29/10/2025
চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশা (Aedes mosquito) — বিশেষ করে Aedes aegypti এবং Aedes albopictus — এর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো 👇
---
🦠 রোগের কারণ:
চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (Chikungunya virus বা CHIKV) হলো আলফা ভাইরাস (Alphavirus) পরিবারের একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
---
🦟 সংক্রমণের উপায়:
সংক্রমিত ব্যক্তি যখন মশার কামড় খায়, তখন মশার শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করে।
এরপর সেই মশা অন্য কাউকে কামড় দিলে ভাইরাস তার শরীরে প্রবেশ করে।
সাধারণত দিনে কামড়ানো এডিস মশা (বিশেষ করে সকাল ও বিকেল বেলা) এই রোগ ছড়ায়।
---
🤒 উপসর্গ:
চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দেখা দেয়।
প্রধান উপসর্গগুলো হলো:
1. হঠাৎ করে জ্বর আসা
2. জোড়ায় জোড়ায় তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে হাত, পা, কব্জি, হাঁটু, আঙুলের জোড়ায়)
3. মাথাব্যথা
4. শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যাশ
5. দুর্বলতা ও ক্লান্তি
6. চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি
> 💡 জোড়ার ব্যথা এত তীব্র হতে পারে যে রোগী চলাফেরা করতেও কষ্ট পায়।
---
🧬 রোগ নির্ণয়:
চিকুনগুনিয়া শনাক্ত করার জন্য নিচের পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে:
রক্ত পরীক্ষা (CHIKV antibody test বা PCR test)
উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন
---
💊 চিকিৎসা:
চিকুনগুনিয়ার নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই।
চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী করা হয়, যেমন:
জ্বর ও ব্যথা কমানোর ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল)
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ
মশা থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা
> ⚠️ অ্যাসপিরিন বা নন-স্টেরয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ (NSAID) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
---
🛡️ প্রতিরোধের উপায়:
1. মশার প্রজনন বন্ধ করুন — জমে থাকা পানি (ফুলের টব, টায়ার, ড্রাম ইত্যাদি) ফেলে দিন।
2. মশারি ও রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
3. লম্বা পোশাক পরুন যাতে শরীর ঢাকা থাকে।
4. দিনের বেলাতেও মশা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিন, কারণ এডিস মশা দিনে কামড়ায়।
---
⚕️ জটিলতা:
সাধারণত চিকুনগুনিয়া প্রাণঘাতী নয়, তবে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জোড়ার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী (মাস বা বছর পর্যন্ত) হতে পারে।
ডা: মাসুদ রানা