Happy Life

Happy Life Best quality medicin and commitment maintain is our plan.

অর্জুন গাছের ছালের গুড়া, অর্জুন গাছের উপকারিতাহৃদরোগঃঅর্জুনের প্রধান ব্যবহার হৃদরোগে। অর্জুন ছালের রস কো-এনজাইম কিউ-১০ ...
21/12/2021

অর্জুন গাছের ছালের গুড়া,

অর্জুন গাছের উপকারিতা

হৃদরোগঃ
অর্জুনের প্রধান ব্যবহার হৃদরোগে। অর্জুন ছালের রস কো-এনজাইম কিউ-১০ সমৃদ্ধ। এই কো-এনজাইম কিউ-১০ হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে। বাকলের রস ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল লেভেল কমায়। অর্জুনের ছাল বেটে রস খেলে হৃদপিন্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে। বাকলের ঘন রস দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। বাকলে রস না থাকলে শুকনো বাকলের গুঁড়া ১-২ গ্রাম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

অ্যাজমাঃ
অর্জুন ছালের পাউডার ১২ গ্রাম দুধের ক্ষীর বা পায়েসের সাথে মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যাজমা রোগের স্থায়ী সমাধান হবে।

ক্ষয়কাশেঃ
অর্জুন ছালের গুঁড়া, বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে শুকিয়ে রাখতেন প্রাচীন বৈদ্যেরা। দমকা কাশি হতে থাকলে একটু ঘি ও মধু বা মিছরির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে দিতেন। এতে কাশির উপকার হতো।

হাড় মচকে গেলে বা চিড় খেলেঃ
অর্জুন ছাল ও রসুন বেটে অল্প গরম করে মচকানো জায়গায় লাগিয়ে বেঁধে রাখলে সেরে যায়। তবে সেই সাথে অর্জুন ছালের চূর্ণ ২-৩ গ্রাম মাত্রায় আধা চামচ ঘি ও সিকি কাপ দুধ মিশিয়ে অথবা শুধু দুধ মিশিয়ে খেলে আরও ভালো হয়।

ত্বকের পরিচর্যাঃ
ত্বকে ব্রণের ক্ষেত্রে অর্জুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছালের চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগালে খুব দ্রুত উপকার হয়। এছাড়া ছালের মিহি গুঁড়া মধু মিশিয়ে লাগালে মেচতার দাগ দূর হয়।

বুক ধড়ফড়ঃ
যাদের বুক ধড়ফড় করে অথচ উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাদের পক্ষে অর্জুন ছাল কাঁচা হলে ১০-১২ গ্রাম, শুকনা হলে ৫-৬ গ্রাম একটু ছেঁচে ২৫০ মিলি দুধ ও ৫০০ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে আনুমানিক ১২৫ মিলি থাকতে ছেঁকে বিকাল বেলা খেলে বুক ধড়ফড়ানি অবশ্যই কমবে। তবে পেটে যেন বায়ু না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লো-ব্লাড প্রেসারে উপযুক্ত নিয়মে তৈরি করে খেলেও অবশ্য প্রেসার বাড়বে।

রক্তপিত্তেঃ
মাঝে মাঝে কারণে বা অকারণে রক্ত ওঠে বা পড়ে। সেক্ষেত্রে ৪-৫ গ্রাম ছাল রাত্রিতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে পানিটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ফোঁড়াঃ
ফোঁড়া হলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখলে ফোঁড়া ফেটে যায়, তারপর পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

ক্ষত বা ঘাঃ
শরীরে ক্ষত বা ঘা হলে, খোস-পাঁচড়া দেখা দিলে অর্জুনের ছালের ক্বাথ দিয়ে ধুয়ে ছালের মিহি গুঁড়া পানি দিয়ে মিশিয়ে লাগালে দ্রুত ঘা সেরে যায়।

কানের ব্যথায়ঃ
কানের ব্যথায় অর্জুন ব্যবহার করা হয়। কচি পাতার রস কানের ভিতরে দুই ফোঁটা করে দিলে কানের ব্যথা ভালো হয়।

যৌন রোগঃ
যাদের মধ্যে যৌন অনীহা (Lack of Libido) দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে অর্জুনের ছাল চূর্ণ উপকারী। এই ছাল চূর্ণ দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত খেলে এই রোগ দূর হয়। এছাড়া যাদের শুক্রমেহ(Spermatorrhoea) আছে তারা অর্জুন ছালের গুঁড়া ৪-৫ গ্রাম ৪-৫ ঘণ্টা আধা পোয়া গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে, তারপর ছেঁকে ওই পানির সাথে ১ চামচ শ্বেতচন্দন মিশিয়ে খেলে উপকার হয়। এটা সুশ্রুত সংহিতার কথা।

রক্ত আমাশয়েঃ
৪-৫ গ্রাম অর্জুন ছালের ক্বাথে ছাগলের দুধ মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশয় ভালো হয়।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
ডায়রিয়া বা পেটের অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে অর্জুনের ছাল ৪৫-৩০ গ্রাম করে খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও অসুবিধা দূর হয়। মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহে : অর্জুনের ছাল এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি মাড়ির রক্তপাতও বন্ধ করে। এছাড়াও অর্জুন ছাল সংকোচক ও জ্বর নিবারক হিসেবেও কাজ করে।

এছাড়াও এর রয়েছে অনেক ঔষধিগুণ। ইদানিং অর্জুন গাছের ছাল থেকে ‘অর্জুন চা’ তৈরি হচ্ছে যা হৃদরোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। DOS থেরাপি অনুযায়ী অর্জুন ফল দেখতে মানব দেহের হৃদপিন্ডের মতো তাই অর্জুনকে হৃদরোগের মহৌষধ বলা হয়।

16/09/2021

সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে অশ্বগন্ধার মূল গুঁড়ো করে খাওয়া যেতে পারে। চোখের ব্যথা দূর করতে অশ্বগন্ধা বিশেষ উপকারী। ক্রনিক ব্রংকাইটিসের ক্ষেত্রেও অশ্বগন্ধা একটি কার্যকর ওষধু। অশ্বগন্ধার মূল অন্তর্ধুমে পুড়িয়ে ভালো করে গুঁড়িয়ে নিয়ে আধা গ্রাম মাত্রায় একটু মধুসহ চেটে খেলে ক্রনিক ব্রংকাইটিসে উপকার হয়।

২। গ্যাস, পেট ফাঁপা, আলসার, গ্যাস্ট্রিক এবং পেটের ব্যথা নিরাময় সহ যকৃতের জন্য ভীষণ উপকারী অশ্বগন্ধার ফল। হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অশোধিত অশ্বগন্ধা গুঁড়ো বা পাউডার হজমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। সুতরাং যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের অবশ্যই ভালো মানের অশ্বগন্ধা সেবন করতে হবে।

