04/05/2022
# # সবধরণের খাবার খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
‘ডায়াবেটিস নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, নিয়ন্ত্রণ সহজ’। এটি একটি বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা। দেহের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে অগ্নাশয়। যেখান থেকে ৩ ধরণের হরমোন নির্গত হয়। এ হরমোনগুলো রক্তের গ্লুকোজের বিপাকের উপর কাজ করে। কোনোটা গ্লুকোজকে বাড়ায়, কোনোটা গ্লুকোজকে কমায় আবার কোনোটা রক্তে গ্লুকোজের সমতা বিধান করে।
☑️🙂স্বাভাবিকভাবে খাওয়ার পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার নিয়ম অনুযায়ী ২ ঘন্টার মধ্যে নেমেও আসে। খাওয়ার আগে যদি দেখা যায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, যা খাওয়ার ২ ঘন্টা পরে আরও বেড়ে যাচ্ছে- তাহলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস ভালো হয় বা ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া-এমনটা আসলে নয়। যেহেতু দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সমস্যার কারণে ডায়াবেটিস হয়, তাই এটা কেবল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের চেয়ে ভালোভাবে দীর্ঘ জীবনযাপন করা সম্ভব। সমস্যা শুধু এক জায়গায়, যখন ডায়াবেটিসকে ভালো করার চেষ্টা করা হয় তখন 😰। কারণ ডায়াবেটিস ভালো করার নামে গ্রহণ করা হয় বিভিন্ন ধরণের কৃত্রিম ও স্বাদহীন উপকরণ। এতে দেহে আরও বেশি ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার শুরু করে। তাছাড়া ডায়াবেটিস আছে এমন ব্যক্তিদের খাবার গ্রহণে এতো বেশি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় যে, ডায়াবেটিক অবস্থাকে মেনে নিতে তাদের খুবই কষ্ট হয়। অথচ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থভাবেই দিনযাপন করা অসম্ভব কিছু নয়।🙂
☑️ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়-
➡️• আপনি একটি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক রুটিন তৈরি করুন - যা এতোদিন ছিলো খুবই অগোছালো ও অনিয়ন্ত্রিত।
➡️• ঘুম থেকে উঠেই হাঁটতে যাবেন। খালি পেটে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। দুটো কম ক্যালরিযুক্ত বিস্কুট সাথে সামান্য চিনিযুক্ত চা’ও খেতে পারেন। এই চিনি খেতে কোনো ধরণের কৃত্রিম চিনি বা ট্যাবলেট ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
➡️ • আমাদের সুস্থতার সবচেয়ে বড় উপকরণ অক্সিজেন।তাই হাঁটার সময় নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছেড়ে হাঁটুন। হাঁটতে হবে প্রথমে আস্তে থেকে দ্রুত, মাঝে সর্বোচ্চ দ্রুত এবং শেষে দ্রুত থেকে আবার আস্তে। অর্থাৎ যেভাবে শুরু সেভাবে শেষ। কমপক্ষে আধা ঘন্টা হাঁটার পর দেখতে পাবেন শরীর একেবারে ঝরঝরে লাগছে। এধরণের হাঁটায় আপনার ইলেক্ট্রোলাইট ঠিক থাকবে, পানি সমতা বজায় থাকবে, সর্বোপরি অগ্নাশয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।এই হাঁটার মধ্যে আপনি যা পেলেন, তা অন্যভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকে হয়তো অলসতার কারনে সময়টা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন। ঘুম থেকে উঠে হাঁটলে আপনি নিশ্চিত লাভবান হবেন।
➡️ • হেঁটে এসে ফ্রেশ হওয়ার আগে একগ্লাস পানিতে ১ চিমটি লবণযোগে লেবু পানি খেয়ে নিন। এরপর ফ্রেশ হয়ে নিন।
➡️ • সকালের খাবার অনেকবেশি ফাইবার বা খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় প্রয়োজন। সেজন্য গম ভাঙানো আটার রুটি দুটো-তিনটে, সাথে ১টা ডিম ভাজি ও মিক্সড সবজি ১ কাপ খেয়ে নিন। সবজির ক্ষেত্রে কখনও মাটির নীচের কোনো সবজি খেতে পারবেন না তা নয়। এককভাবে মাটির নীচের সবজি না খেয়ে অন্যান্য মৌসুমী সবজির সাথে মিক্সড ভেজিটেবল হিসেবে অবশ্যই খেতে পারেন। এর পাশাপাশি সালাদ খেয়ে নিন।
➡️• যাদের কর্মস্থল আছে তারা খাওয়ার সাথে সাথে বের না হয়ে অন্তত আধা ঘন্টা পর বের হবেন। অনেকেই আছেন সকালের নাস্তার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকেন। ঘুমাতে পারবেন না এমনটি নয়। সাথে সাথে না ঘুমিয়ে কমপক্ষে ১ ঘন্টা স্বাভাবিক কাজকর্ম করে ৪০-৪৫ মিনিট বিশ্রাম নিন।
➡️• ৩ ঘন্টা পর পর আপনি খাবার গ্রহণ করুন। স্ন্যাক্স টাইমে খাওয়ার জন্য আপনি বিভিন্ন জাতের বাদাম মিশিয়ে একটি মিক্সচার তৈরি করে রাখুন। যেখান থেকে আপনি এক-দুটে চামচ খেয়ে নিতে পারেন। কর্মস্থলে আপনার ডেস্কেই মিক্সচার রেখে দিতে পারেন। তবে ভাজাপোড়া একেবারে খাওয়া যাবে না, তা নয়। ঘরে থাকলে ঘরেই ভেজে খেতে পারবেন, সেক্ষেত্রে দোকানের ভাজাপোড়া বর্জন করাই ভালো। অনেকেই এসময় শসা খেয়ে থাকেন, তবে শসা খালি পেটে না খাওয়াই ভালো। মিক্সচার খেয়ে সাথে শসা/খিরা খেতে পারেন।
➡️• দুপুরের খাবারের আগে ও পরে লেবু পানি পান করুন। ভাত প্লেটের ৪ ভাগের ১ ভাগ, ১ ভাগ মাছ/মাংস আর ২ ভাগ শাক-সবজি-সালাদ ও খেতে পারেন। ঘরে থাকলে দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুমাবেন না। তবে আধা ঘন্টা- ৪৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে পারবেন।
➡️ • বিকালে চা-নাস্তা করবেন। যদি চা’য়ে চিনি দিয়ে থাকেন, তাহলে সকালের মত আবারও কিছুটা সময় হেঁটে আসুন। অর্থাৎ মিষ্টিজাত কোনো কিছু খেলে নিয়ম করে হেঁটে নিন। স্ন্যাক্স টাইমে নুডুলস, চিড়াভাজা, চানাচুর না খেয়ে খই, পপকর্ণ, বাদাম, কম মিষ্টিযুক্ত ফল অবশ্যই খেতে পারেন। টক ফল খেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।
➡️ • রাতের খাবারের বেলায় ৮:৩০টার মধ্যে খেয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। দুপুরের মতই খেতে পারবেন। অনেকেই রাতে রুটি খেতে চান। সেক্ষেত্রে রুটি খেতে পারেন। রাতের খাবারের পর লেবু পানি পান করুন। ১ ঘন্টা পর এঘর ওঘর করে কমপক্ষে ১০মি. হেঁটে নিন।
➡️ • ঘুমানোর আগে আধা গ্লাস পানিতে এক-দুটে.চামচ টকদই মিশিয়ে ফেটে খেয়ে নিন।
পরিশেষে বলতে পারি ডায়াবেটিস নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ম মেনে চলুন, হালকা হাঁটাচলার অভ্যাস করুন ।