23/04/2024
❌ প্রচলিত ধারণা ৬ঃ একজন পুরুষ তখনই সফল যখন সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত।
✅ বাস্তবিক ধারণাঃ কন্যা সন্তানকে যেমন বোঝা মনে করা হয়, তেমনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমাজে পুত্র সন্তানের উপর অযাচিত বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়। পরিবারে আর্থিক টানাপোড়ন? জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদ? ভাইয়ের লেখাপড়া? বোনের বিয়ে? পারিবারিক দেনা-পাওনার বিষয়? এই সমস্ত কিছুর সর্বশেষ সমাধানে বলা হয়- "আমার ছেলে আছে, ছেলেই সব দেখবে।" এর পাশাপাশি, ছেলেটি কোন চাকরি করবে, কতোগুলো বাড়ি-গাড়ি-জমি হলে সমাজে সে প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য হবে, কবে বিয়ে করবে ইত্যাদি বিষয়গুলোর একটি মোটা তালিকা তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় খুব ছোট বয়সেই। এই ছেলেটির কাছে সফলতার সংজ্ঞা হয়তো ভিন্ন কিন্তু সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রথার মাপকাঠিতে নিজেকে মাপতে গিয়ে সে সফল পুরুষ হবার প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়, প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়। একজন পুরুষ হিসেবে এই মানসিক চাপের বিষয়টা সে অনেক সময়েই কাউকে বলে বুঝাতে পারেন না কেননা প্রথাগত ভাবে সমাজ বিশ্বাস করে যে, পুরুষ মানুষ কখনো ভেঙে পড়ে না, কখনো কাঁদে না এবং একজন পুরুষ হিসেবে এ কাজগুলো করাই তার কর্তব্য!
📣 আপনার কী করণীয়ঃ
➡️ পুরুষ হিসেবে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে সে নিজেকে কীভাবে সফল মনে করেন সেটা তার কাছে জানতে চান। সে নিজেকে এবং নিজের মতামতকে মূল্যবান ভাবতে শিখবে।
➡️ ব্যক্তির স্বপ্ন এবং সফলতা অর্জন করতে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি পরিবারের যে দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলুন এবং সাধ্য অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করুন। এতে সে তার দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন থাকবে।
➡️ কাজ থেকে বাড়িতে ফিরে আসলে তার কাছে জানতে চান দিনটি কেমন ছিল। নারীরা যেমন যত্ন পেতে চান, ঠিক তেমনি পুরুষরাও এই ছোট ছোট যত্নগুলোর অপেক্ষায় থাকেন।
➡️ চাকরি, ব্যবসা কিংবা অর্থ উপার্জন প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও হতে পারে। যে কোন ব্যর্থতায় তার পাশে থাকুন, তার সাথে কথা বলুন, তাকে সময় দিন। সুখের মতো ব্যর্থতাও কিন্তু ভাগাভাগি করে নেয়া যায়!
➡️ অন্য পরিবারের পুরুষ ব্যক্তিটি কী করলো, কতটা সফল হল, কত উপার্জন করলো- এগুলো বলে তার মনোবল ভেঙে দিবেন না। এ চর্চার কারণে অনেক পুরুষ হীনমন্যতায় ভুগে থাকেন এবং একটা সময় পরিবারের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়, অনেকে অসৎ কাজ ও প্রতিযোগিতায়ও লিপ্ত হয়ে পড়েন।
➡️ দায়িত্ববোধ শেখানোর নামে দায়িত্বের মোড়কে অপরাধবোধ চাপিয়ে দিবেন না। 'এটা তোমার কাজ, এই খরচগুলো তোমারই করা উচিত'- পরিবার থেকে এসব কথা শুনলে তার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তার জন্ম নিতে পারে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরেও হয়তো তার মনে হতে পারে যে আমি কারো জন্য কিছু করতে পারছি না।
➡️ প্রতিদিন অন্তত একবার তাকে ধন্যবাদ দিন। তার কষ্ট, চেষ্টাকে মূল্যায়ন করে ছোটখাটো কিছু আয়োজন করে ফেলতে পারেন, বা ছোট কোন উপহার দিতে পারেন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ও অন্যান্য তথ্য জানতে:
Call অথবা WhatsApp করুনঃ 01841 333 367
(প্রতিদিন সকাল ১০টা - রাত ১০ টা)