৩। অশ্বগন্ধা গাছের রস শক্তিবর্ধক। অশ্বগন্ধার এর মূল ও পাতা স্নায়ুবিক বিভিন্ন রোগে উপশম আনে। দুধ ও ঘিয়ের সঙ্গে পাতা ফুটিয়ে খেলে শরীরে বল পাওয়া যায়। শুক্রাণু বাড়াতে অশ্বগন্ধার ভূমিকা অপরসীম।

৪। ইনসমোনিয়া বা অনিদ্রায় ভুগলে অশ্বগন্ধা উত্তম ওষুধ হিসাবে কার্যকর হতে পারে। ভালো ঘুমের জন্য অশ্বগন্ধা গুঁড়ো চিনিসহ ঘুমানোর আগে খেতে পারেন। এতে ভালো ঘুম হবে।

৫। মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতা, যেমন মাথা ঝিমঝিম করে ওঠা, হঠাৎ সংজ্ঞাহীনতা, অবসাদ প্রভৃতি দূর করে অশ্বগন্ধা। একই সাথে এটি আমাদের মনোযোগ বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে সঞ্জীবনী শক্তি পুনরুদ্ধার করে।

অশ্বগন্ধার উপকারিতা -

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ক্ষত নিরাময়ে অনুঘটক।
নিদ্রা গাঢ় করে।
যৌন ক্ষমতা বাড়ায়।
থাইরয়েড প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে।
হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
অ্যাড্রিনাল ফেটিগ প্রতিরোধ করে।
ত্বকের জন্য উপকারী।
এক কাপ চা, দুধ বা মধুর সঙ্গে ১-২ চামচ অশ্বগন্ধা পাউডার মিশ্রিত করে নিয়মিত খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

অশ্বগন্ধ যাদের খাওয়া উচিত না -

গর্ভবতী কেউ অশ্বগন্ধা নিতে পারবেনা। অশ্বগন্ধা গর্ভপাতের ঝুকি বাড়ায়।

যারা ব্রেস্টফিডিং করায় তারাও অশ্বগন্ধা নিতে পারবেনা।

অশ্বগন্ধা যেহেতু ব্লাড সুগার লেভেল আর রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই এসবের মেডিকেশন

অশ্বগন্ধার উপকারীতা অনেক।

১. অনিদ্রা জনিত রোগে সেবন করুন।

২. উচ্চরক্তচাপে ব্যবহার করুন।

৩. শুক্রাণু স্বল্পতায় ব্যবহার করুন।

৪. বাত ব্যথা, গাটের ব্যাথা, শরীর ফোলার ক্ষেএে ব্যবহার করুন।

৫.হৃদপিণ্ডের রোগে ব্যবহার করুন।

৬. শারীরিক দুর্বলতা, স্বপ্নদোষ, পেশিশক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করুন।
১০ বছরের উপরে ব্যবহার করুন।

11/09/2021

✅ শতমূলী বীরুৎ প্রকৃতির উদ্ভিদ যা বন-জঙ্গলে জন্মায়। এর অনেক ওষুধী গুণ রয়েছে ।
তার মধ্যে একটি হলো যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি ।
✔️ ব্যবহার বিধি-
প্রথমে শতমূল নিয়ে ভাল করে ধৈত করবেন এরপর ছোট ছোট টুকরা করে কাটবেন
এবার হড়িতে পোয়া খানেক দুধ নিন তার মধ্যে কাটা শতমূল গুলো ডেলে দিন কিছুক্ষন জ্বালীয়ে নিন এরপর হালকা ঠান্ডা অবস্থা হলে তার সাথে পরিমান মত চিনি মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন এভাবে প্রতিদন খান যৌন সমেস্যা আর থাকবে না আশা করি ।

✔️এছাড়াও এর অনেক ওষুধী গুণ রয়েছে
১) রক্ত দূষিত হলে : নানা কারণে আমাদের শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে বিভিন্ন ব্যাধীর সৃষ্টি হয়। যেমন- চুলকানী, দাঊদ, ফোঁড়, খোস-পাঁচড়া. বহুমূত্র ইত্যাদি। এ সময় দুই/তিন গ্রাম শতমূলীর গুঁড়ো রোজ সকালে ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে একবার খেলে দূষিত রক্ত পরিষ্কার হয়ে যাবে।
২) রাতকানা রোগ : এ রোগে আক্রান্ত হলে চারা থেকে ছয় গ্রাম শতমূলীর টাটকা পাতা সামান্য ঘি দিয়ে ভেজে রোজ সকালে একবার করে খেলে এই রোগ থেকে মুক্ত পাওয়া যায়।
৩) মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে : দশ মি.মি. টাটকা শতমূলীর রস, ৫০ মিলিলিটার জ্বাল দেওয়া গরুর দুধ, দুই চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার (সকাল ও সন্ধ্যা) করে খেতে হবে।
৪) প্রস্রাবে কষ্ট : পাথুরী নয় অথচ প্রস্রাব করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া প্রস্রাবের পরিমানও খুব কম। এ অবস্থায় শুকনো শতমূলীর গুঁড়ো দেড় গ্রাম ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে খেলে প্রস্রাবের কষ্ট দূর হবে।
৫) স্বপ্নদোষ : শতমূলীর রস একটা স্টিলের কড়াইতে রেখে তাতে ১০০ মিলিলিটার গাওয়া ঘি দিয়ে পাক করতে হবে। তিন গ্রাম এ ঘি দিয়ে আধা কাপ গরম গরুর দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দুইবার খেতে হবে।
৬) স্নায়ুশক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক দুর্বলতায় : শতমূলীর রস ১৫-২০ মি.লি. ও এক গ্লাস পরিমাণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকেল খেতে হবে।
পরিচিতি : শতমূলী বহুবর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। কোন বড় গাছকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকে। এ গাছের লতায় বাঁকানো কাঁটা থাকে। সরু মূলা ও গাজরকে একসঙ্গে বেঁধে রাখলে যেমন দেখায়, শতমূলীর শেকড়কে ঠিক সে রকমেই দেখায়। শতমূলী গাছের পাতাগুলো সরু সুতোর মতো দেখায়। সেজন্য কিছুটা দূর থেকে এটা দেখতে খুব সুন্দর লাগে। অনেকে শোভাবুদ্ধির জন্য সখ করে বাড়ির সামনে বাগানে ফুলগাছের সঙ্গে শতমূলী গাছ লাগিয়ে থাকেন। তাছাড়া এ গাছের পাশে কোন বড় গাছ থাকলে সে নিজে থেকেই তাকে জাড়িয়ে বড় হয়।

✅ শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণ✔️শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণ অনেকেরই জানা নেই। শতমূলী আমাদের অনেকের পরিচিত একটি লতাজাতীয় ভেষ...
04/09/2021

