18/08/2023
ভারতে চিকিৎসা করতে গিয়ে হাজারো বিড়ম্বনার কথা.... (vlog 1)
আমি গত ২০২২ ইং এর আগষ্ট মাসে বাংলাদেশ থেকে ভারত এর ভিসা নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমার স্ত্রী ও ছোট ভাই সহ ভারতে যাই।
যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসা নিতে গিয়ে এক শ্রেণীর দালাল এর চক্করে পরে বিরম্বনার শিকার হতে হয় এবং অর্থ দন্ড হয়। যদিও পরবর্তী পর্যায়ে আমার এক বন্ধুর সহযোগীতায় বিআরটিসিশ্যামলীএনআর পরিবহণে ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ১২ টায় যাত্রা করে পরের দিন দুপুর ১ টায় কলকাতার প্রাণকেন্দ্র মারকুইয স্ট্রিটে পৌছাই। অবাক করা বিষয় হল বাস থেকে নামার সাথে সাথে আবারও দালাল চক্রে খপ্পরে পরে দিশেহারা অবস্থা হয়। এক জন ব্যাগ ধরে টানে, অন্যজন সুটকেশ ধরে টানে অর্থাথ হোটেল এ থাকার বিষয় নিয়ে টানাপোরণ চলে। এক পর্যায়ে ওদের নির্ধারিত হোটেলেই যেতে হয় । কেননা তখন কোলকাতায় প্রচন্ড বৃষ্টি চলছিল, এবং পরিবার সাথে থাকায় অন্যত্র হোটেল খোজার চেষ্টাও করতে পারিনি।
রাতে বাইরের হোটেলে খেতে যেয়ে এক বাংলাদেশী বন্ধুর সাথে দেখা হল, যেহুতু বর্তমান আমার হোটেল এর ভাড়া প্রতিদিন ১৫০০ রুপি। এজন্য আমার বন্ধুর সাথে কাছাকাছি কম ভাড়ায় হোটেল পাওয়া যায় কী না এ বিষয় আলাপ করলাম। আমার বন্ধু তো এত টাকা ভাড়ার কথা শুনে মাথায় হাত দেন, কেননা আমাকে কলকাতা থেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য যেতে হবে ভেলোর এ। বন্ধু বলল আপনার তো হোটেল ভাড়া এবং খাওয়া বাবদ আপনার টাকা শেষ হয়ে যাবে চিকিৎসা করবেন কী দিয়ে ?
পরবর্তীতে আমার বন্ধু ৭০০ রুপি দিয়ে মানসম্মত হোটেল এর ব্যবস্থা করে দিলেন, এবং বললেন আজ রাতে হোটেল কতৃর্পক্ষকে জানিয়ে দিবেন আগামী কাল সকাল ১১ টার মধ্যে রুম ছেড়ে দিচ্ছেন। সেই সাথে উনি কম দামে ভাল খাবার হোটেল এর ব্যবস্থাও করে দিলেন। পরবর্তীতে ভেলোর এর ট্রেনের টিকিট পাওয়ার জন্য চারদিন কলকাতায় থাকতে হয়। যদি উনি টিকিট এর ব্যবস্থা না করতেন, আমার অজ্ঞতার জন্য আমাকে আরও বেশিদিন কলকাতায় থাকতে হত।
যথারীতি ট্রেনের টিকিট কেটে ভেলোর এ যখন পৌছাই তখন রাত ১০ টা বাজে। আমি তো ভেলোর এর পথঘাট হোটেল কিছুই চিনি না। এক তামিল ভদ্রলোককে শ্রীনারায়ণি হসপিটাল এ চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলাতে উনি আমাকে আরেকটি বাসে উঠিয়ে দিলেন শ্রীনারায়ণি হসপিটাল এ যাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে পৌছাই রাত ১০:৩০ টায় কিন্তু থাকা খাওয়ার জন্য কোন হোটেলই খুজে পাচ্ছিলাম না। এমনিতে ৩০ ঘন্টা ভ্রমণ করে আমরা অনেকটা ক্লান্ত। এ অবস্থায় আবার এক তামিল ভদ্রলোকের শরণাপন্ন হই। উনি আমাদেরকে বেশ কয়েকটি হোটেল এ রাখার জন্য চেষ্টা করলেন কিন্তু কোন হোটেলেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর কাগজ ছাড়া রাখতে সম্মত হল না।পরিশেষে বাধ্য হয়ে উনি এক হোটেল ম্যানেজার এর সাথে গোপনে কথা বলে একটি হোটেল এ তিন দিন থাকতে হবে এই শর্তে ২৫০০ রুপি জমা দিয়ে হোটেল এ উঠলাম। প্রচন্ড ক্ষুধার্থ বিধায় খাবার কেনার জন্য বাইরে আসলাম তখন রাত ১১ টা ।
আমার কপাল ভাল ,খাবার কিনতে গিয়ে দেখি এক বাঙ্গালী দম্পতী খাবার খাচ্ছেন। আমি উনাদেরকে আমার হোটেলে থাকারসমস্যার বিষয়টা খুলে বললাম। উনি ও আমার সেই কোলকাতার বন্ধুর মত বললেন এখন হোটেল এ গিয়েই আপনি ম্যানেজার কে বলবেন যে আপনি এখানে চিকিৎসা করবেন না। আমাদেরকে সিএমসি হসপিটাল এ যেতে হবে বিধায় আগামীকাল ৬ টায় রুম ছেড়ে চলে যাব। পরবর্তীতে ম্যানেজার টাকা ফেরত দিতে অনেক ঝামেলা করে ১০০০ রুপি কেটে রেখে পরদিন ভোরে ফেরত দেয়।
আমার বন্ধুর কথামত ৬টায় হোটেল ছেড়েই শ্রীনারায়ণি হসপিটালে দেখা করি। ১ ঘন্টা পরে আমাদেরকে নিয়ে উনি ভেলোর এ সিএমসির সামনে প্রতিদিন ৩০০ রুপি হোটেলে আমাদেরকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সাথে সাথে হোটেল এর রুমের ভিতর রান্না করে খাবার ও ব্যবস্থা করে দেন।
এমনি ভাবে ১৩ দিন থেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমার অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক টাকা এবং সময় লোকশন দিয়ে দেশে ফেরত আসতে হয়েছে। এই ক্ষতি আমার হত না যদি আমি বাংলাদেশ থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাহায্যে নিয়ে ট্রেনের টিকিট, হোটেল, হসপিটাল, ডাক্তার সব ঠিক করে গেলে আমাকে এই বিড়ম্বনায় পড়তে হত না।
এটি আমার জীবনে বড় শিক্ষা হিসেবে থাকলো।
Copy right content; Medical Vlog 1, unauthorized copying subject to DMCA and prevailing Digital Law.