22/04/2026
মাসিকের সময় হালকা অস্বস্তি, পেটে টানা টানা ব্যথা বা সামান্য ক্লান্তি অনুভব করা অনেকটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ নারীর জীবনে এটি একটি নিয়মিত অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই ব্যথা কতটুকু স্বাভাবিক আর কখন এটি সতর্কতার সংকেত?
যদি ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে তা আপনাকে বিছানা থেকে উঠতে দেয় না, যদি অফিসে যাওয়া, পড়ালেখা করা বা ঘরের সামান্য কাজও অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে - এটি শুধু ‘মাসিকের ব্যথা’ নয়। এটি কোনো না কোনো অন্তর্নিহিত রোগের ইঙ্গিত।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ডিসমেনোরিয়া’ (Dysmenorrhea)। কিন্তু আসল সমস্যা হলো, অনেক মেয়েই এই ব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে চুপ করে সহ্য করে যান। বাবা-মা বলেন, “মেয়েদের হয়, একটু সইয়ে নাও।” বান্ধবীরা বলেন, “আমারও হয়, ঠিক আছে।” কিন্তু সবার হওয়া মানেই কি সেটা স্বাভাবিক?
প্রকৃতপক্ষে, দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মাসিক ব্যথার পেছনে থাকতে পারে:
🔸 এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis): একটি জটিল কিন্তু সাধারণ সমস্যা, যেখানে জরায়ুর ভেতরের টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে।
🔸 অ্যাডেনোমায়োসিস (Adenomyosis): যেখানে জরায়ুর ভেতরের টিস্যু জরায়ুর পেশির ভেতরে ঢুকে যায়।
🔸 পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID): যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে জরায়ু ও ডিম্বনালিতে মারাত্মক ক্ষত করতে পারে।
এই রোগগুলো ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্ব বা জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই মনে রাখবেন, ‘ব্যথা সহ্য করা’ কখনোই কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। বরং এটি সমস্যাকে আরও গভীর করার নামান্তর। প্রয়োজন সঠিক রোগ নির্ণয়। প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। এবং প্রয়োজন সময়মতো সঠিক চিকিৎসা।
আল্ট্রাসাউন্ড, ল্যাপারোস্কপি বা প্রয়োজনে হরমোন পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ শনাক্ত করা সম্ভব। আর একবার কারণ জানা গেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ, থেরাপি বা ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান দেওয়া যায়।
আপনার মাসিকের ব্যথা কি আপনাকে থামিয়ে দেয়? তাহলে আর দেরি নয়। ডাক্তারের কাউন্সেলিং নিন। নিজের প্রতি সচেতন হোন। কারণ আপনার শরীরের প্রতিটি ব্যথা কোনো না কোনো কথা বলে - শুধু সেটি শুনতে জানতে হবে।
-
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার - তথ্যের প্রয়োজনে কলব্যাক রিকোয়েস্ট: https://nsh.com.bd/su/cr
অথবা সরাসরি কল করুন: 09677 45 45 45
—
নাগরিক হাসপাতাল – আপনার বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসঙ্গী।
—
#নাগরিকহাসপাতাল