05/05/2026
আজকে মনটা বেশ ভালো। অনেকদিনের একটা গলার কাঁটা অবশেষে দূর হলো। কয়েকদিন আগে আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম—চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে। সেখানে আমরা নতুন Epson L18050 প্রিন্টার পাঠিয়েছিলাম। আমার ছেলেটা গিয়ে সেটআপ করার পর দেখে আমাদের নতুন প্রযুক্তির এক্সরে ফিল্মে ছবি সাদা আসছে। আমরা মোটামুটি বুঝেই নিয়েছিলাম, সমস্যাটা সম্ভবত উইন্ডোজ বা সিস্টেমে, কিন্তু ক্লায়েন্টকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি। তাই বললাম, “সমস্যা নাই ভাই, আমরা দেখি।”
পরের দিন ঢাকা থেকে আরেকটা প্রিন্টার পাঠালাম—Epson L1300 সেকেন্ড হ্যান্ড। কিন্তু ওটাতেও একই সমস্যা। তখন ক্লায়েন্টকে বললাম, “ভাই, আমরা ঢাকায় এনে চেক করি। নতুন প্রিন্টারের সমস্যা হওয়ার চান্স খুব কম।”
উনার অনুরোধে পুরনো প্রিন্টারটা ওখানেই রেখে আসলাম, কারণ সেটা না হলে ওনার কয়েকদিনের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।
আমরা নতুন প্রিন্টার ঢাকায় এনে অফিসের তিনটা কম্পিউটারে টেস্ট করলাম—সব ঠিক। এরপর নতুন প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট করা ফিল্ম কুরিয়ারে পাঠালাম। উনারও পছন্দ হলো। এখান থেকেই শুরু হলো আসল ঝামেলা। উনি প্রিন্টারটা নিতে রাজি না, আবার আমাদের প্রিন্টারও ফেরত দেন না। আমি বললাম, “ভাই, তাহলে আপনি ক্ষতিপূরণ দেন।”
উনি তাতেও রাজি না। এভাবে প্রায় ১৪ দিন চলে গেল—কথা ঘুরানো, তালবাহানা, কিন্তু কোনো সমাধান না।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমি একটু কঠোর হলাম। বললাম, “এভাবে চললে আমি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।”
তারপর বিষয়টা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলাম। অনেকেই দেখেছেন, পোস্টটা ভাইরালও হয়েছে। এরপর স্থানীয় এক ছোটভাই ফোন দিয়ে আমাকে বললো, “ভাইয়া, আপনি বলেন, আমরা গিয়ে টাকা উঠায় আনি।”
তবে তার আগেই ওই ব্যক্তি টাকা দিয়ে দেয়।
কিন্তু সমস্যাটা এখানেই শেষ হয়নি। প্রিন্টারটা ঢাকায় পড়ে রইলো। নতুন কাস্টমারদের আমি পুরো ঘটনাটা খুলে বলি—“ভাই, এটা নতুন প্রিন্টার, কিছু ঝামেলা হয়েছিল, কিছু ক্ষতিপূরণও পেয়েছি, আপনি চাইলে অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারেন।”
কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই কেউ রাজি হচ্ছিল না।
আজকে দিনাজপুরের এক পুরনো ক্লায়েন্ট, গত তিন বছর ধরে নিয়মিত আমার কাছ থেকে ফিল্ম নেয়, তার একটা নতুন প্রিন্টার দরকার ছিল। আমি তাকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললাম। সে একদম শান্তভাবে বললো, “ভাইয়া, আপনি যা বলছেন আমি ১০০% বিশ্বাস করি। টাকা পাঠাচ্ছি, আপনি পাঠায় দেন।”।।
সে ইতিমধ্যে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে আর আমরা প্রিন্টারটা কুরিয়ারে করে দিয়েছি।
এই পুরো ঘটনাটা আবার মনে করিয়ে দিল—ব্যবসায় সবচেয়ে বড় অ্যাসেট প্রোডাক্ট না, দাম না, এমনকি সার্ভিসও না। সবচেয়ে বড় জিনিসটা হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। একবার বিক্রি করলে ব্যবসা হয়, কিন্তু বারবার বিক্রি হলে—ব্র্যান্ড তৈরি হয়।