Dr. Ayenun Akter Luna

Dr. Ayenun Akter Luna Gynae

15/09/2025

সংগৃহীত কিনতু জানানো প্রয়োজন।কয়েকদিন আগে প্রেগন্যান্ট মহিলা এসেছিল এই বিড়ালের কামড় নিয়ে।

সংগৃহীত পোষট
সাম্প্রতিক ইমারজেন্সি রুমে ডিউটি চলাকালীন রেজিস্ট্রারে দেখলাম ১২ ঘণ্টায় ৬৫ জন Rabies Vaccine নিয়েছেন। এটা শুধুমাত্র একটি হাসপাতালের গত বার ঘণ্টার চিত্র।

এদের মধ্যে মাত্র একজন ছিল ইঁদুরের কামড়, একজন ছিল কুকুরের কামড়। আর বাকি সবাইকে হয় বিড়াল আচড় দিয়েছে না হয় কামড় মেরেছে।

এভাবে চলতে থাকলে কতৃপক্ষের এর পক্ষ থেকে জলাতঙ্কে ভ্যাকসিনের মত একটি অতি প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে যাবে।

রেবিস অর্থাৎ জলাতঙ্ক রোগ এমন একটি রোগ যার mortality 100 percent(মৃত্যুহার ১০০%).. Accidentally কুকুর-বিড়ালের কামড় খাওয়ার জন্য যাদের আসলেই ভ্যাকসিন দরকার ছিল, তারা এ জন্য ভুক্তভোগী হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই ধরনের ভ্যাকসিন উৎপাদনেরও যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কুকুর-বিড়াল সহ সকল প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। কিন্তু আদিখ্যেতা করা বন্ধ করুন।

Momen Ali khan
বিড়াল পালতে গিয়ে ফ্যান্টাসি ভোগা:

আমাদের অনেকের মাঝে বিড়াল-কেন্দ্রীক কিছু ফ্যান্টাসি কাজ করে। এই যেমন অনেকেই মনে করে বিড়াল পালন করা সুন্নাহ। এটা মারাত্মক ভুল ধারণা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়াল পালন করেছেন বা পালন করতে বলেছেন মর্মে কোনো হাদীস তো দূরের কথা, কোনো আছারও পাওয়া যায় না।

বিড়াল সংক্রান্ত যেসব হাদীস পাওয়া যায় তা হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জনৈক মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রাখে, এ অবস্থায় সেটি মারা যায়। সে এটিকে বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে (নিজে) জমিনের পোকা-মাকড় খেতে পারে। (সহীহ বুখারী, ৩৪৮২, ৩৩১৮; সহীহ মুসলিম, ২২৪২)

ফাতহুল বারীর রচয়িতা হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. এই হাদীসের ব্যাখায় ইমাম কুরতুবী রহ. এর সূত্রে বর্ণনা করেন, বিড়ালকে খানাপিনা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করা যাবে না এই শর্তে বিড়াল পালা জায়েয আছে। (ফাতহুল বারী, ৬/৪১২)

কিন্তু এই জায়েয কাজ করতে গিয়ে অনেকেই সময় অপচয়, অর্থ অপচয়, এমনকি ফরজও ত্যাগ করে ফেলেন! ফেসবুকে বিড়াল-কেন্দ্রীক বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে, সেখানে এর উদাহরণ পাবেন প্রচুর! কেউ কেউ বিড়ালের পেছনে মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন! সারাদিন বিড়াল নিয়ে মাতামাতি, বিড়ালকে সোনা-বাবু নাম দেয়া, ঘরের মহিলা নিজেকে বিড়ালের মা আর পুরুষকে বিড়ালের বাবা বলে পরিচয় দেয়া এগুলো সবই ফ্যান্টাসির অন্তর্ভুক্ত। এমনকি বিড়াল পালন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়ে বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও দেখেছি। স্ত্রী সারাদিন বিড়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং স্বামীকে সময় না দেয়ায় স্বামী বিড়াল পালতে নিষেধ করলে স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে দেয়।

সুতরাং, কারও যদি বিড়াল পালতে গিয়ে সময় ও অর্থ অপচয় হয়, ফরজ নামাজের কোনো খেয়াল না থাকে, তাহলে তার জন্য বিড়াল পালা জায়েয হবে না।

- তানজিল আরেফিন আদনান (হাফিঃ)

10/08/2025
17/02/2024
করোনার চেয়ে ভয়ানক। ১০০%মৃত্যু হার।অতিমাএায় সংক্রামক রোগ।
20/12/2023

করোনার চেয়ে ভয়ানক। ১০০%মৃত্যু হার।অতিমাএায় সংক্রামক রোগ।

02/12/2023

♥️♥️শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে যে বাড়তি খাবারগুলো দিতে হবে:

💝শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পারিবারিক পরিপূরক খাবার দিতে হবে।কারন এই সময় শুধু বুকের দুধ শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারেনা।শিশুর খাদ্য তালিকায় পরিপূরক খাদ্য হিসাবে যে সমস্ত পুষ্টিকর ও সুষম খাবার যুক্ত করতে হবে সেগুলো হলোঃ

🇧🇩আলু ও ডাল সিদ্ধ করে চটকিয়ে খাওয়াতে হবে।
বিভিন্ন প্রকার শাক-সব্জি, চাল, ডাল মিশিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো যেতে পারে।

🇧🇩ডাল বা দুধে রুটি ভিজিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

🇧🇩বিভিন্ন প্রকার দেশীয় ফল যেমন কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারা, আম, আনারস ইত্যাদি চটকিয়ে বা এসব ফলের জুস বানিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। ফলের মধ্যে প্রথমে কলা দিয়ে শুরু করতে পারেন।

🇧🇩চালের সুজি : শিশুদের সামান্য দুধ দিয়ে চালের সুজি রান্না করে খাওয়াতে পারেন।সুজি অনেকটা ভাতের কাজ করে,যা শিশুর শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

🇧🇩 ডিম সিদ্ধ ও নরম করে খাওয়ানো যেতে পারে।

🇧🇩চিড়া, মুড়ি বা ভাত, দুধ দিয়ে নরম করে মেখে খাওয়ানো যেতে পারে।

🇧🇩টমেটো, মটরশুটি, ফুলকপি, শিম ও অন্যান্য শাকসব্জি ভাল করে সিদ্ধ করে চটকিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

🇧🇩মাছ-মাংস, ডিম: এই সময় শিশুকে মাছ মাংস ডিমের তৈরি খাবার চটকিয়ে খাওয়াতে পারেন।

স্বাস্থ ভালো রাখার পাশাপাশি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের জন্য অবশ্যই খাবারের সাথে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়াতে হবে।

পরিমান: ৬-৯ মাসের শিশুদের ২৫০ মিলি বাটির ১/২ বাটি দিনে ২ বার ও ২-৩ বার পুষ্টিকর নাস্তা

ডাঃমোঃ মোরশেদ আলম বাবলু
সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিভাগ CiMCH
কনসালট্যান্ট ল্যাব এইড

19/08/2023

The right full body stretching routine can help you loosen up your joints and muscles. Complete these 10 quick, easy stretches0:00 Adductor Stretch0:48 Iron ...

13/08/2023

ডেঙ্গু ও শিশুর জ্বর

পর্ব-১ : সাপোসিটরি দ্রুত জ্বর কমায় না

‘ডাক্তার সাহেব, কান্তার জ্বর 100° হওয়াতে দুচামচ প্যারাসিটামল দিলাম। জ্বর তো কমল না, উল্টো শরীর কেঁপে কেঁপে ১০৩°-এর ওপরে উঠে গেল আধ ঘণ্টার মধ্যে। তাড়াতাড়ি একটা সাপোসিটরি দিলাম ২৫০ মিলিগ্রাম। ঘণ্টাখানেক পর ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।’

মুখে খেতে পারে?

‘হ্যাঁ। পারে।’

তাহলে সাপোসিটরি দিলেন কেন?

‘দিব না! এত জ্বর। তাড়াতাড়ি জ্বর কমার জন্য, এই যে প্রেসক্রিপশন Suppository-250 mg if temperature is 103°F

আমি প্রেসক্রিপশনটা দেখলাম। চিকিৎসক এভাবেই লিখেছেন।

তাকে ছোট্ট করে বললাম সাপোসিটরি দিলে আর মুখে প্যারাসিটামল খেলে জ্বর কমতে সমান সময়ই লাগে।

কান্তার মায়ের চোখে প্রশ্ন আর খানিকটা সন্দেহ। স্বগোতক্তি শুনলাম ‘জ্বর বেশি হলে তো আমি সাপোসিটরি দেই।’

আরেকটু স্পষ্ট করতে হয় সাপোসিটরি দিলে যতক্ষণে জ্বর কমে, মুখে খেলেও ততক্ষণে জ্বর নামে। অর্থাৎ সাপোসিটরি আর সিরাপ/ট্যাবলেটের কার্যকারিতা একই।

‘কিন্তু জ্বর যদি ১০৩°-১০৪° ফা. হয়ে যায়! তখন তো সাপোসিটরি লাগবে? সাপোসিটরি তাহলে কখন দেব?’

একই প্রশ্ন আবার করলেন। কয়েকভাবে। সংশয়-বিস্ময় কিছুতেই কাটছে না। এখন আরেকটু বিস্তারিত করলাম তখনো একই কথা। বাচ্চা মুখে খেতে পারলে মুখে ওষুধ খেতে পারলে মুখে খাওয়ান। আর না পারলে বা বাচ্চা খেতে না চাইলে সাপোসিটরি দিন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাপোসিটরি তো দিতেই হবে, যেমন জ্ব¦রজনিত খিঁচুনি, বারবার বমি হচ্ছে, মুখে ঘা, গিলতে পারে না, শিশু অজ্ঞান হলে। শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক বিখ্যাত গবেষণা জার্নাল-Acta Pediatr Adolescent Med-এ ২০০৮ সালে প্রকাশিত মেটা অ্যানালাইসিসে গবেষকরা দেখিয়েছেন মুখে খাওয়ার প্যারাসিটামল আর পায়ুপথে দেওয়া প্যারাসিটামলের কার্যকারিতা সমান। মেটা অ্যানালাইসিস চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত উঁচুমানের গবেষণা পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। আবার কোনো কোনো গবেষণায় মুখে খাবার প্যারাসিটামল সাপোসিটরির চেয়েও ভালো কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মুখে প্যারাসিটামল আর পায়ুপথে দেওয়া প্যারাসিটামলের শুরুর ডোজের কিছুটা ভিন্নতা আছে মুখে খাওয়ার ডোজ ১৫ মিগ্রা/কেজি আর সাপোসিটরি তথা পায়ুপথে দেওয়া প্যারাসিটামলের ডোজ ৩০ মিগ্রা/কেজি। কান্তার ওজন ২০ কেজি শুরুর ডোজ হিসেবে মুখে খাবে ৩০০ মিগ্রা বা ১২.৫ মিলি আর সাপোসিটরি দেবেন ৫০০ মিগ্রা (৬০০ মিগ্রা ওষুধ বাজারে নেই)।

‘আমি তো বোতলের গায়ের বয়স অনুযায়ী লেখা দেখে ওকে ১০ মিলি দিলাম। সে জন্যই তাহলে জ্বর কমছিল না। পরে দিলেও কি একই ডোজ’?

মুখে খাবার ওষুধ দিনে সর্বোচ্চ চারবার, ৪-৬ ঘণ্টা পরপর দিতে পারবেন। সাপোসিটরি দিনে সর্বোচ্চ তিনবার। এটাও ৪-৬ ঘণ্টা পর পর। ওষুধের গায়ে লেখা ডোজ ওই বয়সী বাচ্চাদের গড়পড়তা ওজন ধরে করা হয়। আমি যেটা বললাম সেটা আপনার বাচ্চার ওজন ২০ কেজি হিসাব করে। আপনার দেওয়া একটু কম হয়েছিল। আর এক ডোজেই যে জ্বর নেমে বেইস লাইনে চলে আসবে তেমন কিন্তু না। সাধারণত ২-৩° ফা. কমে।

‘কিন্তু মুখে ওষুধ দেওয়ার পর জ্বর যদি চার ঘণ্টার আগেই আবার বেড়ে যায়। তাহলে কী করব? সাপোসিটরি দিয়ে দেব?’

চার ঘণ্টার মধ্যে পরের ডোজ না দেওয়াই শ্রেয়। সাপোসিটরিও দেওয়া যাবে না; তাহলে তো একই ওষুধ ডাবল ডোজ হয়ে যাবে। এমন হলে গা মুছে দিন হালকা গরম পানি দিয়ে। আপনিও কিন্তু কান্তাকে দিয়েছিলেন। একটু চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালেন। প্যারাসিটামলের দুডোজের ব্যবধান চার ঘণ্টা মুখে বা পায়ুপথে যেভাবেই দেন। তবে ডেঙ্গুজনিত জ্বর না হলে আইব্রুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে। এটা প্যারাসিটামলের সঙ্গে চার ঘণ্টার মধ্যেও ব্যবহার করতে পারা যাবে। দিনে সর্বোচ্চ ৩ বার।

পর্ব : ২। জ্বর রোগ প্রতিরোধ করে। উচ্চমাত্রার জ্বর ব্রেন ড্যামেজ করে না

‘জ্বর হলে কখন প্যারাসিটামল দেব? মানে, কত জ্বর হলে দেওয়া উচিত?’

বুঝলাম তিনি এখন একটু বিস্তারিত শুনতে চাচ্ছেন। চলুন, তাহলে আগে বুঝে নিই জ¦র কেন ওঠে? শরীরে কোনো ইনফেকশন হলে শরীর নিজেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, অর্থাৎ জ্বর হয়। মনে রাখবেন, জ¦র তৈরি করা কিন্তু জীবাণুর কাজ নয়, শরীরের কাজ। জীবাণুর বংশবৃদ্ধি রোধ এবং জীবাণু ধ্বংস করার জন্য শরীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ জ্বর রোগ প্রতিরোধ করার একটি শরীরবৃত্তীয় উপকারী কাজ। এখন বিশ্বের অনেক বড় শিশু হাসপাতাল জ্বর হলেই ওষুধ দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করছে। যেমন টেক্সাস চিলন্ড্রেন হাসপাতাল বলছে তোমার শিশু খারাপ বোধ না করলে ১০২° এমনকি ১০৩° ফা. পর্যন্ত জ্বর কমার ওষুধ দেওয়ার দরকার নেই। [Fever in Children (texaschildrens. org)] আর আমার রোগীদের আমি লিখে দেই ‘জ্বর ১০১° ফা.-এর বেশি হলে ... মিলি প্যারাসিটামল দেবেন। ‘আরেকটা কথা জ¦র না থাকলে ঘড়ি ধরে ছ’ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল দেওয়া অপ্রয়োজনীয়।

‘কেন, আগে দিলেই তো ভালো। আমার বাচ্চার জ্বর হলে তো দেখতে দেখতে ১০৩-১০৪° ফা. উঠে যায়! মাথায় হাত দিলে পুড়ে যাওয়া অবস্থা! অপেক্ষা করলে জ্বর বেড়ে যদি ব্রেন ড্যামেজ হয়ে যায়?’ মায়ের মুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা।

বুঝতে পারলাম অধিকাংশ অভিভাবকের মতো ইনিও ‘ফিভার- ফোবিয়া’তে আক্রান্ত। ‘ফিভার-ফোবিয়া’ হচ্ছে জ্বরের জন্য অবৈজ্ঞানিক আর অহেতুক দুশ্চিন্তা। ইতালিয়ান গবেষক ক্যাটালিনা ২০১৯ সালে Acta Pediatrica জার্নালে প্রকাশিত ৪৫৬৬ জন স্বাস্থ্য কর্মীর ওপর করা একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন এটা বিশ্বব্যাপী ফেনোমেনন। শুধু বাবা-মা নন, চিকিৎসক-নার্সরাও ফিভার-ফোবিয়াতে ভোগেন এবং অনেক সময় অপ্রয়োজনে জ্বরের ওষুধ প্রেসক্রাইভ করেন। কান্তার মা-ও তাই মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে উতলা।

জ¦র ১০৪-১০৫° ফা. হলেও তা মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি করে না। জ্বর যদি মস্তিষ্কের প্রদাহ বা ইনফেকশনের কারণে হয় (যেমন মেনিনজাইটিস, এনকেফালাইটিস); সে ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতিটা কিন্তু মস্তিষ্কের ইনফেকশনের কারণে, জ্বর থেকে নয়। সিয়াটল চিলড্রেন হাসপাতাল বলছে- জ্বর ১০৮ক্ক ফা. হলে থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। [Fever-Myths Versus Facts (seattlechildrens. org)] আমার ৩৫ বছরের চিকিৎসক জীবনে এবং আমার দুই শিক্ষক জানালেন, ৫০ বছরের চিকিৎসক জীবনে তারাও কোনো শিশুর ১০৬ক্কফা. জ্বর হতে দেখেননি। সাধারণভাবে জ্বর মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতির কারণ নয়।

‘আমার ভাইয়ের ২ বছর বয়সী বাচ্চার জ্বর ১০১° ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম দিনেই খিঁচুনি হয়ে গেল। তাহলে সেটা কী? খিঁচুনি তো মস্তিষ্কের কারণেই হয়। বাচ্চাটা ৪-৫ মিনিট ধরে রেসপন্স করছিল না, চোখ উল্টানো, মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। আমরা সবাই আতঙ্কে ঠান্ডা। ভয়ংকর দৃশ্য!’

ভদ্রমহিলার প্রশ্নের ভেতর ঘটনার পরম্পরা ও চিন্তার সাযুজ্য দেখে চমৎকৃত হলাম। মনে হচ্ছিল, আইনজ্ঞের জেরার মুখে আছি। ইদানীং অনেকে মোবাইলে প্রশ্ন লিখে আনেন, কেউ কেউ ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে আসেন, ইনি স্বতঃস্ফূর্ত। এ ধরনের অসুখকে জ্বরজনিত খিঁচুনি বলে। এটা প্রতি ১০০ জন ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২-৫ জনের হয়ে থাকে। কারণ এখনো জানা যায়নি। এই খিঁচুনি সাধারণত ৩-৫ মিনিট স্থায়ী হয় (সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট)। জ্বরজনিত খিঁচুনির কারণে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রথমবার হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসক/হাসপাতালের পরামর্শ নিতে হবে মস্তিষ্কের প্রদাহ তথা মেনিনজিটিসের জন্যও এ রকম হতে পারে (জ্বরজনিত খিঁচুনি নিয়ে অন্য কিস্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে)।

পর্ব : ৩। বেশি জ্বর হলে কি অ্যান্টিবায়োটিক দিলে তাড়াতাড়ি ভালো হয়?

‘গত বছর মার্চ মাসে কান্তার অনেক জ্বর হয় ১০৩/১০৪° ফা.। কাশিও ছিল। জ্বর কমলে সে স্বাভাবিক খেলাধুলা করছে। আবার ৪/৫ ঘণ্টা পরই জ্বর আসছে 103/104°,, বেশি জ্বর বলে দ্বিতীয় দিন থেকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলো। তিন দিন পর থেকেই জ্বর নেই। সম্পূর্ণ ভালো। আপনি কি...’

এবার তার কথাটা পুরো না শুনেই বললাম জ্বর বেশি-কম হওয়া রোগ মারাত্মক হওয়া নির্দেশ করে না। কিংবা ব্যাক্টেরিয়াজনিত জ্বর বোঝায় না। অনেক ভাইরাসজনিত জ্বর যেমন ডেঙ্গু, এডেনোভাইরাস ইনফেকশনে জ্বর ১০৪-১০৫° ফা. হয়ে যায়। অল্প জ্বর অনেক সময় মারাত্মক রোগ থেকে হয়ে থাকে, যেমন যক্ষ্মা। মোদ্দা কথা হচ্ছে, কেবল জ্বর নয়, অন্যান্য আনুষঙ্গিক লক্ষণ দেখে এবং অন্যান্য পরীক্ষা দেখে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হয়।

‘আপনি বলছেন জ্বর ১০১ক্ক না হলে প্যারাসিটামল দেওয়ার দরকার নেই। তাহলে আমার বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা কত হলে জ্বর হয়েছে বলব? ৯৯° ফা. হলে?’

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু চিকিৎসকদের পেশাগত সংগঠন আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ৯৭-১০০° থাকলে সেটাকে স্বাভাবিক বলছে। মানব শরীরে একটা জোয়ার-ভাটার খেলা আছে একে সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rythm) বলে। এরই টানে শরীরের তাপমাত্রাও বিকেলে (জোয়ারে) বেশি থাকে আর ভোরের আলো ফোটার আগে (ভাটার সময়) সবচেয়ে কম থাকে।

‘জ্বর ১০০° হলেও চিন্তা করব না!’ মা খানিকটা দ্বিধান্বিত।

বিকেলে তাপমাত্রা ১০০° দেখলে উতলা হবেন না। কিন্তু ভোর ৪টায় ১০০ক্ক হলে সেটা কিন্তু জ্বর। সেই যে বললাম সার্কাডিয়ান রিদমের কারণে বিকেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে আপনার বাচ্চা যদি নেতিয়ে পড়ে, খেলাধুলা বন্ধ করে কেবল শুয়ে থাকে, অস্বস্তি বোধ করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটা কথা মনে রাখা দরকার, তিন মাস বয়সের কম কোনো শিশুর জ্বর হলেই তাকে হাসপাতালে/চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। এক দিনের জ্বর হলেও। এই বয়সী শিশুদের অল্প জ্বরও মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে।

পর্ব-৪। ডেঙ্গুতে জ্বর কমা থেকেই বিপদের শুরু ‘সব অসুখে জ্বর কমা মানেই সুস্থতা। কিন্তু ডেঙ্গুতে শুনি জ্বর কমে গেলেই আসল সমস্যা শুরু! কেন?’

আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা বর্তমানের ডেঙ্গু আলোচনায় ঢুকে পড়লাম। ডেঙ্গু জ্বরের এই বিষয়টা বেশ বৈপরীত্যের, খানিকটা খাপছাড়া, যা অন্য কোনো রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ডেঙ্গু জ্বরের সময় হাত-পা-শরীর ব্যথা, খাবার রুচি নেই, জ¦র সহজে নামছে না। জ্বর কমে গেলে যেই না একটু ভালো বোধ করছেন। খাবার রুচি ফিরে পাচ্ছেন। আপনার ডাক্তার বলছেন সাবধান। আপনি ডেঙ্গুর ক্রিটিকাল স্তরে প্রবেশ করছেন। আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার (কারও কারও ক্ষেত্রে ৭২-৯৬ ঘণ্টা) মধ্যে প্রেশার কমে শকে চলে যেতে পারেন। প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। রক্তক্ষরণ হতে পারে। বেশি করে পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি পান করেন। নিয়মিত রক্তচাপ (দিনে অন্তত দুবার) মাপুন। নিয়মিত রক্তের সিবিসি (ঈইঈ) পরীক্ষা করুন। অর্থাৎ জ্বর কমে গেলে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে স্বস্তি নেই। অস্বস্তি শুরু।

‘রক্তচাপ মেপে কী বোঝেন ডাক্তাররা?’

ভদ্রমহিলা আমাকে ৫ম বর্ষ এমবিবিএসের পুরো একটা ক্লাস করিয়ে নিচ্ছেন যেন! রক্তচাপ মাপার মাধ্যমে আমরা দু’ভাবে বুঝতে পারি-১. সিসটোলিক (Systolic BP) রক্তচাপ ৯০ মিমির নিচে নেমে গেলে। ২. সিসটোলিক ও ডায়াসটোলিক (Diastolic BP) রক্তচাপের ব্যবধান ২০-এর চেয়ে কম হলে। যেমন-৯৫/৮০ বা ১১০/৯৫।

লেখক: অধ্যাপক ডা. সাকিল আহম্মদ
শিশু বিশেষজ্ঞ (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি)

তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকা

25/06/2023

NEAR MISS

প্রসূতিবিদ্যা বা অবস্টেট্রিক্সের ভাষায় Near miss মানে হোল মাকে প্রায় হারিয়ে ফেলা। অর্থাৎ মরতে মরতে যে মা বেঁচে যায়।

প্রেগন্যান্সি মানেই ঝুঁকিপূর্ন। তাই সারা বছর এন্টিন্যাটাল চেক আপে থেকে কোন সমস্যা না থাকা স্বত্তেও প্রসবকালীন যে কোন জটীলতা দেখা দিতে পারে।এজন্যই এন্টিন্যাটাল চেক আপের উপকারীতা বর্ননার শেষ কালে উপসংহার টেনেছে এই বলে যে " সবকিছু ঠিক থাকার পরেও মাকে সুস্থ রেখে একটি সম্পূর্ন সুস্থ বাচ্চা জন্মদানের নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।"

তিনদিন ধরে আবহাওয়ার দশ নাম্বার সঙ্কেত দেবার পরে মানুষ এত এলার্ট হয়ে যায় যে সেই দশ নাম্বার ঝড় নাও আসতে পারে আর এলেও মানুষের জীবনের নাশ কমই হয়ে থাকে। আর হঠাৎ যে সুনামিটা এল, টের পাবার আগেই সম্পূর্ন লোকালয় ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

অবসটেট্রিক্সের দশ নাম্বার সঙ্কেত অনেকগুলো আছে, যেটার জন্য প্রসবকালীন সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। ডেলিভারী কোথায় হবে, কখন হবে রাতে নাকি দিনে, কে করাবে, কিভাবে হবে, কতরকমের কনসালট্যান্ট উপস্থিত থাকবে, কয়ব্যাগ ব্লাড রেডি থাকবে ইত্যাদি। কিন্তু যেখানে কোন সঙ্কেতই নেই, যেই ডেলিভারীতে বেবী গড়িয়ে গড়িয়ে চলে আসে সেই ডেলিভারী দাইরা করায়। শুধু ধপাস করে পরে যেয়ে ব্যাথা না পায় সেটার জন্য ধরে ফেলে। আর হাসপাতালে মিডওয়াইফ করায়। সেরকম কেইসগুলোতেও সুনামি হতে পারে। হঠাৎ করে মারা যেতে পারে। "এমনিওটিক ফ্লুইড এমবোলিজম"। ফুসফুসের রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। কার্ডিয়াক এরেস্ট। হঠাৎ হৃদপিন্ডের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রসবত্তোর রক্তক্ষরন, পানিভর্তি মাটির কলসীতে একটা বারি মারলে যেমন পানি পরে ফ্লোর ভিজিয়ে দেয় তেমনি অকল্পনীয় রক্তক্ষরন হয়ে লেবাররুম বা ওটির ফ্লোরে সুনামি হওয়া।

এগুলো তড়িতগতিতে ম্যানেজমেন্ট করলে বাঁচানো যেতেও পারে, নাও যেতে পারে। মারা গেলেতো দুর্ভাগ্য, বেঁচে গেলে এদেরকে বলি "near miss"। এজন্য যে সে চলে যাচ্ছিলে প্রায়। তাকে আমরা মিস করতে যাচ্ছিলাম।

দশ নাম্বার সঙ্কেতেরগুলোরও কারো কিছুই হয়না, কেউ কেউ আবার চলে যেতে যেতে ফিরে আসতে পারে।

রাত আড়াইটায় আইভির টেলিফোন, আপা গাড়ী পাঠিয়েছি, শিগগীর একটু মারকাজুলে আসেন। পিপিএইচ ( প্রসবোত্তর রক্তক্ষরন)। যেই ড্রেসে ছিলাম তাই পরেই চলে গেলাম। ওটি রক্তে ভেসে গেছে। সুনামি। পেশেন্টের ভাই ডাক্তার। জরায়ু কেটা ফেলা বাঞ্চনীয়। রোগী ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাবে। বুঝিয়ে বললাম যে ওকে মেডিকেলে নেবার পথে মারা যাবে। পথে মারা না গেলেও ওখানে সবকিছু এরেঞ্জ করতে করতে মারা যাবে। এখানে সব যেহেতু রেডি আছে ডাবল রিস্ক বন্ড দাও আমরা শেষ চেষ্টা করি। যেহেতু টেবিলেই মারা যেতে পারে তাই ডাবল রিস্ক বন্ড। শুধু ডাক্তার বলে সহজেই বোঝানো গেল এবং পেশেন্টকে বাঁচানো গেল। যে কোন মুহূর্তে সে মারা যেতে পারত। এমন একটি গল্প নয়৷ অনেকটিই আছে।

আর এই গল্প শুধু আমার নয়। এদেশের প্রতিটি অবস্টেট্রিসিয়ানের এমন গল্প আছে। আপনি তা জানেন কি? না এই দুঃসাহসিকতার গল্প আপনি জানেন না। কারন এটা খবর হয়না। এটাতে সংবাদপত্রের কাটতি বাড়ে না। টি আর পি বাড়ে না। তাই শত সহস্র Near miss এর কাহিনী অজানাই থেকে যায়। শুধু মারা গেলেই ভুল চিকিৎসা হয়ে যায়। বাংলাদেশের এই দুঃসাহসিক অবস্টেট্রিসিয়ানরা এমন শত শত কেসকে ফিরিয়ে এনে মাতামৃত্যুর হার কমিয়ে এম ডি জির লক্ষ্য পূরন করেছে। তার ফলশ্রুতিতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরুষ্কৃত হয়েছেন।

যে কোন চিকিৎসক তার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে পেশেন্ট বাঁচাতে। আল্লাহ কি মানুষের জীবন চিকিৎসকের হাতে দিয়ে দিয়েছে? না। সব চেষ্টার পরেও বাঁচাতে না পারলে অবস্টেট্রিসিয়ানের বুকের ঝড়, বুকের ব্যথা কেউ দেখেনা।

তবুও যদি কখনও মনে হয় চিকিৎসা সঠিক হয়নি তাহলে অভিযোগ করুন, তার তদন্ত হোক, তদন্তে সঠিক চিত্র বেরিয়ে আসুক তারপরে কারো অবহেলা হলে তাকে শাস্তি দিন। তার আগে কাউকে জেলে নিয়েন না। কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলিয়েন না। পেশেন্ট যেমন আপনার দেশের, চিকিৎসকও আপনার দেশের। একজনকে ভালবাসতে গিয়ে আর একজনার উপর অবিচার করবেন না। এমন চলতে থাকলে NEAR MISS এর গায়ে কেউ হাত দিতে সাহস পাবে না।
(Professor M. Rashida Begum ম্যাডাম এর লেখা )

24/06/2023

বিবাহ-পূর্ব কাউন্সিলিং (Premarital counseling)
June 22, 2023
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। প্রাগৈতাসিক কাল থেকে নারী ও পুরুষের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয় নতুন প্রজন্ম।

ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্তিকরণের মাধ্যমে সুস্থ্য ভ্রূণ তৈরী হতে নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অর্থাৎ ৪৬ টা ক্রোমোজোম এর ২৩ টি আসে নারীর ডিম্বাণু থেকে এবং বাকি ২৩ টি আসে পুরুষের শুক্রাণু থেকে। ২৩ টির ভিতর একটা সেক্স ক্রোমোজোম থাকে, আর বাকী ২২ টা অটোসোম। নারীরা শুধু সেক্স ক্রোমোজোম হিসেবে 'X' দিতে পারে। আর পুরুষ সেক্স ক্রোমোজোম হিসেবে 'X' ও 'Y' দিতে পারে। পুরুষের উপর নির্ভর করে অনাগত শিশু মেয়ে না ছেলে এবং সেটা ফার্টিলাইজেশনের সময়ই নির্ধারণ হয়। পুরুষের 'X' ক্রোমোজোম এর সাথে নারীর 'X' ক্রোমোজোম মিললে মেয়ে সন্তান হয়, আর পুরুষের 'Y' ক্রোমোজোম এর সাথে নারীর 'X' ক্রোমোজোম মিললে ছেলে সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু যুগে যুগে মেয়ে সন্তান জন্ম দেবার জন্য নারীরাই বিভিন্নরকম নির্যাতনের শিকার হয়, এমনকি বহুবিবাহ, সংসারও ভেঙ্গে যায়।

অথচ বিয়ের পর নারীর শরীরে অনেক পরিবর্তন হয়, সেই শৈল্পিক সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। ঠিক যেন বুল্ডোজার দিয়ে সব এলোমেলো হয়ে যাওয়ার মত আর গর্ভধারণের পর শরীরের উপর দিয়ে যেন সুনামী-সাইক্লোন বয়ে যায়। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়- গর্ভের সন্তান মেয়ে না ছেলে। এই সভ্যজগতেও অনেকে মেয়ে সন্তান জানার পর গর্ভপাত করায়। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য মায়ের মৃত্যুও হতে পারে, সংক্রমণ, বন্ধ্যাত্ব, টিউবে প্রেগ্ন্যান্সি হয়ে দাম্পত্য জীবন দূর্বিসহ হয়ে যেতে পারে। ভুক্তভোগী নারীরাই হয়ে থাকে, এটাই নিয়তি।

সংসারযাত্রা শুরু করার আগে দাম্পত্য জীবন মধুময় ও সুখকর করার নিমিত্তে মানসিক প্রস্তুতি, পারষ্পরিক আচার-আচরন, বিশেষ মুহূর্ত সুন্দরভাবে উপভোগ করার নিয়ম কানুন, পারিবারিক ইতিহাস ও কিছু রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী গর্ভকালীন, প্রসব কালীণ, প্রসন পরবর্তী মায়ের ও শিশুর জটিলতার ঝুকি কমায়। বিশেষ কিছু রোগের উপর আমরা গুরুত্ব দিব-

# ইনহেরিটেবল ডিজিজ- যেমন থ্যালাসিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ; এই রোগ বংশ পরম্পরায় সন্তানের মাঝে দেখা দিতে পারে। নবাগত সন্তান বাহক বা রোগে আক্রান্ত হবে কিনা তা নির্ভর করবে বাবা-মায়ের এই রোগ বহন করার উপর। তাই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী বংশধরদের এই রোগ এড়ানো সম্ভব। রক্তের গ্রুপ ও আর.এইচ. ফ্যাক্টর জানা প্রয়োজন। গর্ভের বাচ্চা যদি আর.এইচ. পজিটিভ হয় তাহলে বাচ্চার ঝুঁকি থাকে।

# অসংক্রামক ব্যাধি- যে রোগগুলো একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না,অর্থাৎ ছোয়াচে না যেমনঃ বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ। এই সকল রোগ ব্যক্তি বিশেষ এর যেমন ক্ষতি করে, তেমনিভাবে গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষ এর ঝুঁকি কমানো যায়।

# যৌনবাহিত সংক্রামক ব্যাধি- এই সকল রোগ ব্যক্তিগত ক্ষতি সাধন যেমন হয়, অনাগত ভবিষ্যৎ শিশুর উপরও প্রভাব ফেলে। এই সকল অনেক রোগই চিকিৎসা করলে সম্পুর্ন সুস্থ হওয়া যায়। নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এই ব্যাধি গুলি হলঃ সিফিলিস, গনেরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, জেনিটাল হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস, হেপাটাইটিস বি এবং সি , এইডস।

অনেক সময় দেখা যায়, নব দম্পতির দুইজনই শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের পরে অনাকাংক্ষিত কিছু জটিলতার সম্মুখীন হয়। প্রজননতন্ত্রের ক্ষত হওয়ার দরুন অনেক রক্তপাত হয়। বেশী রক্তক্ষরণ হলে যেমন জীবন ঝুকিপুর্ন হয়, আবার পরবর্তীতে দাম্পত্য সুখ ব্যহত হয়।

দাম্পত্য জীবন আনন্দময় করতে হলে তিনটি নিয়ম মানলে ভালো হয়। যেমন- ফোরপ্লে, আর্ট অফ প্লে, পোস্ট প্লে।

রুটি স্যাকার সময় ঠাণ্ডা তাওয়া চুলায় দেওয়ার সাথে সাথে রুটি ভাজা হয়ে যায় না, কিছুক্ষণ তাপে গরম হওয়ার পর সুন্দরভাবে রুটি ফুলে উঠে।

ঠিক সেরকম মানুষের শরীরে কিছু স্পর্শকাতর স্থান আছে, যেগুলির সঠিক ব্যবহারে দাম্পত্য জীবন অনেক আনন্দময় হয়।

পুরুষের ইন্দ্রিয় খুব দ্রুত সাড়া দেয়, সেই তুলনায় মেয়েদের ইন্দ্রিয় খুব ধীরে ধীরে সাড়া দেয়। সে জন্য পুরুষকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে এবং সহযোগীতামূলক মনোভাব থাকতে হবে।

বিপদে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার চেয়ে পেটে ক্ষুধা মুখে লজ্জা না রেখে লাড্ডু খাওয়ার আগেই পরামর্শ নিলে ছোট ক্ষণস্থায়ী জীবন অনেক সুন্দর, আনন্দময় উপভোগ্য হয়।

All the great creations in the world are eternally good, half of them are made by women and half by men. From prehistoric times, new generations are created through men and women.

Fertilization of egg and s***m requires equal participation of both men and women to create a healthy embryo. That is, 23 of the 46 chromosomes come from the female egg and the remaining 23 from the male s***m. 23 contain a s*x chromosome, and the remaining 22 are autosomes. Females can only give 'X' as s*x chromosome. And male can give 'X' and 'Y' as s*x chromosomes. Whether the unborn child is a boy or a girl depends on the male and it is determined at the time of fertilization. A male 'X' chromosome is combined with a female 'X' chromosome to produce a female child, and a male 'Y' chromosome to a female 'X' chromosome is combined to produce a male child. But over the ages, women are subjected to various tortures for giving birth to girls, even polygamy, families are broken.

But after marriage, a woman's body changes a lot, that artistic beauty fades. It's like being bulldozed and a tsunami-cyclone washes over the body after conception. Within the first three months of pregnancy, it is known through the test whether the child is a girl or a boy. Even in this civilized world, many people abort after having a girl child. As a result, the mother may die due to excessive bleeding, infection, infertility, pregnancy in the tube and married life may be ruined. Women are the victims, that is destiny.

Before starting the journey of marriage, mental preparation to make married life sweet and happy, conduct, rules to enjoy special moments beautifully, family history and some blood tests reduce the risk of complications during pregnancy, childbirth, post-partum for mother and baby. We will focus on certain diseases-

# Inheritable diseases- such as thalassemia, sickle cell disease; This disease can appear in children from generation to generation. Whether the newborn will be a carrier or have the disease will depend on whether the parents carry the disease. So it is possible to avoid this disease in the next generation by blood test before marriage. Blood group and Rh. Factors need to be known. If the baby in the womb is Rh positive, the child is at risk.

# Non-communicable diseases – diseases that are not spread from person to person. That is, not contagious, such as diabetes, high blood pressure, heart disease. As these diseases harm the individual, they also increase the risk of maternal and child mortality, and may even lead to death, during pregnancy, childbirth, and the postpartum period. Individual risk can be reduced by leading a disciplined lifestyle.

Transmitted Diseases – As well as causing personal harm, these diseases also affect the unborn child. Many of these diseases can be completely cured if treated. It is possible to avoid risk to yourself and future children. These diseases are: Syphilis, Gonorrhea, Chlamydia, Trichomoniasis, Ge***al Herpes, Ge***al warts, Hepatitis B & C, AIDS.

It is often seen that even though both the newlyweds are educated, they face some unwanted complications after marriage. Reproductive tract lesions cause profuse bleeding. If there is excessive bleeding, life is at risk, and later marital happiness is disrupted.

To make married life happy, it is better to follow three rules. E.g. - Foreplay, Art of Play, Post Play.

The bread doesn't get fried as soon as it is placed in a cold tawa oven during bread baking, the bread puffs up nicely after heating for a while.

Just like that, there are some sensitive areas in the human body, which, if used properly, make married life much more enjoyable.

Men's senses respond very quickly, while women's senses respond very slowly. For that the man should be patient and have cooperative attitude.

If you take advice before eating the laddu without shame in your stomach and face, instead of going to the doctor because of danger, the small fleeting life will be much more beautiful, joyful and enjoyable.

Counseling

Comments

Powered by Blogger
Contents created by Professor Dr. S.M. Nahida Akhter, Dept of Obs & Gynae, Mymensingh Medical College (Ex)

Thanks madam prof dr.S.M.Nahida for your nice blogging..

14/06/2023

নারী যখন গর্ভবতী হয় তখন বাচ্চার কোষগুলি মায়ের রক্ত প্রবাহে স্থানান্তরিত হয় এবং তারপরে তা আবার বাচ্চার মধ্যে ফিরে যায়, এই প্রক্রিয়াকে বলে "ফেটাল-মেটেরনালমাইক্রোকিমেরিজম" ।( fetal maternal -microchimerism)

এই প্রক্রিয়া ৪১ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে বাচ্চা থেকে মা, মা থেকে বাচ্চা। কিন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে কিছু কোষ মায়ের শরীরে রয়ে যায় সেই কিছু হচ্ছে ৬% কোষ। বাচ্চা মায়ের শরীরের হাড়ে, ব্রেইনে, ত্বকে এই পদচিহ্ন রেখে আসে, এবং অনেক সময় তা যুগ যুগ মা তা বহন করে থাকে। এবং প্রতিটি বাচ্চাই আলাদা আলাদাভাবে মায়ের শরীরে কোষ কিছু ছেড়ে আসে। তার মানে আপনার মায়ের যদি ৫ বাচ্চা থাকে তার মানে ৫ জনের চিন্হ সে তার শরীরে বহন করছে।

এবং এটি কোন মায়ের যদি গর্ভপাতও হয়ে যায় তখনও সেই নারীর শরীরে ভ্রূণের কোষ রক্তে ভাসমান থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে অনেক মায়ের যদি হার্ট ইঞ্জুর্ড হয় তবে ভ্রূণের কোষগুলি সেই স্থানে ছুটে যায় এবং বিভিন্ন ধরণের কোষে পরিবর্তিত হয় যা হার্টকে ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাচ্চার কোষ মায়ের হার্টকে মেরামত করতে সহায়তা করে, যখন মা বাচ্চাকে বড় করছে ।

এই কারণেই প্রায়শই গর্ভবতী হওয়ার সময় অনেক নারীর কিছু রোগ এমনি এমনিই ভালো হয়ে যায়।

এটি অবিশ্বাস্য যে মায়ের দেহ কীভাবে যে কোনও মূল্যে শিশুকে রক্ষা করে এবং বাচ্চাটি মাকে রক্ষা করে এবং পুনর্নির্মাণ করে - যাতে বাচ্চাটি নিরাপদে তার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং বেঁচে থাকতে পারে।
আরেকটা গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৮ বছর পরেও মায়ের ব্রেইনে বাচ্চার কোষ দেখা গেছে!

এই যে মায়ের হটাৎ মনে হয় বাচ্চা তার সামনে আছে বা বাচ্চার অনেক কিছু সে জেনে যায়, এতে অবাক হবার কিছু আছে? কারণ বাচ্চার অনেক চিন্হইতো সে বছরের পর বছর সে বহন করছে।

সংগৃহীত

Address

Mirpur 11
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Ayenun Akter Luna posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Ayenun Akter Luna:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram