07/05/2026
হাম
তিন হাসপাতাল ঘুরে ৫ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফিরলেন মা-বাবা অতপর.... See more
সন্ধ্যার পর শহরটা অদ্ভুত নির্লিপ্ত হয়ে যায়।
অ্যাম্বুলেন্সের শব্দও তখন আর কাউকে থামায় না।
রাকিব আর মুনিয়া তখন তৃতীয় হাসপাতালের করিডোরে বসে ছিল। পাঁচ মাস বয়সী আয়াত মুনিয়ার কোলে নিশ্চুপ। ছোট্ট শরীরটা এতটাই হালকা লাগছিল, যেন ঘুমিয়ে আছে। তবু মায়ের বুক কাঁপছিল বারবার।
প্রথম হাসপাতালে বলা হয়েছিল,
“আইসিইউ বেড নেই।”
দ্বিতীয় হাসপাতালে ডাক্তার এসেছিলেন দেরিতে। একজন নার্স শুধু বলেছিল,
“ঢাকায় নিয়ে যান, অবস্থা ভালো না।”
তৃতীয় হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় শেষ। বৃষ্টির শব্দ পড়ছিল জানালার কাঁচে। একজন তরুণ ডাক্তার শিশুটার বুক শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর খুব নিচু গলায় বললেন,
“আমরা দুঃখিত...”
শব্দটা শুনেই মুনিয়া প্রথমে বুঝতে পারেনি।
সে শুধু শিশুটার হাতটা চেপে ধরে বলেছিল,
“ডাক্তার সাহেব, একটু অক্সিজেন দেন... ও ঠিক হয়ে যাবে...”
কেউ উত্তর দেয়নি।
ভোরে তারা হাসপাতাল থেকে বের হলো।
রাকিবের হাতে একটা কাগজ, আর মুনিয়ার কোলে সাদা কাপড়ে মোড়ানো আয়াত।
রাস্তার মানুষ তখন অফিসে যাচ্ছে। চায়ের দোকানে ভিড়। রিকশার ঘণ্টা বাজছে। পৃথিবী থেমে নেই কোথাও। অথচ দুইজন মানুষের কাছে মনে হচ্ছিল, সব শব্দ হঠাৎ দূরে চলে গেছে।
বাড়িতে পৌঁছে মুনিয়া শিশুটার ছোট জামাগুলো বুকের কাছে টেনে নিল।
দুধের বোতলটা এখনো টেবিলে রাখা। বিছানার পাশে রঙিন একটা ঝুনঝুনি পড়ে আছে।
হঠাৎ সে রাকিবকে বলল,
“জানো, ও কাল রাতে একবার তাকাইছিল আমার দিকে... যেন কিছু বলতে চাইছিল...”
রাকিব কোনো কথা বলতে পারল না।
পুরুষ মানুষ কাঁদে না, এই কথাটা সমাজ তাকে বহুবার শিখিয়েছে। তবু সেদিন ফজরের আজানের ভেতর তার চোখ বেয়ে পানি নেমে এলো নিঃশব্দে।
কয়েকদিন পর মানুষ সব ভুলে গেল।
পাড়া আবার স্বাভাবিক হলো।
কিন্তু মুনিয়া মাঝে মাঝে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠে বসে থাকে। মনে হয় পাশের ঘর থেকে আয়াত কাঁদছে।
রাকিব এখন হাসপাতালের সামনে কোনো গরিব মানুষকে শিশু কোলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে থেমে যায়। নিজের সামর্থ্য মতো সাহায্য করে। কারণ সে জানে, একটি “বেড নেই” কখনো কখনো একটি পুরো পৃথিবীকে থামিয়ে দিতে পারে।
আর আয়াত?
সে হয়তো এখন এমন এক আকাশে ঘুমিয়ে আছে,
যেখানে কোনো হাসপাতালের দরজা বন্ধ হয় না।
কম্পনা প্রসুতো ছোট গল্প কারও সাথে মিলে গেলে কো ইন্সিডেন্ট ই ভেবে নিতে হবে।