08/04/2026
একটা হাসপাতালে এক মেয়ে নার্সের চাকরি করে। তার একজন পুরুষ সহকর্মী আছে, যে সবসময় তাকে হেল্প করে। রিক্সা ডেকে দেয়, অতিরিক্ত কাজ করে দেয়, মাঝে মাঝে মেয়েটার হয়ে প্রক্সিও দেয়। বেশ কয়েকবছর ধরে একসাথে চাকরি করে। এতদিনে মোটামুটি পরিচিত হয়ে গেছে।
একদিন হাসপাতালে একটা ছেলে বাইক অ্যাক্সিডেন্ট করে ভর্তি হলো। মেয়েটা ডিউটি পেল ওই অ্যাক্সিডেন্টের রোগীর।
এখন, আপনি কি জানেন, ওই নার্সের তার সহকর্মীর চাইতে ওই রোগীর প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা বেশী? যদিও সে মাত্র অল্প কয়েকদিন হলো তাকে নার্সিং করছে, পেশাগত কাজের বাইরে তেমন ইন্টারঅ্যাকশন হয়নি।
সাইকোলজির ভাষায় এটাকে বলে 'ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ইফেক্ট'। এর উপর ভিত্তি করে বহু গল্প-উপন্যাস-নাটক রচিত হয়েছে।
কিন্তু এর কারণটা কী আসলে? স্বাভাবিক বিবেচনায় মেয়েটার তো তার সহকর্মীর প্রেমে পড়ার কথা ছিল, তাই না? সে এতদিনে এত কিছু করেছে তার জন্য।
এখানেই আসে একটা সাধারণ সত্য। নারী তারই প্রেমে পড়ে, যাকে সে সেবা দিচ্ছে।
পুরুষের আবার একদম উল্টো, যার কাছ থেকে সেবা পায়। ওই যে শুনেছেন না, 'পুরুষের মনের দরজা তার পেট'।
নারী-পুরুষের এই বিপরীতমুখী স্বভাবের কারণেই দুনিয়ার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হাজার বছর ধরে টিকে আছে।
সিম্পের দল ঠিক এখানেই ভুলটা করে। তারা ভাবে, যদি আমি এই নারীর পিছনে আমার টাকা, সময় বা অ্যাটেনশন দিই, তাহলে আমি তার কাছে সুযোগ পাবো। কিন্তু আপনারা অলরেডি জানেন, এরকম আসলে হয় না।
আপনারা রিয়েল লাইফে অন্ততঃ এরকম একজন সিম্পকে চেনেন, যে মেয়েদের পড়াশোনায় হেল্প করে, অ্যাসাইনমেন্ট করতে হেল্প করে, বা রিকশা ডেকে দেয় - কেবল একটু অ্যাটেনশনের আশায়। অথচ এরকম ঘটনা তো খুবই কমন, যে মেয়েটার অ্যাসাইনমেন্ট করে দিচ্ছে তার সময় বাঁচাতে, মেয়েটা আবার করছে তার বয়ফ্রেন্ডের অ্যাসাইনমেন্ট ।
ভার্সিটিতে আমাদের ব্যাচেও এরকম একটা ছেলে ছিল। তিন-চারটা মেয়ের একটা গ্রুপকে সে এমন কোন হেল্প নেই যে করেনি। নিজের সিজিপিএ কুরবানি দিয়ে সারাক্ষণ ওদের সময় দিয়েছে। অথচ ফাইনাল ইয়ার আসতে আসতে সবগুলো মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আমাদের সিম্প ছেলেটা পেল কেবল বিয়ের দাওয়াত।
নারীরা পুরুষের প্রতি ফিলিং ডেভলপ করে একটু ধীরে। আবহমান কাল ধরে বিয়ে ছিলো অনাত্মীয় দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক তৈরীর উপায়। স্বামী-স্ত্রী বিয়ের আগে সেইভাবে বা একেবারেই চিনত না। স্বামী পুরো দুনিয়া সামলাতো, আর স্ত্রী স্বামীকে দেখে রাখতো। এই দেখে রাখার ব্যাপারটা প্রকাশিত হয় সেবার মাধ্যমে। এটা স্ত্রীর লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ।
আমাদের দেশের হারাম রিলেশনের বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে এখানেই। একজন-আরেকজনকে পছন্দ করে, ফাইন, কিন্তু তারা দিনের ১৫-২০ ঘন্টাই থাকে আলাদা। ফলে তাদের যে অসহ্য ফিলিং ডেভলপ হচ্ছে, সেটা আসলে কিউরিসিটি। এদেরই যখন বিয়ে হচ্ছে, কিউরিসিটি আর কতক্ষণ থাকে? কিছুদিন পর সেটা উধাও, সাথে সম্পর্কও। এজন্য এই ডেমোগ্রাফিকটার মধ্যে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক ডিভোর্সের হার সবচেয়ে বেশী।
নারীদের যে উড়নচন্ডী পুরুষের প্রেমে পড়ার প্রবণতা, সেখানেও একই সাইকোলজি। একটা বখাটে ছেলের মধ্যে সে 'রুম ফর ইম্প্রুভমেন্ট' দেখে, সেখানে সেবা দেবার সুযোগ রয়েছে, যেহেতু বখাটে ছেলেটা নিজের খেয়াল রাখতে পারে না। একই কথা আর্টিস্ট ছেলেদের ক্ষেত্রেও, কারণ এরা অগোছালো হয়।
কিন্তু একজন এভারেজ-নাইস গাইয়ের মধ্যে নারী সেই রুমটা পায় না। একে তো তার লাইফ তেমন 'ফান' না, তার উপর সে নিজের কাপড় নিজেই ইস্ত্রি করে, তাকে সেবা দেওয়ার জায়গাটা কোথায়?
--
আশা করি বুঝতে পেরেছেন।... #নার্স
✍️আহমাদ খান
Follow: 𝐔𝐍𝐅𝐀𝐙𝐄𝐃