Homoeo and Biochemic Medical Center

Homoeo and Biochemic Medical Center Men and women, including children, are advised of all diseases.

01/02/2025

বাস্তবিকই আজকাল যেরূপ কবিরাজী শিক্ষা-ব্যবস্থা হইয়াছে, তাহাকে আর কবিরাজী বলা চলে না, ছদ্মবেশী এলোপ্যাথি ডাক্তারী শিক্ষাই হইতেছে। 'আতপ চাউলের মদ' খাইলে যেমন মদটি খাওয়া হয়, অথচ আতপ চাউল বলিয়া সংযমটাও বজায় থাকে, ঠিক তাহাই হইয়াছে। ভারতের দুরদৃষ্ট। যাক সে কথা, ফলতঃ যদি কেবল সোরাদোষ নিবারণের জন্য দীর্ঘদিন ধরিয়া কুটিপ্রবেশপূর্বক রসায়ন চিকিৎসার প্রয়োজন হইত, তবে আজকাল ত্রিমূর্তির সংহার কল্পে কি প্রকার বিরাট আয়োজন করা আবশ্যক, তাহা অনুমান কর। কর্তব্য। আরও বলি, সদর্পে বলি যে, আরও কিছুদিন গত হইলে-এই যে হোমিওপ্যাথিক এন্টিসোরিক, এন্টিসাইকোটিক এবং এন্টিসিফিলিটিক চিকিৎসা, যাহা মানবের এতই কল্যাণকর, যাহাতে মানবের শরীর ও মন অতিমাত্র বিশুদ্ধ হইয়া থাকে এবং যাহা লোকের মনে গ্রন্থিত করিবার জন্য আমরা এত তারস্বরে চীৎকার করিতেছি, তাহাও আর থাকিবে না। হোমিওপ্যাথিতেও যে ব্যাভিচার প্রবেশ করিয়াছে, তাহাতে কিছুদিন পরেই আমাদের ন্যায় ৩।৪টি পাগলের তিরোধান হইলেই দেখিবেন যে, হোমিওপ্যাথি একটি ইঞ্জেকসনপ্যাথির রূপ গ্রহণ করিয়া এলোপ্যাথিরই বৈমাত্র ভাই' হইয়া দাঁড়াইবার আর দেরী নাই। এত পরিশ্রমে, অল্প অর্থ প্রতিদানে সন্তুষ্ট হইয়া দীর্ঘকাল ধরিয়া ঐ সকল চিকিৎসা করিবার মত চিকিৎসক ক্রমে অতি অল্পই হইতেছে এবং সামান্য দিন পরে আর থাকিবে না। লোকে সভ্য চায় না, সত্যের কদর জানে না, প্রকৃত চিকিৎসককে উৎসাহ দেয় না, কাজেই প্রকৃত চিকিৎসকের পোষায় না, কি করিবেন তাহারা? একটি অপদার্থ ইঞ্জেকসনের মূল্য১৮.২০।২৫.০০ টাকা অবলীলাক্রমে লোকে দিয়া খাকে কিন্তু একটি ১৫ ১৬০ ১৮-২০র জটিল রোগের পৃথক প্রেসকিপশনের জন্য রেকর্ড আদি করিয়া উপাদ নির্বাচনের জন্য ১৬.০০ টাকা বা ৮.০০ টাকা ফি দিতেও কাতর। হয়ত বলিবে 'অবস্থা হীন', নয়ত বলিবে, 'হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার এত খরচ, তাহা হইলে লোকে আর আপনার হোমিওপ্যাথি কিরূপে ব্যবহার করিবে?' ঠিক যেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাইয়া ডাক্তারকে কত না জানি অনুগ্রহই করিতেছেন এই প্রকার অবস্থা। আমরা সত্য ও ভবিষ্যৎ দেখি না। কেবল 'তড়ং' বা বাহ্যায়কর এবং বর্তমানই দেখি। প্রতিকারের কতকটা আভাস মাত্র লিখিত হইল। যদি এই প্রতিকার অবলম্বন না করেন, আপনার শরীর ও মন চিরতরে নষ্ট হইবে, নূতন নূতন ব্যাধি সকলের আবির্ভাব হইবে, নিজেরা এবং সন্তান সন্ততি পীড়িত ও অল্পায়ু হইবেন ও হইবে। অদৃষ্টের ও ভগবানের দোষ দিয়া নিশ্চিন্ত হওয়া ছাড়া আর উপায় কি? যদি নিজের, আপনার পুত্রকন্যার এবং সমাজের প্রকৃত কল্যাণ-চান, তবে এই করটি উপদেশ হৃদয়ে অঙ্কিত করিয়া রাখিবেন :- ১। সর্বপ্রধান সংযম, শুদ্ধমান ও ধর্ম চর্চা। ২। যদি পূর্বকর্ম জনিত মনোদোষে পাপ করিয়া থাকেন ও সাইকোসিস এবং সিফিলিস নিজে নিজে অর্জন করিয়া থাকেন, তবে একেবারে প্রকৃত হোমিওপ্যাথের আশ্রয় গ্রহণ দ্বারা চিকিৎসা করান কর্তব্য। ৩। যদি বিলম্ব ঘটিয়া থাকে, অথবা নিজের অর্জিত কোনও বিষ না থাকিলেও পূর্ব পুরুষদিগের নিকট ঐ ঐ দোষ-প্রাপ্ত হইয়াছেন, তবে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য অপ্রতিহত রাখিবার জন্য এবং শরীর ও মন নির্মল করিবার জন্য প্রকৃত হোমিওপ্যাথের আশ্রয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা সর্বতোভাবে কর্তব্য। ৪। বিলম্ব ও দ্বিধা করিলে ক্রমেই জটিল হইতে জটিলতর অবস্থা হইতেছে ও হইবে। ৫। যদিও নিজে কোনও দোষ অর্জন করেন নাই এবং নিশ্চয় জানেন যে, পূর্ব পুরুষ হইতেও কোনও দোষ প্রাপ্ত হন নাই, কিন্তু যদি 'টিকা' লইয়া থাকেন, ভবে জানিতে হইবে যে, আপনার শরীরে কোনও বিষ প্রবেশ করিতে বাকি নাই। নিজের শরীরে অস্বচ্ছন্দ ভাবের প্রকাশ হইতে অথবা মানসিক অবস্থা হইতে- আপনি অবশ্যই তাহা অনুমান করিতে সক্ষম হইবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই। এই পর্যন্ত এই সকল 'পূর্বাভাষ' বর্ণনা করিয়া এক্ষণে মূল বিষয় আরজ করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।

31/01/2025

যাহাদের ঐ প্রথম আক্রমণের সময় অন্য মতের চিকিৎসা অবলম্বনে রোগ দুইটি চাপা পড়িয়াছে, তাহারাও যদি অল্প দিনের মধ্যে অথবা নিতান্ত পক্ষে নিজ নিজ ধর্মপত্নীর নিকট গমনের পূর্বে প্রকৃত হোমিওপ্যাথের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তবে তখনও তত কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত না হওয়ায় অনেক সুবিধার আশা থাকে, কিন্তু অধিক দিন গত হইলে ক্রমেই অবস্থা খারাপ হইতে থাকিবে। আবার নিজ নিজ ধর্মপত্নীতে উপগত হইলে নিরপরাধিনী পত্নীগণও ঐ ঐ দোষে দূষিত হইয়া থাকেন। ইহা বড়ই আক্ষেপের কথা। কিন্তু ইহা নিত্যই হইতেছে। অন্য চিকিৎসায় কখনও আরোগ্য হয় না, অথচ আরোগ্য হইয়াছে মনে করিয়া উপগত হইলে, স্বামীর রোগ যে অবস্থায় রহিয়াছে, ঠিক সেই অবস্থাই স্ত্রীতে সংক্রমণ করিবে তাহাতে অনুমাত্র সন্দেহ নাই। অনেক সময় দেখা যায়,যে বালিকা অতি নীরোগ কিন্তু বিবাহের অর্থাৎ প্রথম গর্ভের পর প্রসবের সময় স্বামীদেহের বিষ তাঁহাতে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত হয়, স্ত্রীলোকটি ঐ সময় প্রাণত্যাগ করেন, যেখানে কোনও এক বাক্তির বার বার সন্তানসন্ততি হয় ও মারা যায় সেখানে নিশ্চয়ই, অতি নিশ্চয় ঐ ঐ দোষ আছে, যেখানে কোনও একটি লোকের সেখানে বিবাহ ও প্রতিবারের প্রসবের পর স্ত্রীর মৃত্যু, সেখানে নিশ্চয় ঐ ঐ বিশ বার বার ইহাতে কোনও সন্দেহ নাই। যেখানে স্ত্রী বন্ধ্যা, যেখানে স্ত্রী একংসের বর্তমান ইউবৎসা, যেখানে স্ত্রী প্রসব্যক্তে উন্মাদিনী, সেখানেই ঐ দোষের কার্য নুহাতে আদৌ সন্দেহ নাই। অতি সামান্য পাশবিক বৃত্তির চরিতার্থ রূপ কদই ইহার জন্য, তাহার উপর এলোপ্যাথিক কুচিকিৎসার জন্য, দেশে যে কি সর্বনাশ হইতেছে, তাহা মনে করিলে প্রাণ শিহরিয়া উঠে। সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিসের দ্বারা সংক্রমিত দেহ হইতে ঐ ঐ বিষের প্রকৃত চিকিৎসার দ্বারা নিরাকরণ ব্যতীত উপায়ান্তর নাই। তবে যে যে বিষ নিজের জীবনে অর্জিত, সেগুলি হোমিওপ্যাথি সুচিকিৎসার দ্বারা আরোগ্য হইবার পূর্বে, তাহাদের প্রথম মূর্তি প্রকাশ পাইবে ও তাহার পর আরোগ্য হইবে। তাহা না হইলে জানিতে হইবে যে, ঠিক চিকিৎসা হয় নাই। আর যদি ঐ দোষ নিজ জীবনে অর্জিত না হইয়া উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায়, তবে তাহাদের প্রাথমিক মূর্তি দেখা দেয় না, কিন্তু এমন নিদর্শন পাওয়া যায়, যাহাতে প্রকৃত আরোগ্যের সূচনা দিয়া থাকে। তবে দোষ সকল যত অধিক দিন শরীরে যাকিবে ততই অনিষ্টের মাত্রা ও মনোদোষের জটিলতা আনয়ন করিবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। অনেক সময় যে সকল বাক্তি নিজেদের জীবনে সাইকোসিস ও সিফিলিস দোষ অর্জন করে নাই, তাহারা নিজদিগকে সুস্থই মনে করিয়া থাকে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাহা ভ্রান্তি মাত্র। প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিরই ঠাণ্ডা লাগিয়া সর্দি লাগে, সময়ে সময়ে বেদনা হয়, মধ্যে মধ্যে ফোঁড়া হয়, ঘামে দুর্গন্ধ হয়, সর্বাঙ্গ অপেক্ষা মাথায় অধিক ঘাম হয়, বগলের ঘামে জামা হাজিয়া যায়, মধ্যে মধ্যে শিরঃপীড়া হয়, বিনা কারণে মনটি উদাস হইয়া উঠে। ঝড়বৃষ্টির সময় ও মেঘাগমনে শরীরের ও মনের নানাপ্রকার অস্বচ্ছন্দতা ও পরিবর্তন ঘটে, মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি কম, মলত্যাগের সময় গুহ্যদ্বারে মল লাগে (অবশ্য হয়ত অনেকেই আশ্চর্য হইবেন, কিন্তু সুস্থদেহের নিয়ম এই যে, মলত্যাগের সময় মল কোনও স্থানে লাগিবে না ও জলশৌচেরও প্রয়োজন হইবে না। অন্যান্য জীবের জলশৌচের আবশ্যক হয় না, কেবলমাত্র পীড়িত হইলেই মনুষ্যের এবং অন্যান্য জীবের মল গুহ্যদ্বারে লাগে ও জলশৌচের প্রয়োজন হয়)। সহজেই ক্রোধ আসে, অন্যের প্রাপ্তিতে মনে হিংসা আসে, কামক্রোধাদি রিপুদিগের ছন্দ্যেহীন উত্তেজনা হয় ইত্যাদি ইত্যাদিতে যে ব্যক্তি নিজেকে অসুস্থ বলিয়া মনে করে না, তাহার ধারণা- 'ইহা সকলেরই হইয়া থাকে।' ফলতঃ তাহা নিশ্চয়ইভ্রমাত্মক ধারণা। যে ব্যক্তি নিজ নিজ পাপের ফলে ঐ সকল দোষ অর্জন করিয়াছে, অথবা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হইয়াছে-যে কোনও উপায়েই হউক, যদি দোষ সকল একবার দেহে সংক্রমিত হইতে পারিয়াছে, তখন উচ্চশক্তি হোমিওপ্যাথি ঔষধের সদৃশ বিধানে নির্বাচন ব্যতীত, মানবের দ্বারা কোনও চেষ্টাই কোনও কাজের হয় না। আমাদের কবিরাজী চিকিৎসার অভ্যুদয়কালে যদিও তখন দূষিত গণোরিয়া ও সিফিলিস বিষ ছিল না, কেবলমাত্র সোরা দোষই তখন একমাত্র দোষ ছিল, তবুও আর্য ঋষিরা সে সময়ে রোগীকে রোগী হিসাবে নির্মল আরোগ্য করিবার জন্য অর্থাৎ সোরাদোষকে নির্মূল করিবার জন্য 'কুটি প্রবেশ পূর্বক রসায়ন চিকিৎসার' ব্যবস্থা করিতেন। সেই চিকিৎসার দ্বারা মানবকুল নির্মল দেহ ও মন প্রাপ্ত হইয়া জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন করিতে সক্ষম হইত। রসায়ন কি? 'যজ্জরা ব্যাধি বিধ্বংসি ভেষজং তদ্রসায়নম্।' অর্থাৎ যাহা উপস্থিত ব্যাধিকে এবং পূর্ব ব্যাধিজনিত জরাকে বিশেষরূপে অর্থাৎ আত্যন্তিকরূপে ধ্বংস করিতে সমর্থ, তাহাই রসায়ন। এখনকার কবিরাজেরা ঐ চিকিৎসা বোধ হয় ভুলিয়া গিয়াছেন। কেননা এখনকার কবিরাজী কেবল 'ভোলফিরান এলোপ্যাথিক ডাক্তারী।'

30/01/2025

এক্ষণে অবস্থা ত এই, তবে প্রকৃত প্রতিকার কি? প্রকৃত প্রতিকার অবশ্যই আছে, তবে লোকে তা শোনে কই? শুনুক আর নাই শুনুক, প্রকৃত প্রতিকার যাহাতে হয়, তাহা আমাদিগকে লোকের মনে প্রথিত করিতে হইবে, যেখানে সুযোগ পাইবে, সেখানেই কার্য্যতঃ করিয়া দেখাইতে চেষ্টা করিব।সোরাশূন্য ব্যক্তি আজকাল দেখা যায় না। প্রত্যেকেই প্রায় সোরাদোষে দূষিত। কিন্তু অন্য দুইটি বিষ, যথা সাইকোসিস অর্থাৎ গণোরিয়াজনিত এবং সিফিলিস অর্থাৎ উপদংশজনিত দোষ সকল, এখনও তত বিস্তৃত হয় নাই। এজন্য ইহাদের নূতন আক্রমণ হইবামাত্রই কোনও উপযুক্ত হোমিওপ্যাথের আশ্রয় গ্রহণ করা একমাত্র কর্তব্য। তাহা হইলে, সেই অবস্থাতেই ঐ রোগ দুইটি নির্মল আরোগ্য হইয়া যায় এবং সাইকোসিস ও সিফিলিস নামক দোষ দুইটি মানব শরীরে চির আবাসস্থল পাতিয়া সর্বনাশ সাধন করিবার অবসর পায় না। লোকের কতকগুলি ভ্রান্ত ধারণা আছে এবং এই ভ্রান্ত ধারণার কারণ অশিক্ষিত হাতুড়ে চিকিৎসক: ভ্রান্ত ধারণা এই যে, কুস্থানে গমনের পরে পরেই এটা ওটা করিলে ঐ বিষ অর্থাৎ গণোরিয়া ও সিফিলিসের আক্রমণের আর ভয় থাকে না। এই ধারণা সর্বনাশের হেতু। প্রথমতঃ অন্যায় ও পাপ কার্যের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, দ্বিতীয়তঃ উহা কখনই সম্ভব নয়। কুক্রিয়া করিবামাত্রই ঐ ঐ বিষ আক্রমণ হইয়া যায় এবং অতি অল্প দিনের মধ্যেই ফল দেখা দিয়া থাকে। যাহা হউক, মানব মাত্রেই পাপ করিয়া থাকে। প্রথমত। পাপ কার্য হইতে বিরত হওয়া ত সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশ। কিন্তু যদিও পদজ্বলন হইয়া গিয়াছে, তবে আর মিথ্যা ভয় বা লোকলজ্জা জন্য নিজের পাপের বোঝা আরও অধিকতর ভারি না করিয়া তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত হোমিওপ্যাথের নিকট আসা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নাই। তিনিই তখনই এরূপভাবে চিকিৎসা করিবেন যে, উক্ত দুইটি দোষের কোনওটিই আর স্থায়ীভাবে শরীরের অনিষ্ট করিতে পারিবে না এবং ঐ অবস্থাতেই নির্মলভাবে আরোগ্য হইবে। আমরা ঐ অবস্থার রাশি রাশি রোগী আরাম করিয়াছি। যিনি এই সময় পেটেন্ট ঔষধ বা এলোপ্যাথিক ঔষধ অথবা ইঞ্জেকসন লইবেন, তিনি আপনার মরণের পথ আপনিই পরিষ্কার করিবেন। হোমিওপ্যাথি ব্যতিত অন্য কোনও চিকিৎসাতে এই রোগ দুইটির প্রকৃত আরোগ্যকারী ঔষধ নাই, একথা স্থির জানিতে হইবে।

