06/11/2021
আঁচিল থেকে চির মুক্তি¡¡
আঁচিল (Wart) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। একে অনেকেই রোগ বলতে চাইবেন না। তবে হোমিওপ্যাথি বলে এটি রোগ। শরীরের যেকোন যায়গায় এটি হতে পারে। যেকোন বয়সের নারী-পুরুষই এতে সংক্রমিত হতে পারে। পাপিলোমা ভাইরাসের (এইচ পি ভি) সংক্রমণের ফলে এ রোগ হয়। মানব দেহে প্রায় ১৩০ ধরনের এইচপিভি ভাইরাস রয়েছে। এগুলোর ধরন অনুযায়ী আঁচিল ভিন্ন হয়ে থাকে। কোনটা গোটা গোটা, কোনটা রক্ত জমাট বাঁধার মতো, কোনটা আবার নাড়া লাগলেই রক্ত পরে। এই আঁচিল থেকে হতে পারে টিউমারের মতো জটিল সমস্যাও। কখনো কখনো ছোঁয়া লেগেও আঁচিল হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আবার কখনো গাছের শিকড়ের ন্যায় আকৃতিও পেয়েছে। এরকম রোগীর নজির বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেলেই পাওয়া গেছে। তাই অবহেলা না করে জেনে নিন আঁচিল কেন হয়, আঁচিল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় ও চিকিৎসাসমূহ।
আঁচিল হওয়ার কারণ (Causes of Mole or Wart)
অনেকে মনে করে থাকে যে আঁচিল প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে থাকে। এটি সত্য নয়। আঁচিল সংক্রমণের মূল করণ হচ্ছে দেহে মেলানোসাইট কোষের ভারসাম্যহীনতা। মানব দেহে ত্বকের পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থের জন্য দায়ী এই মেলানোসাইট। পিগমেন্টের জন্যই মানুষের গায়ের রঙের তারতম্য। মানুষের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে এই কোষগুলো ত্বকের সব জায়গায় সমানভাবেই বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন সমানভাবে না হয়ে কোন একটি নির্দিষ্ট জায়াগায় গুচ্ছাকারে বৃদ্ধি পায়, তখনই সেখানে জন্ম হয় আঁচিল বা মোল। এছাড়া ভাইরাল ইনফেকশন, বিশেষ করে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (human papillomavirus) বা সংক্ষেপে এইচ-পি-ভি (HPV) সংক্রমণের কারণেও ত্বকে আঁচিল হয়ে থাকে।
আঁচিলের প্রকারভেদ (Types of Wart or Mole)
আঁচিলের আকৃতি ও গঠন অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে একে ভাগ করা যায়। যথা:
সাধারণ আঁচিল (Verruca Vulgaris)
এ ধরনের আঁচিল সাধারণত আঙুল, নখের কাছে অথবা হাতের উল্টোদিক হয়।
প্ল্যান্টার আঁচিল (verruca plantaris)
প্ল্যান্টার আচিঁল সাধারণত পায়ের পাতার নীচে, হাতের তালুতে হয়। এগুলোকে palmer warts-ও বলা হয়। কখনও বা অনেকগুলো আঁচিল পাশাপাশি একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে ওঠে। এমন হলে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ আচিল খুব যন্ত্রণাদায়ক হয়।
যৌনাঙ্গের আঁচিল (condylomata acuminata)
সঙ্গমজনিত কারণে এ ধরনের আচিল হয় বলে চিকিৎসকগণ ধারণা করে থাকেন। মহিলাদের যৌনাঙ্গে যদি এ আচিল থাকে তবে সন্তানেরও হতে পারে। চামড়ার রঙের সাদৃশ্য এ আচিল পুরুষের যৌনাঙ্গে, নারীর যৌনাঙ্গের ভেতরে বা পায়ুদেশে হয়। এগুলোকে Ge***al warts-ও বলা হয়।
সমতল আঁচিল (verruca-plana)
মেয়েদের পায়ে এবং ছেলেদের মুখে এ প্রকারের আচিল হলে থাকে। ছোট ছোট মসৃণ আঁচিল – এগুলো একসঙ্গে অনেকগুলি হয়। যে কোনও জায়গাতেই হতে পারে। লোম বা দাঁড়ি কামানোর সময় চামড়ার ওপর যে ঘষাঘষি হয় তার সঙ্গে এই ধরণের আঁচিল সৃষ্টির যোগ আছে বলে মনে হয়।
ফিলিফর্ম আঁচিল
কারো কারো মুখে বা গলায় এ ধরণের আঁচিল দেখা যায়। এর গঠন পাতলা সূতোর মতো হয়ে থাকে।
চেপ্টাকৃতি আঁচিল
বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্রাকৃতি চেপ্টা গোটা একসাথে দেখা যায়। এ ধরণের গোটাকৃতি শরীরের নানা জায়গা তথা মুখে, গলায়, বুকে, হাটুতে, হাতে, কোমরে কিংবা বাহুতে জন্মে।
আঁচিল দূর করার সহজ চিকিৎসা
আঁচিলের চিকিৎসায় অনেক লোককথা প্রচলিত রয়েছে। কখনও কখনও এসব লোককথা দৈবক্রমে ফলে গেলেও এগুলো এড়িয়ে চলা মঙ্গলজনক। হোমিওপ্যাথি প্রক্রিয়ায় আঁচিলের চিকিৎসা করলে চিরআরোগ্য হয়।
আঁচিলের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা----
আঁচিল প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং ফলপ্রদ। হোমিওপ্যাথিতে নির্দ্দিষ্ট কোন ঔষধ নাই, লক্ষণ অনুসারে ঔষধ দিতে হবে। কেননা হোমিওপ্যাথির জনক বলেছেন: treat the patient not the disease,
সাবধানতা
• ত্বকে আঁচিল দেখা দিলে তা স্পর্শ করা যাবে না।
• নখ দিয়ে আঁচিল খোঁচানো যাবে না। এতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
• আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র অন্যদের ব্যবহার করা উচিত নয়।
• নিজে নিজে চিকিৎসা অর্থা কাঁচি, ব্লেড বা রেজার দিয়ে আঁচিল কাঁটা যাবে না।
• ব্লেড বা রেজার দিয়ে অবাঞ্চিত লোম দূর করার ক্ষেত্রে ঐসব জায়গায় আঁচিল থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় আঁচিল কেঁটে গেলে ভাইরাস সংক্রামণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
• আক্রান্ত ব্যাক্তির নখের আচড়ে অন্যদেরও আঁচিল হতে পারে। তাই নিয়মিত হাতের নখ পরিস্কার করতে হবে।
• আক্রান্ত ব্যাক্তির হাত সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
• অন্য মানুষের আঁচিল স্পর্শ করবেন না।