23/04/2026
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক
------------------------------------------
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَـمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا رَاٰنِـىْ اَوْ رَاٰى مَنْ رَاٰنِـىْ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি উনাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, যিনি আমাকে দেখেছেন অথবা আমাকে যিনি দেখেছেন— উনাকে যাঁরা দেখবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মেশকাত শরীফ)
এখানে স্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাঁরা পবিত্র ঈমান উনার সাথে এক পলক দেখেছেন (প্রতি ২ সেকেণ্ডে ৫টি পলক পড়ে) অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা জান্নাতী, আবার উনাদেরকে যাঁরা দেখেছেন হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
এখানে দেখার বিষয় বলা হয়েছে। আর দেখার চেয়ে স্পর্শের ফযীলত আরো বেশি। সুবহানাল্লাহ! যেমন— এ বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন,
اِنَّ الـتُّـرْبَةَ الَّتـِىْ اِتَّصَلَتْ اِلـٰى اَعْظُمِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَفْضَلُ مِنَ الْاَرْضِ وَالسَّمَاءِ حَتـَّى الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) উনার সাথে এক মুহূর্তের তরেও স্পর্শ মুবারক করেছেন, যেই মাটি, ধূলি—বালি অর্থাৎ পদার্থ—বস্তু যা কিছুই হোক না কেন, সব কিছুই আসমান—যমীন; এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও কোটি—কোটিগুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ হয়ে গিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
অন্য বর্ণনায় রয়েছেন, পবিত্র কুরসী মুবারক; এমনকি পবিত্র কাবা শরীফ থেকেও লক্ষ কোটিগুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ হয়ে গেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র ঈমান উনার সাথে এক পলক দেখলে জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়, আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাঁরা দেখেছেন এবং উনাদেরকে যাঁরা দেখেছেন— উনাদের জন্যও জাহান্নাম হারাম হয়ে যায় এবং উনার সাথে এক মুহূর্তের তরেও স্পর্শ মুবারক করেছেন যেই মাটি, ধুলি—বালি অর্থাৎ পদার্থ— বস্তু যা কিছুই হোক না কেন সব কিছুই আসমান—যমীন, পবিত্র কুরসী মুবারক, পবিত্র কাবা শরীফ; এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও কোটি—কোটিগুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! আর যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক—এ শুধুমাত্র একবার বুছা দিয়ে সবচেয়ে বড় নাফরমান ব্যক্তি সর্বোচ্চ জান্নাতী হিসেবে সাব্যস্ত হন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা—আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের ফায়ছালা মুবারক কি? বিশেষভাবে উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নূর মুবারক ধারণ করেছেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক—এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রেহেম শরীফ—এ) ৮ মাস সোয়া ১১ দিন ধারণ করেছেন অত:পর দীর্ঘ ছয় বছর উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক উনার সাথে আদর—স্নেহ মুবারক করেছেন এবং অসংখ্য ও অগনিতবার পবিত্র বুছা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের ফায়ছালা মুবারক কী?
তাহলে উনাদের ব্যাপারে এরূপ প্রশ্ন কিভাবে করা যেতে পারে যে, ‘উনারা জান্নাতী নাকি জাহান্নামী’? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
মূলত উনারা জান্নাত উনার মুহতাজ (মুখাপেক্ষী) তো ননই; বরং জান্নাত উনাদের মুহতাজ নিজের ওজুদ (অস্থিত্ব) মুবারক বজায় রাখার জন্য। প্রকৃতপক্ষে, উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন কখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা এবং হযরত আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক—এ দয়া করে প্রবেশ করবেন তাহলে সম্মানিত জান্নাত উনার ওজুদ মুবারক ও নাম মুবারক সার্থক হবেন। সুবহানাল্লাহ!
এ বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে বুঝার জন্য স্বয়ং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আর তা হচ্ছেন—
عَنْ حَضْرَتْ طَلْقِ بْنِ عَـلِــىٍّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ لَوْ اَدْرَكْتُ وَالِدَىَّ اَوْ اَحَدَهُـمَا وَاَنَا فِىْ صَلوةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَـرَاْتُ فِـيْـهَا بِفَاتِـحَةِ الْكِتَابِ تُـنَادِىْ يَا مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاَجَبْـتُـهَا لَـبَّــيْكِ
অর্থ: “হযরত ত্বলক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি— নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যদি আমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা—আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের দু’জনকে অথবা উনাদের দু’জনের একজনকে দুনিয়ার যমীনে পেতাম, আর আমি সম্মানিত ইশা উনার নামায (ফরয নামায) মুবারক—এ দাঁড়িয়ে সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। এমতাবস্থায় উনারা যদি আমাকে এই বলে সম্মানিত আহ্বান মুবারক করতেন— হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক—এ সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম— লাব্বাইক, হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম! হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আমি উপস্থিত, হাযির।” সুবহানাল্লাহ! (শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ ৩/৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, কাশফুল খফা ২/১৬০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৫৫১, কানযুল উম্মাল ১৬/৪৭০, জামউল জাওয়ামি’ ১৬৮/ ১৩, মাছালিকুল হুনাফাহ ৩৭ পৃষ্ঠা, হাওই শরীফ ২/২৮১ ইত্যাদি)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা—আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান—মান, ফাযায়িল— ফযীলত, বুযূর্গী—সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক কতটুকু তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যা সমস্ত কায়িনাতের কেউ কখনও চিন্তা—ফিকির করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
মূলত উনারা জান্নাত উনার মুহতাজ (মুখাপেক্ষী) তো ননই; বরং জান্নাত উনাদের মুহতাজ নিজের ওজুদ (অস্থিত্ব) মুবারক বজায় রাখার জন্য। প্রকৃতপক্ষে, উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত মুবারকসহ সমস্ত সৃষ্টির মালিক। সুবহানাল্লাহ! অতএব এখানে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে সে ঈমানদার হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং সে একটা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। না‘উযুবিল্লাহ! কারণ সম্মানিত জান্নাত উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন কখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা—আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক—এ দয়া করে প্রবেশ করবেন তাহলে সম্মানিত জান্নাত উনার ওজুদ মুবারক ও নাম মুবারক সার্থক হবেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা—আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!