Prof. Dr. Sunjida Shahriah

Prof. Dr. Sunjida Shahriah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Prof. Dr. Sunjida Shahriah, Doctor, Mohakhali DOHS, Dhaka.
(2)

29/04/2026

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
– কাজী কাদের নেওয়াজ

বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।

হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।

যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।
তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”

28/04/2026

“আমার ভয়টা কোথা থেকে আসে… আমি জানি না।”

আপনি কি কখনো অনুভব করেছেন—
✅ কোনো কারণ ছাড়াই ভয়
✅ সম্পর্ক নিয়ে অদ্ভুত অস্বস্তি
✅ অবচেতন মন কীভাবে কাজ করে
✅ কিভাবে নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝবেন ও সাফল্য লাভ করবেন
✅ সাফল্য ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনের কৌশল
✅কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেনে নিজেকে ও অন্যকে!

সমস্যা আপনি না—
সমস্যা লুকিয়ে আছে আপনার অবচেতন মনে। “অবচেতন মনের কথা” বইটি
আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার মনের গভীরে।

এই বই দেখাবে—
কিভাবে সেই অদৃশ্য অংশ আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে।

📖 বই: অবচেতন মনের কথা
💰 ২৫% ছাড়ে মাত্র ৪৫০ টাকা (মুদ্রিত মূল্য ৬০০)

👉 আজই অর্ডার করুন
অনলাইন: kathaprokash.com/book/1279

27/04/2026

#চেম্বার_কথন

উত্তর জানা নেই

"আপা, দম বন্ধ হয়ে আসছে... বোধ হয় মারা যাচ্ছি !!! "

ভোর সাড়ে পাঁচটার ফোন...

"কেমন ফিল করছেন আপা?" উদ্বিগ্ন কন্ঠে প্রশ্ন করলাম।

"দম নিতে পারছি না! গতকাল থেকে যে 'ঝুমুল' বৃষ্টি বলয় শুরু হয়েছে, প্রতিমুহূর্তে মনে হচ্ছে আমার ছেলেটার কবরে পানি জমেছে। আমি শারীরিকভাবে অনুভব করছি ইঞ্চি ইঞ্চি করে পানি বাড়ছে। রাত তিনটা থেকে মনে হওয়া শুরু হল পানি ওর নাকের উপরে। ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতন আমি খাবি খেতে শুরু করলাম। এখন আর পারছি না। ওষুধ খেয়েছি। কোন লাভ হচ্ছে না! "

আমি, "বাসায় কে আছে আপা? "

"কেউ নেই। মেয়েটা বাড়ি গেছে। ভেবেছি আমি একা থাকতে পারবো। কিন্তু পারছি না আর! কি করবো? দেয়ালে মাথা ঠুকাচ্ছি! কপাল ফেটে গেছে! চশমা ভেঙে গেছে! "

আমি, "ড্রাইভার কোথায়?"

" ওকে নিয়ে গেছে, জমি কিনবে। সময় লাগবে ওদের ফিরতে। "

ভদ্রমহিলার অকাল বৈধব্য।
দীর্ঘদিন পর ২৫ বছরের একমাত্র ছেলেটি ও মারা গেছে। এখন গৃহপরিচালিকা আর ড্রাইভার নিয়ে থাকেন। গৃহপরিচারিকা ছোট থেকে ওনার কাছেই মানুষ। পরবর্তীতে বিয়ে দিয়ে ছেলেটাকে ড্রাইভার বানিয়ে নিয়েছেন। বিশাল বাসা। লন। সুইমিং পুল। এই তরুন দম্পতি, সহজ সরল চমৎকার, আউট হাউসে থাকেন। বেল টিপলে আসেন।

" আপা কি ওষুধ খেলেন? " জানতে চাইলাম।

ওষুধের নাম বললেন।
তারপর প্রশ্ন করলেন, "সানজিদা, আমি বেঁচে থাকতে, আমার ২৫ বছরের ছেলেটা মারা গেল কেন? কেন? কেন?"

একজন ষাট ঊর্ধ্য মানুষ একা বাসায় দেয়ালে মাথা ঠুকছেন।
স্পষ্ট বুঝতে পারছি।
কল্পনায় দেখতে পাচ্ছি চশমাটা ভেঙ্গে যাচ্ছে।

পুরু প্রেমের চশমা পড়েন তিনি। হাসিমুখে বলতেন, আমার পোস্ট ডক্টরেটের সার্টিফিকেট হচ্ছে এই মোটা ফ্রেম।

আমি জানি, এই মুহূর্তে যদি ওনার বাসাতেও যাই, উনি কাউকেই বাসায় ঢুকতে দেবেন না। কমপ্লিকেটেড গ্রীফ। গুটি কয়েক মানুষ এতে ভোগেন। যারা ভোগেন তারা মাথার ভেতর আস্ত একটা নরক নিয়ে ঘোরেন। কেউ বুঝতে পারে না।

"আমি মারা যাই না! সারাদিন কাজ করে রাতের বেলা দুঃখগুলো গুটিসুটি দেয়, হাত পা ছড়ায়, আরাম করে বসে! আমি মারা যাই না কেন? ওষুধ তো খাচ্ছি! একই ওষুধ, মায়ো ক্লিনিক যা দিলো, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি ও একই কথা বলল। দু মাস আগেই তো ঘুরে আসলাম। বিশ্বাস কর ওষুধ বাদ দেইনি... আমি স্পষ্ট কবরের গরম, ভ্যাপসা ভাব, গায়ে গরম পানির আঠা আঠা ভাব, কানের ফুটায় পানি ঢুকে যাওয়া, নাকের ফুটায় পানি ঢুকে যাওয়া বুঝতে পারছি... কেন মারা গেল? আমি কি এগুলো ফিল করার জন্যই বেঁচে থাকব? নরক ভেঙে পড়ছে কেন?... No where to run...!" ভেঙ্গে ভেঙ্গে ভদ্রমহিলা বললেন।

প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায়, সর্বোচ্চ ইউরোপ আমেরিকার হাসপাতালগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকা, সচেতন একজন মানুষ যখন ওষুধ খাওয়ার পরও এই কথাগুলো বলেন, তখন অন্তত এটুকু বুঝতে পারি, কখনো কখনো শুধু শুনে যাওয়াটাই হাতে থাকে। আর বাকি কিছু নেই।

আমাদের পৃথিবীতে, কোন কোন মানুষের জীবন মহাকাব্য, কারোটা উপন্যাস, আর কারো একদম ছোট গল্প।

জীবনের এই বেঁচে থাকার গল্পের বইটা হারিয়ে গেলে, সেই হারিয়ে যাওয়া গল্পের বইয়ের জীবিত চরিত্র হিসেবে বেঁচে থাকাটা বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ। কখনো কখনো বেঁচে থাকার মাশুল ভীষণ চড়া। দুটো পোস্ট ডক্টরেট, সুইস ব্যাংকের টাকা, ক্ষমতাসীন বলয়ের অধিবাস, কিছুই ইমিউনিটি দিতে পারে না।

বাইরে বৃষ্টির তোড় বাড়ছে।
জানালায় বাতাস হু হু করে পাক খায়।
তীব্র আক্রোশে ধাক্কা দেয়।
বাতাস বাড়ি খায় কাচে।
বুকের ভেতরটা খামচে ধরে সেই শব্দে।

সময়ের স্থবির।
কখনো কখনো মুহূর্ত থমকে যায়।
কতক্ষণ সময় গেল টের পাওয়া যায় না।

এরপর পর্দার ফাঁকে আলো স্পষ্ট হলো।
পাখির ডাক ফুটলো।
ফোনে বিপ করলো চার্জ শেষ এর সংকেত দিয়ে।
চার্জার খুঁজতে উঠলাম।

ফোনের পাশে ভদ্রমহিলার নিরবিচ্ছিন্ন বিলাপ থেমেছে। কিছুক্ষণ হলো কান্নার শব্দ নেই। এই মুহূর্তগুলোতে ওনার সাথে পূর্ব শর্ত ছিল উনি ক্যামেরা অন রাখবেন নিজের দিকে।

স্ক্রিনে দেখলাম শূন্য দৃষ্টিতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমার ক্যামেরা অফ। কিন্তু ক্যামেরা অন থাকলেও উনি আসলেও আমাকে দেখতেন না। ওনার দৃষ্টিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তিনি অন্য কিছু দেখছেন।

বড় বড় হাসপাতাল ডায়াগনোসিস করেছে ওনার কোন মানসিক রোগ নেই। যা আছে তা কমপ্লিকেটেড গ্রিফ। আজন্ম বইতে হবে এই যাতনা। ভেঙে পড়বেন, টুকরা টুকরা হয়ে যাবেন, আবার ফিনিক্স পাখির মতন নিজেই নিজেকে সামলে নেবেন।
আমার কাজ শুধু সাথে থাকা।

শহরের বুকে আলো ক্রমে ক্রমে আরো জায়গা করে নিচ্ছে। আলোর একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে! অন্ধকারে যেই বোধ আমাদের অস্তিত্বকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, আলোর স্পর্শে কোথায় জানি লুকিয়ে পড়ে আবার। মেলাটোনিনের এই খেলা বুঝতে পারি না। অবশ্য ইদানিং টের পাই, তেমন কিছুই আসলে বুঝি না!

"আমি যাই রে! সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ দেব না! তোমার কথা তোমাকেই ফেরত দেই। ওই যে বলোনা, we are not independent we are interdependent. ফোন রাখলাম। সুপ্রভাত। তোমার দিনটা ভাল কাটুক। " ভদ্রমহিলা ফোন রেখে দিলেন।

আমি জানি,
আবার কোন একদিন ঝুম বৃষ্টিতে,
এভাবেই ফোন আসবে,
হয়তো ১৫ বার ফোন আসলে হঠাৎ চোখে পড়বে,
ঘুম ভেঙে আতকে উঠবো,
সেদিন ওনার গৃহ পরিচালিকা হয়তো বাসায় থাকবেন, হয়তো থাকবেন না।

মানুষটির মাথার নরকের দরজা মুহূর্তের জন্য আমার কাছে খুলবেন, তারপর আলো ফুটলে, তিনি আবার ফ্রেশ হয়ে, টিপটপ করে সেজেগুজে তিনি অফিসে যাবেন। কেউ জানবে না, আস্ত একটা নরক তিনি সাথে নিয়ে ঘুরছেন।

নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, "আমি কেমন ফিল করছি?"

আমার ভেতরের আমি উত্তর দিল, "এই নতুন সকালের আলোয় ওনার মতন কত মানুষ আবার নতুন একটা দিন শুরু করছেন !!"

তাই না?
তাই তো !!

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া
চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার
ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ

(পুনশ্চ, কথোপকথনের অংশটুকু মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রকাশ করা হলো)

26/04/2026

মেঘ বলল যাবি ?
–শুভ দাশগুপ্ত

মেঘ বলল যাবি ?
অনেক দূরে গেরুয়া নদী
অনেক দূরের একলা পাহাড়
অনেক দূরের গহন সে বন।
গেলেই দেখতে পাবি, যাবি?
জানলা দিয়ে মুখ ঝুকিয়ে
বলল সে মেঘ যাবি ?
আমার সঙ্গে যাবি ?
দিন ফুরিয়ে রাত ঘনাবে
রাত্রি গিয়ে সকাল হবে
নীল আকাশে উড়বে পাখি
গেলেই দেখতে পাবি, যাবি ?
শ্রাবণ মাসের একলা দুপুর
মেঘ বলল যাবি?
আমার সঙ্গে যাবি?
কেমন করে যাবরে মেঘ,
কেমন করে যাব,
নিয়ম বাঁধা জীবন আমার
নিয়ম ঘেরা এধার ওধার
কেমন করে নিয়ম ভেঙ্গে এ জীবন হারাবো,
কেমন করে যাবরে মেঘ কেমন করে যাবো?
মেঘ বললো দূরের মাঠে বৃষ্টি হয়ে ঝরব
সবুজ পাতায় পাতায় ভালবাসা হয়ে ঝরব,
শান্ত নদীর বুকে আনব জলোচ্ছাসের প্রেম
ইচ্ছে মত বৃষ্টি হয়ে ভাঙব, ভেঙ্গে পড়বো।
এই মেয়ে, তুই যাবি? আমার সঙ্গে যাবি?
যাব না মেঘ, পারবোনা রে যেতে
আমার আছে কাজের বাঁধন,
কাজেই থাকি মেতে।
কেবল যখন ঘুমিয়ে পড়ি, তখন আমি যাই
সীমার বাঁধন ডিঙিয়ে দৌড়ে একছুটে পালাই,
তখন আমি যাই।
স্বপ্নে আমার গেরুয়া নদী,
স্বপ্নে আমার সুনীল আকাশ,
স্বপ্নে আমার দূরের পাহাড়,
সবকিছুকে পাই।
জাগরনের এই যে আমি ক্রীতদাসের মতন
জাগরনের এই যে আমি এবং আমার জীবন
কাজ অকাজের সুতোয় বোনা মুখোশ ঘেরা জীবন।
তবুরে মেঘ যাবো,
একদিন ঠিক তোরই সঙ্গে
শ্রাবণ হাওয়ায় নতুন রঙ্গে
যাবরে মেঘ যাবো।
সেদিন আমি শিমুল পলাশ ভিজবো বলে যাবো
পাগল হাওয়ায় উতল ধারায়
আমায় খুঁজে পাবো।
যাবরে মেঘ যাব, যাব রে মেঘ যাব,
যাবো রে মেঘ যাবো।

26/04/2026

আপনার কখন কখন
মায়ের কোলে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে?

26/04/2026

আমার বউটা একটু লোভী, খাবার দেখলেই ওর চোখ চকচক করে ওঠে, গাল দুটো টসটসে টমেটোর মতো লাল হয়ে যায়।
এমন না যে, সে অনেক দামী রেস্তোরাঁর ভ্যারাইটি সব খাবার পছন্দ করে। তবে রাস্তাঘাটে যাই দেখে তাই খেতে চায়।
কিছুদিন আগে ওকে নিয়ে একটু বেরিয়েছিলাম, রাস্তার ঝালমুড়ি দেখে সেটা সে খাবে,
দিলাম কিনে, তার পাশে আমড়া সেটাও সে খাবে,খাওয়ালাম।
তার পাশেই একটা জুসের দোকান দেখে, সে এখন জুস খাবে,তাও খাওয়ালাম।
এরপর বললাম, চলো যেখানে যাইতেছি,ওখানে অন্তত যাই।
বাইকে উঠতেই যাবে, ওমনি দেখি দাঁড়িয়ে গেলো, ভুত দেখার মতো, দাঁড়িয়ে রাস্তার ওপর পাশের এক দোকানের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে গরম গরম পেয়াজু ভাজা হচ্ছে।
বুঝে গেলাম আমার বেগম এখন সেই পেয়াজু খেতে চায়।
তার এমন টুকুর টুকুর লোভে আমি মোটেই বিরক্ত হইনা, বরং আমার মায়া লাগে।
আমি যে একখানা ছোটখাটো স্টক বিজনেস করি, তাতে আসলে খুব বেশি কোন আবদার পূরণের যোগ্য আমি না।
যোগ্য হলে হয়তো আমার বউ কাচ্চি ডাইনের বিরিয়ানি অথবা সুলতানস ডাইনের ঐ চাপ আর পোলাও খাওয়ার বাহানা করতো রোজরোজ।
তার খাবারের প্রতি দূর্বলতা আর ঘুম কাতুরে স্বভাব আমার যারপরনাই পছন্দের।
কিন্তু খারাপ লাগাটা অন্য খানে, ৫ ভাই আর এক বোনের সংসারে আমি সেজো ছেলে।
আমার সব ভাইবোনই প্রতিষ্ঠিত, শুধু প্রতিষ্ঠিত বললে ভুল হবে, একেক জনের অবস্থান গর্ব করার মতো।আমিই শুধু জীবনের খেই হারানো মানুষ।
ভালোবেসে বিয়ে করেছি বেনুকে। সে জন্যেই বোধহয় বাসার কারোরই ওকে তেমন পছন্দ না।
তার উপরে বেনুর মা মারা গেছেন, যখন ওর বয়স সাত বছর। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পরে, বেশ অনেকটা সময় বেনু সৎ মায়ের কাছেই থেকেছে।
থেকে যে খুব বেশি ক্ষতি হয়েছে তা না।
কিছু ক্যালসিয়াম আর আয়রণের ঘাটতি ছাড়া তেমন কিছু হয়নাই। বরং কাজ কর্মে বেশ পটু হয়ে গেছিলো সে।
এসএসসি এর পরে মেয়েটা মামার বাড়িতে গিয়ে ওঠে, নিজে থেকেই যে গিয়েছিলো তা না, বেনুর নানী হেলেনা খাতুন তাকে নিয়ে যায়।
অপুষ্টি,আয়রন আর ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে যখন বেনুর শরীর ধনুকের মতে বেকে যাওয়ার ন্যায়, তখনই তার সহৃদয়বান নানী বেনুকে যত্নে আগলে নিয়ে যান।
বেনুর জীবনে তার নানী হেলেনা খাতুনের অবদান অপরিসীম।
মামা-মামীও যে খুব খারাপ মানুষ ছিলেন তেমনটা না।
তবে বেনুর মামা ছিলেন কৃষক মানুষ। নিজেস্ব অল্প কিছু জমিতে চাষবাস করে নিজের স্ত্রী, ৪ ছেলে, মা আর বেনুর খরচ চালানো কষ্টকর হতো। উপরন্তু বেনুর পড়াশোনার খরচ তো আছেই। আর ছাত্রী হিসেবেও বেনু বেশ ভালো।
কৃষক মামার টানাটানির সংসারে খাওয়া-পরার অভাব থাকলেও, নানীর ভালোবাসা ছিলো অফুরান।
ক্যালসিয়াম আর আয়রনের ঘাটতি পূরণ না হলেও নানী হেলেনা বেগম, বেনুর ধনুকের মতো বাকানো শরীরকে ঠিকই সোজা করেছেন, হৃষ্ট-পুষ্ট না হলেও খারাপ ছিলোনা বেনু।
কিন্তু বেনুর সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, বছর পাঁচেকের মাথায় হেলেনা খাতুন বেনুকে একা রেখেই স্রষ্টার কাছে পারি জমান।
আবারো বেনুর আয়রণ ক্যালসিয়াম ঘটতির দিন শুরু।

আমি যখন বেনুকে বিয়ে করার আগ্রহের কথা বাসায় বলি, আমার মা বলেছিলেন- ওমন হা-ভাতে ঘরের মেয়ের সাথে কোন ভাবেই আমার বিবাহ সম্ভব না।
আমি মায়ের অমান্য হইনি,মেনে নিয়েছিলাম তবে এও জানিয়েছিলাম ঐ মেয়ে ছাড়া আমার পক্ষে কাউকেই বিয়ে করা সম্ভব না।
অনেক কাঠখড় পুরিয়ে আমার ভাই ও বোনদের প্রচেষ্টায় আমি বেনুকে বিয়ে করি।
আমার বাবা মা,আমার বিয়েতে পর্যন্ত যান নাই।
তাতে আমার সত্যিই আফসোস নাই, আমার জীবনটা আমি যারসাথে কাটাতে চাই সে অন্তত আমার পছন্দের হোক।এটাই চেয়েছিলাম আমি।
বেনুকে বিয়ের পরে বুঝেছি, সঙ্গি নির্বাচনে আমি মোটেও ঠকিনি।
বেনু একটা দারুণ মেয়ে। বিয়ের পরদিন থেকেই সংসারের সবকিছু যেন সে নিজের হাতে তুলে নিয়েছে।
সবকিছু বলতে দায়িত্ব না, বরং সমস্ত কাজ।
একা হাতেই বাড়ির সব কাজ বেনু করে।
আমি ভেবেছিলাম এতে বুঝি আমার বাবা - মা খুশি হবেন।কিন্তু না হলো উল্টো।বেনুকে তারা বাসার কাজের মেয়েই ভাবতে আরাম্ভ করলো যেন, আর নানান কটুকথা তো আছেই।
আমার বেনু কিছুই বলতোনা, কটু কথা শোনার আর বাড়ির কাজ করার অভ্যাস তো তার আগের থেকেই আছে,তবে আমার নিজেকে অসহায় লাগতো, বেনুর জন্য আমি কিছুই করতে পারিনা।
অথচ মেয়েটা আমাকে ভালোরাখতে সব করে, প্রচন্ড ভালোবাসে সে আমাকে।আগলে রাখে,যত্ন করে,বিশ্বাস করে। ওর সমস্তটা দিয়ে আমাকে খুশি করার চেষ্টা আমার চোখ এড়ায় না, আর করবে নাই বা কেন! আমি ছাড়া ওর আছে কে?

মাঝেমাঝে বেনু ঘুমিয়ে গেলে আমি শুধু ওর দিকে তাকিয়ে থাকি, কি মায়াময় চেহারা, কি সুন্দর নাক, চোখ,ঠোট,সাদা ধবধবে বকের মতোন আমার বেনু ।
আল্লাহ কতইনা যত্নে বানিয়েছেন, না জানি কত সময় ধরে বানিয়েছে, কিন্তু ভাগ্যটা কেন সময় নিয়ে লিখলেন না?কেন যত্ন করে লিখলেন না ভাগ্যটা?

যদি এক ফোটাও যত্ন করতেন, তবে কি সেই ৭ বছর থেকে একটা মানুষের ভাগ্য শুধু অবহেলা,কান্না, কুৎসিত কথা শোনা আর কাজ করাই লেখা থাকে?

এই ব্যাথার চাইতে আরো বড় এক ব্যাথা আমার ছিলো।
বেনুকে যখন আমি বিয়ে করে নিয়ে আসি, ভেবেছিলাম এইবার আর যাই হোক আমার বউ এর আয়রন আর ক্যালসিয়ামের ঘাটতি আমি মেটাবো।
সেই উদ্দেশ্যেই হয়তো আমি বেনুর জন্য তার পছন্দের গরুর মাংস,মুরগী,ডিম,চিংড়ি,পাবদা,কাতলা মাছ রোজকার খাবারে রাখার চেষ্টা করতাম, আমার বাবা মায়েরও খাওয়া হলো, আমার বেনুরও হলো।
কিন্তু যখনই আমি বেনুকে খেতে দেখেছি, স্বাচ্ছন্দ নিয়ে কখনোই খেতে দেখিনাই,
প্রথম দিকে, আমি ভাবতাম ও লজ্জা পাচ্ছে।

কিন্তু একদিন যখন নিজ কানে শুনলাম, বেনু খেতে বসার সাথে সাথেই, আমার মা বললেন, তুমি মাছের ঐ ভাংগা পিছটা নাও, আর ফ্রিজের কালকের শাক,ডালটা শেষ করো,
সেদিন বুঝলাম আমার বেনু কেন স্বছন্দে খায়না।
বাবা মা কে আমি বেহাত ভালোবাসতাম, আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে এই আচরণে আমি দারুণ কষ্ট পেলাম সেদিন।

এরপর থেকে ঘরেই খাবার এনে রাখতাম যেটুকু সম্ভব ছিলো।
আর খাবারের সময়টুকু চেষ্টা করতাম বেনুর সাথে বসে খেতে, যাতে বেনুকে নিজে উঠিয়ে দিয়ে খাওয়াতে পারি।
আমার বেনুটা একটু লোভী কি না!
বাড়িতে কোন দাওয়াত এর কার্ড এলে, দেখতাম বেনু সে কি খুশি!
তার খুশির কারণ গরুর মাংস,পোলাও রোস্ট খাওয়া হবে; এই খুশিতে যেন স্বপ্নেও সে পোলাও এর গন্ধ পেত।

যতদিন যায়, ঝামেলা ততই বাড়ে,আমার বেনুর ক্যালসিয়াম আর আয়রণ ঘাটতির দিন যেন ফুরায় না।
বাড়িতে বেনুর সাথে সাথে আস্তে আস্তে আমাকেও গুণতিতে ধরা বাদ দিলেন আমার প্রিয় বাবা মা।
তাদের অন্যান্য সন্তানেরা বেশ ভালো অবস্থান সম্পন্ন কিনা, এই একজন সন্তান না হলেও তাদের চলবে বোধকরি।
আমি ভাবতাম, আমার বাড়িরলোক অন্য রকম মানুষ, এরা সুশিক্ষিত,মনে মনে কোন ভেদাভেদে নেই।
কতরাত বেনুকে বুকে নিয়ে গর্ব করে বলেছি বেনু আমার বাবা মা রাগী মানুষ হলেও আমার পরিবারের সবারই মন মানুষিকতা অমায়িক।
কিন্তু আমি ভুল ছিলাম, সময় হয়তো সব বদলে দেয়।
বেনুকে আর গর্ব করে কিছু বলতে পারিনা।
আমি হয়তো বুঝে গেছিলাম,শুধুমাত্র বেনু তাদের পছন্দ না, এই জন্য আমাকে তারা বাতিল ভাবছে এমনটা নয়,
বরং আমার আয়,সামর্থ্য ও সম্মান কম জন্য তারা বেনুকে ভালোবাসতে পারেনি,সে জন্যে তারা বেনুকে বাতিলের তালিকায় ফেলেছে।

কিন্তু আমার বেনুর তাতে কোন আফসোস নেই।
আমাদের সংসার দারুণ চলে, ফাকা সময় পেলেই বেনু ঘুম দেয় আর আমার কাছে নানান খাবারের আবদার তো আছেই।
একদিন বেনুকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি, সে রাস্তার ধারের কোন এক দোকানে পারুটি দেখেছে, তারপর আর কি!সেই পারুটি সে খাবে বায়না ধরলো।
ফেরার সময় খাওয়াবো বলে, যেখানে ঘুরতে যাচ্ছিলাম সেখানে গেলাম আগে,ঘুরে ফিরে চলেও এলাম কিন্তু কারোরই মনে রইলোনা পারুটির কথা।
বাড়ি ফিরে বেনুর সে কি মন খারাপ,ঠোট ফুলিয়ে ঘরের কোণে বাচ্চা মেয়েদের মতো বসে আছে।
আমি অনেক কষ্টে রাগ ভাংগালাম, রাতে পারুটি এনে দেব এই কথা দিয়ে।
রাতেও ভুলে গেলাম। অবশ্য বেনু আর রাগ করেনি।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বেনু পারুটি আর দুধ খাচ্ছে।
আমাকে দেখে দাত কেলিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো- "বেনু একটু ওদের পারুটি আর দুধ চুপ করে এনে খাচ্ছে।"
ওর কথা শুনে মায়াও লাগে আবার হাসিও পায়, হায়রে খাওয়া।

২ পিস পারুটি আর একটু দুধের জন্য সেদিন বেনুকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। খেয়েছে এই জন্য না, মাকে না জানিয়ে খেয়েছে এই জন্য। যদিও মাকে জানালে আর খাওয়া হতোনা।
সেদিন একটু দুধ কম পরে গেছে আমার মায়ের।
অথচ বেনু কখনো শখ করেও দুধ খায়নি এই বাসায়।
সেদিনও আমি ভেঙে গেলাম ভেতর থেকে, আমার বেনু হাসছিলো আর বলছিলো, খেয়েই তো নিছি বকুক এখন।
ওর কোন খারাপ লাগা নাই।
কিন্তু আমার ভীষণ খারাপ লাগলো যে সংসারটায় বেনু সারাদিন শ্রম দেয়, সেই সংসারে কি ও ২ পিস পারুটি আর দুধ না বলে খেতে পারেনা?
আমি বেনুর জন্য রাতে দুধ আর পারুটি নিয়ে যেতাম মাঝেমাঝে।

বেনু যখন গর্ভবতী হলো, তখন ওর লোভটা যেন আরো বেরো গেলো, যারই ঘ্রাণ পায় তাই খেতে চায়।
এই সময় মেয়েরা বাপের বাড়িতে মায়ের যত্নে থাকে,আমার বেনুর তো কেউ নাই, আমিই ওর সব। যত্নের কোন ত্রুটি রাখতে চাইনি আমি ওর।
মাঝে ওর মামা আর বাবা দেখে গেছেন ওকে,কিন্তু ঐ একবারই।
শেষের সময়টায় এসে বেনু খুব একটা কাজ করতে পারতোনা,
যা নিয়েই বাড়িতে ঝামেলা শুরু হলো।
আমি অধম যা যৎসামান্য ইনকাম করি বেনুকে নিয়ে আলাদা হওয়ার সাহসও নাই আমার। তাই ঝামেলার মাঝেই আমরা ভালো থাকি।

একদিন বেনু মায়ের কথা অমান্য করে ডিমের তরকারি রাধলো, কেননা লোভী বেনুর ডিম দারুণ পছন্দ।
ডিমের তরকারি দিয়ে সে শান্তি করে ভাতও খেলো।
এই নিয়ে সালিশ বসলো বাসায়।
মায়ের কথা- এই সংসার আমার,এখানে আমার অবাধ্য হলে থাকা চলবেনা।
বেনু মাফ চাইলো তাতেও হলোনা,
কারণ মা বললেন- বেনু এর আগেও মাকে না জানিয়ে,দুধ,পারুটি, কলা, নুডুলস, বিস্কুট, খই, চা, সেমাই এসব খেয়ে ফেলেছে, না জানিয়ে রান্নাও শুরু করেছে,মানা করলেও শোনানা।

আমি বেনুর দিকে তাকালাম, এতো কিছু কবে খেলো সে,আমি তো তাকে সব এনে দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করি তবুও কেন এভাবে না বলে খায় ও? রাগ হলো ওর উপরে।
কিন্তু ও দেখি মিটমিটিয়ে হাসে।
সালিশ চললো ৩৫ মিনিট। যদিও সবাই জানে বেনু যা রাধতে চায় যা খেতে চায় তা সবসময়ই মানা করে দেন মা, এই বেনু তারপরেও কেন যে বোঝেনা।
সালিশের শেষ কথা হলো, বেনু মায়ের অমান্য হয়েছে তাই শাস্তি পাবে নইলে নাকি বেনু আবারো এই কাজ করবে।
বেনুর শাস্তি হলো, আজকে যেহেতু দিনের বেলা ডিমের তরকারি দিয়ে সে পেট পুরে সাধ মিটিয়ে ভাত খেয়েছে, তাই রাতে তার খাওয়া বন্ধ।
সালিশ শেষ করে আমি বেনুর দিকে আর তাকাইনি।সোজা ঘরে চলে এলাম,
রাগে আমার শরীর কাপছে,বেনু হয়তো বুঝতে পারেনি আমি এতো রেগে আছি।
সে এসে বলতে আরাম্ভ করলো- আরে আমি খেয়ে তো নিয়েছি এখন বকলে বকুক তাতে কি.....
আমি মেজাজের খেই হারিয়ে ফেললাম- এতো ছোচা কেন তুমি?এতো খাবারের লোভ কেন? আমি কি খাওয়াই না? না বলে কেন খেয়ে নেও? লজ্জা করেনা কথা শুনতে?তোমার আসলে ছোট থেকে এভাবে থাকতে থাকতে চামড়া মোটা হয়ে গেছে।
কথা শেষ করেই বেরিয়ে আসলাম।
পরে নিজেরই কেমন অপরাধবোধ হচ্ছিলো। মেয়েটার সবটাই তো আমি জানি। ছোট থেকেই তো খাবার কষ্টেই বড় হয়েছে মেয়েটা, কেউ না জানুক আমি তো জানি।
হয়তো খেতে ইচ্ছে করেছিলো তাই খেয়েছে।
এভাবে কেন ওকে বললাম, আমিও তো মায়ের মতো করেই ওকে বললাম, অথচ আমি ছাড়া মেয়েটার কেউ নাই।
ফোনটাও অফ করে রেখেছিলাম।
দ্রুত ফোন অন করে বেনুকে কল দিলাম,ধরলো আমার ছোট বোন।
বেনু হাসপাতালে, আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে বললো, ওকে ওটিতে নিয়েছে,সিজার হচ্ছে ,ওর অবস্থা ভালোনা।
আমি দ্রুত গেলাম হাসপাতালে।
আমার একটা মেয়ে হয়েছে, একেবারেই বেনুর মতো ধবধবে সাদা, আংগুল গুলো বেনুর মতো লম্বা, কপাল অব্দি চুল বেনুর মতোই।
কিন্তু আমার বেনু আর আসলোনা।
বেনু আমার কথায় ভীষণ রাগ করেছে, কষ্ট পেয়েছে এতোটা কষ্ট পেয়েছে যে,আমাকে শেষ বার আর দেখলোই না,কথাও বললোনা।
শুনেছি আমি চলে আসার পরপরেই হয়তো বেনু অজ্ঞান হয়ে যায়।অনেক পরে বেনুকে ডেকেও না পেয়ে আমার মা গিয়ে দেখে ও মেঝে পরে আছে।
সেদিন আমার বাবা মা বেনুকে একটু দয়া করেছিলেন,হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমার লোভী বেনু আমাকে অপরাধী করে চলে গেলো।

বেনুর নামের সাথে মিলিয়ে আমি আমার মেয়ের নাম রাখি রেনু "রেহনুমা রেনু"
রেনুকে নিয়ে আমি বেশ বিপাকে পরেছি, এতো ছোট বাচ্চা কিভাবে আমি মানুষ করবো?
তারপরও দিন কি আর বিপাকে পরে থেমে থাকে।
দিন দিনের মতোই যায়, আর আমার ব্যবসা আরো খারাপ হয়।
রেনুকে আমি ছাড়া তেমন ভাবে দেখার কেউ নাই।
আমার মা বোন যে একেবারেই দেখেনা তা না, কিন্তু বিরক্ত হয় বেশি।
রেনু আস্তে আস্তে বড় হয়, আমি ব্যবসার উন্নতির জন্য ব্যস্ত হই,
আর আমার মা রেনুকে সামলাতে না পেরে অথবা বংশের বাতির আশায়, আমাকে নিজের পছন্দ করা মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চান।

এইদিন প্রথম আমি রেনুকে অনেকদিন পরে খুব ভালোভাবে দেখলাম।
ঠিক আমার বেনুর মতো,রেনুও কেমন ধনুকের মতো বেকে যাচ্ছে।আমার রেনুরও আয়োডিন আর ক্যালসিয়ামের ঘাটতি চোখে পরছে আমার।
রেনু এসে আমার হাত ধরে বললো- বাবা আমি পারুটি খাতে চাই!

আমি যেন এক নিমিষেই আমার একমাত্র মেয়ে রেনুর বর্তমান,ভবিষ্যত ও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যু দেখতে পেলাম,
এক নিমিষেই চোখে ভেসে উঠলো আমার রেনুটাও খাবারের প্রতি লোভী হয়ে যাচ্ছে, ক্যালসিয়াম আয়োডিনের ঘাটতি আমার রেনুকেও যেকে বসেছে।
কিন্তু আর কোন বেনুকে তো আমি গড়ে তুলতে পারিনা।এরকম টা হলে তো বেনু জান্নাতেও আমার জন্য অপেক্ষা করবেনা।
যেই সাহস আমার আগেই করা উচিত ছিলো সেই সাহসটা আমি এতদিনে করে উঠলাম।
দুটো ব্যাগে আমার আর রেনুর সমস্ত কিছু গুছিয়ে আমি বাড়ি ছাড়লাম।
আমি চাইনা আমার মেয়ে আয়োডিন আর ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে বড়হোক,আমি চাইনা আমার মেয়েটা লোভী হোক।

লোভী
- রাফিয়া মেহেদী ছোঁয়া

(সংগ্রহীত)

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে, তখনও আমার সময় আসে নি।-- হুমায়ুন আজাদ।
25/04/2026

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে, তখনও আমার সময় আসে নি।

-- হুমায়ুন আজাদ।

আপনি কি টলিয়ামরিতে আক্রান্ত?
25/04/2026

আপনি কি টলিয়ামরিতে আক্রান্ত?

দিন দিন সম্পর্কের সমীকরণগুলো জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। প্রেম বা বিবাহ, সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, একসময় এগুলো টিকে থাক.....

25/04/2026

নার্সাসিস্ট যখন ভিকটিম কার্ড ব্যবহার করে, নিজেকে বেচারা প্রমাণ সাপেক্ষে আপনাকে দোষী সাব্যস্ত (Guilt- trip) করবে তখন কি করবেন?

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম
24/04/2026

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম

আমি এখন কি করব?

সাবাস বাংলাদেশ !!
24/04/2026

সাবাস বাংলাদেশ !!

জাকার্তায় অনুষ্ঠিত উইমেন্স এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হকিতে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।

23/04/2026

Address

Mohakhali DOHS
Dhaka
1206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prof. Dr. Sunjida Shahriah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Prof. Dr. Sunjida Shahriah:

Share

Category