13/04/2020
نِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ حَدَّثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةَ أُسْرِىَ بِهِ أَنَّهُ لَمْ يَمُرَّ عَلَى مَلإٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ إِلاَّ أَمَرُوْهُ أَنْ مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ-
ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মি'রাজের রাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, এই রাতে ফিরিশতাদের যে দলের সম্মুখ দিয়েই তিনি যাচ্ছিলেন তারা বলেছেন, 'আপনার উম্মতকে হিজামার আদেশ দিন।' - ইবনু মাজাহ : ৩৪৭৯, তিরমিযী : ২০৫২, মিশকাত : ৪৫৪৪ ।
কাপিং থেরাপি বা হিজামা কি
আমরা জানি যে মানবদেহের ৭০ ভাগ রোগব্যাধি শরীরে সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারার কারনে হয়ে থাকে । আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি যখন আমাদের রক্তে টক্সিন এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ জমা হতে থাকে। যদি আমাদের রক্ত থেকে এই বিষাক্ত বর্জ্য সরানো না হয়, শুধুমাত্র রোগের ট্রিটমেন্ট করা হয় তাহলে আমরা হয়তো একটি রোগ থেকে মুক্তি পাব, কিন্তু রক্তে জীবানু থাকার কারনে অন্যান্য রোগব্যাধির শিকার হতে পারি এবং যে রোগ থেকে সাময়ীক মুক্তি পেয়েছিলাম সেটি আবারো দেখা দিতে পারে। কাপিং থেরাপি বা হিজামা /রক্ত প্রবাহ থেকে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণের সবচেয়ে ভাল উপায়, এবং এই থেরাপির মাধ্যমে আপনি হতে পারেন সুস্থ দেহ প্রশান্ত মনের অধিকারি । আমরা ভুলে যাব না যে, এই অত্যন্ত দরকারী এবং ওহী ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদেরকে সংক্রমণ, উচ্চ রক্তচাপ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা/যন্ত্রণা, বন্ধ্যাত্ব, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিকস সহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কাপিং থেরাপি বা হিজামা সঠিকভাবে করা হলে এর কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
হিজামা কাদের জন্য?
হিজামা তে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নাই।
হিজামা সকল বয়সী লোকদের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ করে-
(১) যারা স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন।
(২) যাদের জয়েন্টগুলোতে ব্যাথা, ঘাড়, হাটু এবং কোমর ব্যথা আছে।
(৩) বৃদ্ধ বাবা-মা; যাদের বাতের ব্যথা আছে ।
(৪) যাদের প্রেসার এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে
(৫) যাদের শারীরিক যন্ত্রনায় ঘুম কম হয়।
(৬) দূর্বল লোকদের জন্য; যারা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যান।
(৭) যারা প্রতিদিন রাস্তায় চলাফেরা করেন এবং যারা ধুলাবালিতে কঠোর পরিশ্রম করেন।
(৮) ধূমপায়ীদের জন্য; যারা সিগারেট এর নিকোটিন শরীর থেকে বের করতে চান।
(৯) যারা শরীরের ভিতরের বিষাক্ত টক্সিন দূর করতে চান।
(১০) যারা শরীরে বিষাক্ত টক্সিন আছে কিনা যাচাই করতে চান।
Sunnah Treatment
★ "হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ হিজামা করতে চাইলে সে যেন আরবী মাসের ১৭, ১৯ কিংবা ২১ তম দিনকে নির্বাচিত করে। রক্তচাপের কারণে যেন তোমাদের কারো মৃত্যু না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।” [সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৬]
★ "হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরীল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।” আল-হাকিম, হাদীছ নম্বর: ৭৪৭০
★“নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে।”
[ মুসলিম: ২২০৫]
★"হযরত জিব্রাঈল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।”
[ আল-হাকিম, ৭৪৭০]
★ “আমি মেরাজের রাতে যাদের মাঝখান দিয়ে গিয়েছি, তাদের সবাই আমাকে বলেছে, হে মুহাম্মদ, আপনি আপনার উম্মতকে হিজামার আদেশ করবেন।”
[ সুনানে তিরমিযী: ২০৫৩]