02/11/2020
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট এবং ক্যাপ নিয়ে কিছু কথাঃ
অনেক সময় দাঁতে ক্যারিজ বা আঘাতজনিত কারণে দাঁতের স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায় কিংবা ভেংগে যায় আবার অনেক সময় দন্তমজ্জায় বা পাল্পে ইনফেকশন হয়। সেক্ষেত্রে দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা জরুরী হয়ে পড়ে।
রুট ক্যানেল চিকিৎসা সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর দাঁতের অবস্থার ওপর। অনেক সময় দেখা যায় ক্যারিজ দাঁতের এনামেল বা ডেন্টিনের সামান্য অংশে ছড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই অংশটুকু পরিষ্কার করে শুধু ফিলিং করে দিলেই হয়ে যায়। কিন্তু যদি দেখা যায় ইনফেকশন দাঁতের পাল্প বা দন্তমজ্জা পর্যন্ত ছড়িয়েছে এবং রোগী তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন অথবা কোনো ধরনের আঘাতে রোগীর দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দাঁতের রঙ বদলে গেছে সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
মূলত এই চিকিৎসায় দন্তমজ্জা ফেলে দিয়ে দাঁতের মধ্যকার সব ইনফেকশন উপযুক্ত পদ্ধতিতে পরিষ্কার করে বিশেষ ধরনের ওষুধ এবং ড্রেসিং দিয়ে দাঁতটিকে পুরোপুরি সিল করা হয়। এরপর বিশেষ ধরনের ফিলিং ম্যাটেরিয়ালস দিয়ে ফিলিং করা হয়।
রুট ক্যানেল চিকিৎসা নিয়ে সাধারণের মাঝে অহেতুক ভীতি দেখা যায়। অধিকাংশ রোগী রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট অপেক্ষা দাঁত ফেলে দেওয়াকে বেশি পছন্দ করেন। কারণ হলো ব্যথার আতঙ্ক। অথচ রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে ব্যথা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। একজন দন্ত বিশেষজ্ঞ যদি কাজ শুরুর আগে রোগীর আক্রান্ত চোয়াল লোকাল অ্যানেসস্থেসিয়া দিয়ে সঠিকভাবে অবশ করে নেন, তাহলে ব্যথা অনুভবই করার কথা নয়। কারণ ব্যতীত দাঁত ফেলে দিলে পরবর্তীতে ওই জায়গার আশপাশের দাঁত ফাঁকা হয়ে যাওয়া, দাঁত নড়ে যাওয়া, কথা বলতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে সমস্যা সহ নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
অনেকেই মনে করেন রুট ক্যানেল চিকিৎসায় পার্মানেন্ট ফিলিং দেয়া হয়ে গেলেই সম্পূর্ণ ট্রিটমেন্ট শেষ। আসলে তা নয়। কেননা রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে দাঁতের ভেতরের সম্পূর্ণ দন্তমজ্জাটুকু বের করে ফেলার কারণে দাঁতটি খুব সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এজন্যই দাঁতের ওপর এক ধরনের কৃত্রিম মুকুট পরানো হয়, যাকে ক্রাউন বা ক্যাপ বলে, যা মৃত দাঁতের স্থায়িত্বকে বহু বছর বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে ক্রাউন বা ক্যাপের ম্যাটারিয়ালস হিসেবে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত হয় পোরসেলিন ফিউসড মেটাল বা সিরামিক। রুট ক্যানেলের পর দাঁতটিকে সঠিক আকৃতিতে কেটে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়। এরপর দাঁতের রঙের সঙ্গে রঙ নির্ধারণ করে দাঁতটির সঠিক মাপ নিয়ে ডেন্টাল ল্যাব থেকে ক্যাপ তৈরি করা হয়। যা ওই দাঁতের ওপর বসিয়ে বিশেষ ধরনের ডেন্টাল সিমেন্ট দিয়ে ফিক্সড করা হয়।
যদি আপনার ডেন্টাল সার্জন মনে করেন আপনার দাঁতের ওপরের অংশ অনেক বেশি ভাঙা বা দাঁত অনেক দুর্বল, সেক্ষেত্রে অনেক সময় দাঁতের গোড়ায় একটি মেটালের খুঁটি বসিয়েও ক্রাউন করা হয়। একে পোস্ট ক্রাউন বলা হয়। এতে দাঁতটি আরও মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
চিকিৎসা-পরবর্তী দাঁতের তেমন বাড়তি যত্নের দরকার হয় না। নিয়মিত দু'বার সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা, কুলকুচি করা এবং দাঁত ও মাড়ি পরিস্কার রাখা জরুরী।
বছরে অন্তত দুইবার দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ডেন্টাল চেকআপ করুন, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখুন।
কম খরচ, সব সময়, সকলের জন্য।