29/01/2025

অতিমাত্র ক্ষুদ্র বর্ণনা এখানে লিখিত হইল, উদ্দেশ্য কেবল একটি উদাহরণ দেওয়া। সর্বাদৌ দোষ সকলের প্রাথমিক ক্রিয়ার ফলে এক প্রকার মনোদুষ্টি ঘটে, তাহার পর "চাপা দেওয়া", চিকিৎসার ফলে, বিলম্বিত হইলেও স্বাভাবিক স্রোতের প্রতিকুলাচরণ জন্য দ্বিতীয়বার মনোদুষ্টি ঘটে, আবার তাহার উপর যদি পূর্ব হইতেই সিফিলিস দোষ শরীরে বর্তমান থাকে, তাহার সহিত এবং তাহা না থাকিলেও সোরার সহিত মিলিত হইয়া রোগ সকলের জটিলতা ও দুরারোগ্যতা আবির্ভূত হয়, যদি সিফিলিসও তৎপূর্বে বর্তমান থাকে, তবে সোরা ত থাকিবেই। কেননা সোরা না থাকিলে গণোরিয়া আসিতেই পারে না, ইহাতে ও একেবারে এ্যহস্পর্শ হইল, তাহার অবস্থা যে অতিশয় শোচনীয় হইবে, তাহা আর বলিতে হইবে কেন? এই রোগ জটিলতার সঙ্গে সঙ্গে মনেরও অতি শোচনীয় পরিবর্তন সংঘটিত হইতেছে। যদিও সাধারণ কথায় যাহাকে 'পাগল' বলে, সেই পাগল না হওয়া পর্যন্ত মনোরোগের জন্য কেহ চিকিৎসকের নিকট যায় না, কিন্তু তাই বলিয়া সাধারণ লোকের মন সুস্থ, একথা কখনই বলা যাইতে পারে না। যদি মনস্তরটি প্রকৃতভাবে হৃদয়ঙ্গম করা হয় এবং কেবল নিজের হস্তে যে সকল প্রাচীন পীড়ার রোগী আছে, তাহাদের মনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবেই বেশ বুঝা যায় যে, সংসারটি একটি 'পাগলা গারদ'। কোনও রোগী, অর্থাৎ প্রাচীন পীড়ার রোগী, যদি তাহার মানসিক চঞ্চলতা প্রদর্শন করে, আমাদিগকে গালি দেয়, অথবা এইরূপ ব্যবহার করে যে, তাহার চিত্তদোষ স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়, তবে তাহাতে আমরা দুঃখিত হই না। কেননা সে ব্যক্তি রোগী এবং তাহাকে আরোগ্য করার ভার আমাদের উপর আছে, ও যথা সময়ে আরোগ্য হইবে। কিন্তু যখন সাধারণতঃ লোকে যাঁহাদিগকে সুস্থ বলে, যাঁহাদের হাতে দেশের নেতৃত্বের ভার, যাঁহারা বিচারক, যাঁহারা শাসক, যাঁহারা রাজা, লোকের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, এই প্রকার দায়িত্বযুক্ত ব্যক্তিদিগের পীড়িত মন লক্ষ্য করি এবং দেখিতে পাই যে, পীড়িত মনে, দুষ্ট মনের দ্বারাই ঐ সকল ব্যক্তি অতিশয় দায়িত্বপূর্ণ কার্য করিতেছেন, তখন মনে হয় এই সংসারে সবই গোলমাল, কোন কিছুই খাঁটি নাই, প্রত্যেকে নিজ নিজ অশুদ্ধ মনের প্রেরণায় কার্য করিতেছেন, অতএব ফল অশুদ্ধইহইবে। যিনি বিচারক, তাঁহাকে আইন অনুসারে বেদান্তের নিষ্ক্রিয় ব্রহ্মের ন্যায় অচল, অটল, কুটস্থ হওয়া চাই, প্রত্যেক ঘটনাটি, প্রত্যেক সাক্ষ্যটি তুলাদণ্ডে যেন ওজন করিয়া তাঁহাকে বিচার করিতে হয়, কিন্তু কোথায় সেরূপ বিচারপতি পাইবেন। অশুদ্ধ মনে নিরপেক্ষতা আসিতে পারে না। শুদ্ধ মন ব্যতীত শুদ্ধ প্রেরণা, শুদ্ধ চিন্তা, পরিত্র হিতৈষণা আসিতে পারে না। যে ব্যক্তি মানসিক সুস্থ, সেই ব্যক্তির অমে অধিক রুচি হইবে কেন? যে ব্যক্তির মন নীরোগ, তাহার মনে অন্যের ক্ষতি করিয়াও নিজের স্বার্থসিদ্ধি করিবার প্রবৃত্তি আসিবে কেন? নীরোগ মনে নিজের স্বাধীনতার ভাব অক্ষুণ্ণ থাকিবে। নীরোগ ও সুস্থ মনকে কি কেহ অধীন করিতে পারে? যদিও প্রকৃত সুস্থ মন পাওয়া এই জগতে অবশ্য অসম্ভব বলিয়াই বোধ হয়, তবুও যতটা সম্ভব হইতে পারে, ততটাই পাওয়া ও শাইবার চেষ্টা করা কর্তব্য। যিনি প্রকৃত চিকিৎসক তিনি সুস্থ মনে চিকিৎসার দ্বারা নিজেকে ও রোগীকে মানব জীবনের উচ্চতম আদর্শের পথে পরিচালিত করিয়া থাকেন-সে বিষয়ে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। যাহা হউক, চাপা দেওয়া চিকিৎসার ফলে যখন মন পর্যন্ত পীড়িত হইল, তখন আবার আবার ঐ পীড়িত মন নূতন নূতন ব্যাধির কারণ হইতে পারে এবং হইয়াও থাকে। মানবের জীবনীশক্তির প্রকৃতিই এই যে, সে সকল দোষকে ভিতর হইতে বাহিরে প্রবাহিত করিয়া অন্তরকে নির্মল করিবার চেষ্টা করে এবং ঐ প্রবাহের জন্য কতকগুলি মানসিক পীড়া যেন আকার ধারণ করিয়া বিকাশ পাইবার চেষ্টা করে। জীবনীশক্তির ঐ প্রকৃতি অতিশয় মঙ্গলময়ী। জীবনীশক্তিই প্রতিনিয়তই ভিতরের ময়লা বাহিরে নিক্ষেপ করিতেছেন। কিন্তু এমনই চিকিৎসার ব্যবস্থা যে-যেমনই বাহিরে কিছু আসিল, অমনিই গৃহস্থ ব্যাকুল হইয়া চিকিৎসক আনাইল এবং চিকিৎসক যাহাতে চাপা দেওয়া যায়, তাহারই চেষ্টা করিতে লাগিলেন, ফলে আবার তাহা ভিতরের দিকে গতি পাইয়া অন্তরস্থ যন্ত্রদিগকে পীড়িত করিতে থাকিল। এমনই চিকিৎসা যে, কোনও প্রকারেই মানুষের নিস্তার নাই। কাজেই অন্তর্মুখী দোষগুলি রুদ্ধবীর্য সর্পের ন্যায় ভিতরেই সদাসর্বদাই অনিষ্ট করিতে থাকিল। অশিক্ষিত গৃহস্থ ও উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক বাহিরটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হইলেই আরোগ্য হইয়াছে বলিয়া নিজ মনে সান্ত্বনা আনিলেন, এই প্রকারই চিকিৎসা বা প্রতিকার চলিতেছে ও চলিবে। সরকার বাহাদুর বলিতেছেন, এই প্রথাই ঠিক, তখন আর আমাদের এসকল কথা বাতুলতা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে?

27/01/2025

চাপা দেওয়া চিকিৎসার ফলেই যত কিছু নূতন নূতন নামযুক্ত ব্যাধি। হায়! কে শোনে। লোকে আমাদিগকে পাগল কহিবে। 'পাঁচড়া চাপা দিলে কি আবার হাঁপানি হয় নাকি? পাঁচড়া চাপা দেওয়া কি আবার? পাঁচড়া একটি চর্ম রোগ কাজেই মলম লাগানই ত ঠিক, ইহাতে কি দোষ হইল? হাঁপানি ত বুকের যোগ, হাঁপানির সঙ্গে পাঁচড়ার কি সম্বন্ধ?' এই প্রকার কত কথাই লোকে বলে। কে স্থির হইয়া শোনে বা বুঝে? যাহাই হউক, নাই শুনুক, নাই বুঝুক, আমরা বুঝাইয়া চলিব। ফল এক সময় হইবেই, কেনন। সত্য স্বয়ং প্রকাশ হইয়া থাকে। উপরে লিখিত ঐ গনোরিয়া রোগীর যদি প্রকৃত চিকিৎসা হইত, তবে এইখানেই তাহার মনও নির্মলতা প্রাপ্ত হইত, কিন্তু তাহা প্রায়ই হয় না। কি হয়? ইঞ্জেকসনাদির ফলে বাহিরের স্রাব প্রভৃতি লক্ষণগুলি কিছুদিনের জন্যঅন্তহিত হয় এবং রোগশক্তি অন্তর্মুখ হইয়া ভিতরের যন্ত্রগুলির উপর তাহার ক্ষমতা প্রকাশ করিতে বাধ্য হয়, ক্রমে ক্রমে রোগীর স্মৃতিশক্তি প্রায় লোপ পায়, মেজাজ ভয়ানক খিটখিটে হইয়া উঠে, অন্যান্য রোগ সকল, যাহা যাহা ঐরূপ চিকিৎসার ফলে শুভাগমন করিয়া থাকে, তাহা বাতরোগ, সর্দি, বহুমূত্র ইত্যাদি, আরও বহু আছে, তাহা উল্লেখ করা অসম্ভব। জীবনীশক্তির নির্মল স্রোতটি এখন পঙ্কিল হইল, তাহার ফলে নানা বিকার হইবে ইহাতে আর আশ্চর্য কি আছে? M অতিমাত্র ক্ষুদ্র বর্ণনা এখানে লিখিত হইল, উদ্দেশ্য কেবল একটি উদাহরণ দেওয়া। সর্বাদৌ দোষ সকলের প্রাথমিক ক্রিয়ার ফলে এক প্রকার মনোদুষ্টি ঘটে, তাহার পর "চাপা দেওয়া", চিকিৎসার ফলে, বিলম্বিত হইলেও স্বাভাবিক স্রোতের প্রতিকুলাচরণ জন্য দ্বিতীয়বার মনোদুষ্টি ঘটে, আবার তাহার উপর যদি পূর্ব হইতেই সিফিলিস দোষ শরীরে বর্তমান থাকে, তাহার সহিত এবং তাহা না থাকিলেও সোরার সহিত মিলিত হইয়া রোগ সকলের জটিলতা ও দুরারোগ্যতা আবির্ভূত হয়, যদি সিফিলিসও তৎপূর্বে বর্তমান থাকে, তবে সোরা ত থাকিবেই। কেননা সোরা না থাকিলে গণোরিয়া আসিতেই পারে না, ইহাতে ত একেবারে এ্যহস্পর্শ হইল, তাহার অবস্থা যে অতিশয় শোচনীয় হইবে, তাহা আর বলিতে হইবে কেন? এই রোগ জটিলতার সঙ্গে সঙ্গে মনেরও অতি শোচনীয় পরিবর্তন সংঘটিত হইতেছে। যদিও সাধারণ কথায় যাহাকে 'পাগল' বলে, সেই পাগল না হওয়া পর্যন্ত মনোরোগের জন্য কেহ চিকিৎসকের নিকট যায় না, কিন্তু তাই বলিয়া সাধারণ লোকের মন সুস্থ,
এ কথা কখনোই বলা যাইতে পারে না।

26/01/2025

যদি মনের সুস্থতার উপরেই শারীরিক সুস্থতা নির্ভর করে, যদি মনকে সুস্থ ও অরোগী করিতে পারাই প্রকৃত প্রয়োজনীয়, তবে কি প্রকারে তাহা করা যাইতে পারে? উপায় কি? কি উপায়ে মনকে নীরোগ করা যায়? অগ্রে দেখা প্রয়োজন যে মনটি রোগী হয় কেন? মন কি জন্য রোগাক্রান্ত হইয়া থাকে। যে কারণে আমাদের শরীরস্থ কোনও যন্ত্র বা অংশ রোগাক্রান্ত হয়, সেই কারণেই মনও (যাহা দেহেরই সূক্ষ্মাবস্থা মাত্র) রোগাক্রান্ত হইয়া থাকে। সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস দোষ হেতুই যাবতীয়, রোগলক্ষণের উৎপত্তি। এই সকলদোষ মনোরোগেরও জনক বা কারণ। এই সকল দোষের প্রথম উদ্ভব কি প্রকারে হইল, তাহা সম্প্রতি আলোচ্য নয়, এইজন্য সে বিষয়ের অবতারণা করা হইল না। মনোদুষ্টির কারণ ও প্রতিকারই মুখ্যতঃ আলোচনা করা হইতেছে। সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস-এই তিনটি দোষের জন্য আমাদের শারীরিক ও মানসিক রোগ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। যে কোনও দোষ বা যে কোনও ঔষধ বা যাহা কিছু আমাদের শরীরে ক্রিয়া করে, সেই ক্রিয়ার প্রথম আঘাত, সর্ব প্রথম ঝঙ্কার বা সর্ব প্রথম স্পর্শ মনে আরম্ভ হইয়া থাকে। মনে করুন, আমি যেন আপনাকে কোনও কারণে বা বিনা কারণে কতকগুলি তীব্র ভৎর্সনা করিলাম। আমার ঐ ভৎর্সনা সর্ব প্রথমে কোথায় আঘাত করে। ভৎর্সনা ও দুর্বাক্য সকল প্রথম আঘাত মনের উপর করে, তাহার পর হয়ত শারীরিক লক্ষণ সকল, যথা ক্রন্দন, হৃৎস্পন্দন, দ্বেষ, এমন কি কম্প, মূর্ছা পর্যন্ত হইয়া থাকে। সেই প্রকার কোনও দোষ যখন ক্রিয়া করে, তখন তাহার প্রাথমিক ক্রিয়া মনেই আরম্ভ হয়। তবে একটা কথা আছে, যে দ্রব্য ক্রিয়া করিবে, তাহা যদি স্কুল হয়, তাহা যদি সূক্ষ্ম না হয়, তবে, তাহার মনের উপর ক্রিয়া করিবার শক্তি থাকিতে পারে না। মন যে স্তরের জিনিস সেই স্তরের দ্রব্য হইলে, তবেই মনে ক্রিয়া আগে দেখা যাইবে। যে দ্রব্য স্থল তাহা ত খাদ্য দ্রব্য। কাজেই স্থল দ্রব্য শরীরে প্রবেশ করিবার যে পথ নির্দিষ্ট আছে; সেই পথ দিয়া তাহাকে যাইতে হইবে এবং স্থল হইতে ক্রমে ক্রমে রূপান্তরিত হইয়া শেষে মনে পৌছিবে। এখানে স্কুলের কথা হইতেছে না। দোষ সকল- অর্থাৎ সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস ইহারা অতি সূক্ষ্ম, এ কারণে ইহারা সর্বদাই মনের উপর ক্রিয়া করিতে সমর্থ হয়। কোনও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দেখা যায় যে, যদি অতিশয় নিম্ন শক্তির হয় তবে ভাহা আমাদের মানসিক লক্ষণকে পরিবর্তিত করিতে পারে না, কিন্তু যদি উচ্চ শক্তির হয়, তবে আগেই মনের উপর ক্রিয়া করে। ঔষধ সকলের প্রুভিং করিবার সময়েও যথেষ্ট উচ্চ শক্তির দ্বারা প্রুডিং না করিলে ঐ ঔষধের মানসিক লক্ষণ সকল প্রকাশ পায় না। এইজন্য যে সকল ঔষধ এখনও উচ্চতর শক্তিতে লইয়া গিয়া প্রুভিং হয় নাই, তাহাদের এখনও মানসিক লক্ষণ সকল প্রস্ফুটিত হয় নাই। যাহা হউক ইহা সিন্ধ যে, দোষ সকল সর্বাদৌ মনের উপর ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া থাকে, এই কারণে 1 মনোদুষ্টিই দোষ সকলের প্রাথমিক ক্রিয়া-একথা স্থির। এই হইল, প্রাথমিক মনোদুষ্টি বা মনোযোগ। কিন্তু আরও আছে, আরও গুরুতর প্রকারের মনোযোগের সৃষ্টি হয়। তাহা পরে কহিতেছি।এখানে প্রসঙ্গ হিসাবে একটি কথা বলা খুবই আবশ্যক। এই জগতের সৃষ্টিতত্ত্বের একটি সৃদ্ধ ধর্ম আছে। কোন কিছুরই যেন আদি বা অস্ত্র বলিয়া ধরিধার উপায় নাই। সবই যেন 'বীআঙুরবৎ'। অর্থাৎ বীজ হইতে বৃক্ষ, আধার বৃক্ষ হইতেবীজ, কে কাহার কারণ তাহা বলা যায় না; মেঘ হইতে বৃষ্টি, আবার বৃষ্টি হইতে বীজ, মিন পঙ্কিল হইলে দোষের সৃষ্টি হয়, আবার দোষই মনকে পঙ্কিল করো যেমন এমটি হৃদয়ঙ্গম করিলে অনেক কু-তর্কের হাত হইতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এই চক্রগতি চলিয়াছে ও চলিতে থাকে। এই রাত্রি দিন গতি যেন সৃষ্টির একটি প্রধান তত্ত্ব বলিয়া শাস্ত্রে বর্ণিত আছে। যাহা হউক, যদি ঐ প্রাথমিক দুষ্টির পরেই তাহার প্রকৃত প্রতিকার হয় তবে মনোরোগের এইখানেই নিবৃত্তি হয়। কিন্তু হায়। তাহা হয় না। লোকটি বেশ ছিল, রেলওয়েতে কাজ করে, কোথায় কি কুক্ষণে দুষ্ট জাতীয় গনোরিয়া বিষ তাহার শরীরে প্রবেশ করিল এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাহাকে সন্দিপ্ত চিত্ত করিল, পূর্বে সে ব্যক্তি বেশ সরল এবং স্পষ্টবাদী ছিল, আজকাল তাহার সকল বিষয় লুকাইবার এবং গোপনে কাজ করিবার প্রবৃত্তি আসিল। এই অবস্থায় প্রতিকার কি প্রকারে হইয়া থাকে, তাহা সকলেই বোধ হয় জানেন। সে লোকটি কাহাকেও কিছুই না বলিয়া নিকটবর্তী এলোপ্যাথিক ডাক্তারকে গিয়া কহিল-'কি জানি কেন, আজ কয়েকদিন হইল প্রস্রাব করিতে অত্যন্ত জ্বালা অনুভব করিতেছি, পেটের দায়ে রেলে চাকুরী করিতে আসিয়া মহাশয়, কেবল ট্রেনে ট্রেনে ঘুরিতে ঘুরিতে শরীরটি গরম হইয়া উঠিয়াছে, কিন্তু আবার ত এই কাজ করিতেই হইতেছে ও হইবে, অতএব মহাশয় ২।১টি ইঞ্জেকসন দিন না।' এখানেও গোপন করিয়া আত্ম-প্রবঞ্চনার প্রবৃত্তি আসিল। যাহা হউক, ডাক্তারবাবু ত এইজন্যই প্রস্তুতই আছেন, তিনি মনে মনে কিছু হাসিলেন ও বেশ একটু মোটা ফি লইয়া সপ্তাহে ২ ।৩টি করিয়া ইঞ্জেকসনের ব্যবস্থা করিয়া দিলেন। যে ব্যক্তি ভগবানের চক্ষে ধূলা দিতে যায়, সে নিজেই তাহার ফলে অন্ধ হয়-ইহাই নিয়ম। এই চাপা দিবার ফলে যে কত দুঃখ হয় তাহাই বর্ণনা করা যায় না। যাহা হউক, প্রাথমিক মনোদুষ্টির প্রতিকার না হইয়া সর্বস্থলে, অন্ততঃ অধিকাংশ স্থলে, এই প্রকারে চাপা দেওয়াটাই প্রকৃত চিকিৎসা বলিয়া প্রচলিত আছে।

25/01/2025

মনোরোগী ও দেহরোগী লোকে দেহের পীড়াকেই সাধারণতঃ পীড়া কহে এবং তাহারই চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক সমীপে উপস্থিত হয়। মনের সুতাহার জন্যই রোগটির একটা লক্ষ্য জন্য চিড়ি যখন মনের এরূপ পীড়া হয় যে, তাহার জন্য রোগীর দ্বারা আর করোরিক কার্য চলে না অর্থাৎ যাহাকে লোকে মোটা কথায় উন্মাদ রোগ বলে সাংগ্রাই দেখা দেয়, তখনই কেবল তাহাকে আরাম করিবার জন্য উপায় অবলম্বন করে। যদি সাংসারিক কার্যের কোনও অসুবিধা না হয়, অর্থাৎ হিসাবনিকাশ বা লোকজনের সহিত ব্যবহারের বিষয়ে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তবে মনের যে অবস্থাই হউক না কেন, তাহা কেহই নজর রাখে না অথবা চিকিৎসার প্রয়োজন বলিয়াই মনে করে না। একটু প্রণিধান করিয়া লোক-চরিত্র পর্যবেক্ষণ করিলেই বেশ বুঝিতে পারা যায় যে, সহস্র ব্যক্তির মধ্যে একজনেরও বোধ হয় সুস্থ মন নাই। অথচ মনের রোগ আরোগ্য করিবার জন্য কাহারও বড় কিছু আগ্রহ দেখা যায় না। ইহা সমাজের বড়ই শোচনীয় অবস্থা। শিক্ষক মহাশয়গণ বিশেষভাবেই অবগত আছেন যে, তাঁহার সহস্র চেষ্টা, যত্ন, উপদেশ এবং শাসনাদির সাহায্যে কোনও কোনও ছাত্রের চরিত্র সংশোধন করিতে একেবারে অপারক হয়েন। একই শ্রেণীর ছাত্রগণ একই অধ্যাপকের নিকটে শিক্ষা করিবার সুবিধা লাভ করিয়াও প্রত্যেকে বিভিন্ন ভাবে বিদ্যা অর্জন বা চরিত্র গঠন করিতে সমর্থ হয়। এমন কি একই পিতামাতার সন্তানগণকে বিভিন্ন পথগামী হইতে দেখা যায়। যদি কেহ বার বার অন্যায় কার্য করে, লোকে তাহাকে দুষ্ট কহে। সকলেই বাল্যকাল হইতে প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ পাঠ্য পুস্তকে এবং গুরুজনের উপদেশ পাইতে থাকে- 'সদা সত্য কথা কহিবে', 'অন্যের দ্রব্য না বলিয়া লইও না', 'প্রতিবেশীকে ভালবাসিবে', ইত্যাদি, কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তিতে ঐ সকল উপদেশ বিভিন্নভাবে ফল প্রদান করে। চোরকে চুরি করিও না বলিলে সে কি চুরি ত্যাগ করিতে পারে? কখনই না। সে কেন চুরি করে? যেহেতু সে চুরি না করিয়া থাকিতে পারে না। সাধারণ কথায় লোকে বলিয়া থাকে, সে ব্যক্তি অভ্যাসদোষে ইহা করিয়া থাকে। অভ্যাসদোষ বলিলে প্রকৃত কারণ বলা হইল না। একজন এক প্রকার কার্য করিতে করিতে ক্রমে তাহার অভ্যাস হইয়া যায় সত্য কথা, কিন্তু একজন এক প্রকার অভ্যাস করে, আর একজন অন্য প্রকার অভ্যাস করে কেন? চোর বা মিথ্যাবাদী, চুরি করা বা মিথ্যা কথা বলা দোষ বা পাপ জানা সত্ত্বেও এবং বার বার তাহা হইতে বিরত হইবার চেষ্টা সত্ত্বেও চুরি না করিয়া বা মিথ্যা কথা না বলিয়া থাকিতে পারে না। এই সকলের প্রকৃত কারণ-মনপীড়িত। সুস্থ মনে চুরি করিবার প্রবৃত্তিই আসিবে না, বার বার অভ্যাস করিবার কথা ত সুদূরপরাহত। সুস্থ মনে মিথ্যা কথা বলিবার ইচ্ছাই থাকে না। পিতামাতা বা শিক্ষকগণ বালকদিগকে শাসন অথবা উপদেশ দিয়াই যথেষ্ট প্রতিকার করা হইল বলিয়া মনে করেন। এমন কি কোনও কোনও শিক্ষক ও পিতা প্রায়ই দারুণ প্রহার পর্যন্ত করিতে ছাড়েন না, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সকল পন্থায় প্রতিকার ত হয়ই না বরং অনিষ্টই ঘটিয়া থাকে। আজকাল প্রায়ই স্কুলের ছাত্রকে অতি অল্প বয়স হইতেই ইন্দ্রিয়সেবী হইতে দেখা যায় এবং অবৈধ উপায়ে শরীরটি চিরজীবনের জন্য নষ্ট করিতে থাকে। ইহার কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসুস্থ মন, তবে অতি অল্প সংখ্যক বালক, যাহারা কেবলমাত্র সঙ্গদোষে এই কার্যে ব্রতী হয় তাহারা অতি শীঘ্রই বিরত হয়, সামান্য উপদেশ উহাদের পক্ষে যথেষ্ট হয়। এমন কি নিজেদের মনেই তাহাদের সমধিক গ্লানি উপস্থিত হইয়া তাহাদিগকে অতি শীঘ্র সংশোধন করিয়া থাকে। আমরা অবশ্যই এই সকল এতটা সূক্ষ্মভাবে দেখি না এবং চিন্তাও করি না। কিন্তু এই কথা অতিমাত্র সত্য যে, সুস্থ মনে কোনও অসৎ কার্য ও অসৎ চিন্তা আসিতে পারে না।
প্রায়ই দেখা যায় যে, কোনও গৃহস্থে হয়ত অতিশয় দুঃখজনক ঘটনা, যেমন কাহারও অকালমৃত্যু বা গৃহদাহ অথবা ধনাপহরণ ঘটিয়াছে, ইহাতে গৃহস্থের মধ্যে সকলের পক্ষে সমান ক্ষতিজনক হইলেও কেহ বা অত্যন্ত অভিভূত হইয়া পড়ে, আবার কেহ বা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করিতে সমর্থ হয়। যে ব্যক্তি ঐ প্রকার উপেক্ষা করিতে সমর্থ হয়, তাহার মন অপেক্ষাকৃত অনেক সুস্থ, নতুবা সে ব্যক্তি মনকে কখনও দমন করিতে পারিত না। দুর্বল বা পীড়িত মনে সামান্য ঘটনাও বিশেষ ক্ষমতা বিস্তার করিয়া থাকে, কিন্তু সুস্থ মনে ডাহা হয় না। আমরা নিত্যই দেখিয়া থাকি যে, সকলে সমান ক্রোধী নয়, কেহ হয়ত অতি সামান্য কারণে ভয়ানক অগ্নিশর্মা হইয়া উঠে, অন্যের হয়ত সহিষ্ণুতা অতীব প্রশংসনীয়। এই প্রকারের তারতম্য, কেবলমাত্র মনের সুস্থতা ও অসুস্থতার উপর নির্ভর করে। আমি জানি, কোনও একটি মধ্যবিত্ত গৃহস্থের কর্তা (একমাত্র উপার্জনকারী নিজেই) অতি গোপনে স্ত্রীলোকদিগের কাপড় ছিঁড়িয়া দিতেন এবং পরে স্ত্রীলোকদিগকে ভৎর্সনা করিতেন, অন্য পক্ষে তিনি সাধারণতঃ বেশ সুস্থই ছিলেন। কিছুদিন পরে তাঁহার টাইফয়েড পীড়া হয় এবং তাহার চিকিৎসার পর তিনি আমার নিকট ইহা স্বীকার করেন যে কেবল স্ত্রীলোকদিগকে তিরষ্কার করিবার সুযোগ খোঁজা তাঁহার একটি বিশেষ রীতি ছিল, তবে এক্ষণে আর তাহা নাই। তাঁহাকে বোধ হয় টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসার ভিতর কোনও গভীর কার্যকরী ঔষধ দেওয়া হইয়াছিল-তাহার ফলে তাঁহার ঐ প্রকৃতি গিয়াছিল। তিনি আমার নিকট অনেক ধন্যবাদ দেওয়ার পর ঐ কথা অতি সরলভাবে কহিয়াছিলেন। ছোট ছোট ছেলেদের মেজাজ খারাপ হইলে, তাহারা তাহা চাপা দিয়া বাহিরে প্রফুল্লতার ভান করিতেজানে না, কিন্তু বড় হইলে ভিভরের ভার ভিতরে রাখিয়া, বাহিরে ভালোমানুষটি। জানে না, কিন্তু কিন্তু তাই বলিয়া যে তাহারা মানসিক নাই, একথা বলা যায় না। এমন কি চাপা দিয়া 'তাল মানুষ সাজিবার' প্রবৃত্তিটিও মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। এমন নিই মধ্যথা হ্যানিম্যান প্রকৃতই অনুভব করিয়া কহিয়াছেন যে, 'মানব মাত্রেই আজকাল অভ্যন্তরে কুষ্ঠরোগী।' অতি সত্য কথা। সকলে না হইলেও অনেকেই জানেন যে, যাবতীয় পীড়া, মন হইতেই দেহে বিকাশ পায়। দেহটিকে মনই গঠন করে এমন কি, দেহটি মনেরই স্কুল রূপমাত্র। মনটি যেমন, দেহটিও তেমনই হইবে। মনটি পীড়িত হইলে, দেহটি সুস্থ হইতে পারে না। দেহটিকে সুস্থ রাখিতে হইলে, আগে মনটিকে সুস্থ করিতে হইবে, অন্য উপায় নাই, এইজন্যই আমাদের ত্রিকালদর্শী আর্য ঋষিগণ জীবনে সর্ব প্র প্রথম হইতেই গুরু-গৃহে বাস করিয়া সংযমাদি শিক্ষালাভ করিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন এবং আমাদের দেশে যতদিন সেই ব্যবস্থা বলবর্তী ছিল, ততদিন ব্রাহ্মণ সন্তানগণ সর্বোতভাবে সুস্থ মনে, তথা সুস্থদেহে, জীবনযাত্রা নির্বাহ করিয়া মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন করিতে সক্ষম হইতেন। তাঁহারা আবার অন্য বর্ণাশ্রমীদিগের কল্যাণ করিয়া তাঁহাদিগকেও প্রকৃত পথে চালিত করিতেন। এখন 'সে রামও নাই, সে অযোধ্যাও নাই।' এখন মনের দিকে কাহারও দৃষ্টি নাই, শরীরটিরও প্রকৃত সুস্থতা কিসে আসিবে, সে দিকেও দৃষ্টি নাই-দৃষ্টি কেবল একেবারে বাহিরে, কেবল বাহির সাফ চাই, 'লেপাফা দুরস্ত' চাই। ভিতরে ভিতরে যাহাই থাক না কেন, বাহিরের চটক থাকিলেই হইল। ভিতরের যথেষ্ট গরল থাকা সত্ত্বেও যদি দেখা হইবামাত্র সামান্যভাবে মৃদু কপট হাস্যের সহিত একটু ঘাড় নাড়া দিতে পারা গেল তবে যথেষ্ট সম্ভাষণ, সদালাপ হইল, ইহাই এখনকার রীতি হইয়া উঠিয়াছে। ভিতর কেহ দেখে না, বাহির লইয়াই ব্যস্ত। ফলে, ভিতরটি অতি ভয়ানক নরক সদৃশ হইয়া উঠিয়াছে ও উঠিতেছে এবং সেই সকল নরক দেহে আসিলে আবার তাহা চাপা দিবার চিকিৎসা অবলম্বিত হওয়ায়, ক্রমাগত নূতন নূতন ব্যাধি নূতন নূতন দুঃখের সৃষ্টি হইতেছে। তখন অদৃষ্টকে ধিক্কার দেওয়া, ভগবানকে দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়া কোনও উপায়ান্তর আর কি আছে?

যদি মনের সুস্থতার উপরেই শারীরিক সুস্থতা নির্ভর করে, যদি মনকে সুস্থ ও অরোগী করিতে পারাই প্রকৃত প্রয়োজনীয়, তবে কি প্রকারে তাহা করা যাইতে পারে? উপায় কি? কি উপায়ে মনকে নীরোগ করা যায়? অগ্রে দেখা প্রয়োজন যে মনটি রোগী হয় কেন? মন কি জন্য রোগাক্রান্ত হইয়া থাকে। যে কারণে আমাদের শরীরস্থ কোনও যন্ত্র বা অংশ রোগাক্রান্ত হয়, সেই কারণেই মনও (যাহা দেহেরই সূক্ষ্মাবস্থা মাত্র) রোগাক্রান্ত হইয়া থাকে। সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস দোষ হেতুই যাবতীয়, রোগলক্ষণের উৎপত্তি। এই সকলদোষ মনোরোগেরও জনক বা কারণ। এই সকল দোষের প্রথম উদ্ভব কি প্রকারে হইল, তাহা সম্প্রতি আলোচ্য নয়, এইজন্য সে বিষয়ের অবতারণা করা হইল না। মনোদুষ্টির কারণ ও প্রতিকারই মুখ্যতঃ আলোচনা করা হইতেছে। সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস-এই তিনটি দোষের জন্য আমাদের শারীরিক ও মানসিক রোগ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। যে কোনও দোষ বা যে কোনও ঔষধ বা যাহা কিছু আমাদের শরীরে ক্রিয়া করে, সেই ক্রিয়ার প্রথম আঘাত, সর্ব প্রথম ঝঙ্কার বা সর্ব প্রথম স্পর্শ মনে আরম্ভ হইয়া থাকে। মনে করুন, আমি যেন আপনাকে কোনও কারণে বা বিনা কারণে কতকগুলি তীব্র ভৎর্সনা করিলাম। আমার ঐ ভৎর্সনা সর্ব প্রথমে কোথায় আঘাত করে। ভৎর্সনা ও দুর্বাক্য সকল প্রথম আঘাত মনের উপর করে, তাহার পর হয়ত শারীরিক লক্ষণ সকল, যথা ক্রন্দন, হৃৎস্পন্দন, দ্বেষ, এমন কি কম্প, মূর্ছা পর্যন্ত হইয়া থাকে। সেই প্রকার কোনও দোষ যখন ক্রিয়া করে, তখন তাহার প্রাথমিক ক্রিয়া মনেই আরম্ভ হয়। তবে একটা কথা আছে, যে দ্রব্য ক্রিয়া করিবে, তাহা যদি স্কুল হয়, তাহা যদি সূক্ষ্ম না হয়, তবে, তাহার মনের উপর ক্রিয়া করিবার শক্তি থাকিতে পারে না। মন যে স্তরের জিনিস সেই স্তরের দ্রব্য হইলে, তবেই মনে ক্রিয়া আগে দেখা যাইবে। যে দ্রব্য স্থল তাহা ত খাদ্য দ্রব্য। কাজেই স্থল দ্রব্য শরীরে প্রবেশ করিবার যে পথ নির্দিষ্ট আছে; সেই পথ দিয়া তাহাকে যাইতে হইবে এবং স্থল হইতে ক্রমে ক্রমে রূপান্তরিত হইয়া শেষে মনে পৌছিবে। এখানে স্কুলের কথা হইতেছে না। দোষ সকল- অর্থাৎ সোরা, সাইকোসিস ও সিফিলিস ইহারা অতি সূক্ষ্ম, এ কারণে ইহারা সর্বদাই মনের উপর ক্রিয়া করিতে সমর্থ হয়। কোনও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দেখা যায় যে, যদি অতিশয় নিম্ন শক্তির হয় তবে ভাহা আমাদের মানসিক লক্ষণকে পরিবর্তিত করিতে পারে না, কিন্তু যদি উচ্চ শক্তির হয়, তবে আগেই মনের উপর ক্রিয়া করে। ঔষধ সকলের প্রুভিং করিবার সময়েও যথেষ্ট উচ্চ শক্তির দ্বারা প্রুডিং না করিলে ঐ ঔষধের মানসিক লক্ষণ সকল প্রকাশ পায় না। এইজন্য যে সকল ঔষধ এখনও উচ্চতর শক্তিতে লইয়া গিয়া প্রুভিং হয় নাই, তাহাদের এখনও মানসিক লক্ষণ সকল প্রস্ফুটিত হয় নাই। যাহা হউক ইহা সিন্ধ যে, দোষ সকল সর্বাদৌ মনের উপর ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া থাকে, এই কারণে 1 মনোদুষ্টিই দোষ সকলের প্রাথমিক ক্রিয়া-একথা স্থির। এই হইল, প্রাথমিক মনোদুষ্টি বা মনোযোগ। কিন্তু আরও আছে, আরও গুরুতর প্রকারের মনোযোগের সৃষ্টি হয়। তাহা পরে কহিতেছি।

21/12/2024

প্রায়ই দেখা যায় যে, কোনও গৃহস্থে হয়ত অতিশয় দুঃখজনক ঘটনা, যেমন কাহারও অকালমৃত্যু বা গৃহদাহ অথবা ধনাপহরণ ঘটিয়াছে, ইহাতে গৃহস্থের মধ্যে সকলের পক্ষে সমান ক্ষতিজনক হইলেও কেহ বা অত্যন্ত অভিভূত হইয়া পড়ে, আবার কেহ বা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করিতে সমর্থ হয়। যে ব্যক্তি ঐ প্রকার উপেক্ষা করিতে সমর্থ হয়, তাহার মন অপেক্ষাকৃত অনেক সুস্থ, নতুবা সে ব্যক্তি মনকে কখনও দমন করিতে পারিত না। দুর্বল বা পীড়িত মনে সামান্য ঘটনাও বিশেষ ক্ষমতা বিস্তার করিয়া থাকে, কিন্তু সুস্থ মনে ডাহা হয় না। আমরা নিত্যই দেখিয়া থাকি যে, সকলে সমান ক্রোধী নয়, কেহ হয়ত অতি সামান্য কারণে ভয়ানক অগ্নিশর্মা হইয়া উঠে, অন্যের হয়ত সহিষ্ণুতা অতীব প্রশংসনীয়। এই প্রকারের তারতম্য, কেবলমাত্র মনের সুস্থতা ও অসুস্থতার উপর নির্ভর করে। আমি জানি, কোনও একটি মধ্যবিত্ত গৃহস্থের কর্তা (একমাত্র উপার্জনকারী নিজেই) অতি গোপনে স্ত্রীলোকদিগের কাপড় ছিঁড়িয়া দিতেন এবং পরে স্ত্রীলোকদিগকে ভৎর্সনা করিতেন, অন্য পক্ষে তিনি সাধারণতঃ বেশ সুস্থই ছিলেন। কিছুদিন পরে তাঁহার টাইফয়েড পীড়া হয় এবং তাহার চিকিৎসার পর তিনি আমার নিকট ইহা স্বীকার করেন যে কেবল স্ত্রীলোকদিগকে তিরষ্কার করিবার সুযোগ খোঁজা তাঁহার একটি বিশেষ রীতি ছিল, তবে এক্ষণে আর তাহা নাই। তাঁহাকে বোধ হয় টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসার ভিতর কোনও গভীর কার্যকরী ঔষধ দেওয়া হইয়াছিল-তাহার ফলে তাঁহার ঐ প্রকৃতি গিয়াছিল। তিনি আমার নিকট অনেক ধন্যবাদ দেওয়ার পর ঐ কথা অতি সরলভাবে কহিয়াছিলেন। ছোট ছোট ছেলেদের মেজাজ খারাপ হইলে, তাহারা তাহা চাপা দিয়া বাহিরে প্রফুল্লতার ভান করিতেজানে না, কিন্তু বড় হইলে ভিভরের ভার ভিতরে রাখিয়া, বাহিরে ভালোমানুষটি। জানে না, কিন্তু কিন্তু তাই বলিয়া যে তাহারা মানসিক নাই, একথা বলা যায় না। এমন কি চাপা দিয়া 'তাল মানুষ সাজিবার' প্রবৃত্তিটিও মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। এমন নিই মধ্যথা হ্যানিম্যান প্রকৃতই অনুভব করিয়া কহিয়াছেন যে, 'মানব মাত্রেই আজকাল অভ্যন্তরে কুষ্ঠরোগী।' অতি সত্য কথা। সকলে না হইলেও অনেকেই জানেন যে, যাবতীয় পীড়া, মন হইতেই দেহে বিকাশ পায়। দেহটিকে মনই গঠন করে এমন কি, দেহটি মনেরই স্কুল রূপমাত্র। মনটি যেমন, দেহটিও তেমনই হইবে। মনটি পীড়িত হইলে, দেহটি সুস্থ হইতে পারে না। দেহটিকে সুস্থ রাখিতে হইলে, আগে মনটিকে সুস্থ করিতে হইবে, অন্য উপায় নাই, এইজন্যই আমাদের ত্রিকালদর্শী আর্য ঋষিগণ জীবনে সর্ব প্র প্রথম হইতেই গুরু-গৃহে বাস করিয়া সংযমাদি শিক্ষালাভ করিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন এবং আমাদের দেশে যতদিন সেই ব্যবস্থা বলবর্তী ছিল, ততদিন ব্রাহ্মণ সন্তানগণ সর্বোতভাবে সুস্থ মনে, তথা সুস্থদেহে, জীবনযাত্রা নির্বাহ করিয়া মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন করিতে সক্ষম হইতেন। তাঁহারা আবার অন্য বর্ণাশ্রমীদিগের কল্যাণ করিয়া তাঁহাদিগকেও প্রকৃত পথে চালিত করিতেন। এখন 'সে রামও নাই, সে অযোধ্যাও নাই।' এখন মনের দিকে কাহারও দৃষ্টি নাই, শরীরটিরও প্রকৃত সুস্থতা কিসে আসিবে, সে দিকেও দৃষ্টি নাই-দৃষ্টি কেবল একেবারে বাহিরে, কেবল বাহির সাফ চাই, 'লেপাফা দুরস্ত' চাই। ভিতরে ভিতরে যাহাই থাক না কেন, বাহিরের চটক থাকিলেই হইল। ভিতরের যথেষ্ট গরল থাকা সত্ত্বেও যদি দেখা হইবামাত্র সামান্যভাবে মৃদু কপট হাস্যের সহিত একটু ঘাড় নাড়া দিতে পারা গেল তবে যথেষ্ট সম্ভাষণ, সদালাপ হইল, ইহাই এখনকার রীতি হইয়া উঠিয়াছে। ভিতর কেহ দেখে না, বাহির লইয়াই ব্যস্ত। ফলে, ভিতরটি অতি ভয়ানক নরক সদৃশ হইয়া উঠিয়াছে ও উঠিতেছে এবং সেই সকল নরক দেহে আসিলে আবার তাহা চাপা দিবার চিকিৎসা অবলম্বিত হওয়ায়, ক্রমাগত নূতন নূতন ব্যাধি নূতন নূতন দুঃখের সৃষ্টি হইতেছে। তখন অদৃষ্টকে ধিক্কার দেওয়া, ভগবানকে দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়া কোনও উপায়ান্তর আর কি আছে?

19/12/2024

মনোরোগী ও দেহরোগী
লোকে দেহের পীড়াকেই সাধারণতঃ পীড়া কহে এবং তাহারই চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক সমীপে উপস্থিত হয়। মনের সুতাহার জন্যই রোগটির একটা লক্ষ্য জন্য চিড়ি যখন মনের এরূপ পীড়া হয় যে, তাহার জন্য রোগীর দ্বারা আর করোরিক কার্য চলে না অর্থাৎ যাহাকে লোকে মোটা কথায় উন্মাদ রোগ বলে সাংগ্রাই দেখা দেয়, তখনই কেবল তাহাকে আরাম করিবার জন্য উপায় অবলম্বন করে। যদি সাংসারিক কার্যের কোনও অসুবিধা না হয়, অর্থাৎ হিসাবনিকাশ বা লোকজনের সহিত ব্যবহারের বিষয়ে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তবে মনের যে অবস্থাই হউক না কেন, তাহা কেহই নজর রাখে না অথবা চিকিৎসার প্রয়োজন বলিয়াই মনে করে না। একটু প্রণিধান করিয়া লোক-চরিত্র পর্যবেক্ষণ করিলেই বেশ বুঝিতে পারা যায় যে, সহস্র ব্যক্তির মধ্যে একজনেরও বোধ হয় সুস্থ মন নাই। অথচ মনের রোগ আরোগ্য করিবার জন্য কাহারও বড় কিছু আগ্রহ দেখা যায় না। ইহা সমাজের বড়ই শোচনীয় অবস্থা। শিক্ষক মহাশয়গণ বিশেষভাবেই অবগত আছেন যে, তাঁহার সহস্র চেষ্টা, যত্ন, উপদেশ এবং শাসনাদির সাহায্যে কোনও কোনও ছাত্রের চরিত্র সংশোধন করিতে একেবারে অপারক হয়েন। একই শ্রেণীর ছাত্রগণ একই অধ্যাপকের নিকটে শিক্ষা করিবার সুবিধা লাভ করিয়াও প্রত্যেকে বিভিন্ন ভাবে বিদ্যা অর্জন বা চরিত্র গঠন করিতে সমর্থ হয়। এমন কি একই পিতামাতার সন্তানগণকে বিভিন্ন পথগামী হইতে দেখা যায়। যদি কেহ বার বার অন্যায় কার্য করে, লোকে তাহাকে দুষ্ট কহে। সকলেই বাল্যকাল হইতে প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ পাঠ্য পুস্তকে এবং গুরুজনের উপদেশ পাইতে থাকে- 'সদা সত্য কথা কহিবে', 'অন্যের দ্রব্য না বলিয়া লইও না', 'প্রতিবেশীকে ভালবাসিবে', ইত্যাদি, কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তিতে ঐ সকল উপদেশ বিভিন্নভাবে ফল প্রদান করে। চোরকে চুরি করিও না বলিলে সে কি চুরি ত্যাগ করিতে পারে? কখনই না। সে কেন চুরি করে? যেহেতু সে চুরি না করিয়া থাকিতে পারে না। সাধারণ কথায় লোকে বলিয়া থাকে, সে ব্যক্তি অভ্যাসদোষে ইহা করিয়া থাকে। অভ্যাসদোষ বলিলে প্রকৃত কারণ বলা হইল না। একজন এক প্রকার কার্য করিতে করিতে ক্রমে তাহার অভ্যাস হইয়া যায় সত্য কথা, কিন্তু একজন এক প্রকার অভ্যাস করে, আর একজন অন্য প্রকার অভ্যাস করে কেন? চোর বা মিথ্যাবাদী, চুরি করা বা মিথ্যা কথা বলা দোষ বা পাপ জানা সত্ত্বেও এবং বার বার তাহা হইতে বিরত হইবার চেষ্টা সত্ত্বেও চুরি না করিয়া বা মিথ্যা কথা না বলিয়া থাকিতে পারে না। এই সকলের প্রকৃত কারণ-মনপীড়িত। সুস্থ মনে চুরি করিবার প্রবৃত্তিই আসিবে না, বার বার অভ্যাস করিবার কথা ত সুদূরপরাহত। সুস্থ মনে মিথ্যা কথা বলিবার ইচ্ছাই থাকে না। পিতামাতা বা শিক্ষকগণ বালকদিগকে শাসন অথবা উপদেশ দিয়াই যথেষ্ট প্রতিকার করা হইল বলিয়া মনে করেন। এমন কি কোনও কোনও শিক্ষক ও পিতা প্রায়ই দারুণ প্রহার পর্যন্ত করিতে ছাড়েন না, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সকল পন্থায় প্রতিকার ত হয়ই না বরং অনিষ্টই ঘটিয়া থাকে। আজকাল প্রায়ই স্কুলের ছাত্রকে অতি অল্প বয়স হইতেই ইন্দ্রিয়সেবী হইতে দেখা যায় এবং অবৈধ উপায়ে শরীরটি চিরজীবনের জন্য নষ্ট করিতে থাকে। ইহার কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসুস্থ মন, তবে অতি অল্প সংখ্যক বালক, যাহারা কেবলমাত্র সঙ্গদোষে এই কার্যে ব্রতী হয় তাহারা অতি শীঘ্রই বিরত হয়, সামান্য উপদেশ উহাদের পক্ষে যথেষ্ট হয়। এমন কি নিজেদের মনেই তাহাদের সমধিক গ্লানি উপস্থিত হইয়া তাহাদিগকে অতি শীঘ্র সংশোধন করিয়া থাকে। আমরা অবশ্যই এই সকল এতটা সূক্ষ্মভাবে দেখি না এবং চিন্তাও করি না। কিন্তু এই কথা অতিমাত্র সত্য যে, সুস্থ মনে কোনও অসৎ কার্য ও অসৎ চিন্তা আসিতে পারে না।

Address

267, Ahmed Nagar, Mirpur/1
Dhaka
1216

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:30
Tuesday 09:00 - 22:30
Wednesday 09:00 - 22:30
Thursday 09:00 - 22:30
Friday 16:00 - 22:30
Saturday 09:00 - 22:30
Sunday 09:00 - 22:30

Telephone

+8801979949857

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Homoeo and Biochemic Medical Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Homoeo and Biochemic Medical Center:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category