17/02/2026
রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও, সঠিক পরিকল্পনা এবং সর্তকতা অবলম্বন করলে অধিকাংশ রোগীই নিরাপদে রোজা পালন করতে পারেন। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর।
ডায়াবেটিস নিয়ে সুস্থভাবে রোজা রাখার মূল গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
১. রোজার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ (প্রি-রমজান চেকআপ)
রোজার অন্তত ১-২ সপ্তাহ আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনি আপনার বর্তমান সুগার লেভেল দেখে নির্ধারণ করবেন আপনি রোজা রাখতে পারবেন কি না।
ওষুধের সমন্বয়: দিনের বেলা যে ওষুধ বা ইনসুলিন নিতেন, সেটির ডোজ এবং সময় ইফতার ও সেহরির সাথে মিলিয়ে পরিবর্তন করতে হবে।
ঝুঁকি মূল্যায়ন: যদি আপনার সুগার খুব বেশি ওঠানামা করে, তবে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি
ইফতার ও সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা খুবই জরুরি:
সেহরি: একদম শেষ সময়ে সেহরি খান। সেহরিতে জটিল শর্করা (যেমন: লাল চাল, লাল আটা, ওটস বা ডাল) এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। এটি দীর্ঘক্ষণ আপনার রক্তে চিনির মাত্রা স্থির রাখবে।
ইফতার: ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং মিষ্টি পানীয় পরিহার করুন। খেজুর ১-২টির বেশি খাবেন না। প্রচুর পানি ও শসা জাতীয় সবজি খান।
পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে প্রচুর পানি পান করুন যেন ডিহাইড্রেশন না হয়।
৩. রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা (Blood Glucose Monitoring)
রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। তাই নিয়মিত সুগার মাপুন:
সেহরির ২ ঘণ্টা পর।
দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে।
ইফতারের ঠিক আগে।
ইফতারের ২ ঘণ্টা পর।
৪. শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
রোজার দিনে খুব ভারি ব্যায়াম না করাই ভালো।
দিনের বেলা রোদে অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না, এতে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে।
তারাবির নামাজ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে।
৫. কখন রোজা ভেঙে ফেলতে হবে? (সতর্ক সংকেত)
যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত রোজা ভেঙে গ্লুকোজ বা মিষ্টি কিছু খেয়ে নিতে হবে:
হাইপোগ্লাইসেমিয়া: রক্তে সুগার ৩.৯ mmol/L এর নিচে নেমে গেলে (লক্ষণ: অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপা)।
হাইপারগ্লাইসেমিয়া: রক্তে সুগার ১৬.৬ mmol/L এর উপরে উঠে গেলে।
অত্যধিক অসুস্থতা বা চেতনা হারানোর মতো অবস্থা হলে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী নারী বা যাদের কিডনির জটিলতা আছে, তাদের জন্য রোজা রাখা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ছাড় পাওয়া যায়।
#সচেতন #হোন, #সময়মত #সেবা #নিন, #সুস্থ #থাকুন
সাভার ডায়াবেটিস সেন্টার
ডাঃ নাহিদ রেজা