11/02/2026
১১ ফেব্রুয়ারি: সড়ক হত্যা দিবস
সড়কে হত্যা বন্ধ হোক
১১ ফেব্রুয়ারি দেশে পালিত হয় ‘সড়ক হত্যা দিবস’। সড়কে প্রাণহানি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বহু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা, বেপরোয়া গতি, আইন অমান্য এবং দায়িত্বহীনতার নির্মম ফল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন সড়কে যে প্রাণহানি ঘটছে, তা অনেক সময় নিছক দুর্ঘটনা নয়; বরং প্রতিরোধযোগ্য একেকটি মৃত্যু। একটি পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারায়, কোনো মা হারান তার সন্তানকে, কোনো শিশু হারায় তার অভিভাবককে। এই শোকের ভার শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়—২০২৫ সালজুড়ে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন; আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৮৩ জন। ছোট যানবাহনের দ্রুত বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণহীন চালক ও নিয়ন্ত্রণহীন গতি মহাসড়ককে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
এর সঙ্গে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। নিয়ন্ত্রণ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রশিক্ষিত চালক ও যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ যান দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে। নগর ও মহাসড়কে একই সঙ্গে ভারী ও হালকা যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর আইন মেনে চলা নাগরিকের কর্তব্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, অনভিজ্ঞ চালক, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামোর অভাব মিলেই সড়ককে করে তুলছে অনিরাপদ। জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ বা ট্রাফিক সিগন্যাল থাকলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও প্রয়োগ নিশ্চিত না হওয়ায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সড়ক হত্যা দিবস কেবল শোক প্রকাশের দিন নয়, বরং জবাবদিহিতা ও প্রতিজ্ঞার দিন। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, কঠোর আইন প্রয়োগ, চালকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থায় সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জরুরি।
Safety Management Foundation মনে করে, সচেতনতা কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ককে নিরাপদ করা সম্ভব। একটি প্রাণও অমূল্য—এই বোধ থেকেই আমাদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি সড়ক হত্যা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা একটাই—সড়ক আর কোনো মৃত্যুফাঁদ হবে না, সড়কে হত্যা বন্ধ হোক, নিরাপদ হোক সবার চলাচল।
্যা_দিবস