01/11/2025
প্রিয় Kazi Jesin আপু, ক্ষমা করবেন। আমি ধরেই নিচ্ছি শেখ হাসিনা পৃথিবীর অত্যন্ত খারাপ মানুষ এবং অত্যন্ত নির্দয় শাসক। তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি, শেখ হাসিনা তো দূরের কথা তাসনীম জারার মতো সদ্যফোটা রাজনীতিবিদের ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্যও যথেষ্ট প্রজ্ঞাবান বা যোগ্যতা সম্পন্ন নন আপনি। আপনার লেভেল ঐ চাটুকার প্রভাষ আমিন, ফারজানা রুপা, নাঈমুল ইসলাম, গোলাম মুর্তজা, শফিকুল আলম বা মাহাবুব মোর্শেদের লেভেলের। আপনার ইন্টারভিউ গুলো আমি নিয়মিত দেখি। আমার মতে এই গড়পড়তা সাংবাদিকতার লেভেল থেকে উপরে ওঠার জন্য যে অন্তর্দৃষ্টি, সাহস, যোগ্যতা আপনার থাকা প্রয়োজন আপনার সেটা নেই। হাসিনার মতো এতো বৃহৎ পার্সোনালিটির ইন্টারভিউ করার জন্য যে পরিমাণ কলিজা লাগে তা আপনার নেই। এটা শুনতে একটু খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এটা সত্য। ধৈর্য্য থাকলে বাকি লেখাটুকুও পড়ুন, ব্যাখ্যা করছি।
১. সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মীকে সবচেয়ে বেশি সাহস দেখাতে হয় তার প্রতিকূল সময়ে। তবেই না সে সাংবাদিক। উদাহরণ হিসেবে আপনি তাসলিম খলিলকে রিড করতে পারেন। আপনি হলেন অনুকূল সময়ে বিকশিত হওয়া সাংবাদিক। আওয়ামিলীগ আমলে যার কোনই ভয়েজ ছিলো না। থাকলেও তা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো না। এমন একজন দুধভাত সাংবাদিককে শেখ হাসিনার মতো বর্ষীয়ান নেতা ইন্টারভিউ দিতে যাবেন কোন দু:খে? দুনিয়ায় কি সাংবাদিকের অভাব পরেছে? ভালো হয়েছে আপনি নিজে হাসিনার ইন্টারভিউ নেওয়ার ব্যপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারন যদি আগ্রহ প্রকাশ করতেন তাহলে এক জীবনে আপনার পক্ষে তা সম্ভবপর ছিলো না। হাসিনা ইজ বিয়ন্ড ইওর ক্যাপাসিটি।
এগেইন, আমি মোটেই বলছি না যে হাসিনা ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষ। কিন্তু হাসিনা বড় মানুষ। সে এতোটাই বড় যে তাকে টাচ করা আপনার যোগ্যতার সীমা অতিক্রম করে যাবে।
আপনি মানেন আর না মানেন, খালেদ মহিউদ্দিনের সেই কলিজাটা আছে। আছে বলেই সে এই হাসটা দেখাইতে পারবেন। আপনি যে বললেন কোটি টাকা দিলেও আপনি হাসিনার ইন্টারভিউ করবেন না, সে থেকেই বোঝা যায় যে আপনার যোগ্যতা স্রেফ টাকা গোনা পর্যন্তই। এটা যে টাকার ম্যাটার নয়, সাহস ও কলিজার ম্যাটার সেটাই আপনার এন্টিনায় ধরা দেয়নি।
২. যেমন সাংবাদিকের কাজ নয় কোন রাজনৈতিক দল বা নেতাকে মহিমান্বিত করা, তেমনই সাংবাদিকের কাজ নয় কোন রাজনৈতিক নেতা বা দলকে বিদ্রুপ করা। দল মত নির্বিশেষে সাংবাদিকদের কাজ নির্মোহ ভাবে ব্যক্তি ও ঘটনাকে বিচার করে পাঠক বা দর্শকের সামনে তুলে ধরা। আপনি যখন কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্টারভিউ নিতে অস্বীকৃতি জানান তখন আপনি সাংবাদিকতার মূল এসেন্স থেকেই বিচ্যুত হয়ে পরেন।
