29/04/2026
এই বিষয়টাকে এককথায় “সম্ভব” বা “অসম্ভব” বলা ঠিক নয়। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বুঝতে হবে।
১. মূল নীতি: ক্ষতি-উপকার আল্লাহর হাতে
আল্লাহ বলেন:
“তারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া।”
— সূরা বাকারাহ ২/১০২
👉 অর্থাৎ, জাদু থাকলেও তার প্রভাব আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
২. কুরআনই প্রকৃত শিফা
আল্লাহ বলেন:
“আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
— সূরা ইসরা ১৭/৮২
👉 তাই রুকইয়াহ (কুরআনভিত্তিক চিকিৎসা) কার্যকর—
তবে শর্ত হলো: শিরক, বিদআত ও অজানা পদ্ধতি থেকে মুক্ত হতে হবে।
৩. “দূর থেকে রুকইয়াহ” আসলে কী?
যা শরীয়তসম্মত:
✔️ দূরে বসে কারো জন্য দো‘আ করা
✔️ তার জন্য কুরআন পড়ে আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়া
➡️ দো‘আতে দূরত্ব কোনো বাধা নয়।
যা সন্দেহজনক বা ভুল:
❌ “আমি দূর থেকেই জাদু কেটে দিচ্ছি”
❌ “না দেখেই বলে দেব কে জাদু করেছে”
❌ “ভিডিও/কলেই সব ঠিক করে দেব”
➡️ এসব দাবি সাধারণত ভিত্তিহীন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা।
৪. নবী ﷺ–এর ঘটনা থেকে শিক্ষা
হাদীসে এসেছে—নবী ﷺ জাদুগ্রস্ত হলে:
✔️ সরাসরি চিকিৎসা করা হয়
✔️ জাদুর বস্তু বের করা হয় (ওহীর মাধ্যমে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে)
👉 এখান থেকে বুঝা যায়—
ইসলাম আমাদেরকে “গায়েব বলে দেওয়া” বা অনুমানের উপর নির্ভর করতে শেখায় না।
৫. সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি
✔️ রুকইয়াহ হবে কুরআন ও সহীহ দো‘আ দিয়ে
❌ “কে জাদু করেছে” বা গায়েবের খবর দেওয়া—নাজায়েজ
৬. সংক্ষেপে সঠিক অবস্থান
✔️ দূর থেকে দো‘আ করা → জায়েজ
✔️ কুরআন পড়ে শিফা চাওয়া → জায়েজ
❌ দূর থেকে নিশ্চিতভাবে “জাদু কেটে দেওয়া” দাবি → প্রতারণা
❌ গায়েব জানার দাবি → হারাম
৭. বাস্তব পরামর্শ
* অযথা আতঙ্কিত হবেন না
* আগে শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা যাচাই করুন
* নিজে নিয়মিত কুরআন পড়ে রুকইয়াহ করুন
* সহীহ আকীদার আলেম/রাকীর শরণাপন্ন হন
* অলৌকিক দাবি করা লোকদের এড়িয়ে চলুন
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিফাজত করুন এবং সঠিক বুঝ দান করুন।
Info @ 01972668345