Dr M A Halim Khan- Endocrinologist

Dr M A Halim Khan- Endocrinologist To provide health related solution
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ
(1)

10/02/2026

একজন বিসিএস (BCS) দিয়ে ফরেন ক্যাডার হলো। সে ভাবছে "সে সবার থেকে ভালো করেছে।" একজন BUET থেকে পাশ করলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম বিসিএস দিবে কিনা। সে উড়িয়ে দিল। বললো, "বিসিএসই যদি দিতে হয় এতো কষ্ট করে Engineering পড়লাম কেন?" তার কাছে বিসিএস এর মূল্যই নেই!!
আরেক জন জজ হয়েছেন। তিনি ভাবছেন "আমিই পৃথিবীর সেরা জব হোল্ডার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও যদি মামলা হয়, তবে আমার কোর্টে আমাকে স্যার বলতে হবে" । অথচ কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজন জজ হয়েছিলেন। জয়েন করার কিছুদিন পরই চাকুরি ছেড়ে দিলেন। তারপর তিনি টিচার হলেন। তিনি ভেবেছেন নিজে জজ হওয়ার থেকে জজ বানানোটা বেশি সম্মানের। বর্তমানে তিনি জজ নিয়োগের ভাইবাবোর্ডে থাকেন।
আবার আরেকজন ব্যবসায়ী। সে ভাবছে, "চাকুরিজীবীরা হচ্ছে চাকর। তাদের পেশায় কোনো স্বাধীনতা নেই । অপরদিকে আমার পেশায় চাইলেই ছুটি কাটানো সম্ভব। সেই দিক দিয়ে আমার পেশাই সেরা। দেশের অর্থনীতিতে আমাদের অবদানই বেশি। আমাদের কাউকে স্যার বলতে হয়না। তাছাড়া ব্যবয়ায়ীদের সন্তানেরা যতটা স্বাচ্ছন্দ্য পায়,অন্য প্রফেশনালিস্টরা তা চিন্তাও করতে পারেনা। তাই আমাদের প্রফেশনই সেরা।"
আমার এক বড় ভাইয়ের বন্ধু মেডিকেলে চান্স পাননি বলে খুব কেঁদেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস দিয়ে এডমিন ক্যাডারে ঢুকে পরবর্তীতে তিনি স্বাস্থ্য সচিব হয়েছিলেন। কিছুদিন আগে বুকে ব্যাথা নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন আমার সেই বড় ভাইয়ের অধীনে।
সবশেষে আসলে সেরা কে?
কয়েক বছর আগে একদিন আমার এক প্রফেসরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম," স্যার, ক্যাডারদের মধ্যে কোন ক্যাডার হওয়াটা বেশি সম্মানের?" স্যার বললেন," সম্মান যে কার বেশি এটা বলা খুব মুশকিল। পদমর্যাদার দিকে একজন সচিব একজন ডাক্তারের থেকে উপরে। আবার ঐ সচিবের ছেলেটা যখন ইন্টার পাশ করে সচিবও চায় তার ছেলে যেন ডাক্তারিতে চান্স পায়।"
আসল কথা হচ্ছে, এক পেশার সাথে অন্য পেশার কখনও তুলনা করতে নেই। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা সৎ পেশা সম্মানের। যাদের মূলত সুশিক্ষার অভাব ও মানবিক মূল্যবোধের অভাব রয়েছে তারাই শুধু তুলনা করে,তারাই বিতর্ক করে। কেউ কি বলতে পারবেন আপেল ভালো, নাকি কমলা? সাগর, নাকি পাহাড়? গাড়িতে চড়া উচ্চ মানের, না প্লেনে?

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞদের প্রাণের সংগঠন "এসেডবি" কর্তৃক আয়োজিত আজকের "ফোকাস গ্রুপ ডিসকাসন" এ রমজা...
10/02/2026

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞদের প্রাণের সংগঠন "এসেডবি" কর্তৃক আয়োজিত আজকের "ফোকাস গ্রুপ ডিসকাসন" এ রমজান মাসে নিরাপদে রোজা রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্কলারগণ এবং একজন ধর্মীয় স্কলার প্রোগ্রামটিতে তাদের নিজ নিজ ফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।
এটিএন নিউজে উক্ত প্রোগ্রামটি ব্রডকাস্ট করা হবে।

03/02/2026

প্রস্রাবে ফেনা: স্বাভাবিক নাকি কিডনি রোগের নীরব সংকেত?
------- ------- ------- ------- ------------ ------

প্রস্রাব মানুষের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যপ্রণালীর অংশ। শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাব আমাদের ভেতরের অনেক রোগের নীরব বার্তাবাহক হিসেবেও কাজ করে। প্রস্রাবের রং, পরিমাণ, গন্ধ কিংবা ঘনত্বের পরিবর্তনের মতোই প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা অনেক সময় অবহেলিত হয়। অথচ এই ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিডনি রোগও নীরবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রস্রাবে ফেনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জানা ও সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রস্রাবে ফেনা বলতে কী বোঝায়?
------- ------- ------- -------
প্রস্রাব করার পর টয়লেটের পানির উপরিভাগে যদি সাবানের ফেনার মতো সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়, যাকে সহজ ভাষায় আমরা প্রস্রাবে ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য বুদবুদ তৈরি হতে পারে, কিন্তু সেগুলো দ্রুত মিলিয়ে যায়। সমস্যা তখনই, যখন—
• ফেনা বারবার হয়
• ফেনা অনেকক্ষণ স্থায়ী থাকে
• প্রতিদিন প্রায় একই রকম দেখা যায়

প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার স্বাভাবিক ও নিরীহ কারণ
------- ------- ------- ------- ------ ------

সব ক্ষেত্রে প্রস্রাবে ফেনা মানেই রোগ নয়। কিছু পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে।

১. দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব করা:

চাপের সঙ্গে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে সাময়িক ফেনা তৈরি হয়, যা কয়েক সেকেন্ডেই মিলিয়ে যায়।

২. শরীরে পানির ঘাটতি (Dehydration):

যখন শরীরে পানি কম থাকে, তখন প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাবে সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে।

৩. সকালের প্রথম প্রস্রাব:

রাতভর প্রস্রাব জমে থাকার কারণে সকালের প্রস্রাব ঘন হয়, ফলে ফেনা দেখা যেতে পারে।

৪. টয়লেট পরিষ্কারের কেমিক্যাল:

টয়লেট বোলের ভেতরে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের সঙ্গে প্রস্রাবের বিক্রিয়ায় ফেনা তৈরি হতে পারে।

👉 এসব ক্ষেত্রে ফেনা অস্থায়ী, কম মাত্রার এবং অনিয়মিত হয়।

কখন প্রস্রাবে ফেনা উদ্বেগজনক?
------- ------- ------- -------
যদি প্রস্রাবে ফেনা—
• প্রতিদিন হয়
• ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়
• কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে
• সাথে শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ক্লান্তি থাকে

তাহলে এটি আর স্বাভাবিক বিষয় নয়।

প্রস্রাবে ফেনার প্রধান রোগজনিত কারণ:
------- ------- ------- ------- ------

১. প্রস্রাবে প্রোটিন বের হওয়া :(Proteinuria)

প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক কারণ হলো প্রোটিন লিক হওয়া।

স্বাভাবিকভাবে কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রেখে দেয়। কিন্তু কিডনির ছাঁকনি (Glomeruli) ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে।

🔹 প্রোটিনের কারণে প্রস্রাবে ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়
🔹 এটি কিডনি রোগের প্রথম লক্ষণ হতে পারে

২. ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ:

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালিকে নষ্ট করে।

-শুরুতে কোনো ব্যথা থাকে না
-প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে প্রোটিন ও ফেনা দেখা দেয়

বাংলাদেশে কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস।

৩. উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে—
• কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যায়
• প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয়
• প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়

৪. কিডনির প্রদাহজনিত রোগ (Glomerulonephritis):

কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলে—
• প্রস্রাবে ফেনা
• কখনো রক্ত
• শরীর ফুলে যাওয়া
দেখা দিতে পারে।

৫. নেফ্রোটিক সিনড্রোম:

এটি একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে—
• প্রচুর প্রোটিন প্রস্রাবে যায়
• প্রস্রাব অত্যন্ত ফেনাযুক্ত হয়
• মুখ, পা ও শরীর ফুলে যায়

৬. প্রস্রাবে সংক্রমণ (UTI):

কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সংক্রমণে—
• ফেনা
• দুর্গন্ধ
• জ্বালা
• জ্বর

দেখা দিতে পারে, যদিও এটি সাধারণত সাময়িক।

৭. পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্যজনিত কারণ:

কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে Retrograde ej*******on বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে :
------------ ------------ ----------------

• চোখ, মুখ বা পা ফুলে যাওয়া
• প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
• অতিরিক্ত ক্লান্তি
• ক্ষুধামান্দ্য
• ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকা

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা:
------------ ------------ --

প্রস্রাবে ফেনা দীর্ঘদিন থাকলে নিচের পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
• Urine Routine Examination (R/E)
• Urine Albumin বা Protein
• Urine ACR (Albumin–Creatinine Ratio)
• Serum Creatinine
• eGFR
• রক্তচাপ মাপা
• রক্তে শর্করা পরীক্ষা

Urine ACR বর্তমানে কিডনি রোগ শনাক্তের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি।

করণীয়: কী করবেন রোগী ও সাধারণ মানুষ?
------------ ------------ -------
১.সাধারণ করণীয়:
• পর্যাপ্ত পানি পান করুন
• অতিরিক্ত লবণ কমান
• প্রস্রাব চেপে না রাখুন
• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

২. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে:
• রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
• প্রয়োজনে কিডনি-সুরক্ষাকারী ওষুধ (ACE inhibitor / ARB) দেওয়া হয়

যা করা উচিত নয়:
------------ ----
• নিজে নিজে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা
• পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টিকে অবহেলা করা
• সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথাকথিত চিকিৎসায় আস্থা রাখা

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
------------ ------------ -------
• হঠাৎ শরীর ফুলে গেলে
• প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে
• ফেনার সাথে রক্ত বা তীব্র ব্যথা হলে
• ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে নতুন করে ফেনা শুরু হলে।

উপসংহার:
------------
প্রস্রাবে ফেনা অনেক সময় নিরীহ হলেও, এটি কিডনি রোগের নীরব ও প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শই পারে কিডনিকে সুস্থ রাখতে।

------------ ------------ ------------ -----------

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
ওয়েবসাইট : drmahalimkhan.com

রমজান ও ডায়াবেটিস বিষয়ক বৈজ্ঞানিক কর্মশালা। কীনোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। ডিপার্ট্মেন্টের কলীগদের পক্ষ থেকে ক্রেস্...
02/02/2026

রমজান ও ডায়াবেটিস বিষয়ক বৈজ্ঞানিক কর্মশালা।
কীনোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। ডিপার্ট্মেন্টের কলীগদের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

25/01/2026

গ্রাম থেকে আমাকে দেখাতে আসা মধ্যবয়সী মহিলা রোগী বিনয়ী ভঙ্গিতে বললেন " স্যার , আপনার দেয়া ডায়াবেটিসের ওষুধটা মনে হয় কাজ করতেছেনা।চার মাস ধরে খাইতেছি। ডায়াবেটিস আগের মতোই আছে।

আমি : ওষুধটা কি নিয়মিত খাচ্ছেন?

রোগী : জ্বি স্যার , প্রতিদিন দুইবেলা নিয়মিত খাই। তবে আপনি যে ৫০০ পাওয়ারের বড়িটা দিছেন সেটা আমি খাই নাই। গেরামের ডাক্তার ৪০০ পাওয়ারেরটা দিছে।

রোগীর কথা শুনার সঙ্গে সঙ্গে আমার গা শিহরে ওঠে। ৪০০ মিলিগ্রামের ডায়াবেটিসের কোনো ওষুধ নেই। আমি যা ভাবলাম তাই হয়েছে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য তাকে আমি লিখেছিলাম মেটফো(মেটফরমিন) কিন্তু তিনি চারমাস ধরে খাচ্ছেন মেট্রো ( মেট্রোনিডাজল -আমাশয়ের ওষুধ )।

রোগী : কোনো সমস্যা স্যার?

আমি বিষ্ময় ভরা চোখে রোগীর দিকে তাকিয়ে রইলাম!
------------ ------------ ---
ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ( এন্ডোক্রাইনোলজি )
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।

21/01/2026

Dr MA Halim

ডায়াবেটিস : বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, দেশভিত্তিক কারণ ও আমাদের করণীয়------------ ------------ --- -------- ------- ডায়াবেটিস এ...
20/01/2026

ডায়াবেটিস : বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, দেশভিত্তিক কারণ ও আমাদের করণীয়
------------ ------------ --- -------- -------

ডায়াবেটিস এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা ধনী সমাজের রোগ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, পৃথিবীতে বর্তমানে ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যার বড় অংশই মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ। আশঙ্কার বিষয় হলো—এই রোগ দ্রুত বাড়ছে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন দেশে কী কারণে ডায়াবেটিস বেশি হচ্ছে? এর পেছনে কি শুধুই খাবার দায়ী, নাকি জীবনধারা, জেনেটিক ঝুঁকি ও সামাজিক পরিবর্তনও সমানভাবে ভূমিকা রাখছে?

ডায়াবেটিস: একটি বৈশ্বিক জীবনধারাজনিত রোগ
------------ ------------ ----------- -------

টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মূল কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ইনসুলিনের ঘাটতি। তবে এই জৈবিক সমস্যার পেছনে কাজ করে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, ওজন, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ইতিহাস। দেশভেদে এই উপাদানগুলোর তারতম্যের কারণেই ডায়াবেটিসের প্রকৃতি ও বিস্তার ভিন্ন রূপ ধারণ করছে।

১. বাংলাদেশ: ভাতনির্ভর খাদ্য ও পেটের মেদ
------------ ------------ --- ------- ----

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে।
এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• অতিরিক্ত ভাত ও শর্করাযুক্ত খাবার
• শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া
• পেটের মেদ (abdominal obesity)
• পারিবারিক বা জেনেটিক ঝুঁকি
• মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন

বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ স্বাভাবিক ওজনের হলেও পেটের চর্বি বেশি থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

২. ভারত: ‘স্কিনি ফ্যাট’ জনগোষ্ঠীর দেশ
------------ ------------ --- ----

ভারতে ডায়াবেটিসকে অনেক সময় “Asian Indian Phenotype” বলা হয়।
এখানে দেখা যায়—
• অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট (ভাত, রুটি)
• অল্প বয়সেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
• স্থূলতা না থাকলেও বিপজ্জনক চর্বি
• ফাস্ট ফুড ও মিষ্টিজাত খাবারের আধিক্য

ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ তুলনামূলক কম BMI-তেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

৩.পাকিস্তান: সচেতনতার অভাব ও দেরিতে শনাক্তকরণ
------------ ------------ ----------- ------- ----

পাকিস্তানে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে—
• অতিরিক্ত তেল ও মিষ্টিজাত খাবার
• কম শারীরিক পরিশ্রম
• স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব
• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা

অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে জটিলতা হওয়ার পর।

৪.চীন: নগরায়নের মূল্য
------------ ------------

চীনে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে—
• ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে
• ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বেড়েছে
• শারীরিক শ্রম কমেছে
• মধ্যবয়সে ওজন দ্রুত বাড়ছে

ফলে ডায়াবেটিস এখন চীনের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

৫.যুক্তরাষ্ট্র: স্থূলতার দেশ
------------ ------------

যুক্তরাষ্ট্রে ডায়াবেটিসের মূল চালিকাশক্তি হলো—
• অতিরিক্ত ক্যালরি ও ফাস্ট ফুড
• সুগারযুক্ত কোমল পানীয়
• মারাত্মক স্থূলতা
• শিশু বয়স থেকেই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

এখানে ডায়াবেটিস এখন কিশোর বয়সেও দেখা যাচ্ছে।

৬.সৌদি আরব: আরামপ্রবণ জীবনধারা
------------ ------------ --- --- ---

তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে সৌদি আরবে—
• গাড়িনির্ভর জীবন
• শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
• অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার
• উচ্চ হারে স্থূলতা

ডায়াবেটিসকে এখানে প্রায় “লাইফস্টাইল ডিজিজ” বলা হয়।

৭.সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): আধুনিকতা ও নিষ্ক্রিয়তা
------------ ------------ ---------- -------

UAE-তে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির কারণ:
• ফাস্ট ফুড সংস্কৃতি
• দীর্ঘ সময় বসে কাজ
• রাত জেগে খাওয়ার অভ্যাস
• মানসিক চাপ

উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

৮.মেক্সিকো: চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রভাব
------------ ------------ --- ----

মেক্সিকো বিশ্বের শীর্ষ সুগার-ড্রিংক ভোক্তা দেশগুলোর একটি।
ফলে—
• শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা
• অল্প বয়সে ডায়াবেটিস
• দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব

এখানে ডায়াবেটিস একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

৯.যুক্তরাজ্য: বয়স ও জীবনধারার সমন্বয়
------------ ------------ --- ---- -

যুক্তরাজ্যে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে—
• প্রক্রিয়াজাত খাবার
• কম হাঁটাচলা
• বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি
• মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি।

১০. জাপান: কম ওজনেও ডায়াবেটিস
------------ ------------ -----

জাপানে স্থূলতা তুলনামূলক কম হলেও—
• জেনেটিকভাবে ইনসুলিন নিঃসরণ কম
• ভাতনির্ভর খাদ্য
• অতিরিক্ত কর্মচাপ
• অনিয়মিত ঘুম

এই কারণগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

উপসংহার: রোগ নয়, জীবনধারার ফল
------------ ------------ --- -------

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই একটি সত্য মিলেছে—ডায়াবেটিস মূলত জীবনধারাজনিত রোগ। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং জেনেটিক ঝুঁকি—এই চারটি উপাদান দেশভেদে ভিন্ন রূপে কাজ করছে।

বাংলাদেশের মতো দেশে এখনই প্রয়োজন—
• স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
• নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম
• পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণ
• সময়মতো পরীক্ষা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য। সচেতন জীবনধারাই পারে এই নীরব মহামারিকে থামাতে।

------------ ------------ -----

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
Website :

Dr MA Halim

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ ------------ ------------ --- -১. থাই...
19/01/2026

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ
------------ ------------ --- -

১. থাইরয়েড হরমোন কী?

উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত T4 ও T3 হরমোন, যা দেহের বিপাক, ওজন, হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

২. TSH কী?

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন, যা থাইরয়েডকে কতটা হরমোন বানাতে হবে তা নির্দেশ দেয়।

৩. T4 কী?

উত্তর: থাইরক্সিন; তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়, দেহে গিয়ে T3-তে রূপান্তরিত হয়।

৪. T3 কী?

উত্তর: সবচেয়ে সক্রিয় থাইরয়েড হরমোন, যা কোষে সরাসরি কাজ করে।

৫. Free T4 কী?

উত্তর: প্রোটিনের সাথে বাঁধা নয় এমন সক্রিয় T4, যা নির্ভরযোগ্য সূচক।

৬. Free T3 কী?

উত্তর: সক্রিয় ও অবাধ T3, বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. Total T4 কেন করা হয়?

উত্তর: বিশেষ পরিস্থিতিতে (গর্ভাবস্থা, লিভার রোগ) মূল্যায়নের জন্য।

৮. থাইরয়েড পরীক্ষা কেন দরকার?

উত্তর: ওজন পরিবর্তন, ক্লান্তি, হৃদকম্পন, বন্ধ্যত্ব ইত্যাদির কারণ খুঁজতে।

৯. থাইরয়েড কি শুধু নারীদের হয়?

উত্তর: না, নারী-পুরুষ ও শিশু—সবাই আক্রান্ত হতে পারে।

১০. আয়োডিনের ভূমিকা কী?

উত্তর: থাইরয়েড হরমোন তৈরির অপরিহার্য উপাদান।

১১. থাইরয়েড পরীক্ষা কি খালি পেটে করতে হয়?

উত্তর: না, সাধারণত খালি পেটে করা বাধ্যতামূলক নয়।

১২. থাইরয়েডের ওষুধ খেয়ে পরীক্ষা করা যাবে?

উত্তর: ভালো নয়; ওষুধ FT4 সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে।

১৩. সঠিক নিয়ম কী?

উত্তর: পরীক্ষার দিন সকালে ওষুধ না খেয়ে রক্ত দিন, পরে ওষুধ খান।

১৪. সকালের পরীক্ষা কেন ভালো?

উত্তর: TSH-এর দৈনিক ওঠানামা কম থাকে।

১৫. দুপুরে করলে কি ভুল হবে?

উত্তর: ভুল নয়, তবে তুলনায় পার্থক্য আসতে পারে।

১৬. একই ল্যাবে পরীক্ষা করা কেন ভালো?

উত্তর: রেফারেন্স রেঞ্জ ভিন্ন হওয়ায় তুলনা সহজ হয়।

১৭. কতদিন পরপর পরীক্ষা দরকার?

উত্তর: ডোজ পরিবর্তনের ৬–৮ সপ্তাহ পর।

১৮. জ্বর থাকলে পরীক্ষা করা যাবে?

উত্তর: জরুরি না হলে সুস্থ হওয়ার পর ভালো।

১৯. গর্ভাবস্থায় নিয়ম আলাদা?

উত্তর: রেফারেন্স রেঞ্জ আলাদা, নিয়ম প্রায় একই।

২০. শিশুদের ক্ষেত্রে কী আলাদা?

উত্তর: বয়সভিত্তিক স্বাভাবিক মান ব্যবহার করতে হয়।

২১. হাইপোথাইরয়েডিজম কী?

উত্তর: থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হওয়া।

২২. পরীক্ষায় কী দেখা যায়?

উত্তর: TSH বেশি, Free T4 কম।

২৩. TSH কেন বাড়ে?

উত্তর: পিটুইটারি বেশি নির্দেশ দেয় হরমোন বানাতে।

২৪. Subclinical Hypothyroidism কী?

উত্তর: TSH বেশি, কিন্তু Free T4 স্বাভাবিক।

২৫. সব ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে?

উত্তর: না, উপসর্গ ও ঝুঁকি দেখে সিদ্ধান্ত হয়।

২৬. কখন ওষুধ জরুরি?

উত্তর: সাধারণত TSH >১০ mIU/L হলে।

২৭. Hashimoto’s রোগ কী?

উত্তর: অটোইমিউন কারণে থাইরয়েড ধীরে নষ্ট হওয়া।

২৮. Anti-TPO কেন করা হয়?

উত্তর: অটোইমিউন কারণ নিশ্চিত করতে।

২৯. হাইপোথাইরয়েডে ওজন কেন বাড়ে?

উত্তর: বিপাক ধীর হয়ে ক্যালরি খরচ কমে।

৩০. চুল পড়া কেন হয়?

উত্তর: হরমোনের অভাবে চুলের ফলিকল দুর্বল হয়।

৩১. কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?

উত্তর: অন্ত্রের গতি কমে যায়।

৩২. ঠান্ডা বেশি লাগে কেন?

উত্তর: শরীর কম তাপ উৎপাদন করে।

৩৩. স্মৃতিভ্রংশ কেন হতে পারে?

উত্তর: মস্তিষ্কের বিপাক ধীর হয়।

৩৪. হৃদস্পন্দন ধীর কেন?

উত্তর: থাইরয়েড হরমোন কমে হৃদযন্ত্র ধীর হয়।

৩৫. গর্ভধারণে সমস্যা কেন?

উত্তর: ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হয়।

৩৬. শিশুদের ঝুঁকি কী?

উত্তর: বুদ্ধিবিকাশে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

৩৭. ওষুধ আজীবন লাগে?

উত্তর: অটোইমিউন হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হ্যাঁ।

৩৮. ডোজ কিভাবে ঠিক হয়?

উত্তর: TSH ও উপসর্গ দেখে।

৩৯. বেশি ডোজে কী হয়?

উত্তর: হাইপারথাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দেয়।

৪০. হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে?

উত্তর: উপসর্গ ফিরে আসে।

৪১. হাইপারথাইরয়েডিজম কী?

উত্তর: অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হওয়া।

৪২. পরীক্ষায় কী দেখা যায়?

উত্তর: TSH কম, Free T4/Free T3 বেশি।

৪৩. Graves’ disease কী?

উত্তর: অটোইমিউন কারণে হাইপারথাইরয়েড।

৪৪. FT3 কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: কিছু রোগে শুধু T3 বাড়ে।

৪৫. Subclinical Hyperthyroidism কী?

উত্তর: TSH কম, কিন্তু Free T4 স্বাভাবিক।

৪৬. হৃদকম্পন কেন হয়?

উত্তর: হরমোন হৃদযন্ত্রকে অতিসক্রিয় করে।

৪৭. ওজন কমে কেন?

উত্তর: বিপাক অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

৪৮. চোখ ফুলে যায় কেন?

উত্তর: Graves’ ophthalmopathy-এর কারণে।

৪৯. Radioiodine uptake test কী?

উত্তর: থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা বোঝার পরীক্ষা।

৫০. স্ক্যান কেন দরকার?

উত্তর: রোগের কারণ নির্ণয়ে।

৫১. গর্ভাবস্থায় হাইপারথাইরয়েড ঝুঁকিপূর্ণ কেন?

উত্তর: মা ও ভ্রূণের জটিলতা বাড়ে।

৫২. দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত হলে কী হয়?

উত্তর: হাড় ক্ষয় ও হার্ট ফেইলিউর।

৫৩. Thyroid storm কী?

উত্তর: জীবনঘাতী তীব্র হাইপারথাইরয়েড অবস্থা।

৫৪. Anti-TG antibody কেন করা হয়?

উত্তর: অটোইমিউন মূল্যায়নে সহায়ক।

৫৫. Thyroglobulin কেন মাপা হয়?

উত্তর: থাইরয়েড ক্যান্সার ফলোআপে।

৫৬. নডিউলে প্রথম পরীক্ষা কী?

উত্তর: TSH।

৫৭. আল্ট্রাসনোগ্রাম কেন দরকার?

উত্তর: নডিউলের গঠন ও ঝুঁকি জানতে।

৫৮. FNAC কখন দরকার?

উত্তর: ক্যান্সারের সন্দেহ হলে।

৫৯. থাইরয়েড ক্যান্সারে TSH কেমন?

উত্তর: অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে।

৬০. এক রিপোর্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক?

উত্তর: না, ধারাবাহিক মূল্যায়ন দরকার।

৬১. বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট প্রভাব ফেলে?

উত্তর: হ্যাঁ, ভুল রিপোর্ট দিতে পারে।

৬২. কতদিন বায়োটিন বন্ধ রাখা উচিত?

উত্তর: কমপক্ষে ২–৩ দিন।

৬৩. আয়রন/ক্যালসিয়াম প্রভাব ফেলে?

উত্তর: রিপোর্টে নয়, তবে ওষুধ শোষণে প্রভাব ফেলে।

৬৪. স্টেরয়েড প্রভাব ফেলে?

উত্তর: TSH সাময়িক কমাতে পারে।

৬৫. লিভার রোগে কী হয়?

উত্তর: Total T4 বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

৬৬. কিডনি রোগে কী হয়?

উত্তর: হরমোন রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।

৬৭. স্ট্রেসে ফল বদলায়?

উত্তর: সাময়িকভাবে TSH বদলাতে পারে।

৬৮. ব্যায়ামের পর পরীক্ষা করা ঠিক?

উত্তর: ভারী ব্যায়ামের পর না করাই ভালো।

৬৯. রেফারেন্স রেঞ্জ কেন আলাদা?

উত্তর: ল্যাব পদ্ধতি ও জনসংখ্যা ভেদে।

৭০. Borderline রিপোর্ট মানে কী?

উত্তর: ফলোআপ ও উপসর্গ বিবেচনা দরকার।

৭১. নিজে রিপোর্ট ব্যাখ্যা করা ঠিক?

উত্তর: না, চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

৭২. অনলাইনে রেঞ্জ মিলালেই যথেষ্ট?

উত্তর: না, ক্লিনিক্যাল প্রেক্ষাপট দরকার।

৭৩. থাইরয়েড পরীক্ষা কি আজীবন লাগবে?

উত্তর: রোগ থাকলে নিয়মিত ফলোআপ দরকার।

৭৪. চিকিৎসা না নিলে ঝুঁকি কী?

উত্তর: হৃদরোগ, বন্ধ্যত্ব, মানসিক সমস্যা।

৭৫.নিয়মিত ফলোআপের উপকারিতা কী?

উত্তর: সঠিক ডোজ ও জটিলতা প্রতিরোধ।

৭৬. থাইরয়েড কি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য?

উত্তর: সব ক্ষেত্রে নয়।

৭৭. খাদ্য দিয়ে কি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

উত্তর: না, ওষুধই মূল চিকিৎসা।

৭৮. হারবাল চিকিৎসা কার্যকর?

উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৭৯. আয়োডিন বেশি হলে কী হয়?

উত্তর: হাইপার বা হাইপো—দুটোই হতে পারে।

৮০. একবার নরমাল মানেই আজীবন নরমাল?

উত্তর: না, সময়ের সাথে বদলাতে পারে।

৮১. থাইরয়েড ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক?

উত্তর: বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পর্কিত।

৮২. থাইরয়েড ও হৃদরোগের সম্পর্ক?

উত্তর: হরমোন বেশি বা কম—দুটোতেই ঝুঁকি বাড়ে।

৮৩. থাইরয়েড ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক?

উত্তর: ডিপ্রেশন বা উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

৮৪. মাসিক অনিয়ম কেন হয়?

উত্তর: হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়।

৮৫. বন্ধ্যত্বে থাইরয়েড পরীক্ষা কেন?

উত্তর: ডিম্বস্ফোটন ও হরমোনে প্রভাব ফেলে।

৮৬. নবজাতকের স্ক্রিনিং কেন?

উত্তর: বুদ্ধিবিকাশ রক্ষায়।

৮৭. নবজাতকের TSH বেশি কেন?

উত্তর: জন্মপরবর্তী স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

৮৮. একদিনে TSH বদলায়?

উত্তর: সামান্য বদলায়।

৮৯. কফি/চা প্রভাব ফেলে?

উত্তর: থাইরয়েড পরীক্ষায় তেমন নয়।

৯০. ধূমপান প্রভাব ফেলে?

উত্তর: হালকা প্রভাব থাকতে পারে।

৯১. নডিউল মানেই ক্যান্সার?

উত্তর: না, অধিকাংশ নডিউল নিরীহ।

৯২. নডিউলে কখন চিন্তা বেশি?

উত্তর: দ্রুত বড় হলে বা শক্ত হলে।

৯৩. থাইরয়েড ক্যান্সারে উপসর্গ থাকে?

উত্তর: অনেক সময় থাকে না।

৯৪. ক্যান্সারে কোন পরীক্ষা জরুরি?

উত্তর: USG ও FNAC।

৯৫. চিকিৎসার পর ফলোআপ কেন?

উত্তর: পুনরাবৃত্তি শনাক্তে।

৯৬. থাইরয়েড রোগ কি সংক্রামক?

উত্তর: না।

৯৭. পরিবারে একজন থাকলে ঝুঁকি বাড়ে?

উত্তর: হ্যাঁ, জেনেটিক ঝুঁকি থাকে।

৯৮. থাইরয়েড পরীক্ষা কি ব্যয়বহুল?

উত্তর: তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।

৯৯. সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা কোনটি?

উত্তর: TSH সঙ্গে Free T4।

১০০. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা কী?

উত্তর: সংখ্যা নয়—রোগী, উপসর্গ ও বিজ্ঞানের সমন্বয়েই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।

উপসংহার:
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যাসহ বোঝা গেলে থাইরয়েড পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।

------------ ------------ -----

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
Website :

Dr MA Halim

মহামানবদের খাদ্যাভ্যাস: প্রিয় খাবারের আলোকে জীবনদর্শন------------ ------------ -------------- ---------মানুষ কী খায়—তা শ...
16/01/2026

মহামানবদের খাদ্যাভ্যাস: প্রিয় খাবারের আলোকে জীবনদর্শন
------------ ------------ -------------- ---------

মানুষ কী খায়—তা শুধু তার দেহ নয়, তার মনন, চরিত্র ও দর্শনকেও প্রভাবিত করে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহামানব ও মনীষীরা সাধারণত বিলাসী খাদ্য নয়, বরং সহজ, পরিমিত ও প্রাকৃতিক খাবারেই অভ্যস্ত ছিলেন। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস ছিল তাঁদের জীবনদর্শনেরই এক নীরব প্রতিফলন। এই লেখায় হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রথম স্থানে রেখে বিশ্বের দশজন মহামানবের প্রিয় খাবার ও তার অন্তর্নিহিত দর্শনের দিকে আলোকপাত করা হলো।

হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): খাদ্যে সংযম ও শোকরের আদর্শ
------------ ------------ --- ------------ -------

ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে স্বীকৃত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস ছিল অত্যন্ত সরল ও মানবকল্যাণমুখী। তাঁর প্রিয় খাবারের মধ্যে খেজুর, দুধ, মধু, যবের রুটি, সিরকা, কুমড়া এবং ভেড়ার গোশত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না—খাবার পছন্দ হলে খেতেন, না হলে নীরবে পরিহার করতেন।

তিনি অল্প আহারে অভ্যস্ত ছিলেন এবং বলতেন, “মানুষ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না।” তাঁর খাদ্যদর্শনের মূল কথা ছিল—খাবার হবে প্রয়োজনের জন্য, ভোগের জন্য নয়। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান আজ যে পরিমিত আহার ও প্রাকৃতিক খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরছে, তা বহু আগেই তিনি বাস্তবে অনুসরণ করে গেছেন।

হযরত ঈসা (আ.): সরলতার প্রতীক
------------ ------------ -----

হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন অত্যন্ত সংযমী জীবনযাপনের প্রতীক। তাঁর খাদ্য তালিকায় ছিল সাধারণ রুটি, জলপাই ও ফলমূল। বিলাসিতা বা অতিভোজন তাঁর জীবনে স্থান পায়নি। খাদ্য ও জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি আত্মিক পবিত্রতা ও সরলতাকে প্রাধান্য দিতেন।

হযরত মূসা (আ.): কষ্টসহিষ্ণু জীবনের প্রতিচ্ছবি
------------ ------------ --- -----------

হযরত মূসা (আ.)-এর জীবন ছিল সংগ্রামময়। তাঁর খাদ্যাভ্যাসেও ছিল সেই সরলতার ছাপ। শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবার ছিল তাঁর দৈনন্দিন আহারের অংশ। আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও কষ্টসহিষ্ণু মনোভাব তাঁর খাদ্যদর্শনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

গৌতম বুদ্ধ: মধ্যমপন্থার দর্শন
------------ ------------ ---

গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘মধ্যমপন্থা’। তিনি যেমন কঠোর তপস্যার মাধ্যমে অনাহারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তেমনি ভোগবিলাসকেও পরিত্যাগ করেছেন। তাঁর খাদ্যাভ্যাস ছিল ভাত, শাকসবজি ও ফলমূলনির্ভর। খাদ্যকে তিনি দেহ রক্ষার উপায় হিসেবে দেখতেন, ভোগের বস্তু হিসেবে নয়।

সক্রেটিস: ভোগবিমুখ চিন্তার প্রতিফলন
------------ ------------ --- ----

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস ছিলেন ভোগবিলাসবর্জিত জীবনযাপনের প্রবক্তা। তাঁর পছন্দের খাবার ছিল সাধারণ রুটি, পনির ও জলপাই। তাঁর মতে, কম চাহিদাই মানুষের স্বাধীনতা বাড়ায়। খাদ্যেও তিনি সেই দর্শনই বাস্তবায়ন করেছিলেন।

প্লেটো: শৃঙ্খলিত খাদ্যচিন্তা
------------ ------------ -

প্লেটোর লেখায় ও জীবনাচরণে খাদ্য ও শরীরের শৃঙ্খলার কথা বারবার উঠে এসেছে। তিনি ফলমূল, শাকসবজি ও মধু পছন্দ করতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল—অসংযমী খাদ্য মানুষের চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে।

অ্যারিস্টটল: ভারসাম্যের অনুসন্ধান
------------ ------------ --- -

অ্যারিস্টটল খাদ্যকে দেখতেন ভারসাম্যের দৃষ্টিতে। তিনি মাছ, ফল ও হালকা রান্না পছন্দ করতেন। তাঁর মতে, সুস্থ দেহ ছাড়া সুস্থ মন সম্ভব নয়। খাদ্য, শরীর ও বুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় তাঁর দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি: মানবিকতার প্রকাশ
------------ ------------ ---------

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি শুধু একজন শিল্পী বা বিজ্ঞানীই নন, তিনি ছিলেন মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। তিনি প্রায় নিরামিষভোজী ছিলেন এবং ফল, শাকসবজি ও বাদাম খেতে পছন্দ করতেন। প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি তাঁর খাদ্যাভ্যাসেও প্রতিফলিত হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাঙালি জীবনের সহজ স্বাদ
------------ ------------ ------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁর খাদ্যাভ্যাসেও ছিল বাঙালি ঘরোয়া সরলতা—ভাত, ডাল, শাকসবজি ও মাছ। অতিরিক্ত মসলা বা বিলাসী খাবারে তাঁর আগ্রহ ছিল না। খাদ্যের মধ্যেও তিনি স্বাভাবিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

মহাত্মা গান্ধী: খাদ্যে নৈতিকতা
------------ ------------ ---

মহাত্মা গান্ধীর খাদ্যাভ্যাস ছিল তাঁর নৈতিক দর্শনেরই অংশ। ফল, শাকসবজি ও ছাগলের দুধ ছিল তাঁর প্রধান খাবার। তিনি খাদ্যকে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। তাঁর মতে, খাদ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ মানেই আত্মার ওপর নিয়ন্ত্রণ।

উপসংহার:
------------

এই দশজন মহামানবের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করলে একটি সাধারণ সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মহত্ত্বের সঙ্গে বিলাসিতার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সরলতা, সংযম ও প্রাকৃতিক খাদ্যই তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতা ও মননশক্তির ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। বিশেষভাবে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর খাদ্যদর্শন আজকের আধুনিক স্বাস্থ্যচিন্তার সঙ্গেও বিস্ময়করভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আজকের ভোগবাদী সমাজে যখন অতিভোজন, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপন আমাদের নিত্যসঙ্গী, তখন এসব মহামানবের খাদ্যাভ্যাস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটি একটি দর্শন, একটি জীবনবোধ।

------------ ------------ --- -

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক (এন্ডোক্রাইনোলজি )
ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
Website :

Dr MA Halim

14/01/2026

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা কেন এত জরুরি?
------------ ------------ --- ------------ ---

গর্ভাবস্থা একটি নারীর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় একজন মায়ের শরীরে যে হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর। এই হরমোনগুলোর মধ্যে থাইরয়েড হরমোন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমাদের দেশে এখনো অনেক নারী গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড পরীক্ষা করান না বা বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। বিজ্ঞানের আলোকে গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—তা জানা আজ সময়ের দাবি।

