22/01/2026
🚫 অতিরিক্ত পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন সরাসরি কিছু রোগের কারণ হতে পারে অথবা শরীরে বিদ্যমান অন্যান্য রোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তার মধ্যে অন্যতম হলো কিডনিতে স্টোন বা বৃক্কে পাথর হওয়া।
১. কেন পানি কম খেলে পাথর হয়?
🔸 আমাদের রক্ত ছাঁকার পর কিডনি থেকে যে বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়, সেগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড এবং ফসফরাস থাকে।
🔸 দ্রবণীয়তা: যখন আমরা পর্যাপ্ত পানি পান করি, তখন এই খনিজগুলো প্রস্রাবের সাথে মিশে বা দ্রবীভূত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
🔸 ঘনত্ব বৃদ্ধি: পানি কম খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং তা অত্যন্ত ঘন হয়ে পড়ে। ফলে খনিজ পদার্থগুলো আর মিশতে পারে না।
🔸 কেলাস গঠন (Crystallization): অতিরিক্ত ঘন প্রস্রাবে এই খনিজগুলো একে অপরের সাথে লেগে ছোট ছোট দানা বা কেলাস তৈরি করে। সময়ের সাথে সাথে এই দানাগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।
২. পাথরের উপাদানসমূহ
শরীরে পানির অভাব হলে মূলত দুই ধরণের পাথর বেশি দেখা যায়:
🔸 ক্যালসিয়াম অক্সালেট: এটি সবচেয়ে সাধারণ। প্রস্রাব খুব ঘন হলে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট মিলে এই পাথর তৈরি করে।
🔸ইউরিক অ্যাসিড: পর্যাপ্ত পানি না থাকলে প্রস্রাব অম্লীয় (Acidic) হয়ে যায়, যা ইউরিক অ্যাসিড পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. পানিশূন্যতা ও পাথরের লক্ষণসমূহ
কিডনিতে পাথর হলে সাধারণত নিচের সমস্যাগুলো দেখা দেয়:
🔸 তীব্র ব্যথা: পিঠের নিচের দিকে বা পাঁজরের নিচে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া, যা তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
🔸 প্রস্রাবের পরিবর্তন: প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়া, প্রস্রাবের রঙ গোলাপী বা লালচে হওয়া (রক্তের উপস্থিতি) এবং দুর্গন্ধ হওয়া।
🔸 বমি ভাব: ব্যথার তীব্রতায় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
৪. প্রতিরোধের উপায়
🔸 কিডনি স্টোন থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস (২-৩ লিটার) পানি পান করা উচিত।