি খেললে শিশুর উন্নতি হয় আর বেঠিক খেলা তার সর্বনাশ হয়।

যাতে সর্বনাশ না হয় সেজন্য নিচের সাতটি খেলা বাচ্চাকে খেলতে দেবেন না।

১)
খেলনা বন্দুক দিয়ে খেলা-

আমরা শখ করে বাচ্চাদের অনেক খেলনা বন্দুক কিনে দেই।
সাবধান! ভুলেও এটা করবেন না।

বন্দুক দিয়ে খেললে শিশুদের মনে সহিংসভাব তৈরি হয়। তারা আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে। যা বড় হলেও থেকে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে- বন্দুক দিয়ে অফলাইন বা অনলাইন খেলা শিশুদের মধ্যে Empathy বা সহানুভূতিশীলতা সৃষ্টিতে বাধা দেয়।

২)
ভয় দেখায় এমন খেলা-

শিশুদের অন্ধকারে লুকোচুরি কিংবা ভুতের খেলা খেলতে দেবেন না।

ভয়ের জিনিস যেমন প্লাস্টিকের সাপ/ মাকড়সা এগুলোও ওদের দেবেন না। এগুলোর কারণে ওরা ভয় পেলে তা পরে কাটানো খুব কঠিন হবে।

তাছাড়া, এ জাতীয় খেলা ওদের -

ক. ঘুমের সমস্যা করে।

খ. ওরা দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পায়।

গ. অন্ধকার ভীতি বাড়ে

ঘ. অলীক ভূতের কল্পনায় তারা খুব ভয় পায়।

সব মিলিয়ে এগুলো শিশুদের বিকাশে খুব বড় বাধা।

৩)
বাজি ধরে খেলা-

শিশুদের বাজি ধরা বা পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে লুডু, ক্যারাম বা অন্য কোনো খেলা অ্যালাউ করবেন না।

এগুলো-

ক. তাদের লোভ বাড়ায়।

খ. ভবিষ্যতে জুয়া খেলার সম্ভাবনা তৈরি করে।

গ. তারা চেষ্টা নয়, ভাগ্যে নির্ভর করতে শেখে।

ওদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দিন। যেমন- পরীক্ষায় বা খেলাধুলায় ভালো করলে পুরস্কৃত করুন। কিন্তু পুরস্কার বা বাজি নির্ভর খেলা খেলতে দেবেন না।

৪)
ডেয়ার গেম-

যে খেলায় ঝুঁকি আছে সেটাই ডেয়ার গেম।
যেমন-
‘দেখি তো কতক্ষণ তুমি দম ধরে রাখতে পারো?’
কিংবা
‘সোফা থেকে লাফ দাও তো’-

আমরা বাচ্চাদের সাহসী করার জন্য এধরনের খেলা খেলতে বলি। এগুলো ভুলেও বলবেন না। এসব খেলা শিশুকে সাহসী করে না- বিপদে ফেলে।

এছাড়া, তারা নিজেরাই সমবয়স্কদের সাথে এগুলো খেলে। ওদেরও এগুলো করতে দেবেন না। এসব খেলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

৫)
অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক খেলা-

বাড়িতে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটা আপাতত মুলতবি থাকুক। তাদের এমন কোনো খেলা খেলতে দেওয়া উচিত নয়- যাতে হেরে গেলে সে অপমানিত হয়। তাই বাচ্চাদের খেলায় ফান থাকুক- কম্পিটিশন নয়।

বাড়িতে খেলায় হেরে গেলে-

ক. তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

খ. হীনমন্যতা জন্ম নেয়।

বাড়িতে সবাই খেলুক-সবাই পুরস্কার পাক- সবাই হোক সমান সমান।

তবে স্কুলে ওরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। ওখানে বেশির ভাগ হারে। পুরস্কার পায় কয়েকজন। তাই হেরে যাওয়াটা অতো তিক্ত নয়।

৬)
বুক চেপে ধরা/বালিশ চেপে ধরা খেলা-

শিশুরা অনেক সময় খেলার ছলে বন্ধুর বুক চেপে ধরে। মুখে বালিশ চেপে ধরে। এগুলো করতে দেবেন না।
এধরনের খেলায়-

ক. অক্সিজেন কমে যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

খ. অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মস্তিষ্কের স্থায়ী হতে পারে।

গ. খুব খারাপ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৭)
ভিডিও গেমকে ‘না’ বলুন।

বাচ্চাকে আসক্ত করার জন্য ভিডিও গেমের জুড়ি নেই। আগে যে খেলাগুলোর কথা বলেছি সেগুলোর চেয়ে এটি আরো ভয়ানক।

এতে আসক্তি-

ক. শিশুর চিন্তা করার ক্ষমতা কমায়।

খ. পড়ালেখায় অনীহা তৈরি করে।

গ. মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

ঘ. মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।

ঙ. ঘুমের সমস্যা হয়।

চ. ওরা অসামাজিক হয়ে পড়ে।

বিশ্বসাস্থ্য সংস্থা এগুলোকে Gaming Disorder বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শিশুকে আসক্তিমুক্ত নির্মল শৈশব উপহার দিতে চাইলে ভিডিও গেমকে সিরিয়াসলি 'না' বলুন।

শিশুর সামান্য ক্ষতি মানে পৃথিবীর অনেক বড় ক্ষতি। কথাটা দয়া করে মনে রাখবেন।

শুভকামনা

পাদটীকা: আপনি শিশুদের আর কোন খেলা খেলতে মানা করবেন?

(ছবি: নাতনী- ভাগ্নির মেয়ে। লেখাটি শেয়ার করা যাবে )

#আসুনমায়াছড়াই




অনেক বাবা–মাই বাচ্চা হাঁট দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন, কেননা বাচ্চার দুই কেমন যেনপা ধনুকের মতো বাকা দেখাচ্ছে এবং হাটার প্যাটার...
04/12/2025

অনেক বাবা–মাই বাচ্চা হাঁট দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন, কেননা বাচ্চার দুই কেমন যেনপা ধনুকের মতো বাকা দেখাচ্ছে এবং হাটার প্যাটার্ন ও একটু অস্বাভাবিক মনে হয়, হাঁটার সময় পায়ের মাঝখানে ফাঁকাটা ও একটু বেশি বলে মনে হয়, তাহলে এটি Bow Leg হতে পারে ।
আসলে বো-লেগ ব্যপারটা কী? কেন হয়?

Bow leg মানে পায়ের হাড়গুলো সোজা না থেকে একটু বাহিরের দিকে বাঁকানো থাকা। ২ বছরের নিচের বাচ্চাদের মধ্যে এটি একদম স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, একে Physiological Bow Leg বলে।
বাচ্চা যখন মায়ের পেটে থাকে, তখন বেশির ভাগ সময় পা ভাঁজ করে আঁকড়ে থাকার ভঙ্গিতে থাকার কারণেই জন্মের পর কিছুদিন পা বাঁকানো থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পায়ের হাড় সোজা হতে থাকে, যা স্বাভাবিক । সাধারণত এধরণের বো-লেগ ১৮–২৪ মাস বয়সের মধ্যে পা সোজা হতে শুরু করে।
কিন্তু বাচ্চার বয়স ২ বছরের আসে পাশে বা তার বেশি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বো এর পরিমান বেশি এবং স্বাভাবিক হচ্ছে নাহ, তাহলে বুঝতে হবে এটি এবনরমাল বো-লেগ।
তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চার পা স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক ?
যদি—
● ২-২.৫ বছর পরেও Bow leg কমছে না
● এক পা বেশি বাঁকা, আরেক পা কম (asymmetry)
● হাঁটতে সমস্যা হয়
● ব্যথা থাকে
● খুব বেশি O-শেপ বা ধনুকের আকৃতি দেখা যায় তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

অস্বাভাবিক বো কেন হয় ?
● Rickets (ভিটামিন D/ক্যালসিয়াম ঘাটতি)
● Blount’s disease
● ৮-৯ মাসের আগে ওয়াকার দিয়ে বাবুকে হাটানো।
● W- sitting এ বসা।
● বয়সের তুলনায় ওজন বেশি থাকা ।
● অনেক সময় জেনেটিক কারণে ও হতে পারে।

