03/04/2026
হাম সাধারণত শুরু হয় তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল/পানি পড়া, কখনও মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ, তারপর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে র্যাশ দিয়ে। মনে রাখতে হবে, হামে অনেক সময় বিপদ র্যাশে না, বরং নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া ও পানি শূন্যতা, আর মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতায়।
এই সময় প্রথম দায়িত্ব কী?
ছোট শিশুরা যেহেতু ঝুঁকিতে বেশি, তাই প্রথমে ভয় না পেয়ে বাসায় রাখুন। ডাক্তার/ক্লিনিকে আগে ফোন করে জানান যে হাম সন্দেহ হচ্ছে, কারণ এটি খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়ায়। র্যাশ ওঠার পরও অন্তত ৪ দিন আলাদা রাখা ভালো। বাসার গর্ভবতী নারী, ছোট বাচ্চা, বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের থেকে দূরে রাখুন। কাপ, চামচ, তোয়ালে, বালিশ যা ব্যবহার করে, আলাদা রাখুন।
আপনার কাজ মূলত লক্ষণ অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা!
�শিশুকে বিশ্রাম দিন এবং বয়স অনুযায়ী পানি, বুকের দুধ, ফর্মুলা, বা অন্য উপযুক্ত তরল বারবার দিন । জ্বর বা অস্বস্তি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ এবং শিশুর বয়স অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দিন। চোখে ময়লা জমলে সিদ্ধ করে ঠান্ডা করা পানি দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করে দিন।
এই সময় বাচ্চার খাবার অনীহা দেখা দেয়া খুব স্বাভাবিক কিন্তু “খাচ্ছে না, পানিও ঠিকমতো নিচ্ছে না”—এটা হালকা করে দেখা যাবে না।
শিশু মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে পানিশূন্যতা!
পানি শূন্যতা মানে বাচ্চা যতটুকু পানি খাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি বের হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু মাত্র খাবার খাওয়াতে অনাগ্রহের জন্য নয় বরং হাম জনিত আর একটা লক্ষণ তীব্র ডায়রিয়ার কারণে। এক্ষেত্রে খালি পানি দিলে ডায়রিয়ার সাথে বমির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, তাই অল্প অল্প পরিমাণে ফ্রিকোয়েন্টলি ওরস্যালাইন দিন।
পানি শূন্যতা হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
�রেগুলারের চেয়ে প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ডায়াপার কম ভেজা, মুখ-জিহ্বা-ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, কান্না করলেও চোখে পানি না আসা, চোখ বসে যাওয়া, বাচ্চা অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম বা বিরক্ত হয়ে যাওয়া, আর বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব।
তীব্র জ্বর হলে কী করবেন?
�হামের জ্বর অনেক সময় খুব বেশি হতে পারে। তাই জ্বর হলে শুধু গায়ে হাত দিয়ে আন্দাজ না করে থার্মোমিটারে মাপুন, শিশুকে তরল দিন, আর বয়স অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ দিন। কিন্তু যদি ওষুধ দেওয়ার পরও জ্বর না নামে, তাহলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গা, কপাল, মাথা, বগলের নিচে, পিঠে ভালোভাবে মুছে দিন। জ্বর যদি টানা ১০২ ডিগ্রী ফারেনহাইটের উপরে থাকে তাহলে মাথা ধুয়ে দিন। ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
তবে যে লক্ষণগুলো একদম এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, তা হলোঃ
শ্বাস নিতে কষ্ট,
হাঁপানো, বুক ভেতরে ঢুকে যাওয়া,
মুখ/ঠোঁট নীলচে হওয়া
খিঁচুনি হওয়া
একেবারে ঝিমিয়ে যাওয়া, চোখ খুলে রাখতে পারে না
অস্বাভাবিক আচরণ,
বিভ্রান্ত লাগা,
অস্থির হয়ে যাওয়া বা থামছে না এমন কান্না
হাম হলে শরীরে ভিটামিন A-এর মাত্রা কমে যেতে পারে, আর এতে চোখ, শ্বাসতন্ত্র ও শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন A খাওয়ালে চোখের জটিলতা, নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া ও মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
[তবে মনে রাখতে হবে, ভিটামিন A হাম প্রতিরোধের টিকা নয়, এটি হামের পর জটিলতা কমাতে সহায়ক চিকিৎসার অংশ। তাই নিজে থেকে বেশি ডোজ না দিয়ে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে দিবেন।]
রাবেয়া সুলতানা!
০৫/০৪/২০২৬