05/03/2023
পুরুষের বড় স্তনের সর্বাধুনিক চিকিৎসাঃ
গাইনাকোম্যাস্টিয়া কি?
গাইনাকোম্যাস্টিয়া একটি গ্রিক শব্দ যার মানে women like breast বা মেয়েদের মতো স্তন। একজন পুরুষের স্তন যখন মেদের মত বড় হয়ে যায় তাকেই গাইনাকোম্যাস্টিয়া বলে। এটা ফ্যাটের কারনে হতে পারে বা গ্ল্যান্ডোলার ট্যিসুর কারনেও হতে পারে। আবার ফ্যাট গ্ল্যান্ড দুটাই থাকতে পারে। গাইনাকোম্যাস্টিয়া তে দুই পাশের স্তন বড় হতে পারে আবার কখনো ১ পাশের স্তন বড় হতে পারে। দুই পাশের স্তন বড় হলে বাইল্যাটারাল গাইনাকোম্যাস্টিয়া আর এক পাসের স্তন বড় হলে ইউনি ল্যাটারাল গাইনাকোম্যাস্টিয়া বলা হয়।
গাইনাকোম্যাস্টিয়ার কারণঃ
১. অজানা কারণ (Idiopathic)
২. অতিরিক্ত স্থূলতা (Obesity)
৩. হরমোনের অসামঞ্জস্যতা (Hormonal imbalance)
৪. নবজাতক বাচ্চার জন্মের পর মায়ের হরমোনের প্রভাব
৫. বয়ঃসন্ধী কালে
৬. বংশগত কারণে
৭. বিভিন্ন রোগের কারণে যেমনঃ কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস ইত্যাদি।
৮. কিছু টিউমার যেমনঃ কিডনি, বেস্ট, লিভার, অন্ডকোষ, ফুসফুস টিউমার ।
৯. দীর্ঘদিন ধরে কিছু ওষুধ খেলে যেমনঃ spironolactone, Cimetidine, isoniazide, ketoconazole, ranitidine, digoxin ইত্যাদি।
১০. মাদকাসক্তি - এলকোহল, হিরোইন ইত্যাদি
১১. অপুষ্টিতে ভোগলে
গাইনাকোম্যাস্টিয়ার উপসর্গঃ
১. স্তন স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা
২. স্তনের বোটা অধিক বড়
৩. নিপল এরিওলা ফোলা
৪. স্তনে ব্যাথা
৫. স্তনে চাকা চাকা অনুভূত হওয়া
গাইনাকোম্যাস্টিয়ার চিকিৎসাঃ
সার্জারি হলো গাইনাকোমাসিয়ার একমাত্র চিকিৎসা।
তবে যারা কেটে সার্জারি এড়াতে চান তাদের জন্য সুখবর হল খুব বেশি কাটাকাটি না করে লাইপোসাকশন পদ্ধতি। এটাই গাইনাকোম্যাস্টিয়ার সর্বাধুনিক চিকিৎসা। লাইপোসাকশন এমন একটি পদ্ধতি যাতে না কেটে শুধু ফুটো করে একটি বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে স্তন বৃদ্ধিকারক চর্বি বের করে দেয়া হয় এবং এরিওলার নিচে ছোট একটক কাটা দিয়ে গ্ল্যান্ড বের করে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় ভাবে অবশ করে করা যায় তাই হাসপাতালে থাকতে হয় না। অপারেশনের পর পর ই বাড়ি চলে যেতে পারেন।
সার্জারি ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি আছে কি?
ডায়েট বা ব্যায়াম করলে সারা শরীরের চর্বির সাথে বুকের চর্বি ১০ থেকে ২০% কমতে পারে। কিন্তু গাইনাকোম্যাস্টিয়ার চর্বি ডায়েট বা ব্যায়ামে কমে না।
অনেকেই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খান দীর্ঘদিন কিন্তু ফলাফল শূন্য।
Tamoxifen, Raloxifen জাতীয় ওষুধ দিয়ে অনেকে চেষ্টা করেন কিন্তু তাতেও কোন ফল হয়না সাধারণত।
সার্জারির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ
যেকোন সার্জারির মতো এই সার্জারিতেও কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে যেমনঃ ইনফেকশন, ব্লাড বা পানি জমা যা খুব সহজেই সমাধান করা যায়।
লাইপোসাকশনের পর ৩/৪ সপ্তাহ ব্রেস্ট শক্ত হয়ে থাকে, অবশ হয়ে থাকতে পারে, কারো কারো লাল/নীল বা কালো হয়ে যেতে পারে কিছু কিছু যায়গায় এটা একদম স্বাভাবিক। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এগুলো চলে যায় সাধারণত।
সার্জারির পরের যত্নঃ
১. ২৪ ঘন্টা বিশ্রামে থাকা ভাল।
২. বেশি পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে যাতে দূর্বল না লাগে।
৩. ৭ থেকে ১০ দিন বুকে প্রেশার বেন্ডেজ বা বাইন্ডার ব্যবহার করতে হবে।
৪. ৬ সপ্তাহ ভারী কাজ বা ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সার্জারির ৪ থেকে ৬ মাসের মাঝে একটা সুন্দর রেজাল্ট পাওয়া যায়।
গাইনাকোম্যাস্টিয়া সার্জারি করা কি জরুরি?
গাইনাকোম্যাস্টিয়া যখন একজন পুরুষের হয় তখন এটা নিয়ে সে হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেকে গুটিয়ে রাখে। একটা মানসিক অশান্তিতে থাকে সবসময়। এটা শারিরীক ভাবে তেমন কোন ক্ষতি না করলেও মানসিক ভাবে একজন ছেলের জন্য খুবই কষ্টের। আমাদের কাছে যখন আসেন তখন আমরা তার সাথে আলোচনা করি তাকে বুঝাই এটা সার্জারি না করলে তেমন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যাদের এই সমস্যা টা থাকে তারা কসমেটিক কারণেই এই সার্জারি টি করে থাকেন।
ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে কি?
গাইনাকোম্যাস্টিয়া তে ক্যান্সারের ঝুঁকি খুবই কম। ক্যান্সারের ঝুঁকি তাদের থাকে যাদের গাইনাকোম্যাস্টিয়া অন্য কোন রুগের কারণে হয় যেমনঃ অন্ডকোষের টিউমার, কিডনি বা থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের টিউমার ইত্যাদি রোগের কারণে যখন হয়।
অনেকেই আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করেন সার্জারি করলে ক্যান্সার হয় কিনা।
গাইনাকোম্যাস্টিয়া সার্জারির সাথে ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক নাই।
🩺 ডা ইকবাল আহমেদ
স্পেশালিষ্ট প্লাস্টিক এন্ড এস্থেটিক সার্জন
সহকারী অধ্যাপক , বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ
চীফ কনসালটেন্ট, বাংলাদেশ কসমেটিক সার্জারি
বাংলাদেশ কসমেটিক সার্জারি
বাড়ি ৮ ,রোড ১৪ ,সোবহানবাগ ,ধানমন্ডি ,ঢাকা ,বাংলাদেশ
এপয়েন্টমেন্টঃ01766935254,01314099922