12/03/2026
আমেরিকা প্রবাসী এক ভাই আমার।
সুপার শপ, রেস্টুরেন্ট কয়েকটা ব্যবসা ওনার।
উমরায় আসবেন আসবেন করে তিন চার বছর যাবত এক সপ্তাহ সময় বের করতে পারছেন না।
সেদিন হঠাৎ করে ফোন দিয়ে বললেন, আমি উমরায় আসতেছি এবং এই রমাদানেই।
আমি একটু অবাক হইলাম, হঠাৎ ডাইরেক্ট একশন?
বললো,
“ভাই,
আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছিলো। কয়েকদিন পর ছেড়েছে।
আমি দেখলাম, আমার ব্যবসার জন্য আমি আল্লাহর ঘরে যাওয়ার সময় বের করতে পারিনা, অথচ কাস্টডিতে তিনদিন কাটিয়ে আসলাম। আমাকে ছাড়া সবই চললো।
তাই ভিতরে বসেই নিয়্যত করছি বের হয়ে সবার আগে উমরাটা করতে যাব।”
যিনি সময়ের মালিক, তাকে আমরা ব্যস্ততা দেখাই।
সপ্তাহখানেক আগে ক্যারিয়ার নিয়ে খুব সিরিয়াস এক ভাইয়ের ঘটনা পড়লাম ওনার ফ্রেন্ডের পোস্টে।
বিসিএস এক্সামের আগে হঠাৎ অসুস্থ হলো।
বন্ধুরা হাসপাতালে তাকে দেখতে গেলে সে বললো, এক্সাম কয়টা দিন পেছালেই দিতে পারবো।
এই কথা বলার একদিন পরেই ওনি মারা যান। (রহিমাহুল্ল-হ্)
প্রিপারেশন ছিল দুনিয়ার পরীক্ষার, কিন্তু আগে পরীক্ষা দিতে হল আখেরাতের। মুনকার নাকীরের কাছে। পরীক্ষা কেন্দ্র কবর।
আমার এলাকার এক ভাই। বয়স ২৮ হবে।
বাইরে ছিলো, ওনার ওয়াইফ ফোন দিয়ে বলে, বাবু ঘুমাচ্ছেনা। দ্রুত বাসায় আসো।
মোটরসাইকেলে দ্রুত আসতে গিয়ে ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকের চাকার নীচে চলে যান। আর বাসায় যাননি।
এরকম ঘরে ফেরার তাড়ায় থাকা অনেক মানুষ না ফেরার দেশে যায় প্রতিদিন।
এইযে আমাদের ব্যস্ততা দৌড়াদৌড়ি, এগুলোর আসলে শেষ নাই। এগুলোর শেষ হবে মৃত্যু দিয়ে।
বলছি, ইতিকাফের কথা।
এই রমাদানে কি আপনার দশটা দিন সময় হবে?
আমি মনে করি, আমি দশদিনের জন্য মসজিদে বসে গেলে এটার কি হবে, ওটার কি হবে।
আসলে আমি কিছুই না।
আমার থাকা না থাকা ম্যাটার করেনা।
যেদিন মারা যাবো, আমার এলাকার ছোট্ট বাজারটা পর্যন্ত স্বাভাবিক চলবে। বাসার পাশের চায়ের দোকানটাও চলবে।
জীবনে বিশ, ত্রিশটা রমাদান কাটিয়ে ফেলেছেন দশটা দিন ইতিকাফ করেননি।
এত ব্যস্ত আপনি?
এতদিইইইইন মসজিদে কিভাবে বন্দী থাকব?
আল্লাহ্ চাইলে, আপনাকে এই দশদিন হসপিটালের বেডে ফেলে রাখতে পারেন। অথবা আপনাকে কোনো পেরেশানি দিয়ে অস্থির করে তুলতে পারেন।
নবিজী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের কোনো বছর ইতিকাফ ছাড়েননি। আর আপনি করেননি।
বিশেষ করে যুবকরা, কলেজ ইউনিভার্সিটির। চাকরী, হয়ে গেলে, পরিবার বড় হয়ে গেছে ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যাবে।
তখন মুরুব্বি দাদা হওয়া পর্যন্ত সুযোগ হবেনা। আর দাদা হওয়ার আশায় থাইকেন না, অনেকে দাদা দূরের কথা, বাবা হওয়ার আগেই মারা গেছে।
একটু দেখুন ইতিকাফে বসা যায় কিনা।
ব্যস্ততা ফরজ পর্যায়ের না হইলে স্কিপ করেন,
রমাদানের দশটা দিন। আল্লাহকে দিয়ে দিবেন, আল্লাহর ঘরে থেকে খেয়ে ইবাদত করে কাটাবেন। এর চেয়ে সুন্দর আর কি আছে!
হাদীসে কুদসী-
রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহ্ বলেন,
ابْنَ آدَمَ تَفْرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسِدَّ فَقْرَكَ وَإِنْ لَا تَفْعَلْ مَلَأْتُ يَدَكَ شُغُلًا وَلَمْ أسُدَّ فقرك
“ও আদম সন্তান!
আমার ইবাদতের জন্য সময় বের কর।
আমি তোমার হৃদয়কে প্রাচুর্যে ভরে দিব এবং তোমার অভাব মিটিয়ে দিব।
আর যদি তা না কর, তবে আমি তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দিব এবং তোমার অভাব মিটাব না।”
যিনি সময়ের মালিক, তাকে ব্যস্ততা দেখাবেন না।
লেখা: মাহদী ফয়সাল