আপনার বাচ্চার যদি অস্বাভাবিক বো থেকে থাকে, তাহলে এখনি ওয়েট বেয়ারিং তথা হাটা-চলা, দৌড় ঝাপ বন্ধ করান যেন বো এর পরিমান না বাড়ে, এবং দ্রুত একজন অভিজ্ঞ শিশু ডাক্তারের এর শরণাপন্ন হোন।

26/11/2025

নেসলের নিম্নমানের কিটক্যাট চকলেট এবং মেঘনা গ্রুপের "ফ্রেশ" ব্র‍্যান্ডের চিনিতে ক্ষতিকর সালফার ডাই অক্সাইড পাওয়া গেছে বলে আদালতে মামলা হয়েছে। জারি হয়েছে গ্রেফতারী পরোয়ানা। হতবাক হবার কিছু নেই। আমাদের সোনার বাংলায় আমদানি করে আনা অন্যসব চকলেট পরীক্ষা করলেও একই রেজাল্ট আসবে। এই জাতির কাছে ভাল মানের জিনিস দেয়ার তো প্রয়োজন নেই।

শুধু ফ্রেশ এর চিনি কেন, অন্যসব কোম্পানির সাদা চিনি পরীক্ষা করলেও নিশ্চিত সালফার ডাই অক্সাইড পাওয়া যাবে। এগুলো তো শুধু মান পরীক্ষা। সেইফটি বা নিরপদতা পরীক্ষা করলে যে কী ধরা পড়বে সেটা আল্লাহ ভাল জানেন।

সেদিন এক ভ্যানগাড়ির শাক দেখলাম নালার পানি দিয়ে ধুয়ে তুলছে।

শীত এসে গেছে। গুড় তৈরি হচ্ছে পুরো কেমিক্যাল দিয়ে। এক ফোটা রস নেই সেখানে। গরুর দুধ বানানো হচ্ছে কেমিক্যাল দিয়ে। পুরো কেমিক্যালময় এক জাতি!

চমৎকার! এক সাথে এত ভাল প্যাকেজ কোন দেশে পাবেন? কোন দেশের জনগণকে খাওয়ানো যাবে এসব? কোন দেশের সরকার তা সহ্য করে নির্বিকার থাকবে?

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। আহ! কোথায় পাবেন এমন চেতনা!!

ঢাকা ওয়াসার পানিতে PFAS, কীট**নাশক রেসিডিউ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস পাওয়া গেছে। সমানে সবাই কমপক্ষে দুই লিটার করে পানি খেয়ে যাচ্ছি। সেদিন রেজাল্ট প্রকাশের দিন ঢাকা ওয়াশার কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর তারা মাইক নিয়ে অনুরোধ জানালেন এটা যেন প্রকাশ করা না হয়। চমৎকার ভালবাসার আবদার।

এরপর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আর ওয়াশার কেউ যোগাযোগ করেনি। রিপোর্ট নেয়া তো দূরের কথা। আছে কারো কোনো নড়াচড়া!! কোনো রিসার্চ, কোনো চিন্তাভাবনা কারো। মরুক সবাই।

চা পাতায় রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস রেডিয়াম থোরিয়াম ইউরেনিয়াম এন্টিমনি পাওয়া গেল। আছে কারো মাথা ব্যাথা? কোনো নড়াচড়া? না সরকার, না কোম্পানি!!

সয়াবিন তেলে মাত্রাতিরিক্ত হেভি*.মেটাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় তা প্রকাশ পেয়েছে। জার্নালও পাবলিশ হয়েছে। আছে কারো মাথা ব্যাথা? কোনো নড়াচড়া?

মুরগী ডিম মাছ শাকসবজি'র কথা বহুবার বলেছি। অসংখ্য রিসার্চ হয়েছে তা নিয়ে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।

আমাদের ফুড সেইফটি অথোরিটি ভয়ানক ব্যস্ত খাবার তেলে ভিটামিন-এ এবং লবণের আয়োডিন নিয়ে। এটা নিয়ে সেমিনার সিম্পোজিয়ামে বছর কাটে তাদের।

আমার সোনার বাংলা। এখানে যা ইচ্ছা, যা খুশি তাই করা যায়। ২০০% স্বাধীন সবাই।

** শেয়ার বা কপি পেস্ট করলে বাধিত হব। আমার জন্য নয়, আপনার পরিবারের জন্যও দরকার।
@মাহবুব কবির মিলন

একটা রিকুয়েষ্ট করলে রাখবেন? প্লিজ আপনারা বাহিরের খাবার বেশি খাবেন না। পারলে একদম বাদ দিবেন। বাচ্চাদেরকে বাহিরের জুশ/কেক/...
25/11/2025

একটা রিকুয়েষ্ট করলে রাখবেন? প্লিজ আপনারা বাহিরের খাবার বেশি খাবেন না। পারলে একদম বাদ দিবেন। বাচ্চাদেরকে বাহিরের জুশ/কেক/বিস্কুট/কোক/চকলেট/জেলি/সস দিবেন না।
নিজেরাও খাবেন না প্লিজ। বাংলাদেশের খাবারে কি পরিমাণ ভেজাল সেটা আপনারা অনেকেই জানেন। খবর গুলো নিয়মিত দেখবেন, ছোটবেলা থেকেই নিউজ পেপার আর খবর দেখার শখ আমার। প্রতিদিন কম হলেও ১ ঘন্টা আমি নিউজ দেখি, দেশের খবর+আন্তর্জাতিক খবর। আপনারা প্লিজ খাবার নিয়ে সতর্ক থাকবেন। আমাদের দেশে কোনো উন্নত চিকিৎসা নেই। বড়লোকেরা চিকিৎসা করাতে বিদেশ চলে যায় আর আমরা যারা গরিব তাদের জীবন সরকারি হাসপাতালেই চলে যায়৷ আপনি যে ডাক্তার দেখাবেন, ক্লিনিকে যাবেন, সেখানেও দুর্নীতি, ভুয়া ডাক্তার, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, মেশিন নস্ট, মানে কোনোকিছুরই ঠিক নাই। হসপিটাল /ক্লিনিক সব রমরমা বিজনেস!
আপনার কিডনি/লিভার নস্ট হলে এই দেশে আপনি সুচিকিৎসা পাবেন তার কোনো গ্যারান্টি নেই। খাবারের ভিতর আইস্ক্রিম, প্যাকেটের দুধ সবকিছুতেই ভেজাল। বাহিরের কাচ্চি/বিরিয়ানি/রোস্টে টেক্সটাইল ক্যামিকেল মেশানো।
চাল/ডাউল/হলুদগুড়া/মরিচগুড়া সবকিছুতেই রঙ মেশানো। ফিড খাওয়া মাছ/মুরগি।

খাবার নিয়ে আপনারা সচেতন থাকুন। যেহেতু আমাদের দেশে তেমন উন্নত চিকিৎসা নেই।
আপনি একটু খাবার নিয়ে সচেতন থাকলে অনেক রোগ থেকে বেঁচে যাবেন। সংক্ষেপে এতোটুকুই বলতে চাই, সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজন। আর সুস্থতা আল্লাহ তা'আলার বড় নেয়ামত। চেস্টা করবেন কোনো ১টা খাবার খাওয়ার আগে তা ভালোভাবে ডিটেইলসে জানার।

@জোহরা বিনতে মারইয়াম

25/11/2025

আমাদের অনেকেরই ধারণা, আমরা যখন এন্টিবায়োটিক এর ডোজ অসম্পূর্ণ রাখি (মানে ধরেন, ১০ দিনের কোর্স শেষ না করে ৫ দিন খেয়ে বাদ দেই) তখন, শরীরে বেঁচে যাওয়া প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়াগুলো এই এন্টিবায়োটিক-কে চিনে রাখে। এবং এই এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ডিফেন্স মেকানিজম ডেভেলপ করে। ফলে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। একই এন্টিবায়োটিকে আর পরবর্তীতে কাজ হয় না।

❌ না, এটা ঠিক এভাবে হয় না।

⭕ তাহলে, আসলে একটা অরগানিজম কিভাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্ট হয়?

(আলোচনার সুবিধার্থে শুধু 'ব্যাকটেরিয়া' এবং 'এন্টিবায়োটিক' নিয়ে কথা বলবো)

☘️ ব্যাকটেরিয়া খুব কম সময়ে reproduce করে। মানে, তাদের cell division খুব দ্রুত হয়। অনেক অনেক পরিমাণে হয়। খুব সামান্য সময়ের মধ্যে মিলিয়ন, বিলিয়ন পরিমাণ হয়ে যায়। এখন এই যে এত পরিমাণ সেল ডিভিশন, এত এত DNA replication হয়, তাতে তো কিছু ভুল হয়েই যায়। মানে, কিছু Mutation হয়ে যায়।

এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রাকৃতিক, স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা। (এই যে আমি, আপনি আমরা মানুষ, আমাদেরও সেল ডিভিশন এর সময় কিছু মিউটেশন হয়, যার রেট খুব কম। কিন্তু হয়)।

এখন এই ন্যাচারাল, স্পনটেনাস মিউটেশন- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় হার্মলেস। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই মিউটেশন এর ফলে ব্যাকটেরিয়া এমন কোনো বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, যেটা তাকে কোনো নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ক্ষমতা দেয়।

ধরা যাক, আপনার শরীরে একটা infection এর সময় ১টা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া আছে ১০ মিলিয়ন।
এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর মধ্যে ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯০ টা ব্যাকটেরিয়া মোটামুটি একইরকম।

বাকি ১০ টা ব্যাকটেরিয়াতে এমন কিছু মিউটেশন হইছে, যেগুলোর ফলে সে একটা নতুন এনজাইম তৈরি করতে পারতেছে। যে এনজাইম penicillin antibiotic কে ডেস্ট্রয় করার ক্ষমতা রাখে।

[এখানে উল্লেখ্য যে, আপনি হয়তো জীবনে কোনোদিন পেনিসিলিন ছুঁয়েও দেখেন নি, খাওয়া তো দূরের কথা!]

এখন, এই মাত্র দশটা আলাদা ব্যাকটেরিয়ার এমনিতে আপনার তেমন কোনো ক্ষতি করার সক্ষমতা নাই।

এখন, আপনি যদি পেনিসিলিন খাওয়া শুরু করেন, ধরেন আপনি তিন দিন খাইলেন। সেক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশি সেনসিটিভ সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো আগে মারা যাবে। যারা আরেকটু টাফ, তারা হয়তো ৫ দিন এন্টিবায়োটিক খেলে মারা যাবে, যারা আরো টাফ তাদেরকে মারতে হয়তো ৭ দিন লাগবে!

আপনি ৫ দিন ওষুধ খেয়ে সিম্পটম কমে গেল (কারণ, মোস্ট সেনসিটিভ ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা গেছে)। তাই ওষুধ ছেড়ে দিলেন। এরফলে এখন ধরেন ওই ১০ টা ব্যাকটেরিয়া, যারা নতুন এনজাইম পেয়েছে। তাদের ওপর তো পেনিসিলিন কাজ করবে না।

এতদিন ওই ১০ টা ব্যাকটেরিয়ার কম্পিটিটর ছিল মাঠে। তাদেরকে আরো অনেকের সাথে নিউট্রিশন এর জন্য যুদ্ধ করতে হতো।

কিন্তু এখন মাঠ ফাঁকা। এই রেজিস্ট্যান্ট ১০ টা ব্যাকটেরিয়া এখন সমানে বংশবিস্তার করবে। তখন আপনার শরীরে যা থাকবে, সব পেনিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট ভ্যারিয়েন্ট!

এইটাকে ব্যাখ্যা করা যায়, ডারউইন এর ন্যাচারাল সিলেকশন এবং সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট দিয়ে।

এই যে ব্যাকটেরিয়া গুলো, যারা এখন বেঁচে আছে ( মিউটেশন এর কারণে), তারা ন্যাচারালি সিলেক্ট হইছে [লটারির মতো অনেকটা]। এটাই হচ্ছে ন্যাচারাল সিলেকশন।
এবং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে (এন্টিবায়োটিক দ্বারা সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে) এরাই বেঁচে থাকবে, কারণ এরা এই পরিবেশের জন্য ফিট!

⭕ তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই-
এন্টিবায়োটিক খাওয়ার আগেই রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ করে। এটা পুরাটাই একটা ন্যাচারাল জিনিস।

🏵️ এখন সম্পূরক প্রশ্ন হতে পারে, যদি এন্টিবায়োটিক না খেলেও রেজিস্ট্যান্স হয়, তাহলে এই যে এন্টিবায়োটিক এর ফুল কোর্স খাওয়া নিয়ে, বা র‍্যাশনাল ইউজ নিয়ে এত কথা হয়, এগুলোর দরকার কী?
না খাইলেও যদি হয়, সেক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক খাওয়া না খাওয়ার সাথে তো রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক নাই।

🍁 উঁহু! সম্পর্ক আছে।

এই যে আপনি ৭ দিনের জায়গায় ৪ দিন এন্টিবায়োটিক খেয়ে সেন্সিটিভ, দুর্বল ব্যাকটেরিয়াগুলো মেরে ফেলে একটু টাফ ব্যাকটেরিয়ার জন্য মাঠ ফাঁকা করে দিলেন, এটাই আপনার দোষ।

এটাকে বলে selection pressure.

মানে, রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া ছিল ১০ টা। তারা বাকি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯০ টার ভিড়ে কিছু করে উঠতে পারছিল না। আপনি এন্টিবায়োটিক খেয়ে ওই ১০ টার কাজ সহজ করে দিলেন। এখন তারা পুরো জায়গাটা দখল করে নেবে।

⭕ আর ফুল ডোজ এন্টিবায়োটিক শরীরে এমন এক কনসেন্ট্রেশন তৈরি করে যা অনেক সময় ওই অল্প মিউটেটেড 'টাফ' ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু ডোজ মিস দিলে সেই সুযোগটা থাকে না।

☘️ আপনি যদি ভাইরাল ফিভারে হুদাই এন্টিবায়োটিক খান, সেক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এতে আপনার ভাইরাস তো মরেই না, উল্টো শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো মরে গিয়ে কিছু মিউটেটেড খারাপ ব্যাকটেরিয়ার জন্য জায়গা করে দেয়।

🌼🌼 আরেকটা বড় সমস্যা হলো, ব্যাকটেরিয়া horizontal gene transfer করতে পারে। মানে, নিজের অস্ত্র সে অন্য ব্যাকটেরিয়াকে দিয়ে দিতে পারে।
conjugation, transduction, transformation নামে কিছু প্রক্রিয়া থাকলেও, মোস্টলি Conjugation (প্লাজমিড দিয়ে pili এর মাধ্যমে) এর মাধ্যমেই এই ঘটনা ঘটে।

অর্থাৎ একটা রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তার রেজিস্ট্যান্সির জন্য যে জিন সে অর্জন করেছে, সেটা পাশের ব্যাকটেরিয়াকে কোনো মূল্য ছাড়াই গিফট করতে পারে! ফলে সেও রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়।

যাহোক, এইটা আরেকটা বড় আলোচনা। সেসব আজ থাক।

💮 আরেকটা ব্যাপার নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝতে পারছি যে, রেজিস্ট্যান্ট হয় ব্যাকটেরিয়া, মানুষ নয়।

এইটাও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে। ১ বছর বয়সী বাচ্চার যখন কালচার সেনসিটিভিটি রিপোর্টে দেখি সব এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট! তখন আমরা অনেক সময় আঁতকে উঠি! হায় হায় এই বাচ্চা তো জীবনে এন্টিবায়োটিকই খায় নাই, ওর এমন রেজিস্ট্যান্স হলো কেমনে!?

না ; বাচ্চা নয়, মানুষ নয়। রেজিস্ট্যান্স হয় ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস, ভাইরাস...।

💐সুতরাং Natural selection আর spontaneous mutation-ই antimicrobial resistance develop করায়, bacteria কোনো antibiotic কে "চিনে নিয়ে" purposefully resistance genes বানায় না।

🍁 এটা মোটামুটি সংক্ষেপে বলা। যারা জানতে চান তারা আরো পড়তে পারেন এটা নিয়ে।

Courtesy
Dr Harun Or Rashid Xewel
MBBS ( Jahurul Islam Medical College), 2007-08
BCS, 36th
MD, Pathology (DMC)
Lecturer, SMMAMC, Sirajganj

Address

Shahbag
Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শিশু চিকিৎসক ডাঃ আলমগীর হোসেন শিমুল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to শিশু চিকিৎসক ডাঃ আলমগীর হোসেন শিমুল:

Share