09/01/2026
“স্বামী পরকিয়া করে। তারে এসব থেকে ছাড়ানোর তদবির দেন।”
“এমন আমল দেন যাতে আমার মেয়ে ঐ ছেলেটার থেকে সরে আসে।”
“ছেলেটা সারাদিন খালি মোবাইল নিয়েই পড়ে থাকে—খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা কিছুই নাই! সারাদিন শুধু গেম খেলে। একটু ভালোভাবে ঝাড়ফুঁক করে দেন, যাতে ও একদম ভালো হয়ে যায়।”
তাদের চাওয়াগুলো সঠিক—কিন্তু পন্থাটা ভুল।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের সমস্যাগুলো হয়ে থাকে:
⚠ ব্যক্তিগত চারিত্রিক দুর্বলতার কারণে
⚠ অসৎ সঙ্গের প্রভাবে
⚠ একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে
⚠ আত্মবিশ্বাসহীনতা বা দিকনির্দেশনার অভাবে
এগুলোকে মোটা দাগে কখনোই বলা যায় না যে—
“জ্বিনের আছর বা কালোজাদুর প্রভাবে-ই অমুক এমন করছে।” ❌
কারণ একজন মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা তার দৈনন্দিন জীবনে মানসিক অবস্থা, চিন্তাধারা, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-ব্যবহার, চরিত্র, পড়াশোনা, কাজকর্ম, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মন-মেজাজ, চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সরাসরি এবং গভীরভাবে প্রভাবিত করে—এটাই বাস্তবতা।
খুব অল্প সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই এমন দেখা যায় যে কালোজাদুর প্রভাবে তারা হঠাৎ করে মারাত্মকভাবে বিপথগামী হয়ে গেছে—যেমন চরম গেম আসক্তি, বা পরনারী/পরপুরুষের প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি ইত্যাদি।
উল্লেখিত পরিস্থিতিগুলোতে, স্বাভাবিক অবস্থায় সবার আগে যা প্রয়োজন তা হলো—পরিবারের এগিয়ে আসা।
ধৈর্য্যের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
পরিবারের সদস্যরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে, তাহলে উন্নতি অবশ্যই সম্ভব, বি ইযনিল্লাহ্।
তবে হ্যাঁ, কিছু ব্যতিক্রমী ও জটিল পরিস্থিতি থাকে যেখানে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়—কিন্তু সেগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অবহেলা ও সহযোগিতার অভাবে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে—
কুর'আনে কি এসব সমস্যার কোনো নিরাময় নেই?
দুআ করে কি কোনো লাভ হয় না?
অবশ্যই আছে, আলহামদুলিল্লাহ্!
কুর'আনে সবকিছুরই সমাধান রয়েছে।
কুর'আন তিলাওয়াত ও দুআর মাধ্যমে উপশম আসে, রোগের নিরাময় আসে—এতে কোনো সন্দেহ নেই!
কিন্তু কুর'আন কেবল তিলাওয়াতের জন্যই নাযিল হয়নি;
বরং তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআনের বাণীর উপর আমল করাও আবশ্যক।
আর সেই আমলের পথনির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছেন
রহমাতুল্লিল-আলামীন ﷺ।
আল্লহ আমাদেরকে সত্যকে সত্য হিসেবে বোঝার তাওফীক দিন,
ভুলকে ভুল হিসেবে চিনে নেওয়ার শক্তি দিন,
কুর'আন ও সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফীক দিন।
আমাদের পরিবারগুলোকে হিফাযত করুন,
আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন,
এবং সকল বিপদ ও ফিতনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
আমীন। ইয়া রব্বাল আলামীন!