24/07/2020
বিনা ঔষধে উপযুক্ত খাবারের দ্বারা রোগ নিরাময় করুন | How to Prevent Disease without Medicine | Bangla Health Tips & Guide
বিনা ঔষধে উপযুক্ত খাবারের দ্বারা রোগ নিরাময় করুন How to Prevent Disease without Medicine Bangla Health Tips & Guide
খাওয়া একটা স্পর্শকাতর বিষয়। আমাদের বাচার জন্য খাওয়া উচিৎ, কিন্তু এখন ব্যপারটি হয়েছে উল্টা, এখম আমরা “খাওয়ার জন্য বাচি”। খাওয়ার আগে আমাদের জেনে নেয়া উচিৎ আমরা কী খাচ্ছি? আর এই খাওায়াই আমাদের জন্য কতটুকু উপযোগী বা ক্ষতিকর।
(১) বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ‘আপনি যা খান, আপনি তা-ই’ এখনকার সময়ে আমাদের যে সমস্ত জটিল রোগ আমাদের পিছু নিয়েছে তার বড় একটা কারণ হল আমারা কৃত্রিম সার ও কীটনাশক বিষ ব্যাবহারকৃত খাবার খাচ্ছি যেটার কারণে বলতে গেলে অনেকটাই খাবারের বিশুদ্ধতা হারিয়ে গিয়েছে। এর উপরে আবার বিবিধ স্টাইলে প্রক্রিয়াজাত করন, ভেজাল মিশ্রিত এবং রাসায়নিক উপায়ে সংরক্ষিত খাদ্য যেটা কোনভাবেই খাটি বা টাটকা খাবারের সমকক্ষ হতে পারে না। শুধু তাই নয় ফ্রিজে দীর্ঘদিন রেখে দেয়া খাবারও স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর। আমাদের শরীরের খাদ্য সরবরাহকারী হল রক্ত, যেটা শরিরের সমস্ত কোষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেয়, আর সেই রক্ত কে বিশুদ্ধ্য রাখতে যেটি প্রয়োজন সেটি একমাত্র টাটকা খাবার থেকেই পাওয়া সম্ভব।
(২) খাদ্যের গুণগত একটি উপাদান হচ্ছে আঁশ, যেটা অন্ত্রনালি পরিস্কার রাখে এবং ক্যান্সার হতে শরিরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এই আঁশ গমের আটায় পাওয়া যায় তবে ময়দায় নেই কারণ ময়দা হচ্ছে একটি প্রক্রিয়াজাত মৃত খাদ্য যেটাও অবশ্য ক্যান্সার বা পাকস্থলীর জন্য উপকারি। এরকম আরও একটি প্রক্রিয়াজাত মৃত খাদ্য হল চিনি, যেটা শরিরের বড় বড় বেশ কয়েকটি রোগ সৃষ্টিতে পটু, এমনকি রক্ত ঘন করা ও হাড় ক্ষয় করাতেও এর জুড়ি নেই। সেই হিসাবে ময়দা এবং চিনির তৈরি খাবার যদি সম্ভব হয় পুরোপুরি বর্জন করাই শ্রেয়। সেই সাথেয় লবন, তেল এবং মশলা নামেমাত্র ইউজ করা উচিৎ।
(৩) শরিরের চাহিদানুযায়ী আমাদের প্রতিদিনের খাবারের শতকরা ৪০% শ্বেতসার, ১৫% আমিষ ও ৪৫% শাকসবজি এবং ফল ফলাদি দিয়ে পুরন করা উচিৎ। আরেকটি ব্যাপার মাথায় রাখা উচিৎ, শ্বেতসার জাতীয় খাবার তথা ভাত, রুটি বা আলু জাতীয় খাবারের সাথে ফল না খাওয়াই ভাল, অন্তত আধা ঘন্টা পার্থক্য রেখে খাওয়া উচিৎ। থিক একই ভাবে শ্বেতসার জাতীয় খাবারেরে সাথে মাছ, মাংস ও ডিন না খাওয়াও ভাল। সবজিই হচ্ছে একমাত্র খাবার যেটা আমিষ ও শ্বেতসার জাতীয় উভয় খাবারের সাথে চলানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী দিনে অন্তত আধ কেজি সবজি খাওয়া ভাল। আমাদের শরিরের চাহিদা অনুযায়ী সকালের নাস্তা হওয়া উচিৎ কাঁচা পেপে বা ফল খেয়ে এতে যকৃৎ ভাল থাকে। অঙ্কুরিত ডাল, ছোলা, গম, সিমের বিচি প্রভৃতি আটার তৈরি খাবারের সাথে নাস্তা হিসাবে ভাল। তবে শাক, সিম ও কপি রাতের বেলায় না খাওয়াই ভাল, কারণ এতে পেটের ভিতর বায়ু তৈরি করে।
(৪) আমিষের উৎস হিসাবে ডাল কিন্তু চমৎকার একটি খাদ্য, বিশেষ করে মসুর, মুগ ও মাসকলাই। সব বয়সের আমিষের ঘাটতি পুরন করার জন্য এবং মহুমুত্র রোগীদের বেশ উপকার করে ছোলার ডাল বা অঙ্কুরিত ছোলা।প্রাণীজ আমিষের জন্য মাছ, মুরগীর মাংস এবং ডিমের স্বেতাংশ ভাল। গরু কিংবা খাসির মাংসও বেশ উপকারী তবে এতে চর্বি থাকায় এখন অনেকেই এড়িয়ে চলেছেন।
(৫) সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার কথা আমরা অনেকেই শুনে থাকি, জ্বী হ্যা! কোন কিছু খাওয়ার আগে খালি পেটে ৫০০-৬০০ গ্রাম পানি নিয়মিত খেতে থাকলে পাকস্থলী পরিস্কার, অম্লতা সহ আরও অনেক জোটিল রোগের উপশম হয়। দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস তথা ৪-৫ লিটার পানি খাওয়া জরুরী। সেই সাথে এটাও জানা জরুরী যে দাঁড়িয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য কারণ এতে জরায়ুর উপর প্রেশার পড়ে। কথায় আছে ‘শরীরে পানিও নয়, পানির প্রয়োজন’, যদিও এখনকার সময়ে মুনাফালোভী ফর্মুলায় বাজারজাত এবং ঝলমলে বিজ্ঞাপনে দেখানো ফাটাফাটি সব বোতলে ভরা, প্রচুর চিনিগোলা ও সুস্বাধু এসব সরবত ডায়াবেটিস সহ বড় বড় বহু রোগের কারণ। এরমধ্যে আবার ফাস্টফুড এড করে আমাদের ম্রিত্যুর সময় অনেকটাই কাছে টেনে এনেছি।
বিনা ঔষধে উপযুক্ত খাবারের দ্বারা রোগ নিরাময় করুন How to Prevent Disease without Medicine Bangla Health Tips & Guide
রোগ প্রতিরোধক খাদ্য এবং পানীয়ের ছোট একটি তালিকা দেওয়া হলঃ
(>>) গমাংকুর ক্যান্সার প্রতিরোধক
(>>) বহুমত্রে যব বেশ উপকারি এবং এটি কোলেস্টরেল কমায়, সাথে ত্বকও ভাল রাখে
(>>) কাঁচা বেল ফাটিয়ে রোদে শুকিয়ে গুট বানিয়ে ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে নিয়মিত পানিসহ খেলে পেটের পুরানো অনেক অসুখ যেমন; আমাশয়, অজীর্ণ সেরে যায়
(>>) সকালে টক দই কিংবা সবুজ সব্জির রস (এটা হতে পারে; থানকুরি, বাধাকপি, কলমি, লেটুস, পাশরকুচি বা তেলাকুচা ইত্যাদি), আর যদি সম্ভব হয় তাহলে এতে আরও মিশাতে পারেন মধু, শুকনো আমলকি, হরিতকি ও বহেরার গুড়ো। এটি শরিরকে সতেজ রাখতে খুবই কার্যকরী। ঠিক একইভাবে পান করা যায় কাঁচা পেপে, গাজর বা লাউয়ের মত সব্জির রস।
(>>) থানকুনি পেট, চুল ও চোখ ভাল রাখে। এটি আবার ব্রেইন সতেজ করতেও সাহায্য করে
(>>) কচু শাক রক্ত তৈরি এবং পরিস্কার রাখে
(>>) কলমি শাক ত্বক ভাল রাখে সেই সাথে খোস পাচড়া সারায়
(>>) পুদিনা পাতা ফুসফুস, পেট ও হৃদপিন্ড ভাল রাখে
(>>) ভিটামিন ‘সি’ এর মহা উৎস হচ্ছে আমলকি
(>>) বাত ও মাথা ব্যাথার জন্য আদা উপকারি, এটি আবার হজমেও সাহায্য করে
(>>) তিল খান, এটি তারুন্য ধরে রাখবে
(>>) কাঁচা হলুদ রক্ত পরিস্কারে হেল্প করে
(>>) কালিজিরার কথা কী আর বলব, এটি সকল রোগের মহাঔষধ, যেটি প্রাচীন কাল থেকেই ব্যাবহ্রিত
(>>) সর্দি-কাশির জন্য রসুন সেদ্ধ পানি বেশ উপকারি
(>>) মুখের অপরিচ্ছন্নের কারণে অনেক রোগ হয়, তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা উচিৎ এবং শক্ত বিছানায় ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
উপরিউক্ত পয়েন্টগুলি জাস্ট স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিশাল ভান্ডারের ক্ষুদ্র একাংশ মাত্র। আসুন আমরা যতটুকু পারি সচেতনতার সাথে জীবন যাপন করি এবং রোগ-জীবানু থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি, তাহলেই একমাত্র সুন্দর-সুখকর জীবন যাপনের মাদ্ধ্যমেই সময় অতিবাহিত করতে পারব।
from daily happy kids.