12/12/2019
অতীন্দ্রিয় সূক্ষ্মক্রিয়া(Dynamic action): হোমিওপ্যাথি ঔষধের শক্তিনির্ণয় সম্বন্ধীয় যে জ্ঞান তা এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এসম্বন্ধে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। কিন্তু একথা স্বীকার করতে হবে যে, ঔষধের শক্তিতত্ত্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানে হ্যানিম্যানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান। এবং এই কৃতিত্ব একমাত্র হ্যানিম্যানেরই প্রাপ্য। ল্যাবরেটরীতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই তত্ত্ব যদিও এখনও প্রমানিত হয়নি, তথাপি ইহা অকাট্য সত্য। কারণ আরোগ্যক্ষেত্রে ফলই এর পরিচয়। কি করে এটা সার্থক হয় তা এখনও রহস্যাবৃত।
ফরাসী গণিতবিদ মোপার্সিয়াসের(Maupertius) একটি সূত্র “that the quantity of action necessary to effect any change in nature is the least possible”. সূত্রটি বিজ্ঞান জগতে স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অর্থ্যাৎ প্রাকৃতিক জগতে কোন পরিবর্তন সাধন করতে যে ক্রিয়াশক্তির প্রয়োজন হয় তা যথাসম্ভব অল্প। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সূত্রটি প্রয়োগ করে ফিন্কে (Fincke) ঔষধের ক্ষু্দ্রতম মাত্রার ক্রিয়া ও উপযোগিতা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, হোমিওপ্যাথিক ঔষধের যে আরোগ্যদায়িনী ক্ষমতা ও ক্রিয়াশক্তি তাহা নিয়ন্ত্রিত হয় ঔষধের প্রস্তুতকরণ ও তাহার প্রয়োগপদ্ধতি দ্বারা অর্থাৎ হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ক্রিয়ার গুণগত উৎকর্ষ নির্ভর করে ঔষধের পরিমানের উপর এবং এই পরিমান নির্ভর করে ঔষধ প্রস্তুতের পদ্ধতির উপর। অতএব, মোপার্সিয়াসের ক্ষুদ্রতম শক্তির ক্রিয়াশীলতা সম্বন্ধে যে গাণিতিক সিদ্ধান্ত তা হোমিওপ্যাথির মাত্রাবিজ্ঞান সদৃশ। ঔষধের ক্ষুদ্রতম মাত্রার দ্বারা আরোগ্যক্ষেত্রে যখন অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তখন হোমিওপ্যাথির অভ্রান্ত নীতির সত্যতাই প্রমানিত।
আধুনিক বিজ্ঞান জীবকোষের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জিনগত যত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে তা শুধুমাত্র একটা বার্তাপ্রেরণ(signal transduction)-র মাধ্যমেই ঘটছে। কোন growth factor কোষের কাছাকাছি আসলে কোষ আবরণীতে growth receptor factor সেটা গ্রহণ করে। সাইটোপ্লাজমের মধ্যদিয়ে বার্তাপ্রেরণের মধ্যদিয়ে signaling molecule কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমকে উদ্দীপ্ত করে transcription factor-এ RNA polymerase এনজাইমের উপস্থিতিতে mRNA(messenger RNA) তৈরি হয়ে নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে আসে এবং translation factor শুরু হয়। সাইটোপ্লাজমে থাকা ribosome-এর উপস্থিতিতে tRNA(transfer RNA) ফ্রি এমাইনো এসিডকে Cytosine, Guanine, Adenine, Uracil এই চারটি nucleobase থেকে যেকোন তিনটি মিলে এক একটি base pair গঠন করে প্রোটিন চেইন(polypeptide chain) তৈরি হয়। এই প্রোটিনের উপরই নির্ভর করে Gene-expression কিরকম হবে। হ্যানিম্যানের মায়াজম তত্ত্বের বিভাজিত লক্ষণ আর আধুনিক বিজ্ঞানের gene-expression রোগ ও রোগীর বহিঃপ্রকাশ একই বলা যেতে পারে। শুধু ভাষাগত ভিন্নতা ছাড়া আর কিছুইনা। কোষ-এ transcription এবং translation factor-এ যে প্রোটিন তৈরি হয় তার পুরো প্রক্রিয়াটা ঘটে বার্তাপ্রেরণ প্রক্রিয়ায়। যা হোমিওপ্যাথিক ঔষধশক্তির সাদৃশ্য।