07/08/2016
Some of You may try this !
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনন্য বিস্ময় নাকি প্রতারণার নতুন পথ ?
বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা হল এরা ডাক্তার আর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বাকি সবার কথাই বিশ্বাস করে চোখ বন্ধ করে।কবিরাজ বলেন, হুজুর বলেন, সাংবাদিক বলেন কিংবা সিস্টার বা ব্রাদার কিংবা পাড়ার ওষুধের দোকানদার। আপনি রোগ ধরার জন্য ২ টা টেস্ট দেন, দেখা যাবে বের হয়ে বলতেছে এত টাকার টেস্ট করাতে দিছে, নিশ্চয় কমিশন খায়, ডাক্তার কিছু পারেনা কিংবা আমি গরীব এত টাকার টেস্ট করাবো কিভাবে?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে নিত্য নতুন প্রযুক্তি আসছে প্রতিদিন, সাথে সাথে মানুষকে ঠকানোর নতুন নতুন পথ উন্মোচন হচ্ছে। দেশে এখন এসে গেছে Quantum Resonance Magnetic Analyser (QRMA). ম্যাগনেটিক রেসোনেন্সের মাধ্যমে নাকি শরীরের যেকোন রোগ ধরা যায় এটা দিয়ে। সময় লাগে মাত্র ১ মিনিট। কোন কাটা ছেড়া নেই, রক্ত, প্রস্রাব বা অন্য কোন কিছু দেয়ারই ঝামেলা নেই, শুধুমাত্র হাত দিয়ে মেশিনের সেন্সর ১ মিনিট ধরে রাখলেই হয়। World Media Human Resorces নামের একটি NGO এই মেশিনের মাধ্যমে কার্্যক্রম পরিচালনা করছে, যাদের প্রধান অফিস নাকি যাত্রাবাড়ীতে। সারা দেশে এদের অনেক গুলো টিম নাকি কাজ করছে। তাদের ভাষ্য মতে ২ বছর আগে দেশে প্রথম এই মেশিন আনা হয়েছে, এখন প্রায় ২০০০ মেশিন আছে সারা দেশে। এরা দাবী করছে, ১ মিনিটের মধ্যে শরীরের যেকোন সিস্টেম, যেকোন অর্গানের রোগ ধরতে পারে। এর জন্য তারা নিচ্ছে মাত্র (!!!!) ৬০০ টাকা। ৬০০ টাকায় ফুল বডি চেকাপ, সাথে ডাক্তারের প্রেসকক্রিপশন। একেক দিন একেক জায়গায় প্রোগ্রাম করে।প্রোগ্রাম করার আগের দিন মাইকিং করা হয়, লিফলেট বিলি করা হয়। রোগী পায় ৪০-৫০ জন। কোন রকম ব্লাড, ইউরিন স্যাম্পল ছাড়াই মেশিনে বলে দিচ্ছে, কোন ভিটামিনের অভাব আছে, কোন মিনারেলের অভাব আছে, কোন এমিনো এসিডের অভাব আছে, জন্ডিস আছে কিনা, ব্রেইনে রক্ত চলাচল ঠিক আছে কিনা, হার্টে রক্ত চলাচল ঠিক আছে কিনা, হাড়ের ক্ষয় আছে কিনা, দাতের ক্ষয় আছে কিনা, চোখের সমস্যা আছে কিনা, বাইল ঠিক মত বের হচ্ছে কিনা, গোনাডোট্রপিন হরমোন ঠিক মত বের হচ্ছে কিনা, ঘুম ঠিক মত হচ্ছে কিনা, কন্সটিপেশন আছে কিনা, রক্তে চর্বি আছে কিনা, পেরিফেরাল ইসকেমিয়া আছে কিনা, ডায়াবেটিস আছে কিনা, সারবাইকাল, লাম্বার ক্যালসিফিকেশন আছে কিনা, থাইরয়েডের সমস্যা আছে কিনা, ইরেক্টাইল ডিস্ফাংশন আছে কিনা, মহিলাদের PID, Cystitis, Vaginitis, Leukorrhoea আছে কিনা, এই সবই এক মিনিটের মধ্যে বের হয়ে যাচ্ছে।By the way,উপরোক্ত রোগ বের করার জন্য কিন্তু কোন হিস্ট্রি নেয়া হয়না রোগী থেকে। তারা নিজেরা দাবী করছে এই রিপোর্ট নাকি ৬০-৭০% একুরেট। এখন নাকি আরো ভালো একুরেসির মেশিন বের হয়েছে। ও আরেকটা কথা হল তারা মেশিন টি আনিয়েছে নাকি জার্মানী থেকে দাম পড়েছে ৩০ হাজার টাকা। বিদেশের নাকি অনেক জনপ্রিয় এটা, দিন দিন আরো জনপ্রিয় হচ্ছে।ঢাকায় নাকি অনেক বড় বড় স্যারের চেম্বারেও এখন এই মেশিন। বুঝতেই পারছেন অবস্থাটা।
এখন আসি কিভাবে পরিক্ষা করা হয়। যেহেতু এটা ম্যাগনেটিক মেশিন, তাই কোন ম্যাগনেটিক ধর্মী জিনিস সাথে থাকা যাবেনা। তাবিজ, চুড়ী, গলার হার, চাবী, মোবাইল দূরে রেখে আসতে হবে, পায়ে জুতা থাকতে হবে, কাউকে এই সময় ছোয়া যাবেনা, কথাও বলা যাবেনা। পরীক্ষার জন্য লাগছে QRMA মেশিন সাথে একটি ল্যাপটপ । ল্যাপটপে আগেই মেশিনের দরকারী ড্রাইভার ইন্সটল করা আছে।মেশিনে প্রবেশ করানো হচ্ছে রোগীর নাম, জন্ম সাল (বয়স নির্ধারণের জন্য), উচ্চতা, ওজন। মেশিনের একটা সেন্সর হাত দিয়ে ধরে থাকতে হবে, ল্যাপটপে প্রসেসিং চলবে, ১ মিনিট পর রিপোর্ট বের হয়ে আসবে ।এই ১ মিনিটে মেশিনে লাল নীল সবুজ বাতি জলছে আর সেকেন্ড উঠছে আর ল্যাপটপে সুন্দর এনিমেশন চলছে। তারা প্রিন্টেড রিপোর্ট দিতে পারছে না কারণ, পুরো শরীরের রিপোর্ট প্রিন্ট করে দিতে নাকি ১০০-১২০ পৃষ্ঠা লাগবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রিপোর্টে আসছে Osteoporosis, Fe, Zn def, Multivitamin Def, Cervicitis, Vaginitis,CHronic Mastitis মাঝে মাঝে মাইট্যা জন্ডিস, বয়স একটু বেশি হলেই আসতেছে Myocardial Ischaemia, Cholesterol Crystal in heart,Cardiac Ischaemia (মায়োকার্ডিয়াল, কার্ডিয়াক ইস্কেমিয়ার মধ্যে পার্থক্য কি জানিনা) Hyperlipidemia, Reduced blood supply to brain, Peripheral Ischaemia, একটু মোটা হলেই Increased TG, Fatty liver, Hyperuracemia, Proteinuria . মাঝারী পুরুষ হলে মাঝে মাঝে Erectile Dysfunction, Fatty liver, Insomnia এইসব ।ইন জেনারেল Hyperacidity আসতেছে। এই মেশিন দিয়ে নাকি ক্যান্সার ও ধরা যায়। মেশিনের ম্যানুফ্যাকচারার রা দাবী করছে, দেহের সব কিছুরই একটা ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে, ওটার অবস্থা মেপেই এইসব রিপোর্ট বের হচ্ছে।(ইন্টারনেটে বলছে ক্যন্সার সেল তো আর ম্যাগনেটিক না, তাহলে কিভাবে ক্যন্সার ধরা পড়বে !!!) রিপোর্টে আসলে আসছে বিভিন্ন লেভেল, তাদের টেকনিশিয়াল সেটা দেখে উপরোক্ত ডায়াগনোসিস বলে দিচ্ছে। তারপর ডাক্তার মেডিসিন লিখে দিচ্ছে সমস্যা দেখে দেখে।
এখন আসি আসলে কি ঘটছে। কিভাবে এই ম্যাজিক হচ্ছে। তার আগে তাদের মুখের সুন্দর একটা গল্প বলে নেই। সর্বপ্রথম নাকি মহাকাশচারীদের জন্য এটা বানানো হয়। যেহেতু মহাকাশে পরীক্ষার যত্রপাতি নাই, তাই তারা এটা নিয়ে যেতো, এটার রিপোর্ট দেখে পৃথিবী থেকে বলে দিতো কি মেডিসিন খেতে হবে। 😃 😃 😃 । ইন্টারনেটের কল্যাণে এই যন্ত্রের কারসাজী ধরতে ১০ মিনিট ও লাগেনি আমার। এই মেশিন জনপ্রিয় হচ্ছে চায়নায়, বলা হচ্ছে এখানেই এর জন্ম। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ব্লগ, ফোরামে এটাকে Scannning না বলে বলছে Scamming.ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন এটা নিয়ে।অনেক ইউটিউবার তাদের নিজ উদ্যোগে যন্ত্র কিনে পরীক্ষা করে কি হয় বের করেছেন। তাদের মতে এখানে QUantum বা Magnetic এর কিছুই নেই, পুরোটাই বোগাস।যে সেন্সর আছে সেটা খুবই সহজ একটা সুইচ বা সার্কিট এর মত কাজ করছে যেখানে ২ টি বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু বা কন্ডাকটর একটা প্লাস্টিক দিয়ে আলাদা করা, হাত দিয়ে ধরলেই সার্কিট পুর্ণ হয়ে যাচ্ছে, যেটাকে মেশিন হাত বলে চিহ্নিত করছে। ড্যানিশ ইউটিউবার Jorgen A. Jacobsen নিজ দায়িত্বে মেশিন কিনে পরীক্ষা চালিয়েছেন যা আসলেই মেশিন কাজ করে কিনা। ইউটিউবে ভিডিও আছে তার। লিংক হচ্ছে । তার ভাষ্যমতে "I imported 2 different QRMA late 2012 from most renown QRMA selling companies I could find in China.They have many notes on their site warning about fake analyzers, and claim they are the manufacturers, and they display certifications, so maybe they know what they are doing. I took the analyzers through some systemic testing. I quickly found that I could use a wet paper cloth or a resistor instead of a human hand." জ্যাকবসন তার ভিডিওতে দেখিয়েছেন তিনি হাতের বদলে একটা ভেজা কাপড় ব্যবহার করেছেন সেন্সরে, আর মেশিন সেটাকে হাত ভেবে প্রসেসিং করে হেলথ রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে । 😃 😃 😃 তার মধ্যে ভেজা কাপড়ের টুকরোর "Moderately Abnormal Cardiovascular health" ও আছে। 😃 😃 😃 এটা নাহয় গেল সেন্সর, তাহলে রিপোর্ট আসছে কোথা থেকে ? জ্যাকবসন তার একই ভিডিওতে দেখিয়েছেন রিপোর্ট গুলো আসলে আসছে র্যানডমলি। মেশিনের সফটওয়ারে যে তথ্য প্রবেশ করানো হচ্ছে (নাম, জেন্ডার, বয়স, ওজন, উচ্চতা) সেগুলো থেকেই র্যানডমলি রিপোর্ট জেনারেট করছে।
জ্যাকবসন এর ভাষ্যমতে, "The results must display come from the data we put in; age, gender, height, weight. From that the software can make many things seem like a hit to believers. That animation running when there is contact, may look fancy, may look impressing, but I am quite sure that it is just the same animation over and over". 😃 😃 😃
আরেকজন ইউটিউবার ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উপসংহার টেনেছেন এভাবে, "The sensor which is supposed to detect the very feeble electromagnetic waves is nothing more than two plates separated by an non-conductive plastic, and when held by hand, this completes the circuit due to skin resistance. I totally removed the sensor and replaced it with a resistor that stimulates the skin resistance. I found oout that my resistor is suffering from blood sugar imbalance (it's diabetic):D 😃 😃 and it has problems in its kidneys 😛 😛 😛"
বুঝতেই পারছেন দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা। আপনাকে ২০০ টাকা দিয়ে কসাই বানাচ্ছে, আর এই ম্যাজিক মেশিনের জন্য ৬০০ টাকাও দিতে কারো একটুও কষ্ট লাগছেনা, বরং মেশিনের টেকনিশিয়ানই বলে দিচ্ছে এখানকার যেকোন ২ টা টেস্ট ক্লিনিকে করাতে গেলেই আপনার ১০০০-২০০০ টাকা চলে যাবে। পরীক্ষা করতে ৬০০ দিলো তারপর ডাক্তার ৮-১০ তা মেডিসিন লিখে দিল সেটা কিনতে ৫০০-৬০০ টাকা পেছন দিয়ে বের হয়ে গেল। কিন্তু রোগী খুবই খুশি কারন এত কম টাকায় (!!!!) পুরা বডি চেকাপ করে ফেলা গেল আবার ফ্রিতে ডাক্তারের প্রেসকিপশন ও পাওয়া গেল। চলেন সবাই পড়ালেখা বাদ দিয়ে এক খানা করে মেশিন কিনে বসে ব্যাবসা শুরু করে দেই। কোন খরচ নাই, পুরোটাই লাভ।:P 😛 :P