থাইরয়েড হরমোন কী?
------------ ------------

থাইরয়েড একটি প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি, যা গলার সামনের অংশে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে মূলত দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়—
থাইরক্সিন (T4) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (T3)।
এগুলো শরীরের প্রায় সব কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে

• শরীরের বিপাকক্রিয়া (Metabolism)
• শক্তি উৎপাদন
• হৃদযন্ত্রের কাজ
• স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের বিকাশ
• বৃদ্ধি ও বিকাশ

এই হরমোনগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত TSH (Thyroid Stimulating Hormone)।

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের বিশেষ ভূমিকা
------------ ------------ --- ---------

গর্ভাবস্থার প্রথম ১২–১৪ সপ্তাহে ভ্রূণের নিজস্ব থাইরয়েড গ্রন্থি কার্যকর থাকে না। এই সময় ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ সম্পূর্ণভাবে মায়ের থাইরয়েড হরমোনের ওপর নির্ভরশীল।

বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন—
• ভ্রূণের নিউরন তৈরি
• মস্তিষ্কের কর্টেক্স গঠন
• বুদ্ধিবিকাশ (IQ development)

এসবের জন্য পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন অপরিহার্য। এই সময়ে সামান্য ঘাটতিও ভবিষ্যতে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি কেন বাড়ে?
------------ ------------ --- --- --- ---

গর্ভাবস্থায় কিছু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

১. hCG হরমোনের প্রভাব

গর্ভাবস্থায় নিঃসৃত hCG হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যেতে পারে।

২. আয়োডিনের চাহিদা বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের প্রয়োজন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড হরমোন কমে যেতে পারে।

৩. অটোইমিউন প্রবণতা

অনেক নারীর ক্ষেত্রে অজান্তেই Autoimmune thyroid disease থাকতে পারে, যা গর্ভাবস্থায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

থাইরয়েড হরমোন কম থাকলে কী হয়?
------------ ------------ -------

মায়ের জন্য ঝুঁকি:

গর্ভাবস্থায় Hypothyroidism থাকলে মায়ের জন্য দেখা দিতে পারে—
• বারবার গর্ভপাত
• উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
• রক্তস্বল্পতা
• প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
• প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা

শিশুর জন্য মারাত্মক প্রভাব:
• মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া
• শিশুর IQ কমে যাওয়া
• কথা বলা ও শেখার দেরি
• কম ওজন নিয়ে জন্ম
• জন্মগত
হাইপোথাইরয়েডিজম

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে চিকিৎসা করেও পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব নয়।

থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকলেও বিপদ:
------------ ------------ ----- --

অনেকে মনে করেন থাইরয়েড বেশি থাকলে শুধু ওজন কমে—কিন্তু গর্ভাবস্থায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মায়ের জন্য
• হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
• শ্বাসকষ্ট
• থাইরয়েড স্টর্ম (জীবনহানিকর অবস্থা)

শিশুর জন্য
• অকাল প্রসব
• কম ওজন নিয়ে জন্ম
• ভ্রূণের হৃদযন্ত্রের সমস্যা
• নবজাতকের থাইরয়েড রোগ

নীরব বিপদ: সাবক্লিনিক্যাল থাইরয়েড সমস্যা:
------------ ------------ ------ --- --

অনেক নারীর ক্ষেত্রে—
• কোনো উপসর্গ থাকে না
• T3 ও T4 স্বাভাবিক
• কিন্তু TSH অস্বাভাবিক

এ অবস্থাকে বলা হয় Subclinical Hypothyroidism।

গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গ না থাকলেও এই অবস্থায়—
• গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে
• প্রি-টার্ম ডেলিভারি হয়
• শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে

এই কারণেই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে রক্ত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

কখন এবং কী পরীক্ষা করা উচিত?
------------ ------------ -----
বিশেষজ্ঞদের মতে—

যে পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
• TSH
• প্রয়োজনে Free T4
• কিছু ক্ষেত্রে Anti-TPO antibody

কখন পরীক্ষা করবেন?
• গর্ভধারণের পরিকল্পনার সময়
• অথবা গর্ভাবস্থার প্রথম ৮–১০ সপ্তাহের মধ্যেই

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা নারীদের (ডায়াবেটিস, পূর্বে থাইরয়েড রোগ, পরিবারে থাইরয়েড সমস্যা) ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

চিকিৎসা কি নিরাপদ?
------------ ------------

অনেক নারী ভয় পান—গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের ওষুধ খেলে শিশুর ক্ষতি হবে কি না।

বিজ্ঞান বলছে—
-Hypothyroidism-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত Levothyroxine সম্পূর্ণ নিরাপদ
-এটি শিশুর স্বাভাবিক মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে
-সঠিক মাত্রায় দিলে কোনো জন্মগত ত্রুটি হয় না

বরং চিকিৎসা না করাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক গাইডলাইনের সুস্পষ্ট বার্তা:

American Thyroid Association ও Endocrine Society গাইডলাইনে বলা হয়েছে—
• গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি
• ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্ক্রিনিং করা উচিত
• TSH নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে রাখা প্রয়োজন

উপসংহার:
------------

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্য বিনিয়োগ। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা আজ গর্ভস্থ শিশুর ভবিষ্যৎ বুদ্ধিমত্তা, শেখার ক্ষমতা ও সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।

-সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু—
-আর সুস্থ শিশুর জন্য সুস্থ থাইরয়েড অপরিহার্য।

গর্ভাবস্থায় সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাই পারে একটি প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম করে তুলতে।

------------ ------------ -----

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক
ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
drmahalimkhan.com

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr M A Halim Khan- Endocrinologist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr M A Halim Khan- Endocrinologist:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram