25/03/2026
নি'খোঁজ স্বজনদের কান্নায় আজ যেন স্তব্ধ হয়ে আছে পদ্মা নদীর তীর! দৌলতদিয়া ঘাটে পানির অতলে হারিয়ে যাওয়া অর্ধশতাধিক যাত্রীসহ বাসের ঘটনাটা শুধু একটা দূ-র্ঘটনা না, বরং এটা অসংখ্য স্বপ্নের হঠাৎ থেমে যাওয়ার নি'র্মম গল্প!
আজ যে বাসটা পানির নিচে হারিয়ে গেল, সেখানে বসে থাকা মানুষগুলো কেউই কি জানত যে, এটাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা?
হয়তো কেউ জানালার পাশে বসে দূরের আকাশ দেখছিল, নতুন একটা শুরুর স্বপ্নে বিভোর ছিলো ঈদের পর! হয়তো কেউ ভাবছিল, প্রিয় মানুষগুলোর ছেড়ে আসার মূহুর্তটা কিংবা কারো সাথে দেখা হওয়ার মুহূর্ত হবে একটু পরেই! আর এখন? সেই স্বপ্নগুলো পানির নিচে নিঃশব্দে ডুবে গেলো...
ভিডিয়োটা যতবার দেখছি, ততবারই চারপাশের মানুষের আর্তচিৎকারে বুকটা কেঁপে ওঠছে। শেষ মুহূর্তে তারা কী অনুভব করছিল? শ্বাস নিতে না পারার সেই অসহায়ত্ব, চারদিকে অন্ধকার পানি, বাঁচার আকুতি, আর বুকের ভেতর শুধু একটা চিৎকার—“আর একটু সময়… আর একটু বাঁচতে চাই…” কিন্তু জীবন তো কখনো সুযোগ দেয় না দ্বিতীয়বার বলার, “আমি বাঁচতে চাই”।
সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্যটা হয়তো এখনো ঘটছে। দৌলতদিয়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো চোখে আ'তঙ্ক, বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে… “হয়তো ওটা আমার মানুষটা না…”
কেউ ফোন দিচ্ছে বারবার… কিন্তু ওপাশে আর কোনো সাড়া নেই। এখনো পর্যন্ত ১৬ জনের লা*শ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১০ জনের পরিবারকে জানানো হয়েছে। একটা ফোনের রিংটোন আজ কতটা নি'ষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে—এটা শুধু হারানো মানুষগুলোর আপনজনেরাই বুঝছে!
আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা হয়তো কয়েক মুহূর্ত থেমে এই ঘটনার খবরটা পড়বো, ভিডিয়ো দেখবো, হয়তো একটু কষ্ট পাবো… তারপর আবার নিজের জীবনে ফিরে যাবো। কিন্তু যাদের মানুষগুলো আজ নদীর বুকে হারিয়ে গেল, তাদের জীবনে আর কোনোদিন “স্বাভাবিক” শব্দটা ফিরে আসবে? এই দায় কার?
জীবন সত্যিই খুব ছোট… খুব অনিশ্চিত আজ যদি সময় থাকে, একটু থামুন… মায়ের কণ্ঠটা শুনুন… বাবার সাথে প্রাণ খুলে দু’টা কথা বলুন… প্রিয় মানুষটাকে বলুন—“তুমি আছো বলেই আমি ভালো আছি…” কারণ, আমরা কেউই জানি না, "কোন বিদায়টাই আমাদের জীবনের শেষ বিদায় হয়ে যাবে। আল্লাহুম্মাগফিরলি...🤲🤲🤲