06/01/2026
পিটুইটারি টিউমার হলো পিটুইটারি গ্রন্থিতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর নিঃসরণে প্রভাব ফেলে। এই গ্রন্থির হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণঃ
১. মাথাব্যথা: টিউমারের চাপ বৃদ্ধি পেলে তীব্র বা স্থায়ী মাথাব্যথা হতে পারে।
২. দৃষ্টিবিভ্রাট: অপটিক নার্ভে চাপ পড়লে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা দৃষ্টিসীমা সংকুচিত হওয়া।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন, মানসিক পরিবর্তনসহ শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়।
৪. প্রজনন সমস্যা: নারীদের মাসিক চক্রের অনিয়ম, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া, উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়া।
চিকিৎসা পদ্ধতিঃ
১. ওষুধ: প্রোল্যাকটিনোমাসহ নির্দিষ্ট কিছু হরমোন-সংশ্লিষ্ট টিউমার ওষুধে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
২. রেডিয়েশন থেরাপি: ছোট বা অবশিষ্ট টিউমার ধীরে ধীরে সংকুচিত করতে ব্যবহৃত হয়।
৩. সার্জারি: বড় বা জটিল টিউমার অপসারণে সাধারণত নাকের ভেতর দিয়ে ট্রান্সসফেনয়ডাল সার্জারি করা হয়, যা তুলনামূলক নিরাপদ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারযোগ্য।
সার্জারির পরবর্তী অবস্থাঃ
সার্জারির পর কিছুদিন মাথাব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন বা হরমোনের সাময়িক অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ফলো-আপ এবং প্রয়োজনে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
পরামর্শ
যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিউরোসার্জন বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
#পিটুইটারি_টিউমার
#অধ্যাপক_ডা_হারাধন_দেব_নাথ