Dr M A Halim Khan- Endocrinologist

Dr M A Halim Khan- Endocrinologist To provide health related solution
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ
(1)

স্বামী স্ত্রী দুজন আমার চেম্বারে এলেন। সমস্যা স্ত্রীর। স্ত্রীকে ২ দিন আগে ওজিটিটি সহ আরও কিছু রুটিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করত...
05/05/2026

স্বামী স্ত্রী দুজন আমার চেম্বারে এলেন। সমস্যা স্ত্রীর। স্ত্রীকে ২ দিন আগে ওজিটিটি সহ আরও কিছু রুটিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিয়েছিলাম।
পরীক্ষায় স্ত্রীর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে।
আমি রিপোর্ট দেখা শেষ করার আগেই স্ত্রী অনেকটা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে ফুঁসতে ফুঁসতে স্বামীকে দেখিয়ে বললেন
"স্যার , আমার ডায়াবেটিস হওয়ার জন্য দায়ী এই লোকটা। সেই জন্য আজকে তাকে ধরে নিয়ে এসেছি।"

আমি অনেকটা ভেবাচেকা খেয়ে মুচকি হেসে বললাম "তাই কিভাবে?"

স্ত্রী অভিযোগের স্বরে বললেন "স্যার ,পহেলা বৈশাখে আমাকে একটা শাড়ি কিনে দিতে বলেছিলাম। সেটা সে দেয়নি। সেই টেনশন থেকে আমার ডায়াবেটিস হয়েছে।"

আমি অবাক হয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

------------ ------------
ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ( এন্ডোক্রাইনোলজি )
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।

ঘাড় কালো: লুকিয়ে থাকা হরমোনের সমস্যা কিংবা ক্যান্সারের সংকেত------------ ------------ -------মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক রং...
04/05/2026

ঘাড় কালো: লুকিয়ে থাকা হরমোনের সমস্যা কিংবা ক্যান্সারের সংকেত
------------ ------------ -------

মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক রং ও স্বচ্ছতা কেবল সৌন্দর্যের নয়, স্বাস্থ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়—মুখ পরিষ্কার থাকলেও ঘাড়ের পেছনের অংশ ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যাচ্ছে। সাধারণভাবে একে অনেকেই ময়লা বা অবহেলার ফল মনে করেন। বাস্তবে এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা হরমোনজনিত বা বিপাকীয় সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিরল হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

এই কারণে “ঘাড় কালো” বিষয়টি আর কেবল একটি কসমেটিক সমস্যা নয়; এটি একটি ক্লিনিক্যাল ক্লু—যা আমাদের সতর্ক করে দেয়।

ঘাড় কালো হওয়া: চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে:
------------ ------------ ------------

ঘাড়ে কালচে, মোটা ও ভেলভেটের মতো ত্বক তৈরি হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Acanthosis Nigricans বলা হয়। এটি নিজে কোনো রোগ নয়; বরং শরীরের ভেতরে চলমান কিছু পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ।

এটি সাধারণত দেখা যায়:
* ঘাড়ের পেছনে কালো দাগ
* ত্বক মোটা ও কিছুটা খসখসে
* বগল, কুঁচকি বা কনুইতেও একই পরিবর্তন

এই লক্ষণগুলোকে শুধুই বাহ্যিক সমস্যা হিসেবে দেখলে বড় কোনো রোগ অজানা থেকে যেতে পারে।

প্রধান কারণ: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স:
------------ ------------ -------

ঘাড় কালো হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। যখন শরীর ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দিতে পারে না, তখন রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়, ফলে ত্বক ঘন ও কালচে হয়ে যায়।

এটি প্রায়ই দেখা যায়:
* প্রিডায়াবেটিস
* টাইপ ২ ডায়াবেটিস
* স্থূলতা
অর্থাৎ, ঘাড়ের এই পরিবর্তন অনেক সময় ভবিষ্যৎ ডায়াবেটিসের একটি পূর্বাভাস।

হরমোনজনিত সমস্যা:
------------ ------------
বিশেষ করে নারীদের মধ্যে PCOS (Polycystic O***y Syndrome) থাকলে ঘাড় কালো হওয়ার প্রবণতা বেশি। এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের অসামঞ্জস্যও ত্বকের রঙ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই অবস্থাগুলোতে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ত্বকে দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে।

স্থূলতা ও জীবনযাপন:
------------ ------------

অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনযাপনে কম শারীরিক পরিশ্রম, উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এই সমস্যার বিস্তার বাড়ছে।

ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক: বিরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ:
------------ ------------ -------
ঘাড় কালো হওয়া সাধারণত ডায়াবেটিস বা হরমোন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হলেও, খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে এটি ম্যালিগন্যান্ট Acanthosis Nigricans হিসেবে দেখা যায়, যা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষ করে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়া জরুরি:
* হঠাৎ খুব দ্রুত ঘাড় কালো হয়ে যাওয়া
* বয়স বেশি (বিশেষত মধ্যবয়স বা তার পরে)
* শরীরের অন্যান্য জায়গায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া
* অকারণে ওজন কমে যাওয়া
* ক্ষুধামন্দা বা দুর্বলতা

এই ধরনের ক্ষেত্রে এটি কখনও কখনও পাকস্থলী (stomach), লিভার বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা প্রয়োজন—
-ঘাড় কালো হলেই ক্যান্সার—এটি ভুল ধারণা।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা হরমোন সমস্যার কারণেই হয়।

তবুও অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
------------ ------------ --------
* হঠাৎ করে দ্রুত কালো হয়ে গেলে
* অল্প সময়ে অনেকটা ছড়িয়ে পড়লে
* ওজন অকারণে কমতে থাকলে
* ডায়াবেটিসের লক্ষণ (অতিরিক্ত পিপাসা, প্রস্রাব) থাকলে
* মাসিক অনিয়ম বা বন্ধ হয়ে গেলে

রোগ নির্ণয়:
------------
ঘাড় কালো হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে:
* রক্তে শর্করা (Fasting glucose, HbA1c)
* ইনসুলিন লেভেল
* লিপিড প্রোফাইল
* থাইরয়েড ফাংশন
* প্রয়োজনে হরমোনাল পরীক্ষা
* সন্দেহজনক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং (যদি ক্যান্সারের লক্ষণ থাকে)

চিকিৎসা: মূল কারণই লক্ষ্য:
------------ ------------
১. জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
* ওজন কমানো
* নিয়মিত ব্যায়াম
* সুষম খাদ্যাভ্যাস
এগুলোই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

২.ওষুধ:
* ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে (যেমন মেটফরমিন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
* হরমোনজনিত সমস্যার চিকিৎসা

৩.ত্বকের চিকিৎসা:

* রেটিনয়েড
* ল্যাকটিক অ্যাসিড বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড
* ময়েশ্চারাইজার
৪.বিশেষ চিকিৎসা:
প্রয়োজনে লেজার বা কেমিক্যাল পিল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫.ঘরোয়া পদ্ধতি: সীমিত ভূমিকা:

লেবুর রস, অ্যালোভেরা, দই—এসব সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল করতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান করে না। তাই এগুলোর উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

প্রতিরোধ:
------------
* ওজন নিয়ন্ত্রণ
* স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
* নিয়মিত ব্যায়াম
* ত্বকের পরিচ্ছন্নতা
* নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

মানসিক দিক:
------------ ---

ঘাড় কালো হওয়া অনেকের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। তবে এটি একটি সাধারণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই এর সমাধান।

উপসংহার:
------------ -
ঘাড় কালো হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সংকেত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, স্থূলতা বা হরমোনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। তবে বিরল ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই একে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে মূল্যায়ন করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে —ঘাড়ের এই ছোট পরিবর্তনই কখনও বড় রোগের আগাম বার্তা হতে পারে।

------- ------- ------- -------
ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
ওয়েবসাইট : drmahalimkhan.com

drmahalimkhan.com
04/05/2026

drmahalimkhan.com

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার: স্বাদের মোহে স্মৃতির ক্ষয়------------ ------------ -------লেখক: ডা. এম এ হালিম খান সাব-হেডলাইন:স...
01/05/2026

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার: স্বাদের মোহে স্মৃতির ক্ষয়
------------ ------------ -------
লেখক: ডা. এম এ হালিম খান

সাব-হেডলাইন:

সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় খাবারের আড়ালে বাড়ছে মস্তিষ্কের ঝুঁকি—সাম্প্রতিক গবেষণায় মিলছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের উদ্বেগজনক ইঙ্গিত

ভূমিকা (Lead):
------------ ---
চিপস, সফট ড্রিংক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিংবা ফাস্ট ফুড—ব্যস্ত জীবনে এগুলো এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। স্বাদে তৃপ্তি ও সহজলভ্যতার কারণে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এই স্বাদের মোহের আড়ালে কি আমরা অজান্তেই হারাচ্ছি আমাদের স্মৃতিশক্তি? সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কী?:
------------ ------------ -

“অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার” (Ultra-processed food) হলো এমন খাদ্য, যা প্রাকৃতিক উপাদান থেকে অনেক দূরে গিয়ে শিল্পকারখানায় বহু ধাপে তৈরি হয় এবং এতে যুক্ত থাকে বিভিন্ন কৃত্রিম উপাদান—যেমন রং, ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ, এমালসিফায়ার ইত্যাদি।

NOVA classification অনুযায়ী, এই খাবারগুলো সাধারণত—

* উচ্চমাত্রার চিনি, লবণ ও চর্বি সমৃদ্ধ
* পুষ্টিগুণে দরিদ্র
* দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য
* সহজে খাওয়ার উপযোগী (ready-to-eat)

উদাহরণ:
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত কিছু অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার—

* প্যাকেটজাত চিপস, বিস্কুট, কেক
* সফট ড্রিংক ও এনার্জি ড্রিংক
* ইনস্ট্যান্ট নুডলস
* প্রসেসড মাংস (সসেজ, নাগেট)
* ফাস্ট ফুড (বার্গার, পিজ্জা)

কীভাবে স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
------------ ------------ -------
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার মস্তিষ্কের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে—

১. প্রদাহ ও হিপোক্যাম্পাসের ক্ষতি:

এই খাবারের অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট শরীরে chronic inflammation তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রদাহ মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা স্মৃতি গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২.অক্সিডেটিভ স্ট্রেস:

ফ্রি র‍্যাডিক্যাল বৃদ্ধি পেয়ে নিউরনের ক্ষয় ঘটায়, যা cognitive decline-এর একটি প্রধান কারণ।

৩.ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স:
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
Alzheimer’s disease-কে অনেক সময় “type 3 diabetes” বলা হয়, কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স মস্তিষ্কের ওপরও প্রভাব ফেলে।

৪.গাট-ব্রেন অ্যাক্সিসের ব্যাঘাত:

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হয়, যা স্মৃতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে।

৫.রক্তনালীর ক্ষতি:

এই খাবার হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়—যা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাস করে।

গবেষণার আলোকে বাস্তবতা:
------------ ------------ ------

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে

১. Brazilian Longitudinal Study of Adult Health (ELSA-Brasil):

এই বড় আকারের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের দৈনিক ক্যালরির ২০% বা তার বেশি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে আসে, তাদের মধ্যে cognitive decline দ্রুত ঘটে। বিশেষ করে স্মৃতি ও নির্বাহী ক্ষমতা (executive function) বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২.Neurology (2024 গবেষণা):

এই জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তির অবনতি দ্রুত হয়, বিশেষ করে মধ্যবয়সীদের মধ্যে।

৩.American Academy of Neurology উপস্থাপিত বিশ্লেষণ:

এখানে গবেষকরা দেখান—
খাদ্যতালিকায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ মাত্র ১০% বাড়লে ডিমেনশিয়া ও cognitive impairment-এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

৪.২০২৫–২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা:

নতুন গবেষণাগুলোতে দেখা যাচ্ছে—

* মনোযোগ কমে যাওয়া
* তথ্য ধারণক্ষমতা হ্রাস
* মস্তিষ্কের বয়স দ্রুত বৃদ্ধি

৫.শিশু ও কিশোরদের ওপর গবেষণা:

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে শিশুদের—

* মনোযোগের ঘাটতি
* শেখার সমস্যা
* আচরণগত পরিবর্তন

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব গবেষণা সরাসরি কারণ প্রমাণ না করলেও একটি শক্তিশালী সম্পর্ক (association) স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট:
------------ -----------

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের ফলে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

* স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে ফাস্ট ফুডের প্রতি ঝোঁক
* গ্রামাঞ্চলেও প্যাকেটজাত খাবারের বিস্তার
* বিজ্ঞাপন ও সামাজিক প্রভাব

এগুলো ভবিষ্যতে একটি “silent cognitive crisis” তৈরি করতে পারে।

করণীয়: কীভাবে ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
------------ ------------ -------
১. প্রাকৃতিক খাবারে ফিরে যাওয়া:

শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল ও সম্পূর্ণ শস্য খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

২.অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা:

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব খাবার যত কম রাখা যায়, ততই ভালো।

৩.লেবেল পড়ার অভ্যাস:

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও কৃত্রিম উপাদানযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

৫.শিশুদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা:

ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

৬.জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ স্মৃতিশক্তি রক্ষায় সহায়ক।

৭.নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ:

* স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচার
* ক্ষতিকর খাবারের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ
* স্কুলভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা

উপসংহার:
------------
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের জীবনে সুবিধা এনে দিলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি—বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক গবেষণা বারবার সতর্ক করছে যে, এই খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ cognitive decline ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যদিও আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ, আমাদের প্রতিদিনের খাবারই নির্ধারণ করছে আমাদের ভবিষ্যৎ মানসিক সক্ষমতা।

------- ------- ------- ------- -
ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
Website :

Dr MA Halim

দেশে একটি "জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইন্সটিটিউট" প্রতিষ্ঠা করা কতটা জরুরি? ------------ ------------ -----------বাংলাদেশের...
28/04/2026

দেশে একটি "জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইন্সটিটিউট" প্রতিষ্ঠা করা কতটা জরুরি?
------------ ------------ -----------

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাস—এসব ক্ষেত্রে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। কিন্তু একই সময়ে একটি নীরব পরিবর্তন ঘটছে—রোগের ধরনে পরিবর্তন। অসংক্রামক রোগ, বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগ, দ্রুত বাড়ছে এবং এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—যেখানে দেশে কিডনি, হৃদরোগ, ক্যান্সার কিংবা চক্ষু চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত জাতীয় ইনস্টিটিউট রয়েছে, সেখানে কেন এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ “জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠিত হয়নি? এবং এটি প্রতিষ্ঠা করা কতটা জরুরি?

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট রোগভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি কার্যকর মডেল গড়ে তুলেছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট—এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এসব রোগের ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে এবং রোগীরা বিশেষায়িত সেবা পাচ্ছেন। এই সফল মডেলটি প্রমাণ করে যে, একটি নির্দিষ্ট রোগগুচ্ছকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

কিন্তু ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগের ক্ষেত্রে এই ধরনের একটি জাতীয় কাঠামোর অভাব সুস্পষ্ট। বর্তমানে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস একটি “নীরব মহামারি” হিসেবে বিস্তার লাভ করছে। International Diabetes Federation এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

ডায়াবেটিসের পাশাপাশি থাইরয়েড রোগ, স্থূলতা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), হরমোনজনিত বন্ধ্যাত্ব এবং পিটুইটারি ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির নানা জটিলতা—এসব রোগের প্রকোপও বাড়ছে। এসব রোগের বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো দীর্ঘমেয়াদী, জটিল এবং শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করে। ফলে এগুলোর চিকিৎসা কেবল একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এবং এর অধীনে BIRDEM General Hospital গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও কিছু ভূমিকা রাখছে। তবে এটি মূলত একটি বেসরকারি উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা জাতীয় পর্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি ইনস্টিটিউটের বিকল্প হতে পারে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের জন্য এই সেবা সহজলভ্য নয়, এবং জাতীয় নীতি নির্ধারণ বা বৃহৎ পরিসরের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো এখানে অনুপস্থিত।

একটি জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা হৃদরোগ, কিডনি, চোখ, স্নায়ু—প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করে। ফলে একজন রোগীর জন্য একাধিক বিশেষজ্ঞের সমন্বিত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট এই বহুমাত্রিক চিকিৎসাকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসতে পারে, যা রোগীর জন্য সময়, খরচ এবং জটিলতা—সবই কমিয়ে দেবে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট অপরিহার্য। বাংলাদেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রা, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত প্রভাব অন্যান্য দেশের থেকে ভিন্ন। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর গাইডলাইন সবসময় আমাদের জন্য উপযোগী হয় না। একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট দেশীয় তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ-উপযোগী চিকিৎসা নীতিমালা তৈরি করতে পারে। এর ফলে চিকিৎসা হবে আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত এবং সাশ্রয়ী।

এছাড়া দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও এই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের সংখ্যা খুবই সীমিত। ডায়াবেটিস এডুকেটর, প্রশিক্ষিত নার্স, নিউট্রিশনিস্ট—এসব ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে এবং একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডায়াবেটিস একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ—এসবের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট দেশব্যাপী স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু করতে পারে, জনসচেতনতা বাড়াতে পারে এবং স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত লাভজনক। ডায়াবেটিসের জটিলতা—যেমন কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হওয়া, হৃদরোগ, অন্ধত্ব—এসব চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই ব্যয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ফলে একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এই দাবিকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্রের Joslin Diabetes Center এবং Mayo Clinic কিংবা যুক্তরাজ্যের National Institute for Health and Care Excellence—এসব প্রতিষ্ঠান শুধু চিকিৎসা নয়, বরং গবেষণা, নীতি নির্ধারণ এবং বিশ্বব্যাপী গাইডলাইন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এসব দেশে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে সফলতা দেখা যায়।

বাংলাদেশে একটি আধুনিক জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হলে এতে থাকতে হবে উন্নত ক্লিনিক্যাল সেবা, আধুনিক গবেষণা ল্যাব, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম এবং জনস্বাস্থ্য ইউনিট। পাশাপাশি টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছেও এই সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ ব্যয়, দক্ষ জনবল সংকট এবং প্রশাসনিক জটিলতা—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। তবে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত রোগ আজ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। ইতোমধ্যে অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট সফলতা দেখিয়েছে। তাই একটি “জাতীয় ডায়াবেটিস ও হরমোন ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। অনেক আগেই এই ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করার কাজে হাত দেয়া প্রয়োজন ছিল। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি আসবে এবং সর্বোপরি লাখো মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

-------------- ------- -------
ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
Website:

Dr MA Halim

A significant scientific gathering on advancing diabetes care in Bangladesh was recently held, bringing together some of...
28/04/2026

A significant scientific gathering on advancing diabetes care in Bangladesh was recently held, bringing together some of the country’s most eminent endocrinologists, healthcare leaders, and industry experts. The program, centered on the theme of technology transfer of modern insulin by Novo Nordisk, marked an important step toward strengthening diabetes management through innovation and collaboration.

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Sardar Shakhawat Hossain Bokul, the Honorable Health Minister of Bangladesh. In his keynote address, he emphasized the growing burden of diabetes in the country and reiterated the government’s commitment to improving access to advanced treatment options. He highlighted how strategic partnerships with global pharmaceutical leaders can accelerate the availability of high-quality, life-saving therapies for patients across both urban and rural settings.

The event was graced by the presence of several renowned endocrinologists from across Bangladesh, whose collective expertise and dedication have significantly contributed to the advancement of endocrine and diabetes care in the country. Their participation not only enriched the scientific discourse but also underscored the importance of collaborative efforts in tackling non-communicable diseases. Many senior endocrinologists were present as distinguished guests and session chairs, reflecting the high academic and professional standard of the program.

A key focus of the program was the concept of technology transfer in the production and distribution of modern insulin. Representatives from Novo Nordisk presented insights into cutting-edge insulin analogues, their clinical advantages, and the processes involved in ensuring their safe and efficient manufacturing. The discussion also touched upon quality assurance, regulatory standards, and the importance of local capacity building to ensure sustainability in insulin supply.

27/04/2026
২৪ এপ্রিল World Hormone Day উপলক্ষে Association of Clinical Endocrinologists and Diabetologists of Bangladesh (ACEDB)–এর...
22/04/2026

২৪ এপ্রিল World Hormone Day উপলক্ষে Association of Clinical Endocrinologists and Diabetologists of Bangladesh (ACEDB)–এর আয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। দেশের হরমোনজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রেস কনফারেন্সে বিশেষজ্ঞরা জানান, হরমোন শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে—বৃদ্ধি, বিপাকক্রিয়া, প্রজনন, মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে শক্তির ভারসাম্য পর্যন্ত। অথচ আমাদের দেশে এখনও হরমোনজনিত রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে Diabetes Mellitus, Thyroid Disorders, Polycystic O***y Syndrome এবং Cushing Syndrome–এর মতো সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে।

বক্তারা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হরমোনজনিত রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। নগরায়ণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়—সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেস কনফারেন্সে আরও উল্লেখ করা হয়, হরমোনজনিত অনেক রোগের লক্ষণ শুরুতে খুবই সাধারণ এবং অস্পষ্ট থাকে—যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, চুল পড়া, মাসিকের অনিয়ম ইত্যাদি। এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ রোগই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের রামার বাড়ি গ্রামের (উত্তর পাড়া) জামে মসজিদ এটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়,শু...
21/04/2026

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের রামার বাড়ি গ্রামের (উত্তর পাড়া) জামে মসজিদ এটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়,শুক্রবারে জুম্মার নামাজ হয় এখানে। দুই ঈদের নামাজও এখানেই করা হয়। ঝড়ে যদি উড়ে চলে যায় তাহলে কিভাবে আদায় করবেন আগামী ঈদের নামাজ?! সেই আশংকা থেকে একজন জনহিতৈষী আমার কাছে মসজিদের ছবিটি তুলে পাঠিয়েছেন। দেখে খারাপ লাগলো তাই ফেইসবুকে দিলাম। যদি ভাইরাল হয় তাহলে হয়তো পাকা হবে তা না হলে হয়তো এরকমই থেকে যাবে। কেউ দেখেনি। দেখার যেন কেউ নেই।

03/02/2026

প্রস্রাবে ফেনা: স্বাভাবিক নাকি কিডনি রোগের নীরব সংকেত?
------- ------- ------- ------- ------------ ------

প্রস্রাব মানুষের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যপ্রণালীর অংশ। শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাব আমাদের ভেতরের অনেক রোগের নীরব বার্তাবাহক হিসেবেও কাজ করে। প্রস্রাবের রং, পরিমাণ, গন্ধ কিংবা ঘনত্বের পরিবর্তনের মতোই প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা অনেক সময় অবহেলিত হয়। অথচ এই ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিডনি রোগও নীরবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রস্রাবে ফেনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জানা ও সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রস্রাবে ফেনা বলতে কী বোঝায়?
------- ------- ------- -------
প্রস্রাব করার পর টয়লেটের পানির উপরিভাগে যদি সাবানের ফেনার মতো সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়, যাকে সহজ ভাষায় আমরা প্রস্রাবে ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য বুদবুদ তৈরি হতে পারে, কিন্তু সেগুলো দ্রুত মিলিয়ে যায়। সমস্যা তখনই, যখন—
• ফেনা বারবার হয়
• ফেনা অনেকক্ষণ স্থায়ী থাকে
• প্রতিদিন প্রায় একই রকম দেখা যায়

প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার স্বাভাবিক ও নিরীহ কারণ
------- ------- ------- ------- ------ ------

সব ক্ষেত্রে প্রস্রাবে ফেনা মানেই রোগ নয়। কিছু পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে।

১. দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব করা:

চাপের সঙ্গে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে সাময়িক ফেনা তৈরি হয়, যা কয়েক সেকেন্ডেই মিলিয়ে যায়।

২. শরীরে পানির ঘাটতি (Dehydration):

যখন শরীরে পানি কম থাকে, তখন প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাবে সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে।

৩. সকালের প্রথম প্রস্রাব:

রাতভর প্রস্রাব জমে থাকার কারণে সকালের প্রস্রাব ঘন হয়, ফলে ফেনা দেখা যেতে পারে।

৪. টয়লেট পরিষ্কারের কেমিক্যাল:

টয়লেট বোলের ভেতরে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের সঙ্গে প্রস্রাবের বিক্রিয়ায় ফেনা তৈরি হতে পারে।

👉 এসব ক্ষেত্রে ফেনা অস্থায়ী, কম মাত্রার এবং অনিয়মিত হয়।

কখন প্রস্রাবে ফেনা উদ্বেগজনক?
------- ------- ------- -------
যদি প্রস্রাবে ফেনা—
• প্রতিদিন হয়
• ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়
• কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে
• সাথে শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা ক্লান্তি থাকে

তাহলে এটি আর স্বাভাবিক বিষয় নয়।

প্রস্রাবে ফেনার প্রধান রোগজনিত কারণ:
------- ------- ------- ------- ------

১. প্রস্রাবে প্রোটিন বের হওয়া :(Proteinuria)

প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক কারণ হলো প্রোটিন লিক হওয়া।

স্বাভাবিকভাবে কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রেখে দেয়। কিন্তু কিডনির ছাঁকনি (Glomeruli) ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে।

🔹 প্রোটিনের কারণে প্রস্রাবে ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়
🔹 এটি কিডনি রোগের প্রথম লক্ষণ হতে পারে

২. ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ:

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালিকে নষ্ট করে।

-শুরুতে কোনো ব্যথা থাকে না
-প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে প্রোটিন ও ফেনা দেখা দেয়

বাংলাদেশে কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস।

৩. উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে—
• কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যায়
• প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয়
• প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়

৪. কিডনির প্রদাহজনিত রোগ (Glomerulonephritis):

কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলে—
• প্রস্রাবে ফেনা
• কখনো রক্ত
• শরীর ফুলে যাওয়া
দেখা দিতে পারে।

৫. নেফ্রোটিক সিনড্রোম:

এটি একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে—
• প্রচুর প্রোটিন প্রস্রাবে যায়
• প্রস্রাব অত্যন্ত ফেনাযুক্ত হয়
• মুখ, পা ও শরীর ফুলে যায়

৬. প্রস্রাবে সংক্রমণ (UTI):

কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সংক্রমণে—
• ফেনা
• দুর্গন্ধ
• জ্বালা
• জ্বর

দেখা দিতে পারে, যদিও এটি সাধারণত সাময়িক।

৭. পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্যজনিত কারণ:

কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে Retrograde ej*******on বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে :
------------ ------------ ----------------

• চোখ, মুখ বা পা ফুলে যাওয়া
• প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
• অতিরিক্ত ক্লান্তি
• ক্ষুধামান্দ্য
• ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকা

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা:
------------ ------------ --

প্রস্রাবে ফেনা দীর্ঘদিন থাকলে নিচের পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
• Urine Routine Examination (R/E)
• Urine Albumin বা Protein
• Urine ACR (Albumin–Creatinine Ratio)
• Serum Creatinine
• eGFR
• রক্তচাপ মাপা
• রক্তে শর্করা পরীক্ষা

Urine ACR বর্তমানে কিডনি রোগ শনাক্তের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি।

করণীয়: কী করবেন রোগী ও সাধারণ মানুষ?
------------ ------------ -------
১.সাধারণ করণীয়:
• পর্যাপ্ত পানি পান করুন
• অতিরিক্ত লবণ কমান
• প্রস্রাব চেপে না রাখুন
• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

২. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে:
• রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
• প্রয়োজনে কিডনি-সুরক্ষাকারী ওষুধ (ACE inhibitor / ARB) দেওয়া হয়

যা করা উচিত নয়:
------------ ----
• নিজে নিজে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা
• পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টিকে অবহেলা করা
• সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথাকথিত চিকিৎসায় আস্থা রাখা

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
------------ ------------ -------
• হঠাৎ শরীর ফুলে গেলে
• প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে
• ফেনার সাথে রক্ত বা তীব্র ব্যথা হলে
• ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে নতুন করে ফেনা শুরু হলে।

উপসংহার:
------------
প্রস্রাবে ফেনা অনেক সময় নিরীহ হলেও, এটি কিডনি রোগের নীরব ও প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শই পারে কিডনিকে সুস্থ রাখতে।

------------ ------------ ------------ -----------

ডা. এম এ হালিম খান
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডায়াবেটিস ,থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ,ঢাকা।
ওয়েবসাইট : drmahalimkhan.com

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr M A Halim Khan- Endocrinologist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr M A Halim Khan- Endocrinologist:

Share