26/01/2020
অনেকে হয়ত অবাক হচ্ছেন নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে এত কথা কেন হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাসতো বাংলাদেশে প্রবেশও করেনি। সুদূর চীন দেশে আছে। আর এর তীব্রতা ও সারস বা মারস করোনা ভাইরাস থেকে কম।
একটা সহজ ব্যাখ্যা দেই। গত বছর ডেংগু আমাদের দেশে মহামারী আকারে হল। ডেংগু ফিভারচখুব সাধারণ একটা রোগ। গতবছর প্রায় ২ লক্ষ ডেংগু রোগী ছিল দেশে। মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০০ জন( অফিসিয়াল ডাটা নয়)। তার মানে ডেংগুতে ডেথ রেট কিন্তু খুব কম। আরো কিছু ব্যাপার আছে এখানে। ডেংগু ফিভার কিন্তু এডিস মশা কামড়ালেই হবেনা। ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত কাউকে এডিস মশা কামড়াতে হবে, সেই মশা আবার অন্য কাউকে কামড় দিতে হবে। তাহলেই ডেংগু জ্বর হবে নতুবা নয়। সব এডিস মশা আবার ডেংগু ভাইরাস ছড়ায় না, শুধুমাত্র স্ত্রী মশা ছড়ায়। আর ডেংগু জ্বর কারো প্রথমবার হলে সাধারণত কোন জটিলতা হয়না৷ দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার হলে জটিলতা বাড়ে। আবার এডিস মশার বৃদ্ধির জন্য পানি দরকার। এজন্য বর্ষাকাল চলে গেলে ডেংগু জ্বরের প্রকোপ ও কমতে থাকে। সহজ কথায় ডেংগু জ্বর ছড়ানো এবং জটিলতা হওয়া অনেক কঠিন৷ কিন্তু এই ভাইরাস টি আমাদের রাজধানী ঢাকাকে গত বছর কাবু করে দিয়ে গিয়েছিল।
এবার নভেল করোনা ভাইরাস এর প্রসঙ্গে আসি। এই ভাইরাস ছড়ায় -
* হাচি, কাশির মাধ্যমে
* আক্রান্ত ব্যাক্তিকে স্পর্শ করলে
* ভাইরাস আছে এমন কিছু স্পর্শ করে হাত না ধুয়ে নাকে, মুখে বা চোখে ধরলে
সহজ ভাষায় ডেংগু ভাইরাসের এর চেয়ে নভেল করোনা ভাইরাস অনেক বেশী ছোয়াচে। ইতিমধ্যে নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিংগাপুর, জাপান, তাইওয়ান,হংকং, জাপান, ফ্রান্স এবং ইউ এস এ তে রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। চীন সহ এসব দেশের বহু মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এ জড়িত, তারা রেগুলার বাংলাদেশ এ যাতায়াত করেন৷ এসব দেশেও বহু বাংলাদেশী বসবাস করেন। তাই আমরাই এই ভাইরাসের ঝুকিতে আছি। এক ডেংগু আমাদের যে পরিমাণ ধরাশায়ী করেছে, এধরণের একটা ভাইরাস এটাক করলে কি হবে আমরা আসলেই জানিনা। বিশেষজ্ঞ রা অলরেডি মতামত দিয়েছেন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।
প্রতিরোধ ই একমাত্র সমাধান।
আসুন অন্তত নিচের নিয়ম গুলো মেনে চলি
* সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
* হাচি বা কাশি দেবার সময় হাত দেয়া এবং এর পর হাত ধোয়া
* কোন পশু পাখি খালি হাতে না ধরা বা ধরার পর হাত ধোয়া
* মাংস বা ডিম ভালভাবে রান্না করা
* ফ্লু আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথে না মেশা
* প্রয়োজন এ মুখে মাস্ক ব্যাবহার করা।