✅ শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণ

✔️শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণ অনেকেরই জানা নেই। শতমূলী আমাদের অনেকের পরিচিত একটি লতাজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। সাধারণত শরৎকালে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এ গাছের মূল হয় এবং মাঘ-ফাল্গুনে এর ফল পাকে। কাঁচা অবস্থায় এর ফল সবুজ এবং পাকলে লাল হয়। এই উদ্ভিদের গোড়ায় একগুচ্ছ মূল হয়, এ মূলকে শতমূল বা শতমূলী বলে।সাধারণত উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে শতমূলী গাছ ভালো জন্মে। আসুন আজ জেনে নিই শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে-

✔️ শতমূলীর রাসায়নিক উপাদানঃ

✔️ শতমূলীতে রয়েছে উচ্চমানের ফলিক অ্যাসিড ও পটাশিয়ামের খুবই ভালো একটি প্রাকৃতিক উৎস। এছাড়াও এতে আরও আছে ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬। শতমূলী কাঁচা ও রান্না করে উভয়ভাবেই খাওয়া যায়।

✔️শতমূলীর উপকারীতা ও গুণাগুণঃ

১। শতমূলী আমাদের হজমশক্তি র্বদ্ধি করে এবং বায়ু নিঃসরণে এটি দারূন কাজ করে। এজন্য শতমূলীর ফল অল্প পরিমাণ তরকারি রান্না করে খেতে হবে। এছাড়াও বাত-ব্যাথা ও স্নায়ু দুর্বলতায় শতমূলীর ছালের রসের সাথে রসুন পিসে একসাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্যাথা ভালো হয়ে যায়।

২। আমাশয় হলে শতমূলীর মূলর রস ৩-৪ চা চামচ ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে আমাশয় ভালো হয়ে যায়। এছাড়াও এটি আমাদের অন্ত্রের কৃমি দূর করে এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে।শতমূলী মূলর রস আমাদের যকৃত এবং পিত্ত থলির নানা ইনফেকশন রোধে অসাধারণ দারুণ কাজ করে ।

৩। শতমূলীর আমাদের উচ্চ কিংবা নিন্ম উভয় ধরনের রক্ত চাপকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক সহায়তা করে। শতমূলীর খেলে এতে থাকা পটাসিয়াম এবং বেশ কিছু উপকারী খনিজ উপাদান আমাদের রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

৪। অ্যাসিডিটি, শারীরিক দুর্বলতা, ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও শরীরের নানা প্রকার প্রদাহ দূর করতে শতমূলী অনেক কার্যকর। এছাড়াও এর শিকড় লিভার, কিডনি ও গনোরিয়ার জন্য অনেক উপকারী।এটি আমাদের নার্ভের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখে এবং চোখ ও রক্তের যেকোনো সমস্যা দূর করে।

৫। স্নায়ুশক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে শতমূলী অনেক কার্যকর। এজন্য শতমূলীর রস ৩-৪ চামচ নিয়ে ১ গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে পান করুন। ১০-১৫ দিন পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়াও শারীরিক, যৌন দূর্বলতা ও মহিলাদের সাদা স্রাব এসব সমস্যায় এর ৩-৪ গ্রাম পরিমান মূলচুর্ণ ১কাপ গরম দুধের সাথে মিশিয়ে দিনে দুবার পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

ত্রিফলার উপকারিতা,ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ।ত্রিফলা হল একাধিক গুণমান সম্পন্ন একটি ভেষজ ঔষধি। আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত...
09/04/2021

ত্রিফলার উপকারিতা,
ব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ।

ত্রিফলা হল একাধিক গুণমান সম্পন্ন একটি ভেষজ ঔষধি। আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্রে যুগ যুগ ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। শরীরের নানা সমস্যা দূর করতে ত্রিফলার জুরি মেলা ভার । তিনটি ফল দিয়ে এই আয়ুর্বেদিক ভেষজ ওষুধটি তৈরি হয় বলে একে ত্রিফলা বলা হয়।

বহু প্রাচীন এই ভেষজ ওষুধের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, ল্যাক্সাটিভ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে । অতিরিক্ত মেদ কমানো থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস একাধিক শারীরিক সমস্যায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে ত্রিফলা। এর অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান বাতের ব্যথায় দারুণ কাজ দেয়। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানও রয়েছে যা বার্ধক্য রোধ করে, চোখে-মুখে সহজে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

ত্রিফলা এই তিনটি ফলের মিশ্রণ –
এম্বলিকা অফিসিনালিস, সাধারণভাবে যা আমলা নামে পরিচিত। এই টকফলটি দেশের প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

এই ফলটি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন সি -এর অন্যতম উৎস।
কোষ্ঠকাঠিন্য, থাইরয়েড, ক্যান্সার, স্নায়ুরোগ এবং হাড়ের সমস্যা দূর করতে দারুণ কার্যকরী।
তারমিনালিয়া বেলিরিকা, যা বিভিতকি বা বহেড়া নামে পরিচিত। ফলটি অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধস।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসায়, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এর ব্যবহার বহুদিন ধরে চলে আসছে। গ্লুকোসাইড, ট্যানিন, গ্যালিক অ্যাসিড, ইথাইল গ্যালেটের মতো একগুচ্ছ জৈব উপাদান সমৃদ্ধ এই ফল ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ওজন কমায় (6) (7)।
তারমিনালিয়া চেবুলা, যা হরিতকি বা হরদ নামেও পরিচিত। হজমের সমস্যা থাকলে বা কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি দারুণ উপকারী (8)। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইফল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ।

ফল তিনটি শুকিয়ে নিয়ে তারপর গুঁড়ো করে সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে ত্রিফলা চূর্ণ তৈরি করা হয়। যদিও ফলগুলি আলাদা আলাদাভাবেও নানা রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী, তবে তিনটির মিশ্রণ একাধিক শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে ।

ত্রিফলার স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. হজম শক্তি বাড়ায়: যারা পেটের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, ত্রিফলা চূর্ণ খাওয়া শুরু করুন ( 10)। উপকার পাবেন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ হজমের সমস্যা দূর করতে পারে এবং বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটায়। পেট খারাপ, ডায়ারিয়ার মতো সমস্যাকে বিদায় জানাতে সকালে উঠে খালি পেটে একচামক চূর্ণ এবং প্রচুর জল খান ।

২. দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটায়: ত্রিফলা চোখের সুস্থতা বজায় রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত রাখে । চোখের যে কোনও ইনফেকশন দূর করতে ত্রিফলা খেতে পারেন অথবা এটি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে পারেন।

চোখে জ্বালাভাব, অস্বস্তি, জল পড়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে ত্রিফলা আই ড্রপ ভালো কাজ দেয় ।

১-২ চামচ ত্রিফলা চূর্ণ গরম জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে চোখ পরিষ্কার করে নিন। এভাবে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে এবং চোখে সংক্রমণের ভয়ও থাকবে না।

৩. ওজন কমায়/অতিরিক্ত মেদ কমায়: শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমেছে? রোজ সকালে লেবু জল, শরীরচর্চা, ডায়েট করেও ফল পাচ্ছেন না? তাহলে একবার ত্রিফলা চূর্ণ ব্যবহার করে দেখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমাতে ত্রিফলা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং হাইড্রোক্সিল এবং নাইট্রিক অক্সাইড র‍্যাডিকেলস ওজন কমাতে সাহায্য করে (14)।

নিয়মিত ত্রিফলা চূর্ণ খেলে হজম ভালো হয়, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার আশঙ্কা কমে যায়। স্বাভাবিকভাবে ওজন কম হতে শুরুন করে।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা থাকলে রোজ রাতে একগ্লাস হালকা গরম জলের সঙ্গে দু চামচ ত্রিফলা খান। এটি খাওয়ার পর আর কিছু খাবেন না। চাইলে আধ ঘণ্টা পর জল খেতে পারেন। কিছুদিনের মধ্যে ভালো ফল পাবেন।

৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে : যাদের ব্লাড প্রেসার প্রায়শই ওঠানামা করে তারা নিয়মিত ত্রিফলা খান। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যে ভালো ফল পাবেন, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কারণ এই মিশ্রণটির মধ্যে রয়েছে লাইনোলিক অ্যাসিড, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

৬. ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে : ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া যে কোনও জীবাণু সংক্রমণে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত ত্রিফলা খেলে শরীরে পুষ্টিকর উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। ফলত ঘন ঘন অসুখবিসুখের আশঙ্কাও কমে।

৮. ডায়াবেটিস : ত্রিফলা ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে। ইনসুলিন হরমোনের ওপর কাজ করে। রক্তস্রোতে গ্লুকোজ জমা হওয়া এবং বিমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

৯. রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে : ত্রিফলা রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখতে সাহায্য করে।

১০. হাড় ও গাঁটের ব্যথা – আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমায় : যারা হাঁটুর ব্যথা বা বাতের যন্ত্রণায় ভুগছেন নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়া শুরু করুন। এর অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যন্ত্রণা দূর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্রিফলা তরুণাস্থি ও হাড় ফুলে যাওয়া কারণে আর্থ্রাইটিসের সমস্যা থেকেও রেহাই দেয় ।

১১. দাঁত ও মাড়ির সমস্যা : ত্রিফলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান দাঁতের সমস্যা দূর করতে এবং দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দাঁত ও মাড়ির সমস্যা এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকরী ।

১২. অ্যানজাইটি এবং ট্রেস কমায় : প্রত্যেকদিন নিয়ম করে খালি পেটে ত্রিফলা খেলে শরীরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি এবং ট্রেস কমায় ।

১৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : ২০১৫ সালে ক্যান্সার সেলের গ্রোথ ও তার উপর ত্রিফলার প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল নিয়মিত খালি পেটে ত্রিফলা খেলে শরীরে ক্যান্সার সেল জন্মানোর সম্ভাবনা কমে যায়। যদিও বা জন্ম নেয় ত্রিফলা তার বৃদ্ধি আটকায়। এভাবে এই মারণরোগকে ধারে কাছেও ঘেঁষতে দেয় না ।

১৪. দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে : মাঝে মাঝেই ক্লান্তি বোধ করেন? কোনও কিছুতে এনার্জি পান না? তাহলে ডায়েটে রাখুন ত্রিফলা। কিছুদিনের মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

১৫. ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে : যে কোনও ক্ষত খুব তাড়াতাড়ি সারিয়ে তোলে। ত্বকের কালচেভাব দূর করে, ত্বক সুন্দর করে তোলে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

১৬. চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে : চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে ত্রিফলা ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে নারকেল তেলের সঙ্গে ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন। নিয়মিত এই ভেষজ ওষুধটির ব্যবহার শুধু চুল ওঠার সমস্যা কমায় না, সেইসঙ্গে চুল মজবুতও করে (21)। খুসকির সমস্যা দূর করতে দু চামচ ত্রিফলা পাউডার সামান্য জলে মিশিলে স্কাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন, আধ ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কীভাবে ত্রিফলা চূর্ণ ব্যবহার করবেন
ত্রিফলা সাধারণত চূর্ণ হিসেবে সেবন করা হয়। ত্রিফলা চূর্ণ ছাড়াও বাজারে এর ট্যাবলেট, ক্যাপসুল এবং ত্রিফলা রসের আকারে পাওয়া যায়। শরীরের ধরণের উপর নির্ভর করছে ত্রিফলার কীভাবে ব্যবহার করবেন।

ত্রিফলা ক্যাপসুল এবং ট্যাবলেট : যারা এই ভেষজ ওষুধটির গুড়ো খেতে পারেন না, তারা ত্রিফলা ক্যাপসুল অথবা ট্যাবলেট খেতে পারেন। তবে কখনই অতিরিক্ত মাত্রায় খাবেন না।

ত্রিফলা চা : চায়ের মতো করেও ত্রিফলা খেতে পারেন। এককাপ জলে এক চামচ ত্রিফলা পাউডার মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। সুস্বাদু করতে তাতে মধু যোগ করতে পারেন। দিনে ২-৩ বার ত্রিফলা চা খেতে পারেন, তবে মনে রাখবেন অতিরিক্ত সেবন শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারেন।

ত্রিফলা আইওয়াশ : চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ত্রিফলার কার্যকারিতা অপরিসীম। এক গ্লাস জলে একচামচ ত্রিফলা পাউডার সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।

ত্রিফলা ফেসপ্যাক : একচামচ ত্রিফলা পাউডার সামান্য নারকেলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট রাখার পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে মুখে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

লেবু এবং মধুর সঙ্গে ত্রিফলা : ত্রিফলা চূর্ণ লেবু ও মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। কোনও কিছু ছাড়াই গরম জলে কেবলমাত্র ত্রিফলা পাউডার মিশিয়ে খেতে পারেন, যা অনেক বেশি উপকারী। দুধ এবং ঘি এর সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।

ত্রিফলা ব্যবহারের সঠিক মাত্রা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্রিফলা খালি পেটে অথবা খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে খাওয়া যায়। সাধারণত ১/২ চা চামচ ত্রিফলা পাউডার গরম জলে মিশিয়ে চায়ের মতো করে দিনে দু’বার খেতে পারেন। ঘি বা মধুর সঙ্গে দু’বার খাওয়া যায়। তবে সকলের ক্ষেত্রে এর মাত্রা এক নাও হতে পারে। চেহারার ধরণ, বয়স, লিঙ্গ এবং শারীরিক অবস্থার উপর ত্রিফলা খাওয়ার পরিমাণের তারতম্য থাকে। ত্রিফলার যেমন একাধিক স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে, তেমন মাত্রাতিরিক্ত সেবন নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো এটি খাওয়া শুরু করার আগে ডাক্তার পরামর্শ নিন।

তবে সাধারণভাবে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা এই চূর্ণ যে অনুপাতে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন তা হল ১ (হরিতকি), ২ (বহেড়া) এবং ৪ (আমলা)। চাইলে এই উপাদানগুলি ১:২:৪ অনুপাতে আলাদা আলাদা ভাবেও খেতে পারেন। বহেড়া চূর্ণ খাওয়ার আগে, আমলা চূর্ণ খাওয়ার পরে এবং হরদ চূর্ণ খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পরে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ত্রিফলা নিয়মিত খেলে পাচনতন্ত্র উন্নত হয় এবং শরীর অসুখবিসুখ মুক্ত থাকে। বাজার থেকে কিনেও খেতে পারেন অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়ায়ী বাড়িতে বানিয়ে ফেলতে পারেন ত্রিফলা চূর্ণ।

বাড়িতে কীভাবে ত্রিফলা চূর্ণ বানাবেন
বাজার থেকে এই উপাদানগুলি কিনে এনে খুব সহজেই বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন ত্রিফলা চূর্ণ।

কী কী প্রয়োজন
উপাদানগুলি কেনার আগে ১:২:৪ (হরিতকি:বহেড়া:আমলা) এই অনুপাতের কথা মাথায় রাখতে হবে। সেই হিসেব মতো উপাদানগুলি কিনে আনুন। যদি ২০ গ্রাম হরিতকি নেন তাহলে বাকি উপাদানগুলি এই পরিমাণে কিনুন।
হরিতকি – ২০ গ্রাম
বহেড়া – ৪০ গ্রাম
আমলা – ৮০ গ্রাম
শিল নোড়া বা হামাল দিস্তা

কীভাবে তৈরি করবেন
১. প্রথমে সব উপাদান আলাদা আলাদা ভাবে শুকিয়ে নিয়ে শিল নোড়া বা হামাল দিস্তায় ভালো করে গুঁড়ো করে নিন।
২. পাউডারের মতো তৈরি হয়ে গেলে আলাদা আলাদা পাথরের পাত্রে রেখে দিন।
৩. এরপর পাউডারগুলি ১:২:৪ (হরিতকি:বহেড়া:আমলা) এই অনুপাতে মিশিয়ে নিন।

নতুন পাত্রে মিশ্রণটি রেখে দিন। এভাবে বাড়িতেই ত্রিফলা চূর্ণ তৈরি করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত রেখে দিতে পারবেন এবং ব্যবহার করতে পারবেন। ত্রিফলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, জেনে নিন সেগুলো কী কী –

ত্রিফলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
একজন সুস্থ ব্যক্তি নিয়মিত ত্রিফলা চূর্ণ খেলে অবশ্যই উপকার পাবেন। কিন্তু ত্রিফলার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো কী কী জেনে নিন এবং ত্রিফলা খাওয়া শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

১. ত্রিফলা একটি ভেষজ ওষুধ। সঠিক মাত্রায় সেবন করলে যেমন উপকার পাবেন, তেমনই অত্যধিক মাত্রায় খেলে ডায়ারিয়া ও ডিসেন্ট্রির আকার নিতে পারে।
২. আপনি যদি অন্য কোনও ওষুধ খান, তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কারণ ত্রিফলা অন্যান্য ওষুধের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে। যা সমস্যা ডেকে আনতে পারে (22)।
৩. ডায়াবেটিস ওষুধের কাজে হস্তক্ষেপ করে ব্লাড সুগার স্বাভাবিকের থেকে কমিয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রুগীদের জন্য ত্রিফলা ক্ষতিকারক হতে পারে, তাই ত্রিফলা খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন (15)।
৪. ত্রিফলার মধ্যে উপস্থিত হরিতকি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকারক। এই উপাদানটি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে (23)। এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে গ্যাস অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু এই বিষয়ে তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি, তাই ত্রিফলা সেবনের আগে গর্ভবতী মহিলাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫. বাচ্চাদের ত্রিফলা দেওয়া উচিত নয়।
৬. এটি সেবনের পর তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা, ডিপ্রেসন, ক্লান্তি ভাব, কোনও কিছুতে এনার্জি না পাওয়ার মতো বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে অনেকের।

আমলকির উপকারিতা:আমলকি টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে...
06/04/2021

আমলকির উপকারিতা:

আমলকি টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে কষটে লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে। আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকির জুড়ি নেই। এছাড়া লিভার, জন্ডিস, পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারার চেয়ে ১০ গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এছাড়া আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। এই পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ দিনে দুটো আমলকি খেলেই এসে যায়।

আমলকি, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। এ তিনটি শুকনো ফল একত্রে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা ছেঁকে খালি পেটে শরবত হিসেবে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়। বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে আমলকি ব্যবহার হয়। কাঁচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও আমলকি দারুণ সাহায্য করে। তাছাড়া আমলকির ভিটামিন সি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর মুক্ত মৌলগুলোর (ফ্রি রেডিকেল) প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

এবার জেনে নেই আমলকির ২০ উপকারিতা সম্পর্কে-

১. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

২. এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

৩. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এ ছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

৪. এক গ্লাস দুধ বা পানির সঙ্গে আমলকি গুঁড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারলে অ্যাসিডিটির সমস্যা কমবে।

৫. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।

৬. প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

৭. আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।

৮. আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৯. এ ছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

১০. আমলকির টক ও তেঁতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকির গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।

১২. কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী।

১৩. ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।

১৪. আমলকি শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশি মজবুত করে।

১৫. এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।

১৬. শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে আমলকি।

১৭. লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।

১৮. এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

১৯. সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভাল কাজ করে।

২০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

তবে কিডনি রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আমলকি খাওয়া উচিত।

জিনসেং কি? জিনসেং এর উপকারিতা কি?জিনসেং মাংসল মূলবিশিষ্ট এক ধরনের বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি উত্তর গোলার্ধে পূর্ব এশিয়াতে,...
06/04/2021

জিনসেং কি? জিনসেং এর উপকারিতা কি?
জিনসেং মাংসল মূলবিশিষ্ট এক ধরনের বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি উত্তর গোলার্ধে পূর্ব এশিয়াতে, বিশেষ করে চীন, কোরিয়া ও পূর্ব সাইবেরিয়াতে, ঠাণ্ডা পরিবেশে জন্মে। শক্তিবর্ধক টনিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে জিনসেংয়ের প্রচলন আছে। জিনসেং শব্দটা উচ্চারণের সাথে যে দেশটির নাম উচ্চারিত হয় সেটি হলো কোরিয়া। জিনসেংকে অনেকে কোরিয়ান ভায়াগ্রা বলে থাকে। জিনসেং হলো গাছের মূল। হাজার হাজার বছর ধরে কোরিয়াতে জিনসেং ওষুধি গুণাগুণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জিনসেং গাছের মূল রোগ প্রতিরোধক এবং ইংরেজিতে বললে বলতে হয় Proactive tool in warding off disease। জিনসেংকে কোরিয়ানরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকে। এর পুরো মূল সুপে দিয়ে দেয়, সিদ্ধ মূল খেতে হয়। চিবিয়ে চিবিয়ে এর নির্যাস নিতে হয়। এছাড়াও জিনসেং-এর রয়েছে নানাবিধ খাদ্য উপকরণ।

জিনসেং কে বলা হয় wonder herbs বা আশ্চর্য লতা। চীনে সহস্র বছর ধরে জিনসেং গাছের মূল আশ্চর্য রকম শক্তি উতপাদনকারী পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়াও এর রয়েছে নানাবিধ গুন। চীন থেকে কেউ বেড়াতে আসলে সাধারণত দেখা যায় জিনসেং ও সবুজ চা কে গিফট হিসেবে নিয়ে আসতে। সেইরকম একটা গিফট পাওয়ার পরে ভাবলাম যে এই আশ্চর্য লতার গুন কে আসলে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত নাকি এ শুধুই প্রাচীন চাইনিজ মিথ? ঘাটতে গিয়ে পেলাম নানা তথ্য। আমাদের দেশের মানুষেরা এটা সম্পর্কে কম-ই জানেন। তাই জিনসেং সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আজকের পোস্ট।

জিনসেং কোরিয়াতে এবং দেশের বাইরে জনপ্রিয় হলেও এর চাষাবাদ কিন্তু বেশ কঠিন। বর্হিবিশ্বে জিনসেং-এর প্রচুর চাহিদা মেটানোর জন্য কোরিয়ার Gyeong sangbuk-do প্রদেশের পুঞ্জী এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং-এর সফল চাষাবাদ চলছে সেই ১১২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে। এই পুঞ্জী এলাকা জিনসেং দেশ হিসাবে ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত। ষোলশো শতাব্দী থেকেই এই এলাকায় জিনসেং খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি কোরিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত জিনসেং উৎপাদনকারী এলাকা। পুঞ্জীতে Sobeaksan পাহাড়ে ৪০০-৫০০ মিটার উচ্চতায় জিনসেং-এর চাষ করা হয়। পাহাড়ের শীতল আবহাওয়া এবং উর্বর মাটি পুঞ্জী এলাকার জিনসেং-কে বলশালী করে তোলে। প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথমদিকে পুঞ্জীতে জিনসেং উৎসব হয়ে থাকে। এই উৎসবে খেত থেকে সদ্য তোলা জিনসেং-এর স্বাদ গ্রহণ করা যায়। পরিভ্রমণকারীরা জিনসেং তুলবার অভিজ্ঞতাও নিতে পারে এই উৎসবে। জিনসেং উৎসবে আয়োজন করা হয় নানা রকম প্রতিযোগিতার। এর একটি হলো দি বেস্ট জিনসেং। অর্থাৎ কোন জিনসেং মূলটি দেখতে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

এর জন্য ৪টি শর্ত হলো:

(১) মূলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং একই সাথে মূলটি দেখতে একজন মানুষের আকৃতির কতটা কাছাকাছি হয়েছে।

(২) মূলের বাইরের স্তরের পুরুত্ব এবং মূলের ওজন।

(৩) মূলের দৈর্ঘ্য এবং

(৪) জিনসেং মূলটির বয়স ছয় বছর হতে হবে।

গাছের বয়স ছয় বছরের উপরে চলে গেলে মূল শক্ত হয়ে যায় এবং এর ওয়ুধি গুণাগুণ হ্রাস পায়। অবশ্য যে সব জিনসেং বন-বাদাড়ে প্রাকৃতিকভাব্ জন্মায় সেগুলোর মূলের গুণাগুণ ছয় বছরের পরও বিদ্যমান থাকে। আমেরিকা এবং ইউরোপে ফাংশনাল ফুড হিসেবে এটি বহুল প্রচলিত। এর বহুমুখী উপকারিতা, ঔষধি গুণের কথা বিবেচনা করে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উৎপাদন পদ্ধতির উদ্ভাবন চলছে, যাতে করে এই মহামূল্যবান ঔষধিটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পৃথিবীর যে কোনো স্থানে উৎপাদন করা যায়। এর চাষাবাদ বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। মাঠপর্যায়ে মাটিতে চাষাবাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন।

কোরিয়ান জিনসেং (Panax ginseng) Araliaceae পরিবারের Panax ধরনের মাংসল মূল বিশিষ্ট বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ প্রজাতি; যা পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে চীন, কোরিয়া ও পূর্ব সাইবেরিয়ায় ঠান্ডা পরিবেশে জন্মে এবং এর মূলটিই মূলত ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘প্যানাক্স’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ panacea থেকে, যার অর্থ হলো All healer or cure all disease বা সর্বরোগের ওষুধ।”


জিনসেং : মুলত দুই ধরণের জিনসেং ঔষধি গুনসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত- আমেরিকান ও এশিয়ান। এর মধ্যে এশিয়ান জিনসেং অপেক্ষাকৃত বেশি কার্যকরী। এই দুই ধরণের জিনসেং কে বলা হয় প্যানাক্স জিনসেং। প্যানাক্স শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ “panacea” থেকে যার অর্থ হলো “All healer” বা সর্ব রোগের ঔষধ। জিনসেং সাদা (খোসা ছাড়ানো) ও লাল (খোসা সমেত) এই দুই রকম রূপে পাওয়া যায়। খোসা সমেত অবস্থায় এটি অধিক কার্যকরী। এদের মধ্যে থাকা জিনসেনোনোসাইড নামক একটি উপাদান এর কার্যক্ষমতার জন্য দায়ী। সাইবেরিয়ান জিনসেং নামে আরেক ধরণের গাছ আছে, যা জিনসেং বলে ভূল করা হলেও তা আসলে প্রকৃত জিনসেং না।

জিনসেং ও লিংগোত্থানে অক্ষমতাঃ জিনসেং এর গুনাবলীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যা প্রমানিত তা হলে, পুরুষের লিংগোত্থানে অক্ষমতা রোধে এর ভূমিকা। University of Ulsan এবং the Korea Ginseng and To***co Research Institute ৪৫ জন ইরেকটাইল ডিসফাংশন (লিংগোত্থানে অক্ষম ব্যাক্তি) এর রোগীর উপর একটি পরীক্ষা চালান। তাদের কে ৮ সপ্তাহের জন্য দিনে ৩বার করে ৯০০ মিগ্রা জিনসেং খেতে দেয়া হয়, এরপর দুই সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার ৮ সপ্তাহ খেতে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮০% জানান যে, জিনসেং গ্রহনের সময় তাদের লিংগোত্থান সহজ হয়েছে। ২০০৭ সনে Asian Journal of Andrology এ ৬০ জন ব্যাক্তির উপর করা এবং Journal of Impotent Research এ ৯০ জন ব্যাক্তির উপর করা অনুরুপ আরো দুটি গবেষনা প্রকাশিত হয়। ২০০২ সালের একটি গবেষনায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, জিনসেং কিভাবে লিংগোত্থানে সহায়তা করে। পুরুষের যৌনাংগে corpus cavernosum নামে বিষেশ ধরণের টিস্যু থাকে। নাইট্রিক অক্সাইডের উপস্থিতিতে এই টিস্যু রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে লিংগোত্থান ঘটায়। জিনসেং সরাসরি দেহে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমান বাড়িয়ে লিংগোত্থানে সহায়তা করে।


জিনসেং ও দ্রুত বীর্যস্খলনঃ যদিও কাচা জিনসেং এর মূল এই রোগে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা যায় না তবে জিনসেং এর তৈরী একটি ক্রীম (ss cream) পুরুষদের দ্রুত বীর্যস্খলন রোধে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হয়ে আসছে যা মিলনের একঘন্টা আগে লিঙ্গে লাগিয়ে রেখে মিলনের আগে ধুয়ে ফেলতে হয়। Journal of Urology তে ২০০০ সনে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী এটি বীর্যস্খলনের সময় কাল কার্যকরী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ভাবে বাড়ায়। আসলে, জিনসেং শব্দটাই এসছে চাইনিজ শব্দ “রেনসেং” থেকে। “রেন” অর্থ পুরুষ ও “সেন” অর্থ “পা”, যৌনতা বৃদ্ধিতে এর অনন্য অবদান এর জন্যই এর এইরকম নাম (অবশ্য এটি দেখতেও পা সহ মানুষের মত)।

জিনসেং ও cognitive function: cognitive function বলতে বুঝায় বিভিন্ন মানসিক ক্ষমতা যেমন মনযোগ, স্মৃতিশক্তি, কথা শোনার সাথে সাথে বুঝতে পারার ক্ষমতা,কল্পনাশক্তি, শেখার ক্ষমতা, বিচারবুদ্ধি, চিন্তা শক্তি ও সমস্যা সমাধান করে কোন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানোর ক্ষমতা। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি। জিনসেং স্নায়ুতন্তের উপর সরাসরি কাজ করে মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ২০০৫ সনে Journal of Psychopharmacology তে প্রকাশিত গবেষনা অনুযায়ী ৩০ জন সুস্বাস্থ্যবান যুবার উপর গবেষনা করে দেখা গিয়েছে যে জিনসেং গ্রহন তাদের পরীক্ষার সময় পড়া মনে রাখার ব্যাপারে পজিটিভ ভূমিকা রেখেছিল। একই জার্নালে ২০০০ সালে করা একটি গবেষনা, যুক্তরাজ্যের Cognitive Drug Research Ltd কর্তৃক ৬৪ জন ব্যাক্তির উপর করা একটি গবেষনা এবং চীনের Zhejiang College কর্তৃক ৩৫৮ ব্যাক্তির উপর করা একটি গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং মধ্যবয়স্ক ও বৃদ্ধ ব্যাক্তির স্মরণশক্তি ও সার্বিক বৃদ্ধিতেও সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৫ সনে Annals of Neurology তে প্রকাশিত ইদুরের উপর করা গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং মস্তিষ্কের কোষ বিনষ্টকারী রোগ যা স্মৃতিশক্তি বিনষ্ট করে (যেমন পারকিন্সন ডিজিজ, হান্টিংটন ডিজিজ ইত্যাদি) সেসব প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।


জিনসেং ও ডায়াবেটিসঃ ২০০৮ সনে ১৯ জন টাইপ ২ ডায়বেটিস এর রোগীর উপর করা গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং টাইপ ২ ডায়বেটিস ম্যানেজমেন্টে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

জিনসেং ও কোলেস্টেরলঃ Pharmacological Research এ ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী, দিনে ৬ মিগ্রা হারে ৮ সপ্তাহ জিনসেং গ্রহণ খারাপ কোলেস্টেরল যেমন- total cholesterol (TC), triglyceride (TG) ও low density lipoprotein (LDL) এর মাত্রা কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল (High Density Lipoprotein বা HDL) এর মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।

জিনসেং ও ফুসফুসের রোগঃ Chronic Obstructive Pulmonary Disease(COPD) হচ্ছে ফুসফুসের অন্যতম কমন রোগ। এই রোগীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে কফ থাকে ও কারো কারো ফুসফুসের ক্ষয় ঘটে। Archive of Chest Disease এ ২০০২ সনে প্রকাশিত ৯২ জন রোগীর উপর করা গবেষনা অনুযায়ী ১০০মিগ্রা ডোজে ৩ মাস জিনসেং গ্রহণে সার্বিক ভাবে COPD এর অবস্থার উন্নতি হয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।

জিনসেং ও ত্বকঃ জিনসেং বিভিন্ন এন্টি-এজিং ক্রীম ও স্ট্রেচ মার্ক ক্রীম এ ব্যবহৃত হয়। এইসব ক্রীম ত্বকের কোলাজেন এর উপর কাজ করে ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে ও গর্ভবতী নারীদের পেটের ত্বক স্ফীতির কারণে তৈরী ফাটা দাগ নিরসন করে। তবে এটির জন্য জিনসেং এর ভূমিকা কতটুকু ও ক্রীমে থাকা অন্যান্য উপাদানের ভূমিকা কতটুকু তা জানা যায়নি।


জিনসেং ও ক্যান্সারঃ জিনসেং ক্যান্সার নিরাময় করতে না পারলেও আমেরিকার ম্যায়ো ক্লিনিক ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা বলছেন, ক্যান্সারে ভুগছেন এমন রোগীদের দুর্বলতা কাটাতে জিনসেং সহায়ক। ৩৪০ রোগী নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ সপ্তাহ ধরে উচ্চমাত্রার জিনসেং ক্যাপসুল সেবন করেছেন এমন রোগীদের দুর্বলতা অন্যান্য পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণকারীদের তুলনায় অনেক কমেছে।

জিনসেং ও রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ একটি গবেষনায় ২২৭ ব্যক্তির উপর ১০০মিগ্রা দিনে এক বার করে ১২ সপ্তাহ এবং আরেকটি গবেষনায় ৬০ ব্যাক্তির উপর ১০০মিগ্রা দিনে ২বার করে ৮ সপ্তাহ জিনসেং প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো ( যেমন T Helper cell, NK Cell, Antibody ইত্যাদি) কার্যকর পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। তার মানে জিনসেং রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

