30/01/2026
আশ্চর্য হবেন এই জ্বীন সম্পর্কে জানলে! অধিকাংশ মানুষের ধ্বংস হয়েছে, অথচ জানেই না কে টেনেছিল তাকে অন্ধকারে। আমি বলছিলাম ইবলিশের দ্বিতীয় সন্তান, আউর বা আ‘ওয়ার সম্পর্কে।
জ্বীন নিয়ে গবেষণা করতে করতে আউর সম্পর্কে যত জানি, ততই অবাক হই। আর মনে মনে দৃঢ় প্রত্যয় করি, আমি এই জ্বীনকে মানুষের কল্যাণে উপস্থাপন করব, যেন মানুষ এখুনি সচেতন হয় এবং বাঁচতে পারে জাহান্নামের সেই অগ্নিচুল্লি থেকে। আমি, ঈশান মাহমুদ, প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশনের পাশাপাশি ধর্ম, বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোকে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার চেষ্টা করি। কাজেই আজ সবাইকে অনুরোধ করব—আপনি জানুন এবং সবাইকে জানান, একজন ইসলামের খাদিম হিসেবে।
প্রথমত, ইসলামিকভাবে বিষয়টা পরিষ্কার করে, তারপর গবেষণার তথ্য জানাবো।
কুরআন বা সহীহ হাদীসে জ্বীন সম্পর্কে উল্লেখ থাকলেও সরাসরি আউর নাম দিয়ে জ্বীনের উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু কিছু তাবেঈ ও প্রাচীন ইসলামি আলেমদের বর্ণনায় এই জ্বীনের ব্যাপারে বলা আছে। ইবনে কাসীর, ইবনুল জাওযী, কুরতুবী প্রমুখ আলেমদের আলোচনায় উঠে আসে শয়তানের বিভিন্ন সহযোগী বা জ্বীনের নির্দিষ্ট শ্রেণীবিভাগ। আউর জ্বীন হলো তারই একজন। এ ছাড়াও প্রখ্যাত দুইজন ব্যক্তি আছেন যারা জ্বীনকে বসে এনেছিলেন; তারা ছিলেন তাদের অলৌকিক কেরামতিতে প্রসিদ্ধ। তাদের বর্ণনায় জানা যায়, তারা সয়ং জ্বীনদের কাছ থেকেই জেনেছেন এই আউর সম্পর্কে।
দ্বিতীয়ত, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইউকে, ইউএসে কিছু প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর এবং জ্বীন নিয়ে গবেষণাকারী আলেম এই আউর জ্বীন সম্পর্কে বহু বাস্তব ঘটনা লিখেছেন। আউর প্রজেস্ট করা রোগীকে ট্রিটমেন্ট দিতে গেলে আরও পরিষ্কারভাবে জানা গেছে।
তৃতীয়ত, এই আউর জ্বীন সম্পর্কে অনেক প্রমাণ পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনা উল্লেখ করি। উল্লেখ্য, ঘটনাটি আইনানুগ দৃষ্টি এবং ব্যক্তিসন্মানের কারণে ছদ্মনাম ও সীমা বজায় রাখা হয়েছে।
২০২২ সালে বাংলাদেশের সুনামধন্য একজন ব্যক্তির একমাত্র কন্যা তাসনিমের (১৯) উপর শক্তিশালী জ্বীন ভর করেছে বলে ফোন আসে। দেশ-বিদেশের বহু ডাক্তার ও প্রখ্যাত আলেম দেখিয়েও সমাধান হয়নি। ডাক্তার বলছে প্যারাফেলিয়া (বি/কৃ/ত যৌ/ন চাহিদা) রোগ হতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো রিপোর্ট ঠিক দেখায়, আবার কোনও ট্রিটমেন্ট কাজ করে না। বড় হুজুরগণ বলছেন খারাপ শক্তিশালী জ্বীনের আসর।
উক্ত পরিবারের আমন্ত্রণে পরের সোমবার আমরা টিমের দু'জন যাই, রোগীকে দেখতে। প্রথমে জানি যে তাসনিম নামের মেয়েটি সবার চোখের আড়ালে তার বাসায় কাজ করা ছেলে বা আত্মীয়দের মধ্যে পুরুষদের প্রলোভন দেখায় বা জোর করে ফিজিক্যালভাবে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার মা টের পেয়ে শাসনও করেছিলেন। কিছুদিন পর তাদের বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে মেয়েটি জঘন্যভাবে যৌ/না/চার আক্রমণ করে, ফলে তাকে হাসপাতাল ভর্তি করতে হয়। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। এরপর আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে যা এখানে বলা যাচ্ছেনা।
প্রথমে সুস্থ স্বাভাবিক মনে হলেও, শেষ দুই মাসে সে গুরুতর অসুস্থ। তাকে বন্দী ঘরে রাখতে হয়। উলঙ্গ থাকতে বেশি পছন্দ করে। আমরা এসব ঘটনা শুনে অবাক হয়ে যাই। সন্ধ্যার আগে পাকিস্তান থেকে একজন জ্বীন সাধক আলেম এসে বাসায় পৌঁছান। তিনি সহ আমরা একত্রিত হয়ে মেয়েটিকে দেখি।
জ্বীন সাধক হুজুর তাঁর মতো করে সব প্রসেস শেষ করে মেয়েটির চুলে গিট্রু দেন এবং কানি আঙুল ধরে কথা বলার চেষ্টা করেন। মুহূর্তেই মেয়েটির উচ্চ ধমকে আমাদের কারও স্পর্শ ছাড়াই একটি কাচের গ্লাস ও ড্রেসিং টেবিলের আয়না ভেঙে যায় অদৃশ্য কিছুর স্পর্শে। মেয়েটির ভোকাল চেইঞ্জ হয়ে যায়। চিৎকার দিয়ে বলে উঠে, “আউর আউর আউর... এদের এসে এদের সবগুলোকে চে**।”
আমি সেই হুজুরের দিকে তাকিয়ে বললাম, তিনি কিছু বুঝেছেন কিনা। হুজুর হিন্দিতে বললেন, “বুঝেন নি।” আমি বললাম, “আউর নামে আমি এক জ্বীন সম্পর্কে জানি, মেয়েটি সেই নাম ঝাপছে, যেটা ইবলিশের দ্বিতীয় সন্তান এবং জিনা ব্যভিচারে মানুষকে আকৃষ্ট করে।”
হুজুর তখন চমকে উঠে বলেন, “ঠিক ধরেছেন, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। তাছাড়া মেয়েটির ভাষা স্পষ্ট না, তাই বুঝিনি।”
আর আমি এটিই বুঝি যে, শুধুমাত্র আউর জ্বীন একটি মানুষকে প্রজেস্ট করে, কিন্ত এই পাগল পর্যায়ে নিয়ে আসবেনা। বরং মেয়েটির সাথে দুটি জ্বীন লাগছে—একটি শক্তিশালী ও আরেকটি আউর। শক্তিশালী জ্বীনটি খারাপ ও সুযোগসন্ধানী টাইপের। তাই আউর জ্বীনকে দিয়ে এমনভাবে ঘটনা ঘটাচ্ছে যেন স্বাভাবিকতার চেয়ে কঠিন মনে হয় শুধু এই মেয়েটির ক্ষেত্রে।
মানে, আউর জ্বীন বেশিরভাগ মানুষকে দিয়ে জিনা ব্যভিচার, হারাম সম্পর্ক ও শরীরে উত্তেজনা ঘটায়। কিন্তু এই মেয়েটির মতো পরিস্থিতি সবার নাও হতে পারে। মেয়েটির ক্ষেত্রে ছিল শক্তিশালী জ্বীন এবং আউর (দুটি) তাই এমন হয়েছে।
ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গেছেন, আউর জ্বীনের অস্তিত্ব সত্য। এবং মেয়েটির ঘটনা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, আউর জ্বীনের মূল কাজ হলো—জিনা ব্যভিচার, পরকীয়া এবং অনৈতিক কাজে মানুষকে লিপ্ত করা। সে মানুষকে ধাপে ধাপে জিনা ও ব্যভিচারের দিকে ঠেলে দেয়। প্রথমে চোখ দিয়ে ঢোকে, হারামকে সুন্দর দেখায়, তারপর ফিসফিস করে—
“এটা তো শুধু কথা… এটা তো ভালোবাসা…”
একসময় মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না, কখন সে সীমা পেরিয়ে গেছে।
আজ সমাজে যা দেখি—গোপন চ্যাট, পরকীয়া সম্পর্ক, সংসার ভাঙন, মানসিক অস্থিরতা—সবই শুরু হয় একটি হারাম দৃষ্টি এবং একটি শয়তানি প্ররোচনা থেকে। অনেকে অস্বীকার করে বলে, “এটা জ্বিনা না।”
কুরআন আমাদের বলে, “জ্বিনার কাছেও যেও না।”
রাসূল (সা) মেরাজের রাতে দেখেছেন, কিছু নগ্ন নারী–পুরুষ আগুনভরা চুল্লিতে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। জিজ্ঞেস করা হলে বলা হয়—
“এরাই জ্বিনা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল।”
— সহীহ বুখারী (মেরাজের হাদীস)
কাজেই, জিনা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকার জন্য আউর সম্পর্কে জানা জরুরি। যেন এমন অনৈতিক কার্যকলাপে জড়ানো না হয় এবং জাহান্নামের আগুনের চুল্লিতে নিক্ষিপ্ত না হওয়া লাগে।
ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেকেই এই পথে চলছে, কিন্তু পরিণতি জানে না। আর জানলেও দেরি হয়ে যায়। এখনো সময় আছে। নিজে বাঁচুন, অন্যকেও সতর্ক করুন।
এই পোস্টটি শেয়ার করুন—হয়তো আপনার শেয়ারটাই কারো হারাম পথে যাওয়া থামিয়ে দেবে ইনশাআল্লাহ্।
ে_বিয়ে_করার_অত্যন্ত_প্রভাবশালী_কার্যকর_পদ্ধতি
#বিস্ময়কর_অলৌকিক_কোরআনিক_চিকিৎসা
#ইলমে_তাসাউফ