Institute of Modern Psychology and Research, Bangladesh

Institute of Modern Psychology and Research, Bangladesh Research based Mental Health Care Organization ☑️

বিনামূল্যে কীভাবে পেইড রিসার্চ পেপার ডাউনলোড করবেন?নিয়মিত গবেষণাপত্র পড়া একজন গবেষকের প্রতিদিনের গবেষণা কার্যক্রমের একটি...
26/11/2025

বিনামূল্যে কীভাবে পেইড রিসার্চ পেপার ডাউনলোড করবেন?

নিয়মিত গবেষণাপত্র পড়া একজন গবেষকের প্রতিদিনের গবেষণা কার্যক্রমের একটি অংশ। তবে অনেক জার্নালের আর্টিকেল সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক হওয়ায় সেগুলো সরাসরি পড়তে বা ডাউনলোড করতে গেলে অনেক সময় টাকা খরচ করতে হয়। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের গবেষকদের জন্য এই খরচ বহন করা খুব কঠিন। তাহলে কীভাবে পেইড আর্টিকেলগুলো (Subscription) বিনামূল্যে ডাউনলোড করা সম্ভব?

কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে এই পেইড আর্টিকেলগুলো কোনো টাকা খরচ ছাড়াই ডাউনলোড করা সম্ভব।

𝐈𝐧𝐬𝐭𝐢𝐭𝐮𝐭𝐢𝐨𝐧𝐚𝐥 𝐀𝐜𝐜𝐞𝐬𝐬

Institutional Access-এর মাধ্যমে বিভিন্ন জার্নাল ডাটাবেস ব্যবহার করে পেইড গবেষণাপত্র বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। এজন্য নিজের বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ওয়েবসাইটে গিয়ে E-resources বা Online Database অংশে প্রবেশ করে ScienceDirect, Springer, Wiley, Taylor & Francis, JSTOR, IEEE Xplore ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় আর্টিকেল সার্চ করলেই সাধারণত “Full-text access” বা “Download PDF” অপশন দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

𝐑𝐞𝐬𝐞𝐚𝐫𝐜𝐡𝐆𝐚𝐭𝐞

পেইড আর্টিকেল পাওয়ার আরেকটি সহজ উপায় হলো ResearchGate ব্যবহার করা। প্রায় সব প্রকাশিত আর্টিকেলই এই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। আপনার প্রয়োজনীয় আর্টিকেলটি খুঁজতে ResearchGate-এ গিয়ে টাইটেল বা লেখকের নাম দিয়ে সার্চ করুন। যদি আর্টিকেলটি সেখানে পাওয়া যায়, তাহলে “Request full-text” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন। এই অপশনে ক্লিক করলে ResearchGate স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখকের কাছে মেসেজ পাঠানোর জন্য একটি ড্রাফট তৈরি করে। আপনাকে শুধু Send বাটনে ক্লিক করতে হবে। বেশিরভাগ সময়ে লেখকরা এই অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় আপনার ResearchGate এর প্রোফাইলে এবং ইমেইলে আর্টিকেলের PDF কপি পাঠিয়ে দেন। যদি কোনো লেখক সাড়া না দেন, তাহলে আর্টিকেলের মধ্যে থাকা corresponding author-এর ইমেইল ঠিকানা খুঁজে নিয়ে ভদ্রভাবে একটি মেইল পাঠান। মেইলে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে কেন আপনি সেই আর্টিকেলটি চান এবং গবেষণায় এর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাহায্য করেন।

𝐒𝐜*𝐢-*𝐇𝐮*𝐛

Sc*i-*H*ub আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম বিত*র্কিত প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক পেইড আর্টিকেলগুলো বিনামূল্যে অ্যাক্সেস করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। Sc*i-Hu*b ওয়েবসাইটে ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকাশিত অধিকাংশ গবেষণাপত্র বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। তবে Sc*i-*Hu*b-এর ডোমেইন বিভিন্ন সময়ে পাবলিশারদের আইনি চাপের কারণে পরিবর্তন করা হয়। ফলে এটি নির্দিষ্ট কোনো একটি ডোমেইনে স্থায়ী থাকে না। বর্তমানে সচল এবং ব্যবহৃত ডোমেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে: sc*i-*hu*b (.*st, .*se, .*ren, .*do, .*ee, .*ru, .*live, .*wf, .*shop, .*box) ইত্যাদি। প্রথমে আপনি যে গবেষণাপত্রটি ডাউনলোড করতে চান তার DOI (Digital Object Identifier) নম্বর বা পুরো টাইটেল কপি করুন। এরপর ব্রাউজারে গিয়ে Sc*i-*Hu*b-এর কার্যকর ডোমেইন ঠিকানায় প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটে গেলে একটি সার্চ বক্স দেখতে পাওয়া যাবে, সেখানে আপনার কপি করা DOI বা টাইটেলটি পেস্ট করুন। তারপর “Open” বা সার্চ বাটনে ক্লিক করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত আর্টিকেলটি স্ক্রিনে চলে আসবে। এখান থেকে আপনি সহজেই PDF ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, Sc*i-*H*ub-এর মাধ্যমে সদ্য প্রকাশিত (২০২০ সালের পর) অনেক আর্টিকেল পাওয়া যায় না। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্টিকেল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে Sc*i-*Net (sc*i-net[dot]xyz) ব্যবহার করা যেতে পারে। Sci*DB-কেও Sc*i-*H*ub এর সম্প্রসারণ হিসেবে ধরা হয় এবং এটি তুলনামূলক সাম্প্রতিক পেপার ডাউনলোডে সাহায্য করে। Sc*i-*H*ub ব্যবহার করে পেইড কনটেন্ট ডাউনলোড করা অনেক দেশে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। তাই এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকা জরুরি।

𝐒𝐜𝐢*𝐞𝐧𝐜𝐞 𝐇*𝐮𝐛 𝐌𝐮*𝐭𝐮𝐚𝐥 𝐀𝐢*𝐝 𝐂𝐨𝐦*𝐦𝐮𝐧𝐢𝐭𝐲

সম্প্রতি প্রকাশিত আর্টিকেল কিংবা এমন কিছু আর্টিকেল আছে যেগুলো কোনো কৌশল অবলম্বন করেই ডাউনলোড করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে Scie*nce H*ub Mu*tual Ai*d Com*munity (www. wos*onhj*. com) হতে পারে আরেকটি কার্যকর বিকল্প। এই কমিউনিটি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সদস্যরা একে অপরকে পেইড আর্টিকেল ডেলিভারি করে সহযোগিতা করে। ব্যবহারকারী হিসেবে প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খুলতে হবে এবং প্রতিদিন কমপক্ষে একবার লগইন করে কিছু পয়েন্ট সংগ্রহ করতে হবে। এই পয়েন্টই হলো আপনার মুদ্রা, যার মাধ্যমে আপনি “Post” অপশনে গিয়ে যেকোনো আর্টিকেলের DOI নম্বর লিখে “Quick Search” দিতে পারবেন। যদি সেই আর্টিকেল সিস্টেমে থেকে থাকে, তাহলে “New Reward” অপশনে ক্লিক করার পর সাধারণত ৪-৫ মিনিটের মধ্যে আপনার প্রোফাইলের Content অপশনের My Posts এ এবং ইমেইলে ঐ আর্টিকেলটি চলে আসবে। ব্যবহারকারীরা সাধারণত অত্যন্ত সক্রিয় এবং গবেষণার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় এই প্ল্যাটফর্মে সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

𝐀𝐜𝐜𝐞𝐬𝐬 𝐭𝐨 𝐑𝐞𝐬𝐞𝐚𝐫𝐜𝐡

Access to Research যুক্তরাজ্যের একটি বিনামূল্যে রিসার্চ আর্টিকেল অ্যাক্সেস পরিষেবা। এখানে আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন আর্টিকেল পাওয়া যায়। এখানে কোনো সাবস্ক্রিপশন বা পেমেন্ট ছাড়াই আর্টিকেল পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত পাবলিক লাইব্রেরির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারকারী কেবল ওয়েবসাইটের সার্চ সেকশনে টাইটেল, কীওয়ার্ড বা লেখকের নাম লিখে সার্চ করলে সংশ্লিষ্ট আর্টিকেল পাওয়া যায়। তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সব জার্নাল এই প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ঘরে বসে সরাসরি ডাউনলোড বা অ্যাক্সেস করা সাধারণত সম্ভব নয়। তাই যদি কোনো প্রয়োজনীয় আর্টিকেল খুঁজে না পান, অথবা নিজে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার সুযোগ না থাকে, তাহলে পরিচিত কেউ UK-তে থাকলে তাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তারা স্থানীয় লাইব্রেরিতে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় আর্টিকেল সার্চ করে সংগ্রহ করতে পারেন।

--------------

Azizul Haque
সহকারী অধ্যাপক
Yeungnam University, দক্ষিণ কোরিয়া

ফটোকার্ড কালেক্টেড ফ্রম ওপেন এক্সেস বাংলাদেশ থেকে।

প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ: চিন্তা এবং প্রভাব (Parasocial relationship: thoughts and effects)📌প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ কি?  ...
23/10/2025

প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ: চিন্তা এবং প্রভাব (Parasocial relationship: thoughts and effects)

📌প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ কি?
মিলি Bollywood এর অভিনেতা এর গান অনেক পছন্দ করে এবং সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিনেতা এর ভিডিও দেখে, এমনকি বাস্তবে মিলি তাকে কোনোদিন না দেখলেও মনে মনে ভাবে যে সেই অভিনেতা তার খুবই ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু। মিলির এরূপ আচরণকে প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ বলা হয়।

📌সহজ ভাষায় বললে, "প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ" হলো একমুখী গভীর সম্পর্ক যা ব্যক্তি তার পছন্দের পাবলিক ফিগারের সাথে তৈরি করে, যেমন: সেলিব্রিটি, টক শো হোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, কাল্পনিক চরিত্র ইত্যাদি। এই ধরনের রিলেশনশিপে ব্যক্তির সাথে তার পছন্দের সেলিব্রিটি বা ক্যারেক্টারের সরাসরি যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও একধরনের ঘনিষ্ঠভার বিভ্রম তৈরি হয়ে থাকে, যার জন্য ব্যক্তি তাকে নিজের বন্ধু বা আপন কেউ হিসাবে বিবেচনা করে। বর্তমানে মিডিয়া এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের ব্যাপকতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

📌প্রকারভেদ :
প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। যেমন:
১. বিনোদন - সামাজিক প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ:
বিনোদন-সামাজিক প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ হল যখন ব্যক্তি কোনো সেলিব্রিটির ভক্ত হন এবং অন্যদের সাথে তাকে নিয়ে গল্প করতে পছন্দ করেন।

২. তীব্র-ব্যক্তিগত প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ:
তীব্র-ব্যক্তিগত প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে সেলিব্রিটির সাথে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক আছে।

৩. বর্ডারলাইন-প্যাথলজিকাল প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ
এ ধরনের প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপে ব্যক্তির মধ্যে সেলিব্রিটি নিয়ে ফ্যান্টাসি তৈরি হয় যা সে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

📌কারণ:
প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের পিছনে মূল কারণ হলো ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে সেলিব্রিটিদের ক্রমাগত উপস্থিতি বা নিজেদের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশ। যার জন্য ভক্তরা তাদের সৌন্দর্য, মনোভাব বা প্রতিভা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের একটি পরিচিত সত্তা হিসাবে উপলব্ধি করে, যা থেকে প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের উদ্ভব ঘটে। এছাড়া প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ তৈরি হবার পিছনে অন্যান্য কারণ হলো বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে না পারা, সোশ্যাল এনজাইটি থাকা, একাকিত্বতা ইত্যাদি।

📌প্রভাব:
প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপের যেমন কিছু ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।

ইতিবাচক প্রভাব:
১/ প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ কুসংস্কার কমানো ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
২/ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুল ধারণা কমাতে ভূমিকা রাখে। ৩/ প্রতিভাবান বা সফল ব্যক্তির সাথে একটি কাল্পনিক সংযোগ ঘটানোর মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভাল ধারণা তৈরি হয়।
৪/ যারা বাস্তব জীবনে কোনো কারণে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না তাদের ক্ষেত্রে প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ একাকিত্ব বোধ হ্রাস করে।

নেতিবাচক প্রভাব :
১/ সেলিব্রিটির প্রতি অবসেশনের জন্য বাস্তব জীবনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব, অসন্তোষ এবং অন্যান্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
২/ নিজেকে ক্রমাগত সেলিব্রিটিদের সাথে তুলনার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
৩/ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রতি আসক্তি এবং নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।
৪/ ব্যক্তি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
৫/ উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, ইটিং ডিজঅর্ডারসহ অন্যান্য মানসিক রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

👉 References:

1. https://www.webmd.com/sex relationships/parasocial relationships-risks-and-benefits
2. "What Are Parasocial Relationships and Are They Healthy?" https://www.everydayhealth.com/emotional-health/what-are-parasocial-relationships-and-are-they-healthy/

[ Picture Collected form Internet ]

Fatema Akter
Former Volunteer of Bondhu.

পোস্ট ৪৭
পূর্বের পোস্টঃ https://www.facebook.com/share/p/1Hv617fV1x/

📌ট্রানজেকশনাল এনালাইসিস কি?ট্রানজেকশনাল এনালাইসিস বা Transactional Analysis (TA) হল একটি মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব এবং থেরাপি...
04/04/2024

📌ট্রানজেকশনাল এনালাইসিস কি?

ট্রানজেকশনাল এনালাইসিস বা Transactional Analysis (TA) হল একটি মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব এবং থেরাপিউটিক পদ্ধতি যা 1950 এর দশকে এরিক বার্ন দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। এটি মানুষের আচরণ, যোগাযোগ এবং সম্পর্ক বোঝার লক্ষ্য। এটির মাধ্যমে দেখা যায় ব্যক্তিদের তিনটি অহং অবস্থা রয়েছে - পিতামাতা, প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু - যা তাদের মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

পিতামাতার অবস্থা:
কর্তৃপক্ষের থেকে শেখা আচরণ, মূল্যবোধ এবং মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে। লালনপালন (ইতিবাচক) এবং সমালোচনামূলক (নেতিবাচক) দিকগুলিতে বিভক্ত। ব্যক্তিরা তাদের জীবনে পিতামাতার পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তা প্রভাবিত করে।

প্রাপ্তবয়স্কদের অবস্থা:
আবেগগত পক্ষপাত ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ জড়িত। বর্তমান বাস্তবতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করে।

শিশুর অবস্থা:
শৈশবকালে শেখা আবেগ, অনুভূতি এবং আচরণগুলিকে প্রতিফলিত করে।

ফ্রি চাইল্ড (স্বতঃস্ফূর্ত, সৃজনশীল) এবং অভিযোজিত শিশু (অনুশীলিত, মানানসই) এ বিভক্ত। শৈশব অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রভাবিত প্রতিক্রিয়া আকার

TA এর মূল ধারণা:

লেনদেন: ব্যক্তিদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া মৌখিক এবং অ-মৌখিক সংকেতের বিনিময় জড়িত। ইতিবাচক লেনদেন যোগাযোগ বাড়ায়, অন্যদিকে নেতিবাচক লেনদেন দ্বন্দ্বের কারণ হতে পারে।

লাইফ পজিশন: ব্যক্তিরা জীবনের মৌলিক অবস্থানগুলি বিকাশ করে- "আমি ঠিক আছি, আপনি ঠিক আছেন" (স্বাস্থ্য), "আমি ঠিক আছি, আপনি ঠিক নেই" (বিচারমূলক), "আমি ঠিক নেই, আপনি ঠিক আছেন ঠিক আছে" (আত্ম-সমালোচনামূলক), এবং "আমি ঠিক নেই, আপনি ঠিক নন" (নিরাশা)।

গেমস: আচরণের অসচেতন ধরণ ব্যক্তিরা লুকানো অর্থ অর্জনের জন্য নিযুক্ত হন। এই গেমগুলি সনাক্ত করা এবং বোঝা ব্যক্তিগত বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাইকোথেরাপি: TA ব্যাপকভাবে কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপিতে ব্যবহৃত হয় যাতে ব্যক্তিদের তাদের যোগাযোগ এবং আচরণের ধরণগুলি অন্বেষণ এবং সংশোধন করতে সহায়তা করে।

শিক্ষা: শিক্ষকরা ছাত্র-শিক্ষকের গতিশীলতা বুঝতে এবং একটি ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে TA নীতিগুলি ব্যবহার করেন।

সাংগঠনিক উন্নয়ন: যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং দলের গতিশীলতা উন্নত করতে কর্মক্ষেত্রে TA প্রয়োগ করা হয়।

TA এর সুবিধা:

স্ব-সচেতনতা: TA ব্যক্তিদের তাদের নিজস্ব আচরণের ধরণ গুলি চিনতে এবং বুঝতে সাহায্য করে।

উন্নত যোগাযোগ: স্পষ্ট এবং কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

দ্বন্দ্ব সমাধান: গঠনমূলক পদ্ধতিতে দ্বন্দ্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি মোকাবেলার জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

📑 TA-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহঃ
১. স্টোরিজ
২. স্ক্রিপ্ট অফ লাইফ
৩. লাইফ পজিশন
৪. অটোনমি
৫. টাইম স্ট্রাকচারিং
৬. ফাংশনাল মডেল অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল এনালাইসিস অফ ইগো স্টেট
৭. ইগোগ্রাম ও
৮. লাইফ স্ক্রিপ্ট

ট্রানজেকশনাল এনালাইসিস মানুষের মিথস্ক্রিয়া, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, উন্নত সম্পর্ক এবং কার্যকর যোগাযোগের জন্য মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এর নীতিগুলি বিভিন্ন ডোমেনে প্রযোজ্য, ব্যক্তি এবং সম্মিলিত বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

পোস্টঃ ৪৬

পূর্বের পোস্টঃ https://www.facebook.com/share/p/uBHMMMX4qTBuRdCu/?mibextid=Nif5oz

সিবিটি (CBT) কী?🔶🔶🔶🔶🔶🔶সিবিটি হলো এক ধরনের টকিং থেরাপি। টকিং থেরাপিগুলো সাইকোথেরাপি নামেও পরিচিত। সাইকোথেরাপি ও মনস্তাত্ত...
04/04/2024

সিবিটি (CBT) কী?
🔶🔶🔶🔶🔶🔶

সিবিটি হলো এক ধরনের টকিং থেরাপি। টকিং থেরাপিগুলো সাইকোথেরাপি নামেও পরিচিত। সাইকোথেরাপি ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যসংবলিত আমাদের পেইজটি থেকে আপনি এ সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।

বিভিন্ন দৈনন্দিন পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে চিন্তাভাবনা করবেন এবং আপনার ওপর নানা বিষয়ের কেমন প্রতিক্রিয়া হবে সেই বিষয়ক উপকারী কিছু পদ্ধতি শিখতে সিবিটি আপনাকে সাহায্য করবে। চিন্তাভাবনা ও কাজকর্মের ধরনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে অনেক সময় মানসিক অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হয়।

অন্যান্য কিছু টকিং থেরাপির চেয়ে সিবিটি একটু আলাদা, কারণ এতে অতীতের অভিজ্ঞতার পরিবর্তে বর্তমানের প্রতিবন্ধকতাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হচ্ছে আপনাকে নিজের চিন্তা, কাজ ও অনুভূতির মধ্যকার সম্পর্ক খুঁজে বের করার উপায় শেখানোর মাধ্যমে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি করা।

সিবিটি চলাকালে আপনার থেরাপিস্টের সহায়তায় আপনি সমস্যা সমাধানের নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করবেন এবং যাকিছু পরিবর্তন করতে চান সেসব বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। সিবিটি ফলপ্রসূ হলে তখন নিজের জীবন যে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে তা উপলব্ধি করা সহজ হয়।

সিবিটি থেকে কারা উপকৃত হতে পারেন?
🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵

অনেক মানসিক রোগের ক্ষেত্রেই সিবিটি ব্যবহারে সুফল পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ক] মানসিক অবসাদ যেমনঃ উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অমূলক ভয়-অ্যাগোরাফোবিয়া (এমন কোনো পরিস্থিতিতে আটকা পড়ার ভয় যেখান থেকে পালানোর কিংবা যেখানে সাহায্য পাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না), সামাজিক উদ্বেগ (সামাজিক পরিস্থিতিকে ভয় করা) ও স্বাস্থ্যজনিত উদ্বেগও (অসুস্থ থাকার কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়) এসবের অন্তর্ভুক্ত, খাদ্যগ্রহণে অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি।

খ] অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি)
পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)
বাইপোলার ডিজঅর্ডার এবং সাইকোসিস (স্কিৎজোফ্রেনিয়াসহ)।

অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও সিবিটি কাজে আসতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১> ভাল ঘুম না হওয়া
২> মানসিক চাপ
৩> ক্রোধ
৪> আত্মবিশ্বাসের অভাব ও
৫> ব্যথা ও অত্যধিক ক্লান্তির মতো শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা।

সিবিটির মাধ্যমে যেকোনো বয়সের মানুষই উপকৃত হতে পারে, এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও।

সিবিটি চলাকালে সেটির পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্য ওষুধ খাওয়ার দরকার হলে তাও করা যায়। তবে তা আপনার সমস্যা, ডাক্তারের মতামত ও আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করবে।

মদ্যপান, মাদক কিংবা ঔষধে আসক্তিসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সিবিটি শুরু করার আগে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করার ব্যবস্থা করা উচিত। এর কারণ হচ্ছে, অত্যধিক মদ্যপান, ঔষধ সেবন বা মাদক গ্রহণ করা হলে সেক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার বেশি কার্যকর উপায় শেখা ও মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ডিমেনশিয়াসহ স্মৃতিশক্তির তীব্র সমস্যায় ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে সিবিটিতে ফললাভ হতে দেখা যায়নি। সিবিটির গুরুত্বপূ্র্ণ একটি অংশ হচ্ছে নতুন দক্ষতা অর্জন করা, কিন্তু পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নতুন কোনো উপায় মনে রাখা কিংবা চর্চা করাই যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেসব দক্ষতা অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সিবিটি কতটা কার্যকর?
🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্সের (NICE) মতে বেশ কয়েকটি সমস্যার ক্ষেত্রে সিবিটি-ই সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা।

উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ - যেসব রোগের ক্ষেত্রে সমস্যার মূলে থাকে উদ্বেগ (যেমন জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার কিংবা প্যানিক ডিজঅডর্ডার) অথবা মানসিক অবসাদ সেসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতিগুলোর একটি হচ্ছে সিবিটি।
ফোবিয়া ও ওসিডি - ফোবিয়া এবং ওসিডির সবচেয়ে কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা হল সিবিটি।

দেখা গেছে সিবিটি শুরু করার পর চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের চার ভাগের প্রায় এক ভাগই চিকিৎসা বাদ দিয়ে দেয়। সেবাগ্রহীতা যদি মানসিক অবসাদগ্রস্ততায় ভোগে কিংবা থেরাপিস্টের উপস্থিতিতে সামনাসামনি যদি সিবিটি করা না হয় তাহলে শুরুর দিকে এভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

ওষুধের তুলনায় সিবিটি কতটা কম/বেশি কার্যকর?
▪️▪️▪️▪️▪▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️

বিভিন্ন প্রকারের মানসিক অবসাদের চিকিৎসায় সিবিটি-তে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মতোই কাজ হয়। উদ্বেগের চিকিৎসায় এতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের চেয়ে সামান্য বেশি ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। ওষুধের চেয়ে সিবিটির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর এটি প্রয়োগ করা হলে রোগীর পক্ষে ভবিষ্যতেও ভাল থাকা সহজ হয়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তীব্র হলে সেক্ষেত্রে শুধু ওষুধ কিংবা শুধু সিবিটি-র পরিবর্তে ওষুধের পাশাপাশি সিবিটি করা হলে তাতে বেশি উপকার হতে পারে।

সিবিটি কিভাবে করা হয়?
🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾

সিবিটির ‘C’ দিয়ে বোঝায় ‘কগনিটিভ’ অর্থাৎ ‘জ্ঞানীয়’ (আপনি যা ভাববেন) – মনে কখন নেতিবাচক চিন্তাভাবনা চলছে তা ধরতে পারার পদ্ধতি আপনি সিবিটির মাধ্যমে শিখতে পারবেন। এই চিকিৎসায় নেতিবাচক এবং নিরর্থক বা অহিতকর ভাবনাকে আপনি চ্যালেঞ্জ করতে থাকবেন। এসব ভাবনার উদাহরণ হল:

‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ কিংবা
‘সবকিছু গুলিয়ে যাবে’।
আপনি এগুলোর পরিবর্তে মনে আরও কার্যকর ও বাস্তব ভাবনার উদ্রেক করার চেষ্টা করবেন। যেমন:

‘একথা যে সত্য তার প্রমাণ কী?’
‘এই বিষয় নিয়ে অন্য আর কোন আঙ্গিকে ভাবা যেতে পারে?’ কিংবা
‘আমার অবস্থায় কোনো বন্ধু পড়লে তাকে আমি কী উপদেশ দিতাম?’

সিবিটির ‘B’ দিয়ে বোঝায় ‘বিহেভিয়ার’ অর্থাৎ ‘আচরণ’ (আপনি যা করবেন) – আপনি যা-ই করেন এবং তা যেভাবে করেন তা-ই হল আপনার আচরণ। যেসব বিষয় আপনি এড়িয়ে চলেছেন কিংবা যেসব বিষয় নিয়ে আপনার মনে ভয় রয়েছে সেসব সমস্যার সমাধান সিবিটির মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে। সিবিটি চলাকালে আপনার প্রতিদিনকার কাজকর্ম আপনি ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারবেন এবং যেসব কাজ করতে ভয় পান সেগুলো করে দেখার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবেন। নিজের লক্ষ্য ও কাজকর্ম সম্পর্কে লিখে রাখলে, কাজ করে তাতে সফলতা প্রাপ্তির ফলে আপনার মনে তৃপ্তি আসবে এবং আপনার পক্ষে নিজের অগ্রগতির হিসাব রাখাও সুবিধা হবে।

সিবিটির ‘T’ দিয়ে বোঝায় ‘থেরাপি’ অর্থাৎ ‘চিকিৎসা’ (আপনি যা শিখবেন) – সিবিটির মাধ্যমে আপনি এমন সব নতুন দক্ষতা শিখতে পারবেন যেগুলো পরবর্তীতে ‘বাড়ির কাজ’ হিসাবে করা যাবে। সিবিটি শেষে আপনি এসবের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারবেন, যার ফলে ভবিষ্যতে ভাল থাকার উপায় আপনার হাতের নাগালেই থাকবে।

সিবিটি কিভাবে করা হয়?
⏭️⏭️⏭️⏭️⏭️⏭️⏭️⏭️

প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টরা সিবিটি করে থাকেন। বিভিন্ন উপায়ে সিবিটি পাওয়া সম্ভব:

☑️ সামনাসামনি করা সিবিটি
এটি একক সেশনেও করা যেতে পারে, আবার দলগতভাবেও করা যেতে পারে। সামনাসামনি করা সিবিটিকে সাধারণত এই চিকিৎসাপদ্ধতিটির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে গণ্য করা হয়।

☑️ ডিজিটাল সিবিটি (অনলাইন বা ‘ই-সিবিটি’)
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও কল কিংবা টাইপ করে চ্যাট করার মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে ডিজিটাল সিবিটি কাজে আসে:

সরাসরি সাক্ষাত করা সম্ভব না হলে, যেমন: শারীরিক অসুস্থতার জন্য আপনার ওপর যদি কাউকে দেখাশোনা করার এমন কোনো দায়িত্ব থাকে যার কারণে কোথাও একা যাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না হয়, কিংবা যেখানে সামনাসামনি সিবিটি করা হয় সেখানে যদি আপনার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না হয়।
ডিজিটাল সিবিটির কার্যকারিতাও সামনাসামনি করা সিবিটির সমান হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য দেখা যায় এবং কার্যকারিতার পরিমাণ সিবিটি গ্রহণকারী ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।

☑️ সেলফ-হেল্প সিবিটি
সেলফ-হেল্প সিবিটি-র ক্ষেত্রে আপনাকে বই অথবা অনলাইন কোনো কর্মসূচি কিংবা অ্যাপের সহায়তা নিতে হবে। যেহেতু নিজে নিজে করবেন সেহেতু এক্ষেত্রে বাড়ির কাজ করা ও সিবিটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আপনার মধ্যে অনুপ্রেরণা থাকতে হবে। সেলফ-হেল্প সিবিটি চলাকালীন পেশাদার কারো কাছ থেকে সহায়তা পেলে সেটি আরও ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। একে ‘গাইডেড সেলফ-হেল্প’ বলে এবং এটি ফোনে, ইমেইলে কিংবা অনলাইনে করা যায়।

সূত্রঃ রয়েল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্ট থেকে নেয়া ও কিছুটা সংক্ষেপিত।

পোস্টঃ ৪৫

পূর্বের পোস্টঃ https://www.facebook.com/share/v/bidpnuwpYxfjYLy7/?mibextid=oFDknk

06/02/2024

বেশিরভাগ মানুষ জীবনে চলার পথে উদ্বিগ্নতা অনুভব করেন। চাপমুলক ঘটনা বা পরিস্থিতিতে আংজাইটি অনুভব করা ব্যক্তির জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই উদ্বিগ্নতাগুলি যখন অনেক বেশী সময় আপনার জীবনে প্রভাব ফেলে তখন আপনি উদ্বিগ্নতা রোগে আক্রান্ত।

উদ্বিগ্নতা বা এংজাইটির সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা জানতে ভিডিওটা দেখুন। - Jianur Kabir স্যার।

ক্রেডিটঃ বাংলাভিশন

পোস্টঃ ৪৪

পূর্বের পোস্টঃ https://www.facebook.com/share/p/1a79kKP1HtqBg4fC/?mibextid=9R9pXO

ডায়ালটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (ডিবিটি) হল একটি পরিবর্তিত ধরনের কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে ডাঃ...
17/01/2024

ডায়ালটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (ডিবিটি) হল একটি পরিবর্তিত ধরনের কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে ডাঃ মার্শা লাইনহান এবং সহকর্মীরা ডিবিটি তৈরি করেছিলেন। তারা ক্লিনিক্যাল প্রাক্টিসে দেখেন যে, শুধুমাত্র কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি বোডারলাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার ক্লাইন্টের ক্ষেত্রে আশানুরূপ কাজ করে না। অনেকেই আবেগীয় সমস্যায় ভুগেন। এই আবেগগুলো যখন অপ্রতিরোধ্য হয়, তখন মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর আচরণ করেন।

ডায়ালটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (ডিবিটি) মানুষকে অপ্রতিরোধ্য আবেগ পরিচালনা করতে সাহায্য করার জন্য একটি অসাধারণ কার্যকর পদ্ধতি। অনেক মানুষ অনিয়ন্ত্রিত আবেগের সাথে সংগ্রাম করে, যখন তারা রেগে যায়, দু:খ পায় বা কষ্ট পায় তখন তাদের আচরণে বিশৃংলা দেখা যায়। গবেষণা দেখা যায় যে একজন মানুষ তীব্র মানসিক চাপের কারনে নিজের আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যখন ধ্বংসাত্মক কাজ করতে চায় তখন ডায়ালটিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (ডিবিটি) সেই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ হারানো আবেগকে রেগুলেশন করে এবং ধ্বংসাত্মকভাবে আচরণ না করে তার তীব্র মানসিক চাপ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

এই থেরাপিটি বোডারলাইন পাসোর্নালিটি ডিজঅর্ডারের রুগীদের জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমানে নিম্নোক্ত সমস্যার ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজ করে:
• Attention-deficit/hyperactivity disorder (ADHD)
• Bipolar disorder
• Borderline personality disorder (BPD)
• Eating disorders (such as anorexia nervosa, binge eating disorder, and bulimia nervosa)
• Generalized anxiety disorder (GAD)
• Major depressive disorder (including treatment-resistant major depression and chronic depression)
• Non-suicidal self-injury
• Obsessive-compulsive disorder (OCD)
• Post-traumatic stress disorder (PTSD)
• Substance use disorder
• Suicidal behavior

এই থেরাপির চারটি স্কিল আছে। এই স্কিলগুলো সংক্ষেপে নিচে দেয়া হলো:

১. Mindfulness Skills: অতীতের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা বা ভবিষ্যতে ভীতিকর সম্ভাবনার উপর কম মনোযোগ দেওয়ার সময় মাইন্ডফুলনেন্স আপনাকে বর্তমান মুহূর্তটিকে আরও সম্পূর্ণরূপে অনুভব করতে সহায়তা করবে। মাইন্ডফুলনেন্স আপনাকে নিজের এবং অন্যদের সম্পর্কে অভ্যাসগত, নেতিবাচক সিদ্ধান্তগুলি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

২. Distress Tolerance Skills: এই দক্ষতাগুলো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিগুলোতে নতুন উপায়ে আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে।

৩. Emotional Regulation Skills: আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা আপনাকে আপনি কী অনুভব করেন তা আরও স্পষ্টভাবে চিনতে এবং তারপর প্রতিটি আবেগে অভিভূত না হয়ে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হল প্রতিক্রিয়াশীল ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে আচরণ না করে আপনার অনুভূতিগুলিকে রেগুলেট করা।

৪. Interpersonal Effectiveness skills: এই দক্ষতাগুলো আপনাকে আপনার বিশ্বাস এবং চাহিদা প্রকাশ করতে, সীমা নির্ধারণ করতে এবং সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনার জন্য নতুনভাবে সহায়তা করবে—যাতে করে অন্যদের সাথে আরও ভালোভাবে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারেন এবং অন্যদের সঙ্গে সম্মানের সাথে আচরণ করতে পারেন।

পোস্টঃ ৪৩

পূর্বের পোস্টঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=701397325465341&id=100067852402365&mibextid=9R9pXO

📌 Applied Behavior Analysis : কোন কোন ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে?Applied Behavior Analysis (ABA) শব্দটি শুনলে, ...
17/01/2024

📌 Applied Behavior Analysis : কোন কোন ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে?

Applied Behavior Analysis (ABA) শব্দটি শুনলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) সম্পর্কে চিন্তা করে থাকি। কারণ ABA সাধারণত অটিস্টিক ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে অন্যান্য আরো অনেক সমস্যাক্ষেত্রও কিন্তু Applied Behavior Analysis এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।
ABA হল এক ধরনের থেরাপি যা কিছু বিশেষ আচরণ, যেমন- যোগাযোগ, সামাজিক দক্ষতা, দুর্বল শিক্ষণ এবং অনুরূপ মানসিক ব্যাধি, ইত্যাদির চিকিৎসা এবং উন্নতিতে ব্যবহৃত হয় । ABA প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু -উভয়ের জন্য এবং বাড়ি, স্কুল, ক্লিনিক ও কর্মক্ষেত্র সহ বিভিন্ন সেটিংসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এই আলোচনায় এমনি বেশ কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো যেসব ক্ষেত্র Applied Behavior Analysis ব্যবহার থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।

🎯 Attention Deficit Hyperactivity Disorder (ADHD)

Attention Deficit Hyperactivity Disorder (ADHD) তে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা সাধারণত হাইপারঅ্যাকটিভ হয়ে থাকে, ফলে তাদের মনোনিবেশ করতে এবং আবেগপ্রবণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হয়। একজন ভাল ABA থেরাপিস্টের সাহায্যে, ব্যক্তির ADHD নির্মূল না হলেও, লক্ষণসমূহের হ্রাসকরণ সম্ভব। থেরাপিস্ট ADHD ব্যক্তিদের কীভাবে শান্ত এবং সচেতনভাবে তাদের শরীরের উপর ফোকাস করতে হয় এবং কোনো একটি কাজ করার আগে ব্যক্তি কী করতে চলেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করতে শেখানোর মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন। অনুপযুক্ত কর্মের পরে শিশুকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে, ABA শিশুকে প্রথমে কাজটি সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং এর কোনো একটি উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে বের করতে শেখায়। এছাড়াও উত্তম এবং চিন্তাশীল আচরণের জন্য পুরষ্কার ব্যবস্থাও প্রয়োগ করে।

🎯 Autism Spectrum Disorder (ASD)

অটিজম এমন একটি অবস্থা যা যোগাযোগের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। যদিও অটিজমের তীব্রতা একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে, তবে এটি প্রায় সবসময় যোগাযোগমূলক আচরণকে প্রভাবিত করে, ফলে অটিস্টিক রোগী সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে না। তাদের স্পর্শ, গন্ধ, দৃষ্টি, শ্রবণ এবং স্বাদের প্রতিও শক্তিশালী সংবেদনশীলতা রয়েছে। অপরিচিত পরিবেশে, অটিস্টিক ব্যক্তি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে এবং তখন সেখানে যথাযথ আচরণ করা তার পক্ষে সম্ভবপর হয় না। অটিস্টিক ব্যক্তিদের যোগাযোগমূলক অসুবিধার বিষয়টি খুবই সাধারণ হবার কারণে, ব্যক্তি কোনো বোধগম্য উপায়ে তার বিরক্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারে না। ABA থেরাপিস্টরা অটিস্টিক রোগীদের অনুপযুক্ত আচরণ থেকে বিরত থাকতে এবং অন্যরা বুঝতে পারে এমন উপায়ে যোগাযোগ করতে সাহায্য করতে সক্ষম। Psychology Today রিপোর্ট করে যে, প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে 20 ঘন্টা ABA থেরাপি প্রয়োগ করা হলে, ABA অটিস্টিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশ সাফল্যজনক হতে পারে।

🎯 Obsessive Compulsive Disorder (OCD)

যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এমন বিশ্বাস আছে যে, আমরা সবাই কমবেশি Obsessive Compulsive Disorder (OCD) ভুগছি; তবে প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলের এ বিষয়ে চিকিৎসা নেবার প্রয়োজন নেই। প্রকৃত ওসিডি আক্রান্ত রোগীরা একটি আবেশ অনুভব করেন (যা প্রকৃতপক্ষে বাস্তব নয়) যে, খারাপ কিছু ঘটা এড়াতে তাদের অবশ্যই কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করতে পারেন যে যদি ওয়াশরুমের প্রতিটি জুতা একই দিকে না থাকে তবে নেতিবাচক কিছু ঘটবে। ABA বিশেষজ্ঞরা OCD রোগীদের সাথে কাজ করেন এবং তাদের শুধুমাত্র বাধ্যতামূলক আচরণ কাটিয়ে উঠতেই সাহায্য করে না বরং কোথায় এবং কখন আবেশের উৎপত্তি হয়েছিল তা নির্ধারণ করে থাকেন। তারা রোগীকে এও শিক্ষা দেন বা অভ্যস্ত করান যে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে একটি নির্দিষ্ট কাজ না করার ফলে খারাপ জিনিস হবে না বা খারাপ কিছু ঘটবে না।

🎯 Post Traumatic Stress Disorder (PTSD)

যদিও সাধারণত অনেকে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এর সম্পর্কে ভাবেন যে এটি কেবল যুদ্ধফেরত সৈনিকদের ক্ষেত্রে তাদের মানসিক দুরবস্থার ব্যাখ্যা দিতে অধিক প্রযোজ্য, তবে PTSD আসলে অন্য অনেক ব্যক্তির মধ্যেও ঘটে যদি তারা আঘাতমূলক বা ট্রমাটিক ঘটনার সাথে জড়িত থাকে। পিটিএসডি রোগী চরম আতঙ্ক এবং উদ্বেগ অনুভব করতে পারে যখন কোনো নির্দিষ্ট উদ্দীপনা বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনার বেদনাদায়ক স্মৃতিকে ট্রিগার করে। ABA থেরাপিস্টরা PTSD রোগীদের সাথে কাজ করে রোগীর সেই স্মৃতিগুলোকে ট্রিগার করে, কিন্তু সহায়ক এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। তাদের সেই স্মৃতিগুলো ট্রিগার হলে কিভাবে ইতিবাচক আচরণ প্রদর্শন করতে হয় - এই বিষয়টিই থেরাপিস্টরা রোগীদের শেখান বা অভ্যস্ত করান।

Applied Behavior Analysis (ABA) থেরাপির একটি অন্যতম সফল পদ্ধতি, কারণ এটি আচরণ এবং শিক্ষণ সম্পর্কিত প্রমাণিত তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে গঠিত। ABA সম্পর্কে জানতে আগ্রহী কিংবা থেরাপির প্রয়োজন এমন কারোর নিকটস্থদের এটা অনুধাবন করা জরুরি যে ABA থেরাপি শুধুমাত্র অটিজমের জন্যই নয়, অটিজম সহ আরো অনেক সমস্যাক্ষেত্রই উপকার করতে পারে।

Source: https://www.appliedbehavioranalysisprograms.com/faq/what-conditions-benefit-from-applied-behavior-analysis/

Post Credit: Bondhu: Counselling and Psychosocial Research Centre - BCPRC

পোস্টঃ ৪২
পূর্বের পোস্টঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=665515212386886&id=100067852402365&mibextid=9R9pXO

প্রশ্নঃ শিশু কোয়ালিটি প্লে টাইম বা গুনগত খেলার সময় পাচ্ছে কি না তা কিভাবে বুঝবেন? এর জন্য কি শিশুকে অনেক খেলনা দিতে হয়? ...
12/11/2023

প্রশ্নঃ শিশু কোয়ালিটি প্লে টাইম বা গুনগত খেলার সময় পাচ্ছে কি না তা কিভাবে বুঝবেন? এর জন্য কি শিশুকে অনেক খেলনা দিতে হয়?

উত্তর লিখেছেনঃ সূরাইয়া ইসলাম মুন্নি, সাইকোলজিস্ট।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

🟣শিশুর গুনগত খেলার সময় পরিমাপ করা যায় শিশু কতটুকু সময় ধরে একটি খেলনা দিয়ে খেলছে এবং শিশু ওই খেলনা দিয়ে কত ধরনের খেলা খেলছে তার উপরে।

গবেষণায় (কারলি ডুস ও অন্যান্য, ২০১৮) দেখা গেছে, শিশুদের যখন অল্প খেলনা দিয়ে খেলতে দেয়া হয়, তখন শিশুরা অল্প খেলনা দিয়ে তুলনামূলক বেশি সময় নিয়ে খেলা করে৷ অল্প খেলনা দিয়ে খেলার কারনে শিশু এক্সপ্লোরে বেশি মনযোগ দিতে পারে।

✅ শিশু খেলনা দিয়ে খেলার সময় বেশ কিছু বিষয় নিশ্চিত করুন-

১. শিশুকে এক সাথে অনেক খেলনা দিয়ে খেলতে দিবেন না।

২. একটি খেলনা দিয়ে খেলা শেষ হলে অন্য একটি খেলনা দিন।

৩. শিশু খেলার সময় টিভি বন্ধ রাখুন বা মোবাইলের শব্দ বন্ধ রাখুন। এই ধরনের শব্দ শিশুর মনযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।

৪. প্রতি সপ্তাহে খেলনা রোটেশন করে দিন। কিছু খেলনা লুকিয়ে রাখুন। এক সপ্তাহ পর বের করে দিন।

🔴 কেন একসাথে অনেক খেলনা দিবেন না?

১. অনেক খেলনা দিয়ে খেলা করলে শিশু তুলনামূলক কম ক্রিয়েটিভ ভাবে খেলতে পারে। সহজ ভাষায়, শিশু এক খেলনা দিয়ে যে বিভিন্ন ভাবে খেলা খেলতে পারে তা শিশু বুঝতে পারে না। যেমন - বল দিয়ে দাও নাও খেলা যায়, বল পা দিয়ে খেলা যায়, একা একা বল গড়িয়ে খেলা যায়।

২. অনেক বেশি খেলনা শিশুর মনযোগ ব্যহত করে।

৩. অনেক বেশি খেলনা দিয়ে শিশু কম সময় খেলা করে।

৪. যে সব শিশুরা কম খেলনা দিয়ে খেলা করে তারা তুলনামূলক বেশি হাসিখুশি হয়।

ছবিঃ ইন্টারনেট

পোস্টঃ ৪১
পূর্বের পোস্টঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=665514602386947&id=100067852402365&mibextid=9R9pXO

বাবারা কিভাবে তাদের সন্তানকে সমানুভূতি (empathy) দেখাতে পারেন এবং সন্তানের মানসিক বিকাশে পাশে থাকতে পারেনঃ১. আপনার শিশুক...
12/11/2023

বাবারা কিভাবে তাদের সন্তানকে সমানুভূতি (empathy) দেখাতে পারেন এবং সন্তানের মানসিক বিকাশে পাশে থাকতে পারেনঃ

১. আপনার শিশুকে উৎসাহিত করুন যেন সে তার যে কোন অনুভূতি (feeling) ও চিন্তা ভাবনা (thoughts) নিয়ে আপনার সাথে সরাসরি কথা বলে। তাকে আপনার সাথে কথা বলার সময় ও সুযোগ দিন৷ এতে সন্তান আপনাকেই তার কাছের বন্ধু মনে করবে।

২. আপনার সন্তান যখন কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে তাকে তার সমস্যা সমাধানে সহায়তা করুন। যেমন- শিশুকে তার খেলনা এগিয়ে দেয়া। কোন খেলনা বা জিনিস ধরতে সহায়তা করা। একটু বড় শিশু হলে তাকে পাজলের সমাধান করতে সহযোগিতা করা।

৩. শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রতিটি বিকাশ (শারীরিক ও মানসিক) খেয়াল করা। কোন বিকাশ দেরীতে হলে বা যে কোন সমস্যা হলে সন্তানের সেই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া।

৪. সন্তানের যেন অন্যান্য মানুষদের সাথে সুসম্পর্ক (positive relationship) হতে পারে সেই বিষয়ে সন্তানকে সহায়তা করা। কিভাবে? সন্তানকে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নেয়া, সঠিক আচরণ সম্পর্কে সন্তানকে জানানো গল্পের মতো করে। যেমন- ছোটদের বড়দের সাথে পরিচয় করানো, সালাম দেয়া, শিশুর সাথে সবার কথা বলিয়ে দেয়া (শিশুর ভাষা বিকাশে ও ভুমিকা রাখে)।

৫. শিশুকে তার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে সহায়তা করুন৷ শিশুর ঘুম, খাওয়া, এক্সারসাইজ এগুলো করতে বা শিখতে শিশুকে সময় দিন। শিশু একটু বড় হলে এগুলোর গুরুত্ব শিশুকে বলেন। "ডিম খেলে সুস্থ থাকবা" না বলে বলুন "ডিমে ভিটামিন ডি আছে। ডিম তোমার হাড়কে অনেক শক্তিশালী করবে।"

৬. শিশুকে সবসময় present এ থাকতে সহায়তা করুন। এর মানে হলো শিশু যে অবস্থায় যেখানে আছে তার মন ও মনযোগ যেন সেখানেই থাকে, তাতে সহায়তা করুন। Mindfulness techniques আপনার সন্তানকে শেখান। ইউটিঊবে ভিডিও পাবেন।

৭. শিশুরা বড়দের রোল মডেল মনে করে। তাই শিশুর জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের রোল মডেল হয়ে যান আপনি। নিজে শান্ত থাকুন। যে কোন সমস্যায় হতাশ না হয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন।

৮. শিশুর প্রশংসা করুন। মিথ্যা প্রশংসা না৷ শিশু যা করছে তার প্রশংসা করুন। শিশু যে কাজ করছে তা উৎসাহিত করুন৷ যেমন- শিশু বল খেলছে তাকে বলুন সে কতো সুন্দরভাবে বল গড়িয়ে দিচ্ছে বা বল ধরছে। আপনার প্রশংসা শিশুর self-esteem বাড়াতে সহায়তা করবে।

৯. Psychological coping skill শিখতে শিশুকে সহায়তা করুন৷ যেমন- anxiety বা দুশ্চিন্তার জন্য সবচেয়ে সহজ technique হল breathing. ছোট শিশু বা যে কোন বয়সীরা সহজে breathing শিখতে পারে।

১০. শিশু নিজে যে একজন মানুষ, একটি অস্তিত্ব, তা নিজে বুঝুন, শিশুকে বুঝান। শিশুর সব সিদ্ধান্ত আপনি নিবেন না। শিশুকে অপশন দিন সিদ্ধান্ত নেয়ার। হ্যা অবশ্যই এখানে আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। যেমন- ধরুন শিশু ঘুরতে যেতে চায়। আপনার এখন শহরের বাইরে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। আপনি শিশুকে শহরের ভিতরে ২/৩ টি জায়গার নাম বলুন ও শিশুর কাছে জানতে চান সে কোথায় যেতে চায়। শিশু নিজে মতামত দিতে পারলে একি সাথে সে বুঝতে পারবে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, পাশাপাশি সে খুশি ও থাকবে। আর আপনার ও অসুবিধা হবে না।

বোনাস পয়েন্টঃ

-শিশুর "না" বলাকে গুরুত্ব দিন। ধরুন, আপনার শিশু কিছু খেতে চাইছে না, কোথাও যেতে চাইছে না বা কোন মানুষের সামনে থাকতে চাইছে না, তার কথা শুনুন। শিশুরা অনেক সময় সেনসরি ইস্যুর কারনে খেতে চায় না, অনেক মানুষের bad touch শিশু পছন্দ করে না বা অনেক কাজ শিশুর পছন্দ না ও হতে পারে।

-শিশুকে মানুষের সামনে জোর করে নাচতে, গান গাইতে বলবেন না। সে নিজে করতে চাইলে ভিন্ন বিষয়।

ধন্যবাদ।

ছবি: ইন্টারনেট

সূরাইয়া ইসলাম মুন্নি
সাইকোলজিস্ট।

পোস্টঃ ৪০
পূর্বের পোস্টঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=665513855720355&id=100067852402365&mibextid=9R9pXO

Address

Hatirpool Bazar
Dhaka
1205

Telephone

+8801932005775

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Institute of Modern Psychology and Research, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram