Porom Sotto - পরম সত্য

Porom Sotto - পরম সত্য আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলামিক মেডিটেশন

আমরা দুনিয়ায় জন্মেছি খালি হাতে,আর একদিন এই দুনিয়া ছাড়ব—আরও বেশি খালি হাতে।যে টাকা আমরা জমাই,যে পদমর্যাদার জন্য আমরা লড়াই...
08/02/2026

আমরা দুনিয়ায় জন্মেছি খালি হাতে,
আর একদিন এই দুনিয়া ছাড়ব—আরও বেশি খালি হাতে।
যে টাকা আমরা জমাই,
যে পদমর্যাদার জন্য আমরা লড়াই করি,
যে সম্মানের জন্য আমরা কখনো হারামকেও হালাল বানিয়ে ফেলি—
সেই সবকিছুই আমাদের জানাজার আগেই আমাদের হাত ছেড়ে দেবে।

কবরের দরজা পেরোনোর সময়
কেউ জিজ্ঞেস করবে না—
তোমার ব্যাংক ব্যালেন্স কত ছিল?
তোমার পদবি কী ছিল?
তোমার পরিচিত লোক কয়জন ছিল?

বরং প্রশ্ন হবে—
তোমার রব কে?
তোমার দ্বীন কী?
তোমার নবী কে?

সেই মুহূর্তে আপনার পাশে দাঁড়াবে না
আপনার টাকা,
আপনার ক্ষমতা,
আপনার সামাজিক মর্যাদা।
পাশে দাঁড়াবে শুধু আপনার নামাজ,
যে নামাজ আপনাকে গুনাহ থেকে বিরত রেখেছিল।
দাঁড়াবে আপনার তওবা,
যে তওবা আপনাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে এনেছিল।
আর দাঁড়াবে আপনার ইখলাস,
যে ইখলাস আল্লাহর কাছে আপনার আমলকে গ্রহণযোগ্য করেছিল।

আমরা যদি আজ নামাজকে অবহেলা করি,
তওবাকে পিছিয়ে দিই,
আর ইখলাসের জায়গায় লোক দেখানো আমল করি—
তাহলে কবর আমাদের জন্য শান্তির জায়গা হবে না।

কিন্তু সুখবর হলো—
আমরা এখনো বেঁচে আছি।
এখনো আমাদের সুযোগ আছে।
নামাজ ঠিক করার সুযোগ,
তওবা করার সুযোগ,
হৃদয়কে ইখলাসে ভরিয়ে তোলার সুযোগ।

আসুন, আজই সিদ্ধান্ত নিই—
দুনিয়াকে নয়, আখিরাতকে প্রাধান্য দেব।
মানুষকে খুশি করতে নয়, আল্লাহকে রাজি করতে বাঁচব।
যাতে কবরে নামার দিন
আমাদের নামাজ, তওবা আর ইখলাস
আমাদের জন্য আলো হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে
ঈমানের সাথে জীবন ও ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন।
আমিন।

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং হারাম নেশা থেকে ফিরে আসে,আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ খুলে দেন এবং তাকে সফল করেন।”(ইশারা:...
27/01/2026

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং হারাম নেশা থেকে ফিরে আসে,
আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ খুলে দেন এবং তাকে সফল করেন।”
(ইশারা: সূরা তালাক ৬৫:২–৩)

আবেগী ও অনুপ্রেরণামূলক

“নেশা ছাড়লে শুধু বদভ্যাস ছাড়ে না—
আল্লাহভীতির কারণে নেশা ছাড়লে একটি নতুন জীবন শুরু হয়।
আর আল্লাহ তাকে সফল করেই ছাড়েন।”

জীবনের উদ্দেশ্য ও মৃত্যুর বাস্তবতা: আপনি এই পৃথিবীতে কেন এসেছেন? এখানে আসার আগে আপনি কোথায় ছিলেন? এবং একদিন আপনাকে কোথায়...
20/01/2026

জীবনের উদ্দেশ্য ও মৃত্যুর বাস্তবতা:
আপনি এই পৃথিবীতে কেন এসেছেন?
এখানে আসার আগে আপনি কোথায় ছিলেন?
এবং একদিন আপনাকে কোথায় ফিরে যেতে হবে?
আল্লাহ বলেন —
“প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” (সূরা আলে ইমরান ১৮৫)
মৃত্যু কোনো দূরের ব্যাপার নয়।
এটা আপনার জীবনেরই অংশ।
আজ, কাল, না পরশু — কখন সেই ডাক আসবে।
আপনি একা একটি ঘরে শুয়ে আছেন…
আপনার নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে কমে আসছে…
আপনার প্রিয়জনরা আপনার চারপাশে… তারা কাঁদছে…
আর আপনি আল্লাহর ফেরেশতাদের আগমন অনুভব করছেন…
আপনি দেখছেন — এই দুনিয়ার সব কিছু পিছনে পড়ে যাচ্ছে।
পদমর্যাদা, টাকা, সম্মান — কিছুই আপনার সাথে যাচ্ছে না।
শুধু যাচ্ছে আপনার আমল, আপনার নামাজ, আপনার তওবা, আপনার হৃদয়ের ইখলাস।

সিরাতের সেতু ও জান্নাত–জাহান্নামের দৃশ্য: আপনার সামনে এক দীর্ঘ সেতু, যার নিচে জাহান্নামের আগুন জ্বলছে। সেতুটি চুলের মতো ...
20/01/2026

