16/07/2021
"ক্যান্সারের আন্সার নাই"
খুবই প্রচলিত একটা প্রবাদ।অনেকাংশে সত্যও বটে।
তবে যেকোন ক্যান্সারই যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পরে তাহলে তার চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল সাধারণত ভালো হয়।
যে সব ক্যান্সারের চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল তুলনামূলক ভালো,তার মধ্যে ওরাল ক্যান্সার বা মুখগহ্বরের ক্যান্সার অন্যতম।সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫০০০ মানুষ মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৯০০০ মানুষ মুখের ক্যান্সারে মারা যায়।
মুখের ক্যান্সার সাধারণত গালের ভিতর,জিহবা,দাঁতের মাড়ি,ঠোট,তালুসহ মুখের ভিতর যেকোন যায়গায় হতে পারে।
মুখের ক্যান্সারের ঝুকির মধ্যে যারা থাকেনঃ
_দীর্ঘদিন পান,সুপারি, জর্দা,সাদা পাতা/তামাক পাতা,গুল সেবন।
-বিড়ি,সিগারেট, হুকা,চুরুট সেবন।
-মুখের ভিতর কোন ধারালো দাঁত বা বাকা দাঁত বা কৃত্তিম দাঁত যা নিয়মিত আশপাশে ঘর্ষনের কারন হয়।
-যাদের পরিবারের অন্য কোন সদস্যদের যেকোন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে।
-হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারনেও অনেক সময় মুখের ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে অল্প বয়সীদের হতে পারে।
মুখের ক্যান্সারের লক্ষনসমূহঃ
- মুখের ভিতর যেকোন ঘা যখন সাধারন চিকিৎসায় ভালো না হওয়া।
- দীর্ঘদিন ধরে মুখের ভিতর থাকা কোন ঘা হঠাৎ করে শক্ত হয়ে যাওয়া
- ঘা থেকে রক্ত পড়া।
- ঘাড় বা গলার কোন অংশ ফুলে উঠা।
--ধীরে ধীরে মুখের হা ছোট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
চিকিৎসাঃ
মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যান্সার আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে, এটি আলাদা করা এবং চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন,
অবস্থান, স্টেজ সবগুলোর উপর। প্রাথমিক স্টেজে ধরা পড়লে চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল ভাল পাওয়া যায়।৬০ শতাংশ মুখের ক্যান্সার রোগী পাঁচ বছর বা এরও বেশি সময় বেঁচে থাকেন। যতো দ্রুত ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হয় ,চিকিৎসার পর রোগীর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার
সম্ভাবনা ততো বেশি।এমনকি স্টেজ-১ এবং স্টেজ-২
এর রোগীদের ক্ষেত্রেও এই হার (৭০–৯০) শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন
সময়মতো ক্যান্সার সনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা
কতোটা জরুরি।
মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে প্রায় ৯০ শতাংশ কেস সার্জারি করে নিরাময় করা যায়। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপির মাধ্যমেও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসা কোথায় হয়ঃ
বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি দুই জায়গায়ই মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা হয়।সাধারণত ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল সার্জন আর হেড নেক সার্জন মুখের ক্যান্সারের সার্জারিগুলো করে থাকেন।রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ,ঢাকা ডেন্টাল কলেজ,এবং মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল সহ অন্যান্য আরো অনেক জায়গায় মুখের ক্যান্সারের সার্জারি গুলো হয়ে থাকে।
সুতরাং আপনার মুখের ভিতর কোন অস্বাভাবিক ঘা দেখা দিলে অবহেলা না করে যতো দ্রুত সম্ভব আপনার নিকটস্থ একজন ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল সার্জন কিংবা হেড নেক সার্জন অথবা অন্তত একজন রেজিঃ ডেন্টাল সার্জন কে দেখান এবং এখানে সেখানে টোটকা চিকিৎসা না নিয়ে পরামর্শ মতো চিকিৎসা নিন এবং সুস্থ থাকুন।
বিঃদ্রঃ ১ম ছবিতে উল্লেখিত ভদ্রমহিলা মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত।হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি,ফার্মেসী ডাক্তার,হাতুড়ে ডাক্তার সহ বিভিন্ন ধরনের টোটকা চিকিৎসা নিয়ে খুব খারাপ পর্যায়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন।
#সচেতনতামূলক পোস্ট ও ছবি #