20/01/2026
সিজারের পর ২৪ ঘণ্টায় মায়ের শরীরে কী কী ঘটে?”
এই ২৪ ঘণ্টা একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও সংবেদনশীল সময়। বাইরে সব চুপচাপ মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে শরীরে চলছে বিশাল পরিবর্তন। জানলে আপনি সত্যিই অবাক হবেন।
সিজারের সময় পেটের ৭টি স্তর কাটা হয়—চামড়া, মাংস, জরায়ু সবকিছু। অপারেশনের সময় দেওয়া অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব ৬–১২ ঘণ্টার মধ্যে কমতে শুরু করে । তখন স্নায়ুগুলো আবার সচল হয়, ক্ষতস্থানের সংকোচন শুরু হয়—এ কারণেই ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে নড়াচড়া করলে বা কাশি দিলে ব্যথা বেশি লাগে।
কাঁপুনি আসে কেন?
অনেক মা অপারেশনের পর হঠাৎ কাঁপতে শুরু করেন—এটা খুব স্বাভাবিক । অ্যানেসথেসিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া, মানসিক চাপ ও ভয়।
এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমে যায়।
সিজারের সময় অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়।
ফলে—
পেটে গ্যাস জমে ,পেট ফাঁপা লাগে ,বুক বা কাঁধ পর্যন্ত ব্যথা উঠতে পারে
হাঁটাচলা শুরু করলে ও গরম তরল খেলে ধীরে ধীরে গ্যাস কমে।
প্রথম ১২–২৪ ঘণ্টা দাঁড়ানো যেন যুদ্ধ । কারণ: পেটের গভীর কাটাছেঁড়া,
পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, মানসিক ভয় তবুও ডাক্তাররা হাঁটতে বলেন, কারণ হাঁটলে গ্যাস কমে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে ,সেরে ওঠা দ্রুত হয়
স্যালাইন ও প্রস্রাবের নল কেন থাকে?
এই সময় মায়ের শরীর দুর্বল থাকে। তাই স্যালাইন → পানি ও ওষুধ সরবরাহের জন্য প্রস্রাবের নল → মূত্রাশয় খালি রাখার জন্য
এগুলো সাময়িক, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
সিজারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা শরীর, মন—দুটোই কাঁদে। এই সময় মায়ের দরকার বিশ্রাম ,সহানুভূতি ,পরিবার ও স্বামীর পূর্ণ সহযোগিতা।
একজন মা এই কষ্ট সহ্য করেই নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনে—এটা কোনো ছোট ব্যাপার না ।