কল্যাণ

কল্যাণ আউটডোর, ইনডোর ও অনলাইন কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপি, সাইকিয়াট্রিক সেবা এবং সার্বক্ষণিক ভর্তি।

04/12/2023

#হুট_করে_উপসংহারে_পৌঁছান (Jumping to conclusion)

ধরুন একটা সম্প্রদায় বা পরিবারকে আপনি অপছন্দ করেন, সেটির সম্পর্কে একটি গল্প শুনছেন বা একটা ভিডিও দেখছেন, কিন্তু পুরোটা না শুনেই হুট করে একটা উপসংহার করে ফেললেন। যা সঠিক হতে পারে বা নাও হতে পারে। কিন্তু আপনার অপছন্দের কারনে আপনি নিশ্চিত যে এটাই ঠিক।

আবার আপনার অপছন্দের একজন ব্যক্তি বা একটা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটা ভিডিও বা রিপোর্ট দেখেই কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই উনার বা সেই প্রতিষ্ঠানের অনেক ভালো কাজ থাকা সত্ত্বেও খুব খারাপ ভাবা শুরু করলেন। এই বিষয়গুলোকে Jumping to conclusion বলে। অর্থাৎ একটি পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই এমন কিছু ধারনা করা, যা বাস্তবতার সাথে মিলে না, এই বিষয়টিই হলো হুট করে উপসংহারে পৌঁছান ।

মনস্তত্ত্বে, যারা হুট করে উপসংহারে পৌঁছায়, তারা বিভিন্ন মানসিক সমস্যা যেমন- প্যানিক ডিসঅর্ডার, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মানসিক চাপ ইত্যাদিতে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। কেননা এই ধরনের চিন্তাগুলো মনের ভিতর স্বত:স্ফুতভাবে আসা ত্রুটিপুর্ন নেতিবাচক চিন্তাভাবনার সাথে আবদ্ধ।

#উপসংহারে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য লোকেরা অনেকগুলি উপায় ব্যবহার করেন এগুলো হলো:

Inference-observation Confusion (অনুমান—পর্যবেক্ষণ বিভ্রান্তি): এই পরিস্থিতিতে, আপনি পর্যবেক্ষণ করে এমন কিছু অনুমান করেন যা ভুল হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাউকে চটকদার কাপড় পরা দেখে খুব ধনী বলে বিশ্বাস করলেন। এখানে আপনি শুধু তার কাপড় পরা দেখেছেন, যা আপনাকে বিশ্বাস করিয়েছে যে ব্যক্তিটি ধনী, ব্যাপারটা সত্য নাও হতে পারে।

Casual assumption (নৈমিত্তিক ধারনা): নিজের ধারনার উপর নির্ভর করে সিদ্বান্ত নেয়া যা ভুল হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি মজার কথা বলছেন কিন্তু কেউ হাসছে না। এটা দেখে আপনি অনুমান করলেন তারা আপনার উপর রাগান্বিত। যদিও এখানে তাদের হাসির অভাবের সাথে আপনার ব্যক্তিগতভাবে কোনও সম্পর্ক নেই।

Mind Reading (মাইন্ডস রিডিং): সাধারণত আমরা নেতিবাচক অর্থে অনুমান করি যে অন্য কেউ কী ভাবছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কল করার পর কেউ না ধরলেই, তিনি আপনাকে অপছন্দ করছেন বলে মনে করলেন।

Overgeneralization (অতি সাধারণীকরণ): অতি সাধারণীকরণ হুট করে সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে, আপনি একবার একটি কাজ করে নেতিবাচক ফলাফলের সম্মুখীন হয়ে ধরে নিচ্ছেন যে আপনি সর্বদা সেই কাজের নেতিবাচক ফলাফল পাবেন। আপনি মনে করেন "আমি ঠিকমতো কিছুই করতে পারি না" বা 'কেউ আপনাকে পছন্দ করে না' ইত্যাদি।

Fortune Telling (ভাগ্য বলা): সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ার এই রূপের অর্থ হল ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা আপনি আগে থেকেই নেগেটিভ অনুমান করে ফেলেন। উদাহরণস্বরুপ: একটা কাজ শুরু করেই মনে করলেন এই কাজটা সবচেয়ে খারাপ হবে ।

Labeling (লেবেলিং): লেবেল করার অর্থ হল যে কারোও মতামত বা আচরণের উপর ভিত্তি করে অন্যদের সম্পর্কে অনুমান করা, যারা এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু পুরুষের কথা শুনে অনুমান করলেন যে মহিলারা ভিডিও গেম খেলে না।

#চিকিৎসাঃ যদিও আমরা সকলেই সময়ে সময়ে হুট করে সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ি, আমাদের মধ্যে কারও কারও জন্য এটি আচরণের একটি সেট প্যাটার্ন, যা প্রায়শই উদ্বেগ বা প্যানিক ডিসঅর্ডারের সাথে যুক্ত। যাইহোক, সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়া বন্ধ করার উপায় আছে। এই আচরণটা ম্যানেজ করার জন্য নিম্নের সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

-যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় মনে রাখবেন হুট করে সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়া ভুল।

-আপনার তাৎক্ষণিক অনুমান যাই হোক না কেন, নিজেকে থামান। ধীরে ধীরে চিন্তা করে সিদ্ধান্তে আসার আগে পরিস্থিতি বিবেচনা করার জন্য সময় নিন।

-একটি উপসংহারে আসার আগে, আপনি যে সমস্ত তথ্য পেতে পারেন তা নিশ্চিত করুন। এই তথ্যগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন।

-নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি পুরো ছবিটা দেখেন? আপনার কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সমস্ত তথ্য আছে?

-আপনি যা অনুমান করছেন তা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চ্যালেন্স করতে কিছু সময় ব্যয় করুন।

-আপনি যখন নিজেকে অন্য কারও সম্পর্কে অনুমান করতে দেখেন এবং তারা কী ভাবেন, তাদের জিজ্ঞাসা করার অভ্যাস করুন।

-আপনার চিন্তা, ঘটনা বা অনুভূতির উপর ভিত্তি করে, আপনি যে উপসংহারটি করেছেন তা সমর্থন করার জন্য কী প্রমাণ রয়েছে, তা পরীক্ষা করে নিন।

-নিজেকে অন্যদের দৃৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে চেষ্টা করুন, তারা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে সম্পর্কে চিন্তা করুন। তারা কিভাবে ব্যাখ্যা করবে একটু ভাবুন।

এরপরেও নিজে নিজে না পারলে প্রফেশনাল সহায়তা নিন।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

09/08/2023

কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) কি আইবিএস কমাতে পারে?

#আইবিএসঃ আইবিএস পেটের একটা সমস্যা। এই রোগের নিম্নোক্ত লক্ষণ পাওয়া যায়ঃ

-পেটে (পেট) ব্যথা এবং ক্র্যাম্পিং, যা আপনার বায়ু সরানোর মাধ্যমে উপশম হতে পারে।

- অন্ত্রের অভ্যাসের পরিবর্তন - যেমন ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা কখনও কখনও উভয়ই।

-আপনার পেট গ্যাসে ফুলে যাওয়া ।

-অত্যধিক বাতাস (ফাঁপা), মাঝে মাঝে আপনার এই বাতাস সরানোর জরুরী প্রয়োজন অনুভব করা।

#মানসিক_রোগের_সাথে_সম্পর্কঃ আইবিএস সরাসরি মানসিক কোন সমস্যা না হলেও ব্লানচ্যাট (১৯৯০) একটা গবেষণায় দেখান যে, ৬০% এরও বেশি আইবিএস রোগীদের উদ্বেগ জনিত মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। অন্য 20% বিষণ্নতা এবং বাকিদের তীব্র মানসিক চাপ সহ অন্যান্য মানসিক ব্যাধি রয়েছে।

উদ্বেগযুক্ত ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য, অর্থ বা ক্যারিয়ারের মতো সমস্যাগুলি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হন। এর ফলে পেট খারাপ, কাঁপুনি, পেশীতে ব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঘোরা এবং বিরক্তি সহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

#আইবিএস_স্ট্রেস_এবং_উদ্বেগের_মধ্যে_সংযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে: যদিও উদ্বেগের মতো মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাগুলি হজমের ব্যাধি সৃষ্টি করে না, তবে আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিরা মানসিক সমস্যাগুলির প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে পারে।

স্ট্রেস, উদ্বেগ এবং হতাশার মতো শক্তিশালী আবেগগুলি মস্তিষ্কে রাসায়নিকগুলিকে ট্রিগার করে, যা আপনার অন্ত্রে ব্যথা সংকেত চালু করে ও কোলনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কোলনে খিঁচুনি সম্পর্কে মনকে আরও সচেতন করে তুলতে পারে।

আই বি এস ইমিউন সিস্টেম দ্বারা ট্রিগার হতে পারে, যা মানসিক চাপ দ্বারা প্রভাবিত হয়।

#আইবিএস_চিকিৎসায়_সিবিটিঃ কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) হলো একধরনের কথা বলার মাধ্যমে চিকিৎসা, যা নেতিবাচক স্বয়ংক্রিয় চিন্তাগুলোকে ইতিবাচক করে। আইবিএসের চিকিৎসা হিসাবে সিবিটি ৩০ বছরের বেশি সময়ের গবেষণা দ্বারা সমর্থিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। গবেষণায় দেখা যায় যে, সিবিটি চিকিৎসার একটা কোর্স শেষ হবার পর বেশিরভাগ রোগীর আইবিএস—এর লক্ষণগুলিতে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পায়। ২০১৭ সালে সাইকোলজি রিসার্চ অ্যান্ড বিহেভিয়ার মেডিসিনে কিনসিঞ্জার দ্বারা প্রকাশিত একটি নিবন্ধ অনুসারে, গবেষণাগুলি ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে সিবিটি চিকিৎসার পরে অন্তত এক বছরের বেশি সময় আইবিএস উপসর্গগুলি কমাতে কার্যকর।

ব্রেইন, বিহেভিয়ার এবং ইমিউনিটি জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অন্বেষণ করেছে যে কীভাবে চাপ আইবিএস লক্ষণগুলির সাথে সম্পর্কিত, এবং গবেষকরা দেখেছেন যে আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক চাপের প্রতি পরিবর্তিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যা তাদের ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় করে, প্রদাহ এবং আইবিএস লক্ষণগুলিকে ট্রিগার করে।

আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি অতি সংবেদনশীল অন্ত্র থাকে, তাই মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ একজন ব্যক্তির পেটে যা ঘটছে তা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, উদ্বেগ মস্তিষ্ককে অন্ত্র থেকে ব্যথা সংকেতকে ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে, যার ফলে আরও গুরুতর পেটে ব্যথা হতে পারে।

সারা কিন্সিঞ্জারের মতে, সিবিটি মস্তিস্কের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে ইতিবাচক করে—অন্ত্রের পথগুলিতে ভুল সংকেত পাঠানো বন্ধ করে, যেগুলি আইবিএস—এর একটি মূল অবদানকারী বলে মনে করা হয়।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

30/07/2023

প্রিয়জন ভুল করলে, সম্পর্ক ঠিক রাখতে বাইরের লোকের চেয়ে কম ভুল ধরা প্রয়োজন, যদিও এই সহনশীলতা নিজস্ব মানসিক দক্ষতা থেকে আসে।

তবে যত বেশি ক্ষমা করতে পারবেন, ততই সম্পর্কটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আর যত বেশি ভুল ধরবেন ততই আপনার সম্পর্কটি নষ্ট হয়ে যাবে।

আর মানুষ ভুল করবেই। সম্পর্কগুলো বেশিরভাগ সময় আপনার মনের মতো হবে না। ভালো থাকতে গেলে, আপনাকেই আপোষ করে মানিয়ে নিতে হবে।

(Journal of Personality & Social Psychology)

জিয়ানুর কবির।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

12/10/2022

মানসিকভাবে সুখি হবেন কিভাবে?

আপনি সুখী হতে চান ? ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কগনিটিভ সাইকোলজির অধ্যাপক ড. সান্টোসের দেওয়া পাঁচটি টিপস তুলে ধরা হলো। এগুলো চর্চ্চা করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন;

১. #কৃতজ্ঞতার একটি তালিকা তৈরি করুনঃ অধ্যাপক স্যান্টোস তার শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রত্যেক রাতে তারা যাদের কাছে বা যেসব জিনিসের কাছে কৃতজ্ঞ তার একটি তালিকা তৈরি করতে। এটা শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, যেসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে এটা চর্চ্চা করেন তাদের সুখী মনে হয় ।

২. #আরো বেশি করে ও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চেষ্টা করুনঃ আপনি কি প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারছেন? এই কাজটা করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে হয় কিন্তু আসলে এই কাজটা করা খুব কঠিন । সপ্তাহে সাত দিন প্রতিরাতে আট ঘন্টা করে ঘুমানো একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা সবাই জানি যে বেশি ঘুমাতে পারলে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারলে বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি হয়।

৩. #ধ্যান করুনঃ
আপনার কাজ হবে প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট করে ধ্যান করা। এধরনের কাজে পূর্ন মনোযোগ দিতে হয় যা মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করতে পারে।

৪. #পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আরো সময় কাটানঃ গবেষণায় পরিষ্কার একটি বিষয় দেখা গেছে- পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটালে আপনি সুখী হবেন। ভালো বন্ধুর সাথে সরাসরি যোগাযোগ হলে দুজনেই ভালো বোধ করেন। এই সময় মন উৎফুল্ল থাকে।

৫. #সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগের পরিবর্তে বাস্তবে এই যোগাযোগ বৃদ্ধি করুনঃ সোশাল মিডিয়া থেকে সুখের বিষয়ে মিথ্যা যেসব ধারণা পাওয়া যায় সেসবে ভেসে যাওয়া উচিত নয়। তাই সুখী হতে সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যম ব্যবহার করেন তারা, যারা এটা খুব বেশি ব্যবহার করেন না তাদের চাইতে কম সুখী।

আপনি যদি সত্যিই জীবনে সুখী হতে চান, তাহলে কৃতজ্ঞ হতে শুরু করুন, পরিবারের সাথে আরো বেশি সময় কাটান, বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করুন, দিনের একটা সময়ে কিছুক্ষণের জন্যে নিজেকে সবকিছু থেকে সরিয়ে ধ্যানে মগ্ন হউন, সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে এসে আরো বেশি ঘুমাতে চেষ্টা করুন।

সম্পাদনা ও ভাষান্তরঃ জিয়ানুর কবির।

20/08/2022

অনিশ্চয়তার ব্যবস্থাপনা

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এংজাইটির কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই অনিশ্চয়তা আপনার মানসিক চাপ এবং এংজাইটির মাত্রা বাড়াতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য আপনি যে কাজগুলো করতে পারেন তা হলো;
- সংবাদের এক্সপোজার সীমিত করুন।
- প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান।
- নিজের যত্ন বাড়ান।
-বর্তমানে থাকার জন্য নিয়মিত মাইন্ডফুলনেন্স মেডিটেশন প্রাকটিস করুন।
-প্রয়োজনে প্রফেশনাল সাইকোলজিষ্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিন।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

16/08/2022

লোকে আপনার পিছনে কি বলে তা শুনে সময় নষ্ট করবেন না, কারণ নিজের সম্পর্কে আপনিই ভালো বুঝেন।