সাংবাদিকের কাজ নয় এটা বিচার করা যে কে ভালো, কে মন্দ। তার কাজ হলো তার অন্তর্দৃষ্টিকে শানিত করা, তার প্রশ্নকে তীরের ফলার মতো তীক্ষ্ণ করা এবং সেই তীর দিয়েই দুনিয়ার সকল ক্ষমতা, অপক্ষমতাকে ছিদ্র করে সত্য বের করে আনা। ইটস নট সো ইজি। সাংবাদিকের কাজ জাজমেন্টাল হওয়াও নয়, জাজমেন্ট পাস করাও নয়। জাজমেন্ট পাস করা আদালতের কাজ। ঠিক এই কারনেই খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, "আমি কেউকে খুনি বলতে যাবো কেন? এই রায় তো আমি দেওয়ার কেউ না। এই রায় দিবেন আদালত"। খালেদ মহিউদ্দিনের যে স্থর সেটাও আপনার থেকে বহু উচ্চতায়।
৩. সাংবাদিকতার ভাষা আর রাজনীতির ভাষা এক নয়। ফ্যাসিস্ট, খুনি, মাফিয়া এগুলো রাজনীতির ভাষা। সেই রাজনীতির ভাষা থেকে কোন শব্দটিকে আপনি নির্মোহ ভাবে পিক & চুজ করতেছেন সেটাই সাংবাদিকতার পুলসিরাত। এনসিপি শেখ হাসিনার নামের আগে ফ্যাসিস্ট বসাইতে চায় এটা তার রাজনৈতিক এজেন্ডা। আওয়ামিলীগ শেখ হাসিনার নামের আগে জননেত্রী বসাইতে চায় এটা তাদের এজেন্ডা। কিন্তু সাংবাদিকের এজেন্ডা তো তা হওয়া উচিৎ নয়।
আপনি যখন রাজনৈতিক কর্মীদের মতো কারো নামের আগে;পরে এডজেক্টিভ বসিয়ে দেন তখনই বোঝা যায় সাংবাদিক হয়ে ওঠার বহু পথ আপনার বাকি। এডজেক্টিভ সংবাদকে বায়াজড করে, সাথে সাংদিককেও বায়াসড করে। এসব রাজনৈতিক এডজেক্টিভ উপেক্ষা করতে পাটাই যোগ্যতা। আপনার সেটা নাই।
৪. সাংবাদিকতার কাজ নয় আইন মেনে সাংবাদিকতা করা। খালেদ মহিউদ্দিন এটা জানে বলেই তিনি তিনি বলতে পারেন "হাসিনার ইন্টারভিউ নেওয়াটা আইনে কাভার না করলেও আমি নিতে চাই"। হাসিনার মতো এমন একজন মানুষের ইন্টারভিউ নিতে পারাটা, তাও এই সময়ে যে কোন সাংবাদিকের কেরিয়ারের জন্য মাইল ফলক। আপনি যে বললেন আপনাকে কোটি টাকা দিলেও ইন্টারভিউ নিবেন না, রূঢ় সত্য হলো আপনি কোটি টাকা দিলেও আপনার প্রডিউসার আপনাকে এই সুযোগটা দেবেন না। কারন তিনি নিশ্চয় জানেন যে হাসিনার ইন্টারভিউ নেওয়ার যোগ্য আপনি না। আপনার চ্যানেল আপনাকে এই সুযোগ দিয়ে কখনো সেই সুযোগটা মাটি করতে চাইবে না। দুনিয়ার সাংবাদিকতা যদি আইন মেনে চলতো তাহলে The Pentagon Papers, Wikileaks, Edward Snowden Leaks, Cambridge Analytica, বা বাংলাদেশের হাল আমলের নেত্র নিউজের আয়নাঘর নিউজ ব্রেক মানুষের চোখের সামনে আসতো না। বা আত্মগোপনে থাকা ওসামা বীন লাদেনের ইন্টারভিউও কোন সাংবাদিক করতো না।
মোদ্দা কথা হলো, সাংবাদিক বা উপস্থাপক হিসেবে আপনি মিডিওকার। আপনার কোন গার্টস নাই। যোগ্যতায় আপনি খালেদ মহিউদ্দিন থেকে বহু পিছে। তাই হাসিনার ইন্টারভিউ করার সুযোগকে আপনি টাকা দিয়ে মাপেন। আসলে এটা কলিজার বিষয়।
ধন্যবাদ।
সংগৃহিত