সিরাতের সেতু ও জান্নাত–জাহান্নামের দৃশ্য:
আপনার সামনে এক দীর্ঘ সেতু, যার নিচে জাহান্নামের আগুন জ্বলছে।
সেতুটি চুলের মতো পাতলা, তরবারির মতো ধারালো।
সব মানুষ সেই সেতুর উপর দিয়ে পার হচ্ছে…
কারো গতি বজ্রপাতের মতো দ্রুত,
কারো ধীরে ধীরে,
আবার কেউ পড়ে যাচ্ছে… আগুনে, চিরদিনের জন্য।
আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সিরাতের শুরুতে…
আপনার চারপাশে অন্ধকার, কিন্তু আপনার ঈমান ও সৎকর্ম একটি ছোট আলো তৈরি করেছে।
আপনি ধীরে ধীরে পা ফেলছেন…
আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে মনে পড়ছে — নামাজ, রোজা, জিকির, দান, ক্ষমা, ও আল্লাহভীতি।
এইগুলোই আপনাকে নিরাপদ রাখছে।
আপনি নিরাপদে পার হচ্ছেন, আপনার সামনে এক অপূর্ব আলো ঝলমল করছে…

১. কবরের জান্নাতি রূপ ও প্রথম প্রশান্তিকল্পনা করুন, আপনার পার্থিব জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ও যন্ত্রণার অবসান ঘটেছে। আপনি এক...
08/01/2026

১. কবরের জান্নাতি রূপ ও প্রথম প্রশান্তি
কল্পনা করুন, আপনার পার্থিব জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ও যন্ত্রণার অবসান ঘটেছে। আপনি একজন মুমিন হিসেবে আপনার রবের সান্নিধ্যে যাওয়ার সফরে বের হয়েছেন। কবরের জীবন কেবল আজাবের নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য এটি হলো জান্নাতের প্রথম বিশ্রামাগার।
যখন একজন পুণ্যবান মানুষকে কবরে রাখা হয়, তখন কবর তাকে মাটির কঠিন চাপে পিষ্ট করে না, বরং মা যেমন পরম মমতায় তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরেন, কবরও তাকে তেমনি স্নেহে আলিঙ্গন করে। কবরের সেই অন্ধকার আর অন্ধকার থাকে না, বরং তা জান্নাতের নূরে আলোকিত হয়ে ওঠে।
২. কুরআনের দলিলে কবরের সুখের আভাস
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে সূরা আন-নাহল-এর ৩২ নম্বর আয়াতে বলেন:
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ ۙ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩২)
"যাদের জান কবজ করেন ফেরেশতারা এমতাবস্থায় যে তারা পবিত্র থাকে। ফেরেশতারা বলে— তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক (সালামুন আলাইকুম), তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করো।"
এটি কেবল আখেরাতের জান্নাত নয়, বরং কবরেই জান্নাতের সেই শান্তির শুভ সূচনা হয়। যারা আল্লাহর পথে অবিচল ছিল, তাদের কবরে ফেরেশতারা এসে অভয় দেন। সূরা ফুসসিলাত-এর ৩০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে:
تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩০)
"তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় এবং বলে— তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ নাও।"
৩. হাদিস ও নবী-রাসূলদের শিক্ষা থেকে দৃষ্টান্ত
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুমিনের কবরের এক অপূর্ব দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। যখন মুমিন বান্দা তার রবের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন:
"আমার বান্দা সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবরের সাথে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৭৫৩)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, তখন সেই জান্নাতি দরজা দিয়ে সুগন্ধি হাওয়া আসতে থাকে এবং মুমিনের কবরটি তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
চিন্তা করুন, হযরত খুবাইব (রা.)-এর কথা, যাঁকে কাফেররা শূলে চড়িয়ে শহীদ করেছিল। তাঁর শাহাদাতের পর তাঁর শরীর থেকে মেশকের সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। এটিই কবরের জান্নাতি শান্তির পার্থিব নিদর্শন। মুমিন যখন কবরে যায়, তখন তার নেক আমলগুলো—সালাত, সিয়াম, সদকা—তার চারপাশ থেকে তাকে পাহারা দেয় এবং বলতে থাকে, "তোমার কোনো ভয় নেই, আমরা তোমার সঙ্গী।"
৪. বাস্তব উদাহরণ ও যুক্তি
কল্পনা করুন, একজন ছাত্র সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার পর যখন সে বাড়ি ফেরে, তখন সে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে কারণ সে জানে তার ফলাফল ভালো হবে। মুমিনের জন্য দুনিয়াটা হলো সেই পরীক্ষার হল, আর কবর হলো পরীক্ষার পরের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রশান্তির ঘুম।
যুক্তি: আমরা যখন রাতে খুব আরামদায়ক কোনো স্বপ্ন দেখি, তখন আমাদের মনে হয় আমরা কোনো সুন্দর বাগানে আছি, সুস্বাদু ফল খাচ্ছি। অথচ বাস্তবে আমাদের শরীরটি বিছানায় পড়ে থাকে। কবরের শান্তিও ঠিক তেমনই। বাইরে থেকে মাটি দেখা গেলেও ভেতরের আত্মাটি জান্নাতের নেয়ামত উপভোগ করতে থাকে। এটি হলো আত্মশুদ্ধির পুরস্কার। আপনি যখন দুনিয়াতে আপনার রিপু বা প্রবৃত্তিকে দমন করেছেন, আল্লাহ তখন কবরের মাটিকে আপনার জন্য রেশমের বিছানা করে দেবেন।
৫. আত্মশুদ্ধির ধ্যান (মেডিটেশন অংশ)
এখন আপনারা গভীর শ্বাস নিন। কল্পনা করুন, আপনি আপনার কবরে শুয়ে আছেন। কিন্তু কোনো ভয় নেই, কোনো অন্ধকার নেই। জান্নাত থেকে একটি জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে আপনার কবরে। সেখান থেকে জান্নাতের অপূর্ব সুবাস আপনার নাকে আসছে। চারদিকে এক স্বর্গীয় আলো।
দুইজন ফেরেশতা অত্যন্ত সুন্দর ও মায়াবী চেহারায় আপনার সামনে এসেছেন। তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছেন— "তোমার রব কে?" আপনি খুব তৃপ্তির সাথে হাসিমুখে উত্তর দিচ্ছেন— "আমার রব আল্লাহ।"
—--------------- অনুভব করুন, আপনার সালাত আপনার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আপনাকে ছায়া দিচ্ছে। আপনার দান-সদকা আপনার হাতকে নূরানি করে রেখেছে। ফেরেশতারা আপনাকে বলছেন— "নাম কানাউমাতিল আরুস", অর্থাৎ "তুমি একজন নববধূর মতো শান্তিতে ঘুমাও, যাকে তার প্রিয়জন ছাড়া আর কেউ জাগাবে না।"
মনে মনে বলুন— "হে আল্লাহ! আমার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন। আমাকে সেই পবিত্র আত্মা দান করুন যাকে ফেরেশতারা সালাম দিয়ে স্বাগত জানায়।"
আপনার আত্মশুদ্ধির লক্ষ্যই হলো এই প্রশান্তি অর্জন করা। আপনি যখন দুনিয়াতে কাউকে ক্ষমা করেন, কারো উপকার করেন বা চোখের পানি ফেলে ইস্তিগফার করেন, তখন মূলত আপনি আপনার কবরের জান্নাতি বাগানের একটি করে চারা রোপণ করেন। অনুভব করুন, সেই প্রশান্তি আপনার সারা হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

১. কবরের বাস্তবতা ও নিঃসঙ্গতার চিত্রকল্পনা করুন, আপনার চারপাশ থেকে পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে গেছে। আপনাকে একটি খাটিয়ায় শুইয়...
08/01/2026

১. কবরের বাস্তবতা ও নিঃসঙ্গতার চিত্র
কল্পনা করুন, আপনার চারপাশ থেকে পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে গেছে। আপনাকে একটি খাটিয়ায় শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনার অতি আপনজনেরা আপনাকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্ধকার গর্তের দিকে। যে শরীরকে আপনি দামী পোশাকে সাজিয়েছিলেন, আজ সেখানে সাদা এক টুকরো কাফন ছাড়া আর কিছুই নেই।
আপনাকে কবরে নামিয়ে দেওয়া হলো। ওপর থেকে বাঁশের চাটাই আর মাটির আস্তরণ পড়ছে। শেষবারের মতো আপনি আপনার প্রিয়জনদের পায়ের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন, যারা আপনাকে একা রেখে ফিরে যাচ্ছে। এখন আপনি সেখানে একা—একেবারে একা। কবরের সেই অন্ধকার আপনাকে চারপাশ থেকে চেপে ধরছে।
২. কবরের আজাব: কোরআন ও সুন্নাহর দলিল
কবরের এই জীবনকে বলা হয় 'আলমে বারযাখ'। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের বংশধরদের কবরের আজাব সম্পর্কে সূরা মুমিনের ৪৬ নম্বর আয়াতে বলেন:
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا (সূরা মুমিন, আয়াত: ৪৬)
"সকাল-সন্ধ্যায় তাদের আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয় (কবরের জীবনে)।"
রাসূলুল্লাহ (সা.) কবরের আজাব থেকে বাঁচার জন্য প্রতিনিয়ত দোয়া করতেন। সহীহ বুখারীর ১৩৭৪ নম্বর হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন:
"মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা চলে যায়, সে তাদের জুতার আওয়াজও শুনতে পায়। তখন দুইজন ফেরেশতা (মুনকার-নাকির) এসে তাকে বসান এবং তিনটি প্রশ্ন করেন। যদি সে উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে এমন জোরে আঘাত করা হয় যে, জিন ও ইনসান ছাড়া পৃথিবীর সবকিছু তার সেই আর্তনাদ শুনতে পায়।"
৩. নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবন থেকে দৃষ্টান্ত
হযরত উসমান (রা.) যখন কোনো কবরের সামনে দাঁড়াতেন, তিনি এত কাঁদতেন যে তার দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় এত কাঁদেন না, যতটা কবরের কথা শুনে কাঁদেন, কেন?" তিনি উত্তরে বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"কবর হলো পরকালের প্রথম মঞ্জিল। যে এখানে পার পেয়ে যাবে, তার জন্য পরবর্তী পথগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে এখানে আটকা পড়বে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।" (সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং: ২৩০৮)
চিন্তা করুন, যদি জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া সাহাবীরা কবরের ভয়ে এমন থরথর করে কাঁপেন, তবে আমাদের অবস্থা কী হবে? নবীজি (সা.) একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, "এই দুই কবরের বাসিন্দাকে আজাব দেওয়া হচ্ছে। একজন প্রস্রাবের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকত না, আর অন্যজন চোগলখুরি (মানুষের পেছনে বদনাম) করে বেড়াত।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২১৬)। আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অবহেলাই হতে পারে কবরের ভয়াবহ আজাবের কারণ।
৪. বাস্তব উদাহরণ ও যুক্তি
কল্পনা করুন, আপনাকে একটি খুব ছোট এবং অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে কোনো জানালা নেই, কোনো আলো নেই। সাথে কিছু বিষাক্ত সাপ ও বিচ্ছু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক রাত সেখানে থাকা কি সম্ভব? কবর হলো তার চাইতে ভয়াবহ অন্ধকার সংকীর্ণ স্থান।
যুক্তি: দুনিয়াতে আমরা যখন রাতে ঘুমাই, তখন মাঝে মাঝে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখি। স্বপ্নে বাঘ তাড়া করলে বা আগুন দেখলে আমরা বাস্তবেও ঘেমে যাই, ভয়ে চিৎকার করি। অথচ আপনার পাশের মানুষটি জানতেই পারে না আপনি কী কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কবরের আজাবও ঠিক তেমন—বাইরে থেকে মাটি স্থির মনে হলেও ভেতরের মানুষটি তার আমল অনুযায়ী জান্নাতের বাগান অথবা জাহান্নামের গর্তে অবস্থান করে।
আপনার নেক আমল হবে কবরের বাতি, আর আপনার গুনাহ হবে অন্ধকারের বিষধর কীট।
৫. আত্মশুদ্ধির ধ্যান (মেডিটেশন অংশ)
এখন আপনারা ভাবুন, আপনি সেই সংকীর্ণ কবরে শুয়ে আছেন। মুনকার-নাকির ফেরেশতা আপনার সামনে দাঁড়িয়ে। আপনার জিহ্বা কি আজ আল্লাহর পরিচয় দিতে পারবে? নাকি আপনার জবান দুনিয়ার লোভ আর গীবতের গ্লানিতে আড়ষ্ট হয়ে যাবে?
কল্পনা করুন, আপনার কবরের দুই পাশের মাটি আপনাকে এমন জোরে চাপ দিচ্ছে যে আপনার একদিকের পাঁজরের হাড় অন্যদিকের হাড়ের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। আপনি যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন, কিন্তু কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসছে না। আপনার সেই প্রিয় মোবাইল, আপনার দামী বাড়ি, আপনার বন্ধু-বান্ধব—সবাই আজ কবরের বাইরে।
এখন নিজের অন্তরের দিকে তাকান। আপনি কি প্রস্তুত এই সফরের জন্য? আপনার কি এমন কোনো আমল আছে যা দিয়ে কবরের এই ভয়ানক নিঃসঙ্গতাকে জয় করবেন? আপনার চোখের পানি দিয়ে আজই সেই কবরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করুন।
মনে মনে বলুন— "হে আল্লাহ! কবরের আযাব থেকে আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। ইয়া আল্লাহ! আমার অন্ধকার কবরকে আপনার নূরে আলোকিত করে দিয়েন। আমার আমলনামার গুনাহগুলো আজই তওবার মাধ্যমে মিটিয়ে দিন।"
অনুভব করুন, এই ধ্যান আপনার ভেতরে এক গভীর ভীতি এবং সচেতনতা তৈরি করছে। আত্মশুদ্ধি মানেই হলো প্রতিদিন অন্তত একবার নিজের মৃত্যুকে কল্পনা করা এবং কবরের কঠিন সওয়াল-জওয়াবের জন্য নিজেকে তৈরি করা।

১. ইস্তিগফারের প্রকৃত অর্থ ও আধ্যাত্মিক গভীরতাআপনি এখন চোখ বন্ধ করে আছেন। আপনার সমস্ত মনোযোগ এখন আপনার কলব বা হৃদয়ের দিক...
07/01/2026

১. ইস্তিগফারের প্রকৃত অর্থ ও আধ্যাত্মিক গভীরতা
আপনি এখন চোখ বন্ধ করে আছেন। আপনার সমস্ত মনোযোগ এখন আপনার কলব বা হৃদয়ের দিকে। ইস্তিগফার শব্দটি আরবি ‘গফর’ (Ghafr) ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো কোনো কিছুকে ঢেকে ফেলা বা সুরক্ষা দেওয়া।
আপনি যখন আল্লাহর কাছে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলেন, তখন আপনি মূলত দুটি জিনিস চাচ্ছেন। প্রথমত, আপনি বলছেন— "হে আল্লাহ! আমার গুনাহের এই বীভৎস চেহারা আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে ঢেকে রাখুন, আমাকে মানুষের সামনে লজ্জিত করবেন না।" দ্বিতীয়ত, আপনি চাচ্ছেন সেই গুনাহের কারণে যে বিপদ বা আযাব আপনার দিকে ধেয়ে আসছিল, তা থেকে সুরক্ষা। ইস্তিগফার হলো মুমিনের আত্মার জন্য একটি শক্তিশালী বর্ম।
২. ইস্তিগফারের গুরুত্ব: আল্লাহর ঘোষণা
আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনের প্রতিটি সঙ্কটের সমাধান হিসেবে ইস্তিগফারকে মনোনীত করেছেন। কুরআন মজিদে সূরা নূহ-এর ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا . يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا . وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا (সূরা নূহ, আয়াত: ১০-১২)
"অতঃপর আমি বলেছি— তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিতে বরকত দেবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ ও নদীনালা প্রবাহিত করবেন।"
আল্লাহ তায়ালা আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন যে, আপনার অভাব, আপনার পেরেশানি আর রিযিকের সঙ্কটের সমাধান আপনার তওবা আর ইস্তিগফারের মাঝে লুকিয়ে আছে। এছাড়া সূরা আনফালের ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ (সূরা আনফাল, আয়াত: ৩৩)
"আল্লাহ তাদের ওপর আযাব দেবেন না ততক্ষণ, যতক্ষণ আপনি (নবী) তাদের মাঝে আছেন এবং আল্লাহ তাদের ওপর আযাব দেবেন না ততক্ষণ, যতক্ষণ তারা 'ইস্তিগফার' (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকে।"
৩. নবী-রাসূলদের জীবন ও হাদিসের অমূল্য শিক্ষা
চিন্তা করুন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা। তিনি মাসুম বা নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দিনে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন। সহীহ বুখারীর ৬৩০৭ নম্বর হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করি।"
আপনারা যারা এখন ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছেন, ভাবুন— আপনার হৃদয়ে কত ধুলো জমেছে! সুনানে ইবনে মাজাহ-এর ৪২৪৪ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন:
"যখন কোনো মুমিন বান্দা গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। এরপর সে যদি তওবা করে এবং ইস্তিগফার করে, তবে তার অন্তর আবার পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়ে যায়।"
হযরত ইউনুস (আ.)-এর সেই মুহূর্তটি স্মরণ করুন যখন তিনি মাছের পেটের অন্ধকারের ভেতর আটকা পড়েছিলেন। কোনো মানুষের সাহায্য পৌঁছানো সেখানে সম্ভব ছিল না। তখন তিনি আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করে বলেছিলেন:
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)
"আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি পাপিষ্ঠদের (জুলুমকারীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি।"
এই যে নিজের ভুল স্বীকার করা, এই ইস্তিগফারই তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর গহ্বর থেকে ফিরিয়ে এনেছিল।
৪. ইস্তিগফারের সঠিক পদ্ধতি ও বাস্তব যুক্তি
ইস্তিগফার কেবল জবান বা ঠোঁটের কোনো কাজ নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। এর তিনটি স্তর রয়েছে: ১. স্বীকারোক্তি: আপনি মনে মনে স্বীকার করছেন যে আপনি ভুল করেছেন। ২. অনুশোচনা: আপনার অন্তরে সেই পাপের জন্য একটি জ্বলন বা যন্ত্রণা অনুভব হবে। ৩. সংকল্প: আপনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবেন যে আর কখনও সেই অন্ধকারে পা দেবেন না।
একটি বাস্তব উদাহরণ ভাবুন: আপনার শরীরে যদি বিষাক্ত কোনো ক্ষত হয়, তবে আপনি কেবল ওপরে পাউডার মেখে তা ঢাকতে পারবেন না; আগে সেই ক্ষত পরিষ্কার করতে হয়। ইস্তিগফার হলো আপনার আত্মার সেই ক্ষত পরিষ্কারের সার্জারি।
আপনি যখন বলেন 'আস্তাগফিরুল্লাহ', তখন আপনার আত্মা আল্লাহর নূরের জন্য প্রস্তুত হয়। সুনানে ইবনে মাজাহ-এর ৪২৫০ নম্বর হাদিসে ইরশাদ হয়েছে:
"গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেন তার কোনো গুনাহই ছিল না।"
৫. আত্মশুদ্ধির মূল দর্শন
আপনারা এখন কল্পনা করুন, আপনার সামনে মহান রব্বুল আলামীনের রহমতের সাগর। আপনি আপনার জীবনের সমস্ত গীবত, মিথ্যা, অহংকার এবং গোপন গুনাহগুলো এক একটি কালো পাথর হিসেবে কল্পনা করুন। অনুভব করুন সেই পাথরের ভারে আপনার আত্মা ডুবে যাচ্ছে।
এখন মনে মনে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে বলুন— "হে আল্লাহ! আমি লজ্জিত। হে আল্লাহ! আমাকে পবিত্র করে দিন।" কল্পনা করুন, আপনার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' বলার সাথে সাথে সেই কালো পাথরগুলো আপনার আত্মা থেকে খসে পড়ছে। আপনার হৃদয় এখন একটি নবজাতক শিশুর মতো নির্মল হয়ে উঠছে।
যুক্তি বলে, একটি নোংরা পাত্রে যেমন সুস্বাদু খাবার রাখা যায় না, তেমনি গুনাহে ভরা হৃদয়ে ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায় না। ইস্তিগফার আপনার সেই আত্মাকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিচ্ছে যাতে সেখানে আল্লাহর মহব্বত জায়গা পায়।

06/01/2026

আত্মসমালোচনা মানে নিজেকে দোষারোপ করা নয়।
আত্মসমালোচনা মানে নিজেকে সত্যের সামনে দাঁড় করানো।
আপনি অন্যের ভুল খুঁজতে পারদর্শী হতে পারেন,
কিন্তু নিজের ভুল দেখতে পারাই আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত।
হযরত উমর (রাঃ) বলেছেন—
আল্লাহ “হিসাব নেওয়ার আগে
তোমরা নিজেদের হিসাব নাও।”
এই বাণী আপনাকে মনে করিয়ে দেয়—
আজকের এই মুহূর্ত আপনার জন্য প্রস্তুতির সুযোগ।
আপনি মনে রাখবেন—
একদিন আপনি আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন।
সেদিন আপনি কিছু লুকাতে পারবেন না।
এই বাস্তবতা আজই আপনাকে সচেতন হতে বলে।
আপনি যখন মুহাসাবা করেন,
আপনি দিনটির দিকে ফিরে তাকান।
আপনি ভাবুন—
আজ কী করেছেন- কী করা উচিত ছিল
কী বলা উচিত ছিল কিন্তু বলেননি,
কী করা উচিত ছিল কিন্তু করেননি।
আপনি নিজের সাথে
নীরবে কথা বলেন।
কেউ শুনছে না— শুধু শুনছে আল্লাহ।
আপনি আপনার সালাতের দিকে তাকান।
আপনি ভাবেন—
আপনার সালাত কি জীবিত ছিল,
নাকি শুধু একটি অভ্যাস ছিল।
আপনি আপনার কথার দিকে তাকান।
আপনার জিহ্বা কি কাউকে কষ্ট দিয়েছে?
আপনি কি এমন কথা বলেছেন
যা আল্লাহ পছন্দ করেন না?
আপনি আপনার চোখের দিকে তাকান।
আপনি কি এমন কিছু দেখেছেন
যা আপনার অন্তরকে অন্ধকার করেছে?
আপনি আপনার অন্তরের দিকে তাকান।
সেখানে কি অহংকার, হিংসা ও অসন্তোষ জমেছে?
আপনি নিজেকে আঘাত করবেন না।
আপনি হতাশ হবেন না।
কারণ মুহাসাবার উদ্দেশ্য
ভেঙে পড়া নয়, বরং ফিরে আসা।
আপনি যখন ভুল দেখতে পান,
আপনি তখনই ইস্তিগফার করেন।
আপনি আল্লাহর দিকে ফিরে যান।
এই মুহূর্তটাই আত্মশুদ্ধির শুরু।
রাসূলুল্লাহ ﷺ দিনের শেষে
ইস্তিগফার করতেন।
যিনি নিষ্পাপ,
তিনি যদি নিজের হিসাব নেন,
তাহলে আপনি কেন নেবেন না?
আপনি প্রতিদিন
কিছু সময় নিজেকে দেবেন।
এই সময় হবে
আপনার ও আল্লাহর মধ্যে।
এই নীরব হিসাব
আপনাকে ধীরে ধীরে সংযত করে।
নম্র করে। সচেতন করে।
আর যে ব্যক্তি
নিজের হিসাব নেয়, আল্লাহ তার হিসাব সহজ করে দেন।
মুহাসাবা হলো- আখিরাতের প্রস্তুতির নীরব অনুশীলন।

কোরআন শুধু একটি গ্রন্থ নয়। কোরআন হলো আল্লাহর কথা। আপনি যখন কোরআন তেলাওয়াত করেন, আপনি আসলে আল্লাহর কথা শুনছেন এবং আল্লাহর...
06/01/2026

কোরআন শুধু একটি গ্রন্থ নয়।
কোরআন হলো আল্লাহর কথা।
আপনি যখন কোরআন তেলাওয়াত করেন,
আপনি আসলে আল্লাহর কথা শুনছেন
এবং আল্লাহর সাথে কথা বলছেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—
“এই কোরআন এমন এক বাণী,
যা মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা।”
এই আয়াত আপনাকে মনে করিয়ে দেয়—
কোরআন শুধু পড়ার জন্য নয়,
কোরআন আপনার অন্তরকে সুস্থ করার জন্য।
আপনি যখন কোরআন তেলাওয়াত করেন,
আপনি তাড়াহুড়া করবেন না।
আপনি শব্দের ভেতর থামবেন।
আপনি প্রতিটি আয়াতকে
আপনার অন্তরের ভেতর নামতে দেবেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কোরআন ধীরে ধীরে পড়তেন।
তিনি প্রতিটি আয়াতে থামতেন।
কারণ কোরআন তেলাওয়াত মানে
শুধু শেষ করা নয়;
কোরআন তেলাওয়াত মানে
অন্তর দিয়ে গ্রহণ করা।
আপনি যদি কোরআনের অর্থ না বোঝেন,
তবুও আপনি জানবেন—
এই শব্দগুলো আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে।
এই বিশ্বাসই
আপনার তেলাওয়াতে বরকত আনে।
কোরআন আপনার অন্তরকে
নরম করে।
ভেঙে দেয় অহংকার।
চুপচাপ আপনাকে ঠিক পথে আনে।
এরপর আসে দোয়া।
দোয়া হলো বান্দার কথা।
কোরআন আল্লাহর কথা,
আর দোয়া হলো আপনার কথা।
আপনি যখন দোয়া করেন,
আপনি সুন্দর শব্দ খুঁজবেন না।
আপনি সত্য কথা বলবেন।
আপনি আপনার দুর্বলতা প্রকাশ করবেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“দোয়া হলো ইবাদতের সারাংশ।”
এর মানে হলো—
আপনি যখন দোয়া করেন,
আপনি আল্লাহর সামনে
নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দেন।
দৈনন্দিন দোয়া আপনার জীবনকে
আল্লাহর সাথে যুক্ত রাখে।
খাওয়ার আগে,
ঘুমানোর আগে,
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়—
আপনি যখন দোয়া করেন,
আপনি আল্লাহকে আপনার জীবনের
প্রতিটি কাজে ডেকে নেন।
আপনি যদি ছোট ছোট দোয়া নিয়মিত করেন,
আপনার অন্তর আল্লাহর স্মরণে অভ্যস্ত হয়।
এই অভ্যাসই
গুনাহ থেকে দূরে রাখে।
আপনি কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে
আপনার দিন শুরু করুন।
আপনি দোয়ার মাধ্যমে
আপনার দিন শেষ করুন।
এই ধারাবাহিকতা
আপনার অন্তরকে ধীরে ধীরে
পরিষ্কার করে।
কোরআন আপনাকে পথ দেখায়।
দোয়া আপনাকে শক্তি দেয়।
আর এই দুইটি একসাথে
আপনাকে আত্মশুদ্ধির পথে
অটল রাখে।

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ হলো—ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া। আপনি যখন বলেন “আস্তাগফিরুল্লাহ”, তখন আপনি শুধু অত...
03/01/2026

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ হলো—ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া।
আপনি যখন বলেন “আস্তাগফিরুল্লাহ”, তখন আপনি শুধু অতীতের গুনাহ মাফ চান না;
আপনি আপনার দুর্বলতা স্বীকার করেন,
এবং আল্লাহর রহমত ও হেফাজতের মধ্যে নিজেকে সঁপে দেন।
ইস্তিগফার মানে এই স্বীকারোক্তি—
আপনি নিখুঁত নন,
আপনি ভুল করেন,
এবং আপনি আল্লাহ ছাড়া নিরাপদ নন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে আপনাকে বারবার ইস্তিগফারের দিকে ডাকছেন।
তিনি বলেন—
“আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।”
এই আয়াত আপনাকে বুঝিয়ে দেয়—ইস্তিগফার কোনো বিশেষ সময়ের আমল নয়;
এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন প্রয়োজন।
আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন,
আল্লাহ ইস্তিগফারকে শুধু গুনাহ মাফের সাথে যুক্ত করেননি;
তিনি এটিকে প্রশান্তি, বরকত ও রিজিক বৃদ্ধির মাধ্যম বানিয়েছেন।
কুরআনে বলা হয়েছে—
“আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা চান,
তিনি আকাশ থেকে আপনাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন,
আপনাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান দ্বারা সাহায্য করবেন।”
এর অর্থ হলো—
ইস্তিগফার আপনার অন্তরকে পরিষ্কার করে,
আর আল্লাহ আপনার জীবনকে সহজ করে দেন।
নবী–রাসূলদের জীবনে ইস্তিগফার ছিল নিয়মিত চর্চা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ, যাঁর কোনো গুনাহ ছিল না,
তিনি নিজেই দিনে সত্তরবারেরও বেশি ইস্তিগফার করতেন।
আপনি একটু ভেবে দেখুন—
নিষ্পাপ নবী যদি ইস্তিগফার করেন,
তাহলে আপনার জন্য ইস্তিগফার কতটা প্রয়োজনীয়।
নূহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন—
“আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা চান,
তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।”
এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন—
ইস্তিগফার শুধু ব্যক্তিগত শুদ্ধি নয়,
এটি সমাজ ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলে।
আপনি যখন ইস্তিগফার করেন,
আপনার অহংকার ভেঙে যায়।
আপনি আল্লাহর সামনে ছোট হয়ে দাঁড়ান।
এই ছোট হয়ে দাঁড়ানোই আত্মশুদ্ধির শুরু।
কিন্তু মনে রাখবেন—
ইস্তিগফার শুধু জিহ্বার আমল হলে তা পূর্ণতা পায় না।
সঠিক ইস্তিগফারের তিনটি ধাপ আছে।
প্রথম ধাপ—
আপনি বুঝবেন যে আপনি ভুল করেছেন।
দ্বিতীয় ধাপ—
আপনার অন্তরে অনুতাপ সৃষ্টি হবে।
তৃতীয় ধাপ—
আপনি সেই গুনাহ থেকে সরে আসার চেষ্টা করবেন।
এই তিনটি একত্র হলে,
ইস্তিগফার আপনার অন্তরে পরিবর্তন আনে।
আপনি যদি একই গুনাহ বারবার করেন,
তবুও আপনি ইস্তিগফার ছাড়বেন না।
কারণ শয়তান চায়—
আপনি যেন ইস্তিগফার করতে লজ্জা পান।
কিন্তু আল্লাহ চান—
আপনি যেন বারবার ফিরে আসেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
বান্দা বারবার গুনাহ করে,
বারবার ক্ষমা চায়,
আর আল্লাহ বলেন—
“আমার বান্দা জানে,
তার একজন রব আছেন,
যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন।”
এই উপলব্ধি আপনার অন্তরে আশা জাগায়।
আপনি বুঝতে পারেন—
ইস্তিগফার মানে নিখুঁত হয়ে যাওয়া নয়;
ইস্তিগফার মানে হাল না ছেড়ে দেওয়া।
প্রতিটি ইস্তিগফার
আপনার অন্তরের ওপর জমে থাকা কালিমা একটু একটু করে মুছে দেয়।
ধীরে ধীরে…
নীরবে…
কিন্তু গভীরভাবে।
এই কারণেই ইস্তিগফার হলো আত্মশুদ্ধির ধারাবাহিক চর্চা।
আপনি যত বেশি ইস্তিগফার করবেন,
আপনার অন্তর তত নরম হবে,
তত বেশি আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়বে।
ইস্তিগফার আপনাকে সবসময় এই সত্যটি মনে করিয়ে দেয়—
আপনি দুর্বল,
কিন্তু আপনার রব অসীম ক্ষমাশীল।
আর এই উপলব্ধিই
আপনাকে গুনাহ থেকে মুক্তির পথে
স্থির করে রাখে।

সালাত শুধু কিছু শারীরিক ভঙ্গির নাম নয়।সালাত হলো আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা।আপনি যখন সালাতে দাঁড়ান,আপনি আসলে দুনিয়া থেকে ...
03/01/2026

সালাত শুধু কিছু শারীরিক ভঙ্গির নাম নয়।
সালাত হলো আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা।
আপনি যখন সালাতে দাঁড়ান,
আপনি আসলে দুনিয়া থেকে বের হয়ে
আল্লাহর দরবারে প্রবেশ করেন।

কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।”
এই আয়াত আপনাকে জানিয়ে দেয়—
সালাত তখনই কাজ করে,
যখন সালাতের ভেতরে খুশু থাকে।

খুশু মানে হলো—
আপনার অন্তরের নীরব উপস্থিতি।
আপনি জানেন যে আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
আপনি অনুভব করেন—
আল্লাহ আপনাকে দেখছেন,
আপনার কথা শুনছেন।

আপনি খেয়াল করুন—
আপনি যখন কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সামনে দাঁড়ান,
আপনি নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে যান।
তাহলে যখন আপনি আল্লাহর সামনে দাঁড়ান,
আপনার অন্তর কতটা সচেতন হওয়া উচিত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়,
আল্লাহ তার দিকে মুখ করে থাকেন,
যতক্ষণ না বান্দা এদিক–ওদিক ফিরে তাকায়।”
এই হাদিস আপনাকে মনে করিয়ে দেয়—
খুশু মানে মনকে এক জায়গায় রাখা।

খুশু হঠাৎ আসে না।
খুশু চর্চার মাধ্যমে তৈরি হয়।
আপনি যদি সালাতে খুশু চান,
তাহলে সালাতের আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

আপনি অজু করার সময়
শুধু শরীর ধোবেন না।
আপনি মনে মনে ভাববেন—
আপনি আপনার গুনাহ ধুয়ে ফেলছেন।

আপনি যখন তাকবির বলেন—
“আল্লাহু আকবার”,
তখন আপনি ঘোষণা করেন—
আল্লাহ সবকিছুর চেয়ে বড়।
আপনার সমস্যা, ভয়, দুশ্চিন্তা—সবকিছুর চেয়ে বড়।

আপনি যখন কিরাত পড়েন,
আপনি শুধু শব্দ উচ্চারণ করবেন না।
আপনি অর্থ অনুভব করার চেষ্টা করবেন।
আপনি আল্লাহর সাথে কথা বলছেন—
এমন অনুভূতি তৈরি করবেন।

রুকুতে আপনি ঝুঁকে পড়েন।
আপনি বুঝতে পারেন—
আপনি শক্তিশালী নন,
আপনি নির্ভরশীল।

সিজদায় আপনি সবচেয়ে নিচু হন।
আর ঠিক এই অবস্থাতেই
আপনি আল্লাহর সবচেয়ে কাছে থাকেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“বান্দা সিজদায় থাকাকালীন
তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।”

আপনি সিজদায় কিছুক্ষণ থামবেন।
আপনি তাড়াহুড়া করবেন না।
আপনি মনে মনে বলবেন—
হে আল্লাহ, আমি আপনার।

আপনি যদি দেখেন—
সালাতে মন চলে যায়,
তাহলে হতাশ হবেন না।
মন ফিরিয়ে আনবেন।
বারবার।

কারণ খুশু মানে মন না যাওয়া নয়।
খুশু মানে মন চলে গেলে
আবার ফিরিয়ে আনা।

আপনি যত বেশি এই চেষ্টা করবেন,
আপনার সালাত তত জীবিত হবে।
আর জীবিত সালাতই
আপনাকে গুনাহ থেকে দূরে রাখবে।

সালাত তখনই আত্মশুদ্ধির মাধ্যম হয়,
যখন আপনি তা উপস্থিত হৃদয় দিয়ে আদায় করেন।
আর খুশু চর্চার এই পথ
আপনাকে ধীরে ধীরে
আল্লাহর নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়।

Address

House-01. Road-06, Block-G, Bosila Garden City, Mohammadpur
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Porom Sotto - পরম সত্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Porom Sotto - পরম সত্য:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram