25/01/2026
চোখে পানি ধরে রাখতে পারলাম না লিখা টা পড়ে।
"প্রিয় আইন
আর কতদিন তুই শক্তির গোলাম থাকবি!"..
একজন মৃত মা নিশ্চয়ই এই প্রশ্ন খুজতে গিয়ে পরাজিত হলো, গোলাম এই শক্তির কাছে।।
এক সুস্থ আলোর অপেক্ষা করছি সবাই।।
যেন অসহায় শ্রেণির মানুষ গুলো একটু বাঁচে, একটা আশা পাক।।
হুরায়রা শিশির
________
১১ মাস আগে বাগেরহাট সদরের ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর থেকে সে জেলে। নানা জায়গা ঘুরে সাদ্দাম এখন যশোরের কারাগারে।
সাদ্দামের স্ত্রীর নাম স্বর্নালী। স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বর্নালী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এর মধ্যে তাদের ছেলে এসেছে পৃথিবীতে। সেই ছেলেকে সাদ্দাম কখনো কোলে নিতে পারে নাই।
২২ বছরের স্বর্নালী সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নিয়ে নানাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে স্বামীর জামিনের জন্য। হাতে যা টাকাপয়সা ছিল সব শেষ। জেল থেকে স্ত্রীকে লেখা চিরকুটে সাদ্দাম লিখেছে, “তবু চেষ্টা করো।” যাদের কাছে টাকা পেতো সেসব যোগাড়ের চেষ্টা যেনো করে স্বর্নালী। সাদ্দামের জামিনের ব্যবস্থা যেনো সে করে!
স্ত্রীকে তুই করে বলতো জুয়েল। লিখেছে, “মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না এটাই কষ্ট!”
কিন্তু স্বর্নালী পারে নাই। সংসার চালাতে না পেরে ফিরে গেছে বাবার বাড়ি! চলার মত টাকা নেই। জুয়েলকে বের করার মত টাকা তার কাছে নাই। কারণ আগস্টের ৫ তারিখের পর বাজারের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হলো, ”প্রথমে লীগের নেতাকর্মীদের ধরো, এরপর জামিন অথবা থানা থেকে ছাড়ানোর নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করো।”
অভাব অনটন, অপমানের কাছে স্বর্নালী হাল ছেড়ে দিয়েছে। তার ভাই বলেছে ইদানিং স্বর্নালী পাগলামি করতো। ফলে গতকাল তার শিশু সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছে সে প্রথমে, এরপর নিজে গলায় ফাঁস নিয়েছে (ধরে নিচ্ছি এই গল্প সত্য। স্বর্নালীর সাথে অন্য কিছু হয়নাই)।
যে তারিখে সংঘটিত হত্যা মামলায় জুয়েল এখন জেলে, সেদিন সে ছিল দেশের বাইরে। স্ত্রীকে লেখা এক চিরকুটে জুয়েল লিখেছে সে কথা, ”আমার পাসপোর্টেই তার প্রমাণ আছে।”
এর মধ্যে একবার জামিনও পেয়েছিল জুয়েল। কিন্তু জেল গেইট থেকে তাকে আবার ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে পীড়াদায়ক ঘটনা হলো, দেশে এতই আইনের শাসন চলছে যে, গোটা পরিবার হারানোর পরও জুয়েলের মুক্তি মেলেনি। প্যারোলে ছাড়া পেয়ে তাদের জানাযায় দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি সে। জেলা প্রশাসকের চিঠি পৌঁছেনি পুলিশের কাছে।
জেল গেইটে আনা হয়েছে স্বর্নালী ও তার পুত্রকে। কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ লিখেছেন, ”মৃত সন্তান দেখা করতে গেছে জীবিত পিতার সাথে।” কি বর্বর এক দেশ!
শেষবারের মত দেখা স্ত্রী-পুত্রের মরা মুখ জুয়েল নিশ্চয় ভুলে যাবেনা? ভুলে যাবেনা তার দল, তার সহকর্মীরা?
”হে সখা, মম হৃদয়ে রহো
সংসারে সব কাজে
ধ্যানে জ্ঞানে হৃদয়ে রহো”
সাবধান হে নির্দয় দেশ। মানুষের হৃদয় বিস্ফোরিত হলে সর্বনাশ হয়ে যায়।
লিখা :রাজু নুরুল ভাই
স্যোসাল এক্টিভিস্ট