19/10/2025
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব: একটি খোলামেলা আলোচনা
সচেতন হোন, জ্ঞান অর্জন করুন, পদক্ষেপ নিন।
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব: নীরব থেকে হবে না সমাধান।
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা কিন্তু কম আলোচিত বিষয়। আমাদের দেশে অনেক দম্পতি সন্তান না হওয়ার সমস্যায় ভুগলে, শুধুমাত্র নারীদের দিকেই আংগুল তোলা হয় কিন্ত গবেষণা বলে, দম্পতির বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে প্রায় ২০% ক্ষেত্রে পুরুষ পক্ষই এককভাবে দায়ী আরো ৩০% ক্ষেত্রে নারী সাথে সহভাবে দায়ী অর্থাৎ ৫০% ক্ষেত্রে পুরুষ কোন না কোনভাবে বন্ধাত্বের জন্য দায়ী।
এটি কোনও অপমান বা দুর্বলতার বিষয় নয়। এটি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা, যার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব।
আপনার নীরবতা ভাঙার সময় এখনই।
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব কি?
এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে কোন জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার ছাড়া নিয়মিত মিলন সত্ত্বেও যদি কোন দম্পতি সন্তান ধারণে ব্যর্থ হয়, এবং তার কারণ পুরুষ পক্ষের শুক্রাণু বা প্রজনন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা, তখন তাকে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বলে।
প্রধান কারণগুলো:
· শুক্রাণুর সংখ্যা কম: প্রয়োজনীয় পরিমাণে শুক্রাণুর অভাব।
· শুক্রাণুর গতিশীলতা কম: শুক্রাণু সঠিকভাবে সাঁতার কাটতে না পারা।
· শুক্রাণুর আকৃতি অস্বাভাবিক: শুক্রাণুর গঠনগত ত্রুটি।
· বীর্য বেরিয়ে আসার সমস্যা: রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা অন্যান্য সমস্যা।
· হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনের অভাব।
· শারীরিক সমস্যা: শুক্রাণুবাহী নালিতে বাধা, ভেরিকোসিল (শিরা ফুলে যাওয়া) ইত্যাদি।
-মিলনে অক্ষমতা।
-পুরুষাঙ্গ এ ত্রুটি।
ঝুঁকির কারণগুলো:
· ধূমপান ও মদ্যপান
· মাদক সেবন
· অতিরিক্ত মোটা বা ওজন কম
· অতিরিক্ত Stress বা মানসিক চাপ
· কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
· অণ্ডকোষে আঘাত বা সংক্রমণ
· পরিবেশ দূষণ ও রাসায়নিকের সংস্পর্শ।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি এক বছর চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণ না হয়, তবে পুরুষ এবং মহিলা উভয়কেই একসাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
· শুক্রাণু বিশ্লেষণ: এটি প্রধান পরীক্ষা, যা শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও আকৃতি পরীক্ষা করে।
· মেডিকেল History ও শারীরিক পরীক্ষা।
· রক্ত পরীক্ষা: হরমোনের মাত্রা দেখার জন্য।
· আল্ট্রাসাউন্ড
ডাক্তারী চিকিৎসা ;
চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে কারণের উপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য।
· জীবনযাত্রার পরিবর্তন: স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ব্যায়াম, ধূমপান-মদ্যপান ত্যাগ।
· ওষুধ: হরমোনের imbalance ঠিক করতে।
· সার্জারি: ভেরিকোসিল বা বাধা দূর করতে।
· সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি:
· আইইউআই
· আইভিএফ
· ইকসি
মনে রাখবেন:
· পুরুষ বন্ধ্যাত্ব কোনও লজ্জার বিষয় নয়।
· এটি ছোঁয়াচে নয়।
· এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ নয়।
· খোলামেলা আলোচনা এবং সঠিক চিকিৎসাই পারে সমাধান দিতে।
আপনার যাত্রা শুরু হোক এখান থেকে,
আমরা আছি আপনাকে সাহায্য করতে।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই সমস্যার মুখোমুখি হন, তবে দেরি না করে একজন ইউরোলজিস্ট বা রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজিস্ট-এর সাথে কথা বলুন।
সচেতনতাই হল প্রথম পদক্ষেপ।
প্রয়োজনীয় মনে হলে বার্তাটি শেয়ার করতে পারেন।
ডা. আবু মাসুদ আল মামুন রিপন,
ইউরোলজিস্ট।