11/08/2025
আল্লাহ কি আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন?
আমি হয়তো আল্লাহর সাথে কানেক্ট করলাম, তার সাথে কমিউনিকেট করলাম। কিন্তু তারপরও দেখা যায় আমারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি- ডিভোর্স, সন্তানের মৃত্যু, বাবা-মার অবহেলা, নিজের জীবনের ট্রমা।
কষ্টগুলো আমরা চাইনা, কিন্তু ঘটনাগুলো ঘটে যায় জীবনের অংশ হিসেবে।
তখন আমাদের নিজেকে খুব একা, রিজেক্টেড লাগে, তখন আমাদের কাছে লাগে হয়তো আমি অনেকদিন ধরে নামাজ পড়ি নাই, অনেক ভুল করেছি তাই আল্লাহ আমাকে আর পছন্দ করেন না। তাঁর সাথে আমার একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়েছে—যেটা হয়তো আমি ভাঙতেই পারতেছিনা।
এই ফিলিংস টা যে শুধু আমাদের জীবনে আসে এমন টা না।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এমন জায়গায় একসময় ছিলেন। যখন তাঁর সন্তানরা মারা গেল, আশেপাশে মুসলিম ছিল না বা থাকলেও তাদের সংখ্যা ছিল খুবই কম এবং যখন তাকে সবাই অপমান, অপদস্ত করতো, তাঁকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতো তখন তিনিও চরম ডিসট্রেস এর মধ্যে ছিলেন।
আর তখনই আল্লাহ তাঁর জন্য নাজিল করেন দুইটা অসাধারণ সূরা—সূরা দুহা আর সূরা ইনশিরাহ।
আজকে এ সূরা দুহা নিয়েই খুবই সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
১) "ওয়াদ-দুহা।"
২) “ওয়াল্লাইলি ইযা-ছাজা”
ওয়াদ দুহা বলতে আল্লাহ তায়ালা সেই ভোরের আলো টা কে বোঝাচ্ছেন, যেটা গভীর রাতের অন্ধকারের পর আসে। আল্লাহ সেই আলোটাকে শপথ করে এই সূরা টা শুরু করেছেন।
৩)"মা ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়ামা কালা"
এর অর্থ হচ্ছে, তোমার রব তোমাকে ছেড়ে যায়নি, আর বর্জন করার তো প্রশ্নই আসে না।
যখন রাসূল (সাঃ) এর উপর দীর্ঘদিন কোনো ওহি আসছিল না, তখন লোকেরা তাকে বিদ্রুপ করে বলতো, “দেখো, আল্লাহ তাকে ছেড়ে চলে গেছে!” আর তখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করেন।
এই জিনিসটা আমাদের ক্ষেত্রেও কিন্তু ব্যাপক অর্থ বহন করে। আল্লাহ এখানে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে আপনি আগে যতই ভুল, পাপ করেন না কেন আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে যান নি।
আর বর্জন ও করেন নাই। কাজেই আপনি যেই হন না কেন আল্লাহর উপর আপনি আশা রাখতে পারেন।
৪) "ওয়ালাল-আখিরাতু খাইরুল্লাকা মিনাল উলা"
মানে, তোমার ভবিষ্যৎ তোমার অতীতের চেয়েও অনেক ভালো হবে।
আপনি হয়তো ভাবতেছেন, “আমার বিগত ২০ বছর তো অনেক খারাপ গেল, সামনেও হয়তো খারাপই যাবে।”
কিন্তু এখানে আল্লাহ ঠিক এর অপজিট কথা বলতেছেন। তিনি বলতেছেন আপনার সামনে এমন কিছু আসবে যেটা হয়তো আপনি কখনো এক্সপেক্ট ও করেন নাই।
ধরুন আপনি আপনার অতীতকে বা বর্তমানকে ১০-এ ৪ দিলেন, আর ভাবছেন ভবিষ্যত ১০ এ সব থেকে বেশি হলেও ৬ হবে।
কিন্তু আল্লাহ এখানে বলছেন আপনার ভবিষ্যৎ জন্য ১০-এ ১০ হবে এবং এটা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
৫)"ওয়া লাছাওফা ইউ'তীকা রাব্বুকা ফাতারদা"
এখানে আল্লাহ বলছেন আল্লাহ আপনাকে এমন কিছু দিবেন যেটাতে আপনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
৬) "আলাম ইয়াজিদকা ইয়াতীমান ফা-আওয়া?"
আপনি কি ছোটবেলায় এতিম ছিলেন না? আমিই তো আপনাকে গার্ডিয়ান দিয়েছি।
আমরা সবাই জন্মের সময় একরকম এতিমই থাকি—কারণ সে সময় আমরা কিছুই চিনতাম না, জানতাম না। আমাদের নিজেদের কোনো পরিচয় ও ছিলো না।
কিন্তু আল্লাহই পরবর্তীতে আমাদের সে সব যশ-খ্যাতি দিয়েছেন।
৭)"ওয়াজাদাকা দাল্লান ফাহাদা"
আপনি তো জানতেন না কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল। আমি আপনাকে হেদায়াত দিয়েছি।
৮) "ওয়াজাদাকা আইলান ফা-আগনা"
আপনি তো নিঃস্ব ছিলেন, আমি আপনাকে আপনার দরকারের চেয়েও অনেক বেশি কিছু দিয়েছি।
তারপরের আয়াত গুলোতে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমাদের responsibility সম্পর্কে বলেন।
৯) ফা-আম্মাল ইয়াতীমা ফালা-তাকহার।
সুতরাং আপনি ইয়াতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।
১০) ওয়া আম্মাছ ছাইলা ফালা-তানহার।
এবং ভিক্ষুককে ধমক দেবে না।
১১) ওয়া আম্মা-বিনি‘মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিছ।
এই আয়াতের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বলতেছেন তার দেওয়া নেয়ামত গুলো সেলিব্রেট করতে, সেগুলো নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে।
এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু পয়েন্ট নিতে পারি যেগুলো আমাদের জীবনে অনেক কাজে লাগবে,
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কখনোই ছেড়ে যাননি বা যাবেন না।
আমাদের অতীতের চাইতে ভবিষ্যত কয়েকগুণ ভালো।
আল্লাহ তার দেওয়া নেয়ামত গুলো সম্পর্কে আমাদের জানান এবং এটাও বলতেছেন যে আমাদের আরও বিকশিত করার ক্ষমতা তাঁরই আছে।
তিনি আমাদেরকে এতিম, গরীব দুঃখীদের সাথে ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করতে বলেছেন যে ভাবে তিনি আমাদের নিঃস্ব থেকে আজকের এই পর্যায়ে এনেছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বলতেছেন তুমি যদি কৃতজ্ঞ হও তাহলে আমি তোমার নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবো।
সবশেষে একটা কথা:
যতক্ষণ আপনার শ্বাস চলছে, ততক্ষণ আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে যাবেননা, উনি শুধু আপনার ডাকের অপেক্ষায় থাকেন।
আর আপনার অতীতের থেকে ভবিষ্যতে আরো অনেকে ভালো কিছু অপেক্ষা করতেছে।
এজন্য আপনি হতাশ না হয়ে বরং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখেন, যেমন টা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম রেখেছিলেন।