03/05/2026
কারো সুখ সহ্য না করতে পারা- এটা কি শুধু হিংসা, নাকি একটি বিপজ্জনক মানসিক সংকেত?
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এই শোক শুধু তাঁদের পরিবারের নয়, বরং পুরো দেশ এবং বিদেশে থাকা প্রতিটি স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর।
যখন মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর মেধার জয়জয়কার হওয়ার কথা ছিল, তখন এক সহপাঠীর চরম নৃশংসতা কেড়ে নিল দুটি প্রাণ।
কেন একজন সুস্থ-স্বাভাবিক বলে পরিচিত মানুষ এতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে?
কেবল কি রাগ, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে কোনো মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকার?
১. অবসেসন এবং চরম ঈর্ষার ভয়াবহ পরিণতি
মনস্তত্ত্বের ভাষায়, Obsession বা অতিরিক্ত মোহ যখন একজন মানুষের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয়, তখন তা ধীরে ধীরে বিষাক্ত রূপ ধারণ করে। হিশাম আবুঘারবিয়াহ-এর ক্ষেত্রে যে চরম ঈর্ষা ও আসক্তির কথা উঠে আসছে, তা মূলত Possessive Love-এর একটি বিকৃত রূপ।
যখন কেউ অন্যকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করে এবং সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যায়, তখন জন্ম নেয় রিজেকশন পেইন।
এই ব্যথা অনেক সময় পরিণত হয় প্রতিহিংসায়—যা লিমনের প্রতি চরম ঈর্ষা এবং বৃষ্টির প্রতি এক ধ্বংসাত্মক আসক্তিতে রূপ নিতে পারে।
২. মানসিক অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণহীন ক্রোধ
কোনো ভয়াবহ অপরাধ হঠাৎ করে ঘটে না—এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং Emotional Instability।
হিশামের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড ও ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ইতিহাস ইঙ্গিত দেয়, তার আবেগ ও রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি ছিল।
যখন কেউ অন্যের স্বাধীনতা বা সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শেখে না, তখন তার ভেতরে একটি বিকৃত ধারণা তৈরি হয়—সে ভাবতে শুরু করে, পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে।
এই victim mentality ধীরে ধীরে তাকে এক ভয়ংকর পথে ঠেলে দিতে পারে।
৩. অলক্ষিত মানসিক সমস্যা যখন সহিংসতায় রূপ নেয়
আমরা শারীরিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিলেও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষা করি।
Untreated mental health issues ধীরে ধীরে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে দেয়।
একাকীত্ব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বা অন্যের জীবনে অতিরিক্ত আসক্তি—এসব যখন বেড়ে যায়, তখন মানুষ নিজের ভেতরের অন্ধকারেই আটকে পড়ে।
সময়মতো কাউন্সেলিং বা সহায়তা না পেলে, সেই মানসিক চাপ ধীরে ধীরে violent behaviour-এ রূপ নিতে পারে।
৪. আমরা যেসব সতর্কবার্তা এড়িয়ে যাই
সমাজে এমন অনেক আচরণ আমরা দেখি, কিন্তু গুরুত্ব দিই না।
যেমনঃ
• অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি
• পূর্বের সহিংস আচরণের ইতিহাস
• হুমকিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক কথা
সামাজিকভাবে নিজেকে আলাদা করে ফেলা
এই সংকেতগুলোকে আমরা অনেক সময় “মুড”, “ইমোশন” বা “সিরিয়াস না” ভেবে এড়িয়ে যাই—যা পরে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
৫. এই ট্র্যাজেডি থেকে আমাদের শিক্ষা
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মেধা বা ডিগ্রি থাকলেই একজন মানুষ মানবিক হয় না।
মানবিকতা গড়ে ওঠে অন্যের সীমা ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার ভেতর দিয়ে।
• Boundaries respect করা জরুরি
• অন্যের “না”-কে গ্রহণ করতে শেখা দরকার
• মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন
• আশেপাশের অস্বাভাবিক আচরণকে অবহেলা করা উচিত নয়
আপনার আশেপাশে কারও আচরণ যদি অস্বাভাবিক বা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে চুপ না থেকে সঠিক পদক্ষেপ নিন।
আপনার একটি সচেতনতা হয়তো কারো জীবন বাঁচাতে পারে।
বিদেশের মাটিতে আমাদের ভাই-বোনদের পাশে থাকা যেমন জরুরি, তেমনি মানসিক বিকৃতি ও সহিংসতার লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।