মনে রাখবেন কুকুর ঘেউ ঘেউ করলেও সিংহ কখনোই ফিরে তাকায় না।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট জিয়ানুর কবিরের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার লেখা।
16/08/2022

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট জিয়ানুর কবিরের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার লেখা।

অবিচারিক থাকার (Non-judgmemental) প্রাকটিস অবিচারিক থাকা মানসিক চাপ মোকাবেলার একটা পদ্ধতি। আপনি যখন অন্যদের বিচার করবেন ...
15/08/2022

অবিচারিক থাকার (Non-judgmemental) প্রাকটিস

অবিচারিক থাকা মানসিক চাপ মোকাবেলার একটা পদ্ধতি। আপনি যখন অন্যদের বিচার করবেন না, তখন অন্যদের কাছে প্রত্যাশা কমে যাবে। আপনি মানসিকভাবে অনেক শান্তিতে থাকতে পারবেন এবং আপনার মানসিক চাপ ও এংজাইটি কমে যাবে।

যদিও সবাই অবিচারিক হতে পারেন না। অবিচারিকতা শেখাও একটি শিল্প। আপনি শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই শিল্পটি শিখতে পারেন। এই অবিচারিকতা শিখতে গেলে প্রথমেই আপনাকে অনেককিছু গ্রহণ করার অভ্যাস করতে হবে। আপনি কোন বিষয় সম্পর্কে মন্তব্য না করা, অন্যদের কর্ম, মন্তব্য ও জীবন সম্পর্কে মতামত প্রদান না করা এবং মাইন্ডফুলনেন্স মেডিটেশন প্রাকটিস করে শান্ত হয়ে নন জাজমেন্টাল প্রাকটিস শিখতে পারেন। আপনি মানসিকভাবে সুখি হতে চাইলে এবং সম্পর্কগুলো আরও ভালো করতে নন-জাজমেন্টাল হওয়া শিখতে পারেন।

এটা একটা সাইকোলজিক্যাল টেকনিক, কোন কিছুর সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেলেও এর সাথে অন্য কোন বিষয়ের সম্পর্ক নেই ।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

07/08/2022

যখন কেউ আপনাকে উপেক্ষা করে, এটাকে মেনে নিন, কারণ তিনি মানুষ চিনেন না। আবেগের তাড়ণামুলক আচরণ প্রকাশ (যেমন-কান্না, চিল্লাচিল্লি, গালাগাল, ভাংচুর ইত্যাদি ) না করে, মৃদু হাসি দিয়ে চলে আসুন। হাসিটি নকল বা আসল যাই হোক না কেন, কারণ কেউ এত কিছু চিন্তা করেন না।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

06/08/2022

Radical Aceptance

সারাদিন বিরক্তিকর কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে, কেউ জীবন থেকে হারিয়ে গেলে কিংবা ভবিষ্যত বা অতিত নিয়ে অতিরিক্ত নেতিবাচক চিন্তা আসলে কিংবা রাজনৈতিক কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে খুব কষ্ট হলে Radical Aceptance খুব ভালো কাজ করে।

Radical Aceptance হল একধরনের Dialetical Behaviour therapy technique. যখন আপনার কিছুই করার থাকে না বা আপনার মতো করে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাস্তবতার সাথে লড়াই করা বাদ দিয়ে এবং আবেগপ্রবণ বা ধ্বংসাত্মক আচরণের সাথে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে বিষয়টিকে গ্রহণ করে মানসিক যন্ত্রনা কমানোই হলো Radical Aceptance

বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করার পরিবর্তে গ্রহণ করে ব্যক্তিরা দুঃখ, অসুখ, তিক্ততা, রাগ, লজ্জা, অপরাধবোধ বা অন্যান্য অবাঞ্ছিত আবেগের চক্রটি ভাঙতে সক্ষম হয়। ব্যথা গ্রহণ করার পরিবর্তে অস্বাস্থ্যকর মোকাবিলার অভ্যাস করে ব্যক্তির আবেগীয় সমস্যা বাড়ায়। Radical Acceptance থেরাপির মাধ্যমে একবার ব্যক্তিরা বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে পারলে মানসিক যন্ত্রনা অনেক কমে যায়। Radical Aceptance worksheet ব্যবহার করে এই ট্রেনিং দেয়া হয়।

এই সময় খুব বেশি অস্বস্তিকর আবেগ মোকাবেলা করতে Radical Aceptance therapy ট্রেনিং নিতে একজন বিশেষজ্ঞ সাইকোলজিষ্ট বা মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

জেনারালাইস এংজাইটি ডিসওর্ডার জেনারেলাইস এংজাইটি ডিসওর্ডার ( GAD) অত্যধিক ও অতিরঞ্জিত উদ্বেগ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। কোন ...
03/08/2022

জেনারালাইস এংজাইটি ডিসওর্ডার

জেনারেলাইস এংজাইটি ডিসওর্ডার ( GAD) অত্যধিক ও অতিরঞ্জিত উদ্বেগ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। কোন সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলি নিয়ে ব্যক্তি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এই ব্যাধির লক্ষণযুক্ত লোকেরা সর্বদা বিপর্যয়ের ভয় করেন। তারা স্বাস্থ্য, অর্থ, পরিবার, কাজ বা স্কুল সম্পর্কে উদ্বেগ বন্ধ করতে পারেন না।

লক্ষণ সমুহঃ DSM-5 অনুযায়ী নিম্নলিখিত লক্ষণ সমূহ দেখা যায়,

১) বিভিন্ন বিষয়, ঘটনা বা ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অত্যধিক উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার উপস্থিতি। দুশ্চিন্তা কমপক্ষে ছয় মাসের চেয়ে বেশি ঘটে।

২) ব্যক্তির জন্য উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা খুব চ্যালেঞ্জিং হয়। প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়েরই উদ্বেগ সহজেই একটি বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে স্থানান্তরিত হতে পারে।

৩) উদ্বেগ এবং এংজাইটির নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির মধ্যে অন্তত তিনটির থাকে (শিশুদের মধ্যে, এই লক্ষণগুলির মধ্যে শুধুমাত্র একটি GAD নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয়):

ক) অস্থিরতা

খ) সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্ত

গ) মনোযোগে সমস্যা বা অনুভূতি যেন মন ফাঁকা হয়ে যায়

ঘ) বিরক্তি (যা অন্যদের কাছে লক্ষ্যযোগ্য হতে পারে বা নাও হতে পারে)

ঙ) মাংশপেশীতে অস্বস্তি

চ) ঘুমাতে অসুবিধা (ঘুমিয়ে পড়তে বা ঘুমিয়ে থাকার সমস্যা, রাতে অস্থিরতা, বা অতৃপ্ত ঘুম)

রুগির সংখ্যাঃ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় জরিপে দেখা যায় যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪.৫% এই সমস্যায় আক্রান্ত। প্রায় ৬০ লক্ষ জনগণ এই সমস্যায় আক্রান্ত।

চিকিৎসাঃ এই রোগের মূল চিকিৎসা হলো সাইকোথেরাপি। সাইকোলিক্যাল থিউরি ও প্রিন্সিপাল অনুযায়ী চিকিৎসা। তবে রোগের পরিমাণ বেশি হলে মেডিসিন খেয়ে রোগের মাত্রা কমিয়ে সাইকোলজিক্যাল থেরাপি শুরু করতে হয়। মেডিসিন ও সাইকোলজিক্যাল থেরাপি একত্রে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুতই একজন মনোচিকিৎসক কিংবা বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন।

জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।

Address

12, South Kallayanpur, Over Shamoli Paribahan, Mirpur Road
Dhaka
1207

Telephone

+8801748787823

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কল্যাণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to কল্যাণ:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram