Prof. Dr. Sunjida Shahriah

Prof. Dr. Sunjida Shahriah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Prof. Dr. Sunjida Shahriah, Doctor, Mohakhali DOHS, Dhaka.
(2)

06/01/2026
 #ভাঙ্গাচোরা_মানুষের_গল্প যদি কখনো কেউ জিজ্ঞেস করে যে তোমার সর্বকালের প্রিয় নায়ক কে,  শুধুই একটা নামই আসে। স্পিড সিনেম...
06/01/2026

#ভাঙ্গাচোরা_মানুষের_গল্প

যদি কখনো কেউ জিজ্ঞেস করে যে তোমার সর্বকালের প্রিয় নায়ক কে, শুধুই একটা নামই আসে। স্পিড সিনেমাটা যে কতবার গিলেছি, মেট্রিক্স প্রথম পর্বটা দেখেছিলাম একটা লম্বা ফ্লাইটে, এখনো মনে আছে প্রথমবার দেখার পর আবার দ্বিতীয়বার সাথে সাথে সিনেমাটা দেখি...আমার চিন্তার জায়গাটা এত ভয়ঙ্কর ভাবে ধাক্কা দিয়েছে এই সিনেমাটা.... প্রথম পর্বের ঘোর এখনো কাটেনি,
ঠিক যেমনটি অনুভব করেছিলাম বুদ্ধদেব গুহের মাধুকরী বইটা পড়ার পরে... কিন্তু চিন্তা আর অনুভবের পার্থক্য তো থাকেই।
....................................................

কিয়ানু চার্লস রিভস। এই ভদ্রলোক পৃথিবীর যে-কোনোকিছুই কেনার ক্ষমতা রাখেন; কিন্তু, প্রতি ভোরে ঘুম থেকে জেগে, তিনি একমাত্র তা-ই ছুঁতে ছোটেন, যা, কেনা যায় না।
সেই তাকে নিয়ে আজকের দিনের অর্জন হয়তো শালাউদ্দিন আহমেদ জুয়েলের এই লেখাটি—

🌿

অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, এবং সঙ্গীতশিল্পী কিয়ানু চার্লস রিভস, নিউইয়র্কের একটি ক্লাবে নির্ধারিত সময়ের কুড়ি মিনিট দেরিতে পৌঁছলেন। ক্লাবটিতে যে-পার্টিটা চলছে, সেটি তাঁর নতুন মুভি'র প্রতি উৎসর্গ করা। ক্লাবের বাইরে, অঝোর বৃষ্টির নিচে, দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, চুপচাপ। ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁকে, সিকিউরিটি গার্ডরা চিনতে পারেনি। এর ক'দিন পরে, ক্লাবটির মালিক বলেছিলেন— "আমি জানতামই না কিয়ানু ক্লাবের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, কবে তাঁকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেবে কেউ সে-আশায়! কাউকেই তিনি পরিচয় দেননি।"

কিয়ানু। চিরকাল যাতায়াত করলেন গণপরিবহনে চড়ে, সময়ে ঝুলেঝুলে। রাস্তার ধারে ভিক্ষে করছে ঘরবাড়িহীন কোনো নিঃস্ব, কিয়ানু তার পাশে গিয়ে বসে থেকেছেন, গল্প করেছেন, উঠে আসার আগে দুখী মানুষটির মুঠোয় গুঁজে দিয়েছেন অপ্রত্যাশিত পরিমাণের অর্থের নোট। কেউ জানে না, কে এই লোক? আপনি যদি তাঁকে চিনে থাকেন, প্রায়ই আপনার চোখে পড়বে— পার্কের বেঞ্চিতে বসে হটডগ চিবুচ্ছেন তিনি, অপরিচিত বুড়োবুড়ি-শিশুদের হলাহলের পাশে।

কিয়ানু। দুনিয়ার বিস্ময়কর চলচ্চিত্র 'দ্য ম্যাট্রিক্স'-এর একটি সিক্যুয়েল শেষে, চলচ্চিত্রটির প্রত্যেক স্টান্টম্যানকে একটি করে মোটরবাইক কিনে দিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শুনেছিলাম আমরা— "এঁদের স্কিলই, এই মুভির প্রাণ।"

'দ্য ম্যাট্রিক্স'-এর কস্টিউম ডিজাইনার ও কম্পিউটার সায়েন্টিস্টদের বেতন তাঁর কাছে মনে হয়েছিলো— চলচ্চিত্রটির উত্তুঙ্গ জনপ্রিয়তা এবং এর নেপথ্যে ওই উল্লিখিত ব্যক্তিদের মেধা ও শ্রমের তুলনায় যথার্থ নয়। অতএব, সেই মুভি থেকে প্রাপ্ত তাঁর পারিশ্রমিকের সিংহভাগ তিনি তুলে দিয়েছিলেন এঁদের হাতে।

তাঁর মুভি 'দ্য ডেভিল'স অ্যাডভোকেট'-এ কিংবদন্তী অভিনেতা আল পাচিনোকে আমন্ত্রণের খরচ যোগাতে, তিনি কমিয়ে ফেলেছিলেন নিজের বেতন।

'দ্য লেক হাউজ' চলচ্চিত্রটায় অভিনয়ের সময়, দু'জন কস্টিউম সহকারীর আলাপ তাঁর কানে এসেছিলো ফিসফাসে, যাদের একজন কাঁদছিলো হুহু করে, পরদিন কুড়ি হাজার ডলার শোধ করতে না-পারলে ঋণের ঘরটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে বলে। সেই পরদিন, লোকটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাটি জমা হয়ে গিয়েছিলো। হ্যাঁ, কিয়ানু রিভস।

প্রত্যেকেই মানুষ হিসেবে জন্মায়, কিন্তু মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে পারে— অল্প ক'জন।

১৯৬৪'র সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ জন্মেছিলো শিশুটি। বয়স যখন তিন বছর, বাবা পরিত্যাগ করলো তাকে। এরপর, ছেলেটি বড়ো হয়েছিলো তিনজন সৎপিতার ভিন্ন তিন বাড়িতে। ছেলেটির ডিসলেক্সিয়া। তার স্বপ্ন ছিল হকি প্লেয়ার হওয়ার, যে-স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় মারাত্মক একটি দুর্ঘটনায় প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি পড়ে যাওয়ার ফলস্বরূপ। জন্মমুহূর্তেই তাঁর কন্যাশিশু মারা যায়। ক'দিন পরেই মারা যান সেই কন্যার মা, গাড়ি-অ্যাক্সিডেন্টে। প্রায় একই সময়ে মারা যান তাঁর প্রাণের বান্ধব, সুখদুঃখের সাথী— রিভার ফিনিক্স। তাঁর বোনের শরীরে ধরা পড়ে লিউকেমিয়া।

ভেঙ্গে পড়েননি কিয়ানু। বোনের চিকিৎসা চলাকালীন ওই দীর্ঘ সময়ে, কোনো চলচ্চিত্রেই অভিনয় করলেন না তিনি, বসে থাকতেন বোনের বিছানার পাশে। একদিন, বিখ্যাত 'দ্য লিউকেমিয়া ফাউন্ডেশন' গড়ে তুললেন কিয়ানু, বোনের চোখের ভিতরের বেদনা বুকের ভিতরে বয়ে; যে-ফাউন্ডেশনে নিয়মিত অর্থ যোগান দেওয়ার প্রয়োজনে আজও অভিনয় করে চলেন লোকটি। শুধুমাত্র 'দ্য ম্যাট্রিক্স' মুভির আয় থেকেই, সাড়ে সাত কোটি মার্কিন ডলার দান করেছেন কিয়ানু, বিভিন্ন হাসপাতালে, এবং অন্যান্য চ্যারিটিতে, মানুষের জন্য।

বডিগার্ড? নেই। বিলাসবহুল একটি বাড়ি? না, নেই। নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায়, সাবওয়েতে, গণপরিবহনে, আজও আপনি দেখতে পাবেন, দুনিয়ার দুর্ধর্ষ এক চলচ্চিত্র অভিনেতাকে, মিলিয়োনিয়ার, তীব্র প্রতিভাধর, ঝুলছেন গাড়ির ভিতরে দাঁড়িয়ে, হাঁটছেন ফুটপাত ধরে, পৃথিবীর মানুষকে দেখছেন তিনি, দেখছেন মানুষের বিচিত্র জীবনগুলোকে, অবাক দৃষ্টিতে, জলভরা চোখে। হ্যাঁ, তিনি কিয়ানু রিভস। ইচ্ছে করলেই যিনি জগতের সবচেয়ে দামী প্লেনটি কিনে পৃথিবী ঘুরতে পারেন।

২০১০ সাল। কিয়ানু'র জন্মদিন। ফুটপাত ধরে হাঁটতে-হাঁটতে, একটি ছোট্ট বেকারির সামনে এসে, ঢুকে পড়লেন তিনি। কিনলেন ছোট্ট একটি পেস্ট্রি-বান, এবং একটি মোমবাতি। মোমবাতিটি বানের উপরে বসিয়ে, বেকারি থেকে বেরিয়ে, সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি নিয়ে খেলেন। এবং, তাঁকে চিনতে পেরে যে-ই দাঁড়িয়ে হাত বাড়ালো করমর্দনের কিংবা সামান্য হাই-হ্যালোর ইচ্ছেয়, প্রত্যেককেই এক কাপ করে কফি পানের অনুরোধ করলেন তিনি। অথচ, সেদিন দুনিয়ার সব মিডিয়া জুড়ে তাঁর জন্মদিন পালিত হচ্ছে হইহল্লায়, তাঁর ঘরে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়। তিনি নেই। ফুটপাত ধরে হাঁটছেন, মানুষের বুকের ধার ঘেঁষে।

১৯৯৭ সালের এক সকালে, লস এঞ্জেলেসের একজন ফটোসাংবাদিক একটি আকস্মিক ছবি তুলে হইচই ফেলে দিয়েছিলো— দুনিয়া-কাঁপানো অভিনেতা কিয়ানু রিভস মাফলারে মুখটি ঢেকে রেখে একজন গৃহহীন লোকের পাশে বসে খাচ্ছেনদাচ্ছেন, গল্প করছেন, হাসিঠাট্টায় মেতে রয়েছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে!

মাঝেমাঝে, খুব ভাগ্যবান হোন যদি, আপনি সেইসব মানুষের সাক্ষাৎ পাবেন, যাঁরা বুকের ভিতরে তীব্র ভাঙন নিয়ে বেঁচে আছেন, এবং বেঁচে আছেন দুনিয়ার অন্য কাউকেই অমন ভাঙনের মুখে পড়তে না-দেওয়ার তীব্র বাসনায়। তাঁরা ভাঙাচোরা মানুষ, তাঁরা মানুষের জন্য ছুটতে থাকা মানুষ।

কিয়ানু চার্লস রিভস। এই ভদ্রলোক পৃথিবীর যে-কোনোকিছুই কেনার ক্ষমতা রাখেন; কিন্তু, প্রতি ভোরে ঘুম থেকে জেগে, তিনি একমাত্র তা-ই ছুঁতে ছোটেন, যা, কেনা যায় না।💕💕💕

(সংগৃহীত)

আপনার এই আচরণগুলোর জন্য কেউ আপনাকে ভুল বুঝলে তাকে বোঝানোর দায়িত্ব আপনার না।
05/01/2026

আপনার এই আচরণগুলোর জন্য কেউ আপনাকে ভুল বুঝলে তাকে বোঝানোর দায়িত্ব আপনার না।

আপনি কি একা থাকতে ভালোবাসেন? কিংবা হুট করে রেগে না গিয়ে চুপ করে থাকেন? 🤔সমাজ হয়তো আপনাকে 'অসামাজিক' বা 'চুপচাপ' বলে...

04/01/2026

আমি কি? (আমি কে সেই উত্তর চাওয়া হয় নাই )
আমি কেনই বা বেঁচে থাকি?

এই মৃত্যুর যুক্তি কি?১। হত্যা২। আত্মহত্যা
04/01/2026

এই মৃত্যুর যুক্তি কি?

১। হত্যা
২। আত্মহত্যা

মৎস্যকুমারী না! কি চলছে?
03/01/2026

মৎস্যকুমারী না!
কি চলছে?

মহামারীর মতন ছড়িয়ে পড়েছে! এখনই সচেতন হওয়ার সময়। না হলে খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে।
01/01/2026

মহামারীর মতন ছড়িয়ে পড়েছে!
এখনই সচেতন হওয়ার সময়।
না হলে খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে।

‘নিকোটিন, একজন ধূর্ত পুতুলনাচের মালিকের মতো, তার পুতুলগুলিকে তার সুতোয় বেঁধে রাখতে জানে—যখন তুমি তার সেই সব কল্.....

31/12/2025

#চেম্বার_কথন_৬২

"আমি জানতে এসেছি কেন একই ঘটনা আমার সাথে সব সময় হয়? আপনি আমার ৫ নম্বর থেরাপিস্ট, আপনাকে দেখে কেন জানি অন্য রকম লাগছে !" ভদ্রমহিলা বললেন।

সাধারণত আমার চেম্বারে যিনি আসেন তিনি কিছু বলবার আগেই আমি মুখ খুলি। কারণ কিছু এথিকাল শর্ত ও নিয়মাবলী থাকে সেশনের। যিনি আসছেন তিনি সেইগুলি মানতে সম্মত হলেই ফরমাল সেশন শুরু হয়। অন্যথায় না।

ভদ্রমহিলা আমাকে কিছু বলবার সুযোগ না দিয়েই নিজেই বললেন, "আপনাকে যেমন ভেবেছি আপনি তেমন না, আপনার জীবনে কি গভীর কোনো কষ্ট আছে?"

আমি হেসে ফেললাম, "আমার কথা শোনবার জন্য কি আপনি সময়, শক্তি এবং অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন?"

ভদ্রমহিলা চোখ সরু করে ফেললেন। আমি রসিকতা করছি কিনা বোঝার চেষ্টা করছেন বুঝতে পারছি।

আমরা সবাই অনেক রকম মুখোশ পড়ি। তাই কথা না বাড়িয়ে, আমি আমার পেশাদার মুখোশটা এঁটে নিলাম।

সমস্ত শর্তাবলী শুনে ভদ্রমহিলা রাজি হলেন। আমরা সেশন শুরু করলাম।

ভদ্রমহিলা, "আমার ৪ বার বিয়ে হয়েছে। ৩ বার ডিভোর্স। এই বার ও আমার বর্তমান স্বামীকে অসহ্য মনে হচ্ছে। আমি অনেক কাউন্সেলিং নিয়েছি আগেই বলেছি। কিছু লাভ হয়নি। এই বারও মনে হয় ডিভোর্সের দিকেই সম্পর্কটা যাচ্ছে। কিন্তু আমি আপনার কাছে আমার বিয়ে বাঁচাতে বা কাপল কাউন্সেলিং করতে আসি নাই। ওইসব পর্ব শেষ। আমি আসলেই জানতে চাই আমি কেন বার বার একই ঘটনা ঘটাচ্ছি? কেউ কিন্তু আমাকে জোর করে ধরে বেঁধে বিয়ে দিচ্ছে না। আমি প্রতিবারই স্বেচ্ছায় বিয়ে করছি। এবং কিছুদিন পর দেখছি ভুল লোককে বেছে নিয়েছে। কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছি আমি? একই ভুল বারবার করার পেছনে আমার কোন মনস্তত্ত্বটা কাজ করছে? আমি কেন এরকম করছি?"

ভদ্রমহিলা স্পষ্ট আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। বুঝতে পারলাম তিনি আসলেই বিয়ে টেকাতে নয় কেন বারবার বিয়ে করছেন সেটা জানতে এসেছেন।

আমি প্রশ্ন করলাম, "আপনার বিয়ের অভিজ্ঞতাগুলো বলবেন?"

ভদ্রমহিলা,"প্রথম বিয়ে স্টুডেন্ট লাইফের প্রেম। আমি বরাবরই একটু ডাকাবুকো ছিলাম। সুন্দরী বলে বরাবরই পাত্তা পেয়ে এসেছি। আমার ধারণা সেই পাত্তা আমি সুবিধা মত ব্যবহারও করেছি। কিন্তু প্রেমে পড়ে গেলাম নিতান্তই সাদামাটা ছাপোষা একজনের সাথে। মানুষটা একদমই কথাবার্তা বলে না, কারো সাথে মিশতে পারে না। কিন্তু কেন জানি আমি পাগল হয়ে অনেকটা জোর করেই বিয়েটা করে ফেললাম। এবং বিয়ের পরপরই বুঝতে পারলাম কি সাংঘাতিক ভুল করে ফেলেছি। আমার বাবা-মা মানা করেছিলেন। ৬ মাসের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর আমার পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর সময় প্রেমে পড়লাম আরেকজনের। সেটা প্রথম বিয়ে ভাঙার অল্পদিনের মধ্যেই। এবারও সবাইকে না জানিয়ে হুট করে বিয়ে করে ফেললাম। বন্ধুরা খুব অবাক হয়েছিল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে দ্বিতীয় বিয়ের পরে বুঝতে পারলাম প্রথমজন এবং দ্বিতীয় জন হুবহু একই ঘরানার মানুষ। মুখচোরা, লাজুক, জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। সোজা বাংলায় যাকে ম্যান্দা মারা বলে। এবার বেশ কিছুদিন গেল। হাপিয়ে উঠলাম। সন্তানও আসলো। তারপর একদিন একেও ডিভোর্স দিয়ে দিলাম। কারণ মনে হচ্ছিল আমি আর পারছি না। তখন প্রচুর কাউন্সিলিং নিয়েছি। একের পর এক থেরাপিস্ট বদলেছি। ডাক্তার বদলেছি। এর মধ্যে আস্তে আস্তে বাচ্চা বড় হল। বিদেশে চলে গেল পড়তে। ওখানেই থিতু হবে। কাজেই আমি আবার যেই নিঃসঙ্গ সেই নিঃসঙ্গই। এরই মধ্যে কাজের সূত্রে এই তৃতীয় ভদ্রলোকের সাথে আলাপ। বহুদিন পর মনে হল আমি যেন কিশোরী বয়সে ফেরত গেছি। ভদ্রলোকেরও ডিভোর্স হয়ে গেছে। মাত্র এক মাসের মাথায় কাউকে না জানিয়ে আমরা হুট করে বিয়ে করে ফেলি। এবং আমি টের পাচ্ছি এইবারও সেই একই খারাপ লাগা। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল আমি এমন কেন করছি? বারবার একই ভুল কেন করছি?"

আমি, " আপনি কি পেশাও বারবার বদলান?"

ভদ্রমহিলা পেশাজীবী। নিজস্ব পেশা উল্লেখ করে আমার প্রশ্ন শুনে একটু থমকালেন। এবং খেয়াল করলাম উনি পেশা ও বার বার বদলেছেন।

আমি, "থাকার জায়গা ও কি বার বার বদলেছেন?"

ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে বললেন, "হ্যা! বারে বারে বাড়ি বদলেছি। কখনো প্রতিবেশী ভাল মনে হয়নি, কখনো বাজার দূরে ছিল। কখনো এলাকাটা পছন্দ হয়নি।"

আমি ,"তারমানে কি আপনি একটা অপছন্দের মানুষকে বা পেশাগত জায়গাকে বা বাড়িকে বদলে সেই খানে নতুন আরেকটা অপছন্দের মানুষ বা কাজ বা বাড়িতে বারবার নিজেকে সরিয়ে সরিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? "

ভদ্রমহিলা যতটুকু থমকলেন চমকালেন তার থেকে বেশি।

আমি নরম গলায় প্রশ্ন করলাম, "বড়ো প্রশ্ন করবো। কিন্তু এক শব্দে উত্তর দেবেন, আপনি মূলত যে পছন্দের উপর অসন্তুষ্ট, সেখান থেকে বের না হয়ে, ঘুরেফিরে পরবর্তীতে এর থেকে ভালো কিছু না খুঁজে অবচেতনভাবে একই অসন্তুষ্ট হবার মত জিনিস দ্বিতীয়ত বার আবার খুঁজে বের করেন। এবং বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন। এটাই কি আপনার প্যাটার্ন?"

ভদ্রমহিলা, "হ্যা!"

আমার শেক্সপিয়ারের কথা মনে পড়ল। তিনি 'As You Like It' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের সপ্তম দৃশ্যে মানুষের বয়সের সাতটি অধ্যায়ের কথা বলেছিলেন। শৈশব, শিক্ষার্থী, বয়সন্ধি, যৌবন, মধ্য বয়স, বার্ধক্য এবং শেষে মৃত্যু; জীবনের এই সাতটি স্বরূপ বোঝাতে যেয়ে শেক্সপিয়ার তাঁর সেই অসাধারণ উক্তিটি করেন, "All the world's a stage, and all the men and women merely players."

সত্যিই আমরা জীবন নাটকের রঙ্গমঞ্চে প্রত্যেকে অভিনয় করে চলেছি। নাটকে যেমন বিভিন্ন চরিত্র থাকে, ঠিক সেরকম আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র থাকে। মনস্তাত্ত্বিক ভাষায়, এটাই আমাদের 'লাইফ স্ক্রিপ্ট' বা 'জীবনের গল্প'।

মজার কথা হলো আমরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প অবচেতন ভাবে লিখি। এটা শুরু হয় জন্ম থেকে। ইদানিং আরো স্পষ্ট ভাবে নিউরোসাইন্স বলে গর্ভকালীন সময় থেকে। চার বছর বয়সের মধ্যে আমরা আমাদের 'জীবনের গল্পের' বা 'লাইফ স্ক্রিপ্টের' অপরিহার্য প্লট তৈরি করে ফেলি। ৭ বছরের মধ্যে গল্পের খুঁটিনাটি অবচেতন মনে প্রথিত হয়ে যায়। ১২ বছরের মধ্যে আমরা এটাকে ঝকঝকে করতে পলিশ করে, এখানে ওখানে ছোটখাটো বাড়তি কিছু খুঁটিনাটি অবচেতন মনে যোগ করি। বয়সন্ধিতে পরীক্ষার খাতা রিভিশন দেওয়ার মত আমরা আবার 'জীবনের গল্পটি'কে অবচেতন ভাবে রিভিশন দেই। এই রিভিশন দেয়ার সাথে সাথে বাস্তব জীবনের চরিত্রগুলোকে আরও বেশি করে গল্পের মধ্যে খাপে খাপে বসিয়ে ফেলি। মনে রাখতে হবে এই পুরো পদ্ধতিটাই কিন্তু আমরা অবচেতন মনে করছি। কারণ আমাদের অবচেতন মন সচেতন মনের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।

জীবনের এই অবচেতন মনে তৈরি হওয়া গল্পের তিনটা ভাগ থাকে। ঠিক নাটকের মতন সূচনা, মধ্যমভাগ এবং সমাপ্তি। অবচেতনভাবে তৈরি করা আমাদের এই 'লাইফ স্ক্রিপ্টে' নায়ক, নায়িকা, ভিলেন, ভাড় সহ, কিছু গুরুত্বহীন পথচারীও থাকেন।

আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি এই 'জীবনের গল্প' বা 'লাইফ স্ক্রিপ্ট' তৈরীর ঘটনাগুলোর কোনটাই আমাদের সচেতন মনের স্মৃতিতে থাকে না। পুরোটাই অবচেতন মনের কারসাজি।

তাহলে প্রশ্ন হল আমি কিভাবে বুঝব আমার 'জীবনের গল্প'টি কি লিখেছি? সেটা একজন পেশাজীবীর পক্ষেই বোঝা সম্ভব। একমাত্র 'সচেতনতা'ই হলো আমার জীবনের কি গল্পটি লিখেছি সেটি উদঘাটনের মূল চাবিকাঠি।

তাহলে এই সচেতনতা লাভের উপায় কি? উপায় একটাই। বার বার নিজের চোখে আয়না ধরা। ঝামেলা যেটা তৈরি হলো সেখানে আমার ভূমিকা কি? নিজেকে এই প্রশ্নটা বারবার করা। নিজের আচরণের প্যাটার্ন খোঁজা।

ইদানিং আমি যখন নিজের চোখে বারবার আয়না ধরি, তখন স্পষ্ট বুঝতে পারি আমি কতটা কম জানি, কম বুঝি।

বারবার নিজের চোখে আয়না ধরলে আমরা বুঝতে পারি কখন কি কি চরিত্রে অভিনয় করছি। নিজের দৈন্যতা কোন কোন চরিত্রে অভিনয় করে আমরা গোপন রাখি। কেন রাখি সেটা জানতে চাওয়াই আত্ম সচেতনতা।

এখানে একজন সাইকোথেরাপিস্ট এর পেশাগত দায়িত্ব হলো সামনে বসা মানুষটির লাইফ স্ক্রিপ্ট এনালাইসিস করা। কারণ জীবনের গল্পটি যখন আমরা উদ্ধার করে ফেলি, তখন মানুষটির জীবনটা খোলা বইয়ের মতন হয়ে যায়। সব কিছু গড়গড় করে বুঝতে পারা যায়।

মজার ব্যাপার হলো মানুষের এই 'জীবনের গল্পে'র বা 'লাইফ স্ক্রিপ্টে'র পদ্ধতির ছয়টি প্যাটার্ন আছে। Until, after, never always, almost, open ended.

এর মধ্যে আলোচ্য ভদ্রমহিলার প্যাটার্নটি হল, 'সব সময়' বা 'always' স্ক্রিপ্ট.

খেয়াল করলে দেখবেন এই স্ক্রিপ্ট যাদের সেই মানুষগুলো মানুষগুলো গল্পের সময় আপনাকে বলবে,"কেন এটা আমার সাথেই সব সময় হয়?"

আরো খেয়াল করলে দেখবেন, ওনারা যখন কথা শুরু করেন, তখন যে বিষয়টা নিয়ে আলাপ শুরু করেন, শেষের অংশে এসে সেটাতেই শেষ না করে অন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে, কথাটা শেষ করেন। যেমন শুরুতেই উনি আমাকে জানালেন যে আমি তার ৫ নাম্বার থেরাপিস্ট। তারপর একটা স্পর্শকাতর বিষয় তিনি আমাকে ছুঁতে চাইলেন আমার মধ্যে দুঃখ আছে কিনা খোঁচাটা মেরে।

এখন দুঃখ আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষই বলবেন যে হ্যাঁ আমার দুঃখ আছে।
এমনকি একটি নবজাতকের ও দুঃখ আছে, যে মা কেন বেশি কোলে নিচ্ছেন না। তাই না?

যাদের সব সময় বা অলওয়েজ স্ক্রিপ্ট, তারা যেই কাজে বা সম্পর্কে বা স্থানে অতৃপ্তি বোধ করেন সেটা বাদ দিয়ে নতুন কিছু দেখেন ঠিকই, কিন্তু অবচেতন ভাবেই ঘুরেফিরে সেই প্রথমের অপছন্দের জায়গাতেই আবার পৌঁছে যান। অবচেতন ভাবে সেটাই আবার নতুনের মধ্যে খুঁজে সেই অবস্থাতেই ফিরে যান কথাটা বেশি প্রযোজ্য। যেমন, আমরা যদি প্রিন্সেস ডায়নার ক্ষেত্রে দেখি তিনি বারবার এমন মানুষকে ভালবেসেছেন যিনি তার থেকে বয়স অনেক বড়।

গ্রীক মাইথোলজিতে অ্যারাকনি (Arachne) নামে এক চরিত্র ছিল। যিনি সূচি কর্ম বা এমব্রয়ডারিতে পারদর্শী ছিলেন। একদিন তিনি মিনার্ভা দেবীকে প্রতিযোগিতায় ডেকে নিজের সর্বনাশ করে বসলেন। দেবীর অভিশাপে তিনি মাকড়সায় পরিণত হলেন। শাস্তি পেলেন অনন্তকাল জাল বুনে যাবেন।

যাদের এই always স্ক্রিপ্ট তারা সব সময় সেই জন্য অবচেতনভাবে প্রশ্ন করেন, "আমার সাথে সব সময় (অনন্ত কাল) এমনটাই হয় কেন?"

কিন্তু উত্তরটা এত সোজা নয়। এর থেকে মুক্তির উপায় হল সচেতনতা তৈরি। আর সচেতনতা তৈরীর প্রথম ধাপটি বললাম, নিজের চোখে আয়না ধরা। অন্যের ঘাড়ে দোষটা না দিয়ে আমার কোন কোন আচরণের জন্য অন্য মানুষটি এই ব্যবহারটা করল সেটা বুঝতে চেষ্টা করা।

সব সময় আমারই কেন বিয়ে ভাঙছে, ভদ্রমহিলা যদি এই ব্যাপারটি ধাপে ধাপে না বোঝেন, তাহলে তিনি বারবার বলতে থাকবেন,"আমার কপাল খারাপ।" কিন্তু এখানে যে আসলে কপালের দোষ নেই। তিনি নিজেই অবচেতন ভাবে বিয়ে ভাঙ্গা ঘটনা তৈরি করছেন সেটা বোঝার সচেতনতা তৈরিটা জরুরী। নিয়তির দোষ দেবার প্রবণতা এদের থাকে।

পেশাজীবী হিসেবে আমার দায়িত্ব এক্ষেত্রে তার সেই সচেতনতা তৈরি করা। তারপর আস্তে আস্তে সচেতনতার ক্যানভাসটা যখন বড় হবে, তখন তিনি নিজেই একটা একটা করে কি কি কাণ্ড তিনি ঘটান সেই প্যাটার্নটা ধরতে পারবেন।

তবে আলোচ্য ভদ্রমহিলা অনেকটুকু তৈরি হয়ে এসেছিলেন বিধায় তিনি প্রথমেই জানতে চেয়েছেন কেন এমন করছেন। কিন্তু অনেকেই নিজের প্যাটার্নটি ধরতে পারেন না। সেই ক্ষেত্রে অনেকগুলো সেশন এর প্রয়োজন হয়। কারণ এরা নিজের ভুল না ধরে বারবার অন্যের ভুল ধরতে চেষ্টা করেন। ঠিক যেমন আলোচ্য ভদ্রমহিলা নিজেকে না পাল্টে বারবার স্বামীকে পাল্টাতে চেয়েছেন। যখন পারেননি তখন একাধিক বার মানুষটিকেই পাল্টে ফেলেছেন।

একটা কথা স্পষ্ট মনে রাখতে হবে, আমরা কখনোই অন্যকে বদলাতে পারবো না। শুধু নিজেকেই বদলাতে পারবো। কিন্তু সব সময় আমরা চাই নিজেকে না বদলে অন্যকে বদলাতে। এবং সেখানেই তৈরি হয় মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব।

রবীন্দ্রনাথ শেষের কবিতায় চমৎকার বলেছেন, "ভালোবাসায় ট্রাজেডি সেখানেই ঘটে যেখানে পরস্পরকে স্বতন্ত্র জেনে মানুষ সন্তুষ্ট থাকতে পারে নি – নিজের ইচ্ছা অন্যের ইচ্ছে করবার জন্যে যেখানে জুলুম – যেখানে মনের করি, আপন মনের মত করে বদলিয়ে অন্যকে সৃষ্টি করে।"

কাজেই খেয়াল রাখতে হবে বদলালে শুধু নিজেকেই বদলানো যাবে। তাও সেটাও বদলাতে হবে সচেতনতা থেকে। অর্থাৎ নিজের চোখে আয়না ধরে।

সাথে কি সক্রেটিস বলেছেন, " নিজেকে জানো।" কারণ আমাদের অবচেতন মন সব সময় একটা প্যাটার্ন ফলো করে। সচেতন না হলে আমি কখনোই আমার প্যাটার্নটি বুঝতে পারবো না।

আবার রবীন্দ্রনাথে ফিরি।
তিনি বলেছেন, "বিয়ের ফাঁদের জড়িয়ে পড়ে স্ত্রী-পুরুষ যে বড়ো বেশি কাছাকাছি এসে পড়ে, মাঝে ফাঁক থাকে না; তখন একেবারে গোটা মানুষকে নিয়ে কারবার করতে হয় নিতান্ত নিকটে থেকে। কোন একটা অংশ ঢাকা রাখবার জো থাকে না।"

আলোচ্যভদ্র মহিলা যে বারবার থেরাপিস্ট বদলেছেন সেখানে অবচেতন ভাবে একটি কাজ কিন্তু হয়েছে।
তারা ওনার প্রশ্ন করার জায়গাটি তৈরি করে দিয়েছেন যে, "আমি কি করছি?"

যারা নিজের চোখে আয়না ধরতে পারেন আমি কি করেছি বলে তাদের জন্য সশ্রদ্ধ ভালোবাসা।

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া,
চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার।
ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।

পুনশ্চ:
*বারবার বিয়ে করার প্রবণতা নারী বা পুরুষ উভয়েরই থাকতে পারে। তবে সামাজিকভাবে উপার্জন দক্ষতা বেশি থাকায়, এক্ষেত্রে পুরুষরা অধিক স্বাধীনতা পান।
*কিন্তু এই লেখা নারী পুরুষের দ্বন্দ্বকে উস্কে দেয়া বা অন্যের ভুল ধরতে জাজমেন্টাল মন্তব্য করবার জন্য নয়।
*এই লেখা নিজের চোখে আয়না ধরবার জন্য।

(আলোচ্য কথোপকথনের অংশটুকু আমার চেম্বারে আসা মানুষটির অনুমতিক্রমে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হলো।)

30/12/2025

৩১শে ডিসেম্বর এর রাত আসুন আতশবাজি ছাড়া উদযাপন করি।
কারণ পৃথিবীটা শুধু মানুষের নয়।

Address

Mohakhali DOHS
Dhaka
1206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prof. Dr. Sunjida Shahriah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Prof. Dr. Sunjida Shahriah:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category