05/09/2021
#ইউরিক এসিডঃ
যখন আমরা জানতে পারি আমাদের ইউরিক এসিড বেড়ে গিয়েছে বা জয়েন্ট পেইন দেখে সন্দেহ করি ইউরিক এসিড বেড়ে গিয়েছে তখন সবার আগে আমরা যেটা চিন্তা করি কোন খাবারটা আসলে বাদ দেয়া উচিত।
ঢালাওভাবে খাবার বাদ না দিয়ে সবার আগে জেনে নেয়া দরকার ইউরিক এসিড কি এবং কেন বাড়ে?
ইউরিক একটা বর্জ্য যা আমাদের শরীরে প্রতিদনই তৈরি হয় এং স্বাভাবিক ভাবে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু যদি কোনো কারণে বের হতে না পারে তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন কারণে ইউরিক এসিড বাড়তে পারে , যেমন-
১। অলস জীবন যাপন
২। ধুমপান
৩। ওজন বেশি
৪। মদ্যপান
৫। বিভিন্ন ডাইইউরিটেক ঔষধ
৬। জেনেটিক
৭। সোরিয়াসিস
৮। হাইপোথাইরডিজম
সমাধানঃ
১। ঘরে বসে সমস্যা না বাড়িয়ে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।২। পানি পান করুনঃ ইউরিক এসিড থেকে বাচার উপায় হলো কোনোভাবে একে শরীর থেকে বের করে দিতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত পানি পানের কোন বিকল্প নেই।
২। ফল বিশেষ করে ভিটামিন সি যুক্ত ফল। এছাড়া সিজনাল যেকোন ফল; বিশেষ করে কলা ও আনারস।
৩। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমানে শাক-সব্জী রাখুন। এটা শরীরকে হাইড্রেটেট রাখে এবং ইউরিক এসিড বের করে দিতে সহায়তা করে।
৪। প্রোটিন গ্রহনে সর্তক হউন। ডিম,দুধ, মিঠা পানির বিভিন্ন মাছ কম পিউরিন যুক্ত। খাবারে এই প্রোটিন গুলো পরিমান মতো রাখুন। হাই প্রোটিন ডায়েটে অভ্যাস থাকলে আজই বাদ দিন।
৫। এই খাবারগুলোর দিকে নজর দিন-
- পিউরিনযুক্ত খাবার এভয়েড করুন। রেড মিট, অর্গান মিট যেমন- কলিজা, মগজ,সামুদ্রিক খাবার, মাছের ডিম।
- খাবারে তেল-চর্বির ব্যবহার কমান
- রান্নায় লবণ পরিমানমতো ব্যবহার করুন। লবনাক্ত সকল খাবার যেমন- চিপস, চানাচুর, ভাজা বাদাম, আচার, সস, কেচাপ ইত্যাদি
- সকল প্রকার প্রসেস ও প্যাকেজিং খাবার। বিস্কিট, জুস, মিট প্রডাক্ট, বেকারী প্রডাক্ট, চকলেট, কোল্ড ড্রিংক্স ইত্যাদি
- ডাল ও বীচিজাতীয় খাবার যদিও উচ্চ পিউরিনযুক্ত তবে পরিমিত পরিমানে সঠিক ভাবে খেতে পারেন । খেয়াল রাখতে হবে এজাতীয় খাবার খেতে চাইলে অনেকক্ষন পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপর রান্না করে খাওয়া যেতে পারে; যদি একদমই প্রানীজ প্রোটিন কেউ না খেতে চায়।
- সব্জী বা ফলের কথা বলতে গেলে বলতে বেগুন, মটরশুটি, পালং শাক, ফুলকপি, মাশরুম, কামরাংগা, আতাফল ইত্যাদির কথা বলা যায়।
৬। ধীরে ধীরে ওজন কমান, একটিভি বাড়ান এবং সকল প্রকার নেশাদ্রব্য বর্জন করুন; ধুমপান, মদ্যপান, জর্দা-গুল ব্যবহার ইত্যাদি।