জিনসেং ও আরো কিছু রোগঃ মেয়েলি হরমোন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি ও শক্তি বর্ধক এনার্জি ড্রিংক হিসেবে জিনসেং দারুন কার্যকরী। জিনসেং রক্ত তরল করে স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। আরো কয়েকটি রোগ নিরসনে জিনসেং ভূমিকা রাখে বলে লোকজ ব্যবহার হতে জানা গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই রোগ গুলোর ক্ষেত্রে গবেষনা করে জিনসেং এর কার্যকরীতা অস্বীকারও করেন নি আবার নিশ্চিত ভাবে মেনেও নেননি। এইসব রোগের মধ্যে আছে, সরদি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ক্যান্সার (পাকস্থলি, ফুসফুস, যকৃত, ত্বক, ডিম্বাশয়), রক্তশূণ্যতা, বিষন্নতা, পানি আসা, হজমে সমস্যা ইত্যাদি।

উপরের উপকারিতা সংক্ষেপে বলতে গেলে –

১। শারিরিক শক্তি বাড়ায় এবং দুশ্চিন্তা ও হতাশা দূর করে।

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৩। পুরুষের লিংগোত্থানে অক্ষমতা রোধ করে।

৪। পুরুষদের দ্রুত বীর্যস্খলন রোধ করে।

৫। বিভিন্ন মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যেমন মনযোগ, স্মৃতিশক্তি, কথা শোনার সাথে সাথে বুঝতে পারার ক্ষমতা,কল্পনাশক্তি, শেখার ক্ষমতা, বিচারবুদ্ধি, চিন্তা শক্তি ও সমস্যা সমাধান করে কোন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানোর ক্ষমতা।

৬। কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

৭। জিনসেং বিভিন্ন এন্টি-এজিং ক্রীম ও স্ট্রেচ মার্ক ক্রীম এ ব্যবহৃত হয়। এইসব ক্রীম ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে।

৮। মেয়েলি হরমোন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি ও শক্তি বর্ধক হিসেবে জিনসেং দারুন কার্যকরী।


ব্যবহারবিধিঃ University of Maryland Medical Center এর মত অনুযায়ী এশিয়ান জিনসেং পূর্নবয়স্করা ২-৩ সপ্তাহ টানা খেয়ে ২ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার খেতে পারবেন। আমেরিকান জিনসেং টানা ৮ সপ্তাহ খেয়ে ২ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার খেতে পারবেন। যেহেতু এটি একটি অতি কার্যকরী ওষুধ, তাই দীর্ঘদিন ব্যবহারের কোন রকম ক্ষতি হতে পারে ভেবে এটি বেশিদিন ব্যবহার করতে মানা করা হয় (যদিও দীর্ঘ ব্যবহারে ক্ষতির কথাটার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই).. জিনসেং সাধারণত ট্যাবলেট, পাউডার, ড্রিঙ্কস হিসেবে খাওয়া হয়, এবং এদের গায়েই ব্যবহারবিধি লেখা থাকে। ট্যাবলেট বা পাউডার এর জন্য ডোজঃ University of Michigan Health System এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও লিংগ উত্থান এর জন্য ৯০০ মিগ্রা পাউডার করে দৈনিক ৩ বার, শক্তি বা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি ও ডায়বেটিস এর জন্য এর ডোজ হলো ২০০ মিগ্রা পাঊডার করে দিনে ১ বার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১০০ মিগ্রা করে দিনে ২ বার। ss cream এর জন্য ডোজ হলো ০.২ মিগ্রা। সরাসরি মূল খেলে ০.৫-২ গ্রাম মুল খাওয়া যাবে দৈনিক ১ বার। মূল কিনে খাওয়া টাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়। মূল টা চিবিয়ে খাওয়া যায়, গুড়া করে জিভের নীচে রেখে দিয়ে খাওয়া যায়, পানিতে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পানি সহ খাওয়া যায় অথবা পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে পানি সহ খাওয়া যায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ জিনসেং এর সবচেয়ে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিকৃয়া হলো ঘুমের সমস্যা। আগেই বলেছি, জিনসেং স্নায়ুতন্ত্র কে উত্তেজিত করে ও মানসিক ক্ষমতা বাড়ায়। উত্তেজিত স্নায়ুর কারণে ঘুম আসতে দেরি হয়, যেমন টা হয় কফি খাওয়ার পরে। অন্যান্য সাধারণ সমস্যার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, হার্ট বিট বাড়া এবং ব্লাড প্রেশারে তারতম্য হওয়া (সাময়িক)।

যারা খাবেন নাঃ বাচ্চা, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের এটা খেতে নিষেধ করা হয়। জিনসেং স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে তাই স্নায়ুর উপর কাজ করে এমন অন্য কোন ওষুধ (যেমন ঘুমের অষুধ, বিষন্নতার ওষুধ ইতাদি) এর সঙ্গে এটা খাওয়া উচিত না, নয়ত স্নায়ু অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে যাবে। জিনসেং রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করে, তাই হার্টের রোগীরা যারা ইতমধ্যে রক্ত তরল করার অন্যান্য ওষুধ ( যেমন heparin and warfarin) খাচ্ছেন, তারা এদের সঙ্গে জিনসেং খাবেনা না। জিনসেং ব্লাড সুগার কমাতে সহায়তা করে, তাই ডায়বেটিস রোগীদেরো ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে এটা খাওয়া উচিত যাতে ওষুধের সাথে জিনসেং গ্রহণে সুগার যেন বেশি কমে না যায়। অতিকর্মক্ষম রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে কিছু রোগ হয়, যেমন multiple sclerosis (MS), lupus (systemic lupus erythematosus, SLE), rheumatoid arthritis (RA) এদের বলা হয় Auto-immune disease। জিনসেং যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তাই সাধারণ মানুষ এতি খেলে উপকৃত হবে কিন্তু Auto-immune disease এর রোগীদের খাওয়া উচিত না। জিনসেং মেয়েলি হরমোন ইস্ট্রোজেন এর পরিমাণ বাড়ায়, তাই যাদের হরমোনের সমস্যা আছে তাদের এটা খাওয়া উচিত কিন্তু যাদের ব্রেস্ট, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার আছে তাদের খাওয়া উচিত নয় কারণ অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন এইসব ক্যান্সারে আরো সহায়ক ভূমিকা রাখে। জিনসেং ব্লাড প্রেশারেও তারতম্য ঘটায় তাই হাই ও লো প্রেশারের রোগীদেরো নিয়মিত খাওয়া উচিত না। সোজা ভাষায় বলতে গেলে, জিনসেং এর ভালো গুনগুলোর কারণেই আসলে একে সতর্ক ভাবে গ্রহণ করা উচিত (যদিও উপরের আশংকা গুলো কোনটাই বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না)।

Address

Baridhara
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Happy Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram