10/04/2021
করোনা ভাইরাসঃ
গত বছর থেকে এই বছরে এর ভয়াবহতার মাত্রা ছাড়াচ্ছে বহুগুনে। ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও তা কার্যকরী হতে সময় লাগছে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন মাত্রায়। আমরা কতোটা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে চাই তা প্রকাশিত হোক আমাদের সচেতনতায়।
আসুন আগের মতোই সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, নিজেকে, পরিবারকে ও অপরের সুস্থতা নিশ্চিত করি।
করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) থেকে সুরক্ষায়, কি কি করনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়ঃ
সকলেই এখন সবার নিজ নিজ গৃহে বন্দি সময় কাটাচ্ছেন। আর বন্দি আমরা কেন হয়েছি তা এখন সবারই জানা বিষয়। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি’র সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশি’র মাধ্যমে আমরাও আক্রান্ত হতে পারি, তাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি এখন শারীরিক দুরত্বও অনেক জরুরী। এরই সাথে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যত ধরনের সতর্কতা এখনো পর্যন্ত দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জোর দেয়া হয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে।
বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসটি সংক্রমনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে আক্রান্তের সংখ্যাই শুধু বাড়াচ্ছেনা, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। আর তাই শুধুমাত্র ব্যক্তি নিজে পরিষ্কার থেকে এই ভাইরাস মুক্ত করতে পারবেন সেই চিত্র পাল্টে গেছে কিছুদিন আগেই, এখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা’র বিষয়ে নিজের পাশাপাশি আরো অনেক কিছুর উপরই গুরুত্বারোপ করা উচিত, এবং সুস্থ থাকতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার সকল প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। চলুন জেনে নেয়া যাক, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে/কাজকর্মে কোন কোন দিকগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা দরকার…
১. ব্যক্তিগত ও পরিবারিক পরিচ্ছন্নতাঃ
ব্যক্তির নিজের ও পারিবারের প্রতিটি সদস্যের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা বিশেষ জরুরী...
(ক) হাত ধোয়াঃ আমরা নিজেরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ভাবে নিজেকে পরিষ্কার করে থাকি, তার উপরে এখন আবার ঘরে বন্দি। “যেহেতু বাহিরে যাচ্ছিনা সেহেতু অহেতুক হাত ধুয়ে হাতের চামড়া নষ্ট করার মতো বোকামি না করাই ভালো”- হয়তো এমনটাই ভাবছেন অনেকে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিন্তু ঘরের ভিতরে এবং বাইরে, সকলেরই হাত ধোয়ার ব্যাপার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই আমাদের সকলকেই সঠিক নিয়মে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুতে হবে। এবার জেনে নিই হাত ধোয়ার পাশাপাশি আমাদের কি কি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে…
(খ) নিত্য ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখাঃ নিজের ব্যবহৃত যে সকল জিনিস রয়েছে যেমনঃ মোবাইল, চার্জার, হেডফোন, ল্যাপটপ, কি-বোর্ড, মাউস, বই-পত্র, সাজ-সজ্জা, চশমা, ঘড়ি, মানি ব্যাগ ও নিত্য প্রয়োজনীয় সারাদিনে যা কিছু কাজের জন্যে ব্যবহার করা হবে তার সব কিছুই জীবানুমুক্ত করে নিতে হবে। বাচ্চারা সব কিছুই মুখে দিয়ে থাকে তাই তাদের খেলনা বস্তু গুলোকেও প্রতিদিন জীবানুমুক্ত করে নিতে হবে। বাসায় বয়স্ক যারা রয়েছেন তাদের ব্যবহৃত জিনিস গুলোকেও জীবানুমুক্ত করা জরুরী। কেননা বয়স্ক ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার ফলে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন তারা।
(গ) নিয়মিত গোসল ও জামাকাপড় ধোয়াঃ এখন গরমের সময়ে আমরা সারাদিন ঘরে থাকা সত্বেও নানা কাজ করার ফলে আমাদের শরীরে ঘামের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজেকে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত রাখতে আমাদের প্রতিদিন গোসল করা জরুরী। বাচ্চাদের কেও প্রতিদিন গোসল করাতে হবে, খেলাধুলা করার ফলে তাদের ও ঘাম হয় প্রচুর। খুব ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একদিন পর পর গোসল করালেও হবে, তবে পরিধেয় বস্ত্র প্রতিদিন পালটিয়ে দিতে হবে ও ধুয়ে নিতে হবে। পরিবারে এমন অনেকেই থাকতে পারেন যিনি নিজের কাজ করতে পারেন না বা চলা-ফেরায় অক্ষম। তাদেরকেও প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে সাথে তার ব্যবহৃত সকল জিনিস।
নিজেদের পরিধেয় বস্ত্র অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে কাপর ধুয়ে নেওয়ার পরে তা স্যাভলন বা ডেটল পানি দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে। তবে যারা বাহির থেকে ঘরে আসবেন তাদের কাপড়ের সাথে ঘরে থাকা ব্যক্তির কাপড় না ধোয়াই ভালো। যে ব্যক্তি বাহির থেকে আসছেন তার কাপড় আলাদা ধোয়ার ব্যাবস্থা থাকতে হবে। আর এক্ষেত্রে খুব ভালো হয় যদি ব্যক্তি তার নিজের ব্যবহৃত কাপড় নিজেই ধুয়ে নেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেই কাপড় ৩০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট সাবান পানিতে ভেজানো থাকে। আরো ভালো হয় যদি গরম পানি ব্যবহার করা যায়।
২. খাবারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আমরা যে জিনিসের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভাবছি সেটা হলো কিভাবে আমরা আমাদের খাবার থেকে ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে পারি। অনেকেই আবার খাবার পরিষ্কার করার সময় বাড়তি সতর্কতা আবলম্বন করতে গিয়ে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে খাবারের পুষ্টিমান ও জীবনের ঝুঁকি তৈরী করছেন। এখন ফেসবুক বা ইউটিউব খুললেই খাবার জীবানুমুক্ত করার এমন অনেক পদ্ধতিই চোখে পরে, যা্র অধিকাংশই ভিত্তিহীন এবং ক্ষতিকর। এমন অনেক গুলো পদ্ধতির মধ্যে একটি রয়েছে খাবারের মধ্যে ব্লিচিং পানি মিশিয়ে ভাইরাস দুরীকরন। আমরা না জেনেই কিন্তু এসব ব্যবহার করে খাবারের পুষ্টিমান নষ্ট করছি সাথে যোগ করছি পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। নানা রকম খাবার ও এর ভিন্নতার কারণে এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ধরনও ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। চলুন জেনে নিই, খাবার পরিষ্কার করার সেসব পদ্ধতি যাতে আমাদের খাবারের গুনগুত মান অক্ষুণ্ণ থাকে …
(ক) বাজার থেকে আনা খাবারের পরিচ্ছন্নতাঃ বাজার থেকে যে কোন খাবার আনার সাথে সাথে প্রথম যা করনীয়, সেটা হচ্ছে বাহির থেকেই যে ব্যাগে করে খাবার আনা হয়েছে তা বদলিয়ে ফেলা। দ্বিতীয়ত যেটা করা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে কাঁচা খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, বোতলজাত খাবার এগুলোকে আলাদা করে নেওয়া।
কাঁচা খাবারের মধ্যে থাকা শাক-সব্জিকে ভালো করে পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আমরা সেই শাক-সব্জি, তরকারিকে পানিতে ভিনেগার / লেবু/ লবন দিয়ে এবং ভারী চামড়া যুক্ত সবজির ক্ষেত্রে পানি হাল্কা গরম ব্যবহার করে পরিস্কার করে নিব। এক্ষেত্রে আমরা শাক-সব্জিকে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারি ।
এখন যেহেতু আমাদের প্রতিদিন বাজার করার সুবিধা নেই, আর চাইলেই যখন তখন বাজারে যেতে পারছিনা, তাই অবশ্যই খাবার সংরক্ষনেও খেয়াল রাখতে হবে। যে সবজি গুলো আমরা সংরক্ষন করবো সেগুলোকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকনো জীবানুমুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে বা বাতাসে শুকিয়ে রাখতে পারি।
মাছ বা মাংসের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিবো প্রথমে। এরপর হালকা কুসুম গরম পানিতে লবন/ ভিনেগার যোগ করে রেখে দিবো ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। ফ্রিজে রাখার পুর্বে ভালো করে পানি ঝড়িয়ে প্যাকেট করে নিবো বা বক্সে করে রাখবো প্রয়োজন মতো। ডিমের ক্ষেত্রেও আমরা একইভাবে পরিষ্কার করে নিবো, তবে ফ্রিজে রাখার আগে শুকিয়ে নিতে হবে জীবানুমুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে বা বাতাসের সাহায্যে।
প্যাকেটজাত বা বোতলজাত খাবারগুলোর ক্ষেত্রে আমরা সাবান পানিতে কাপর ভিজিয়ে সেটা মুছে নিতে পারি। তবে প্যাকেটজাত খাবার সাবান পানিতে না ডুবানোই ভালো। কেননা প্যাকেটে কোন লিকেজ থাকলে তাতে করে ভিতরে পানি যেতে পারে।
(খ) বাসায় তৈরী করা খাবারের পরিচ্ছিন্নতাঃ খাবার তৈরী করার আগে যে পাত্রে খাবার কাটা হবে, ধোয়া হবে, তৈরী করা হবে ও পরিবেশন করা হবে সেই সকল জিনিস ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার তৈরী করার পূর্বে ভালো করে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সাবান পানিতে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
৩. বাসগৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ
আলাদা আলাদা বাসগৃহের ধরনে ভিন্নতা থাকলেও নিজ নিজ বাসগৃহ নিজের কাছে স্বর্গ। কিছুদিন আগেও যেখানে আমরা সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ফিরে যেতে চেয়েছি আর শান্তি খুঁজে পেয়েছি বারবার। আর বর্তমানে আমাদের সকলকেই সবসময় থাকতে হচ্ছে নিজ নিজ গৃহে। অনেকেই আবার ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত বোধ করছেন তবুও থাকছেন নিজের ও সকলের সুস্থ্যতা বজায় রাখার জন্যে।
প্রতিটি গৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি এক্ষেত্রে আমাদের সকলের জন্যে বাসগৃহই কেবল একমাত্র নিরাপদ জায়গা। আর এই নিরাপদ জায়গার পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও আমাদের দায়িত্ব।
(ক) ঘরের মেঝের পরিচ্ছন্নতাঃ ঘরের মেঝের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এখন অনেক জরুরী। প্রতিদিন মেঝে পরিষ্কার করতে হবে, এবং ঝাড়ু দেওয়ার চেয়ে মেঝেতে থাকা ময়লা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছে নেওয়া ভালো। কেননা ঝাড়ু দেওয়ার সময় বাতাসে ধুলো বালি উড়তে থাকে, যা ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই, ঝাড়ু দেয়ার পরিবর্তে চেষ্টা করবো ভেজা কাপড় দিয়ে পরিস্কার করতে।
(খ) রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখাঃ প্রতিদিন ভালোকরে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হবে। খাবার রান্নার পরে ভালোভাবে জীবানুনাশক দিয়ে রান্না ঘরের মেঝে, সিংক, কল, চুলা, চুলার নিচ ও ব্যবহৃত সকল জিনিস ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়াও রান্না ঘরে রাখা অন্যান্য যে সকল জিনির ব্যবহৃত হবে সেগুলো ও ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাহিরে বা ভিতরে রান্নাঘর যেখানেই থাকুক না কেন, পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া একই থাকবে।
(গ) আসবাবপত্র পরিষ্কার রাখাঃ . আমাদের সকলের বাসাতেই কম বা বেশি আসবাবপত্র রয়েছে (খাট, আলমারি, টেবিল, চেয়ার, ড্রেসিং টেবিল, কেবিনেট, পড়ার টেবিল, ঘর সাজানোর সামগ্রী ইত্যাদি)। সাধারণত আমরা প্রতিদিন না হলেও চেষ্টা করি যেন মাঝে মাঝে সেগুলোর উপরে পড়ে থাকা ধুলা-বালি পরিষ্কার করার। তবে এখন যেহেতু আমাদের সকলের অবস্থান বাসাতেই রয়েছে তাই আমরা এই কাজটি চাইলে প্রতিদিনই করতে পারি। আর যে সকল পরিবারে লোক সংখ্যা কম বা ছোট পরিবার সেখানে কাজ গুলোকে ভাগ করেও নেয়া যায়।
আমাদের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের মধ্যে পাপোশ বা কার্পেট ও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ধুলা আটকে থাকে এসব জিনিসে। তবে এগুলো চাইলেই প্রতিদিন ধুয়ে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে, আমরা যা পারি, এগুলোর উপরের অংশ আমরা প্রতিদিন চাইলে কাপড়ে জীবানুনাশক মিশিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারি। এতে করে ছোট বাচ্চা সহ সকলেই সেইফ থাকবে।
অনেকের ঘরেই বাচ্চাদের কিছু বড় বড় খেলনা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকে যেমনঃ গাড়ি, ঘোড়া, ওয়াকার, ট্রলি ইত্যাদি। এগুলো বাচ্চারা ব্যবহার করার পুর্বে অবশ্যই জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
(ঘ) বাথরুম পরিচ্ছন্ন রাখাঃ বাসার আর একটি গুরুত্বপুর্ন জায়গা হচ্ছে বাথরুম। কোন কোন পরিবারে একের অধিক বাথরুম থাকে তাই চেষ্টা করবেন নিয়মিত বাথরুমে ব্যবহৃত বেসিন, কমোড, ঝর্না, কল, বালতি, মগ সহ মেঝে জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করার। অনেকের বাসাতে বাথরুম ঘরের বাহিরে থাকে, সেক্ষেত্রেও পরিষ্কারের ধরন একই থাকবে।
৪. ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ
টিভি, ফ্রিজ, আয়রন, ফ্যান, মাল্টি সকেট এসবের পাশাপাশি প্রায় অনেক বাসা বাড়িতেই এখন ওভেন, টোষ্টার, রুটি মেকার, ওয়াশিং মেশিন, আয়রন, বৈদ্যুতিক চুলা, এয়ারকন্ডিশনার, মশকিটো ব্যাট, কম্পিউটার, রাউটার, ইত্যাদি সহ আরও নানাবিধ প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে। এগুলোকে অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
ইলেকট্রনিক্স জিনিসে সরাসরি তরল কোন জীবানুনাশক ব্যবহার না করাই ভালো। এক্ষেত্রে কাপড় জীবানুনাশক দিয়ে ভিজিয়ে ও ভালো করে পানি ঝড়িয়ে ইলেকট্রনিক্স জিনিস মুছে নিতে হবে।
৫. ঘরের বাহিরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাঃ
বাসায় থাকবো বলে শুধুমাত্র বাসার ভিতরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবো আর বাহিরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবোনা সেটা কিন্তু নয়। আমরা চেষ্টা করবো -
ক. ব্যবহৃত ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য।
খ. যেখানে সেখানে কফ বা থুথু না ফেলা।
গ. যাদের বাগান করার শখ রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই গাছ-পালা পরিচর্যার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
ঘ. যে কোন পশু পাখির সংস্পর্শে না যাওয়া।
ঙ. বাসার আশেপাশে জীবানুণাশক ছিটিয়ে দেওয়া।
বাড়িতে তৈরিকৃত জীবানুনাশকঃ
১. বিশুদ্ধ পানিতে ভিনেগার/ লবন/ লেবু মিশিয়ে কাঁচা শাক-সব্জী জীবাণুমুক্ত করার জন্যে ব্যবহার করা যায়।
২. বিশুদ্ধ পানিতে ভিনেগার ও স্যাভলন মিশিয়ে ঘরের যে কোন আসবাবপত্রে থাকা কাঁচের অংশগুলো পরিস্কার করে নিতে পারেন।
বাড়তি সতর্কতাঃ
বছেরের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তাই করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি আমাদেরকে ডেংগু মশার উপক্রম থেকেও নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে। বাড়ির ভেতরের টবে অতিরিক্ত পানি, রান্না ঘরের কোথাও পানি জমে আছে কিনা সেগুলোও দেখতে হবে। বাড়ির বাহিরের কোথাও পানি জমে থাকলে তাও পরিষ্কার করতে হবে। কেননা এই জমে থাকা পানিই হচ্ছে ডেঙ্গু রোগ ছড়ানো এডিস মশার বংশবিস্তারের আদর্শ জায়গা। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারী টাঙ্গাতে হবে।
আসুন সকলে ঘরে থাকি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকি, নিয়ম মেনে চলি, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নিজে বাঁচি এবং পরিবার ও দেশকে বাঁচাই।
… … … ।।। ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন ।।। … … …
— পুষ্টিবিদ জিন্নাতুন নাহার
#ঘরেথাকুননিরাপদেথাকুন 🇧🇩