15/12/2025
চলুন, আজকে জানবো শীত কালে কেনো ত্বক এতোটা শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়।
শীতকালে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হওয়ার কারণগুলো মূলত ত্বকের সরাসরি পরিবেশগত এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত:
১. ত্বকের তেলগ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যাওয়া
ত্বকে যে সেবাম (sebum) বা তেল তৈরি হয়, সেটি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র রাখে। শীতকালে:
ঠাণ্ডা ও কম আর্দ্রতা (humidity) ত্বকের সেবাম উৎপাদন হ্রাস করে।
সেবামের অভাবে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল সুরক্ষা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়।
২. হাওয়া ও পরিবেশগত আর্দ্রতার ঘাটতি
শীতকালে বায়ুতে আর্দ্রতা খুব কম থাকে।
ঘরে হিটার বা রুম হিটার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা আরও দ্রুত নষ্ট হয়।
আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের স্ট্রাটাম কোর্নিয়াম (Stratum Corneum), অর্থাৎ উপরের স্ফটিক স্তর, শুষ্ক হয়ে ফাটতে পারে।
৩. ত্বকের প্রাকৃতিক জলবাহী স্তর ক্ষয়
ত্বকের NMF (Natural Moisturizing Factor), যা ত্বকের কোষে জল ধরে রাখে, শীতকালে কম কার্যকর হয়।
ফলস্বরূপ, ত্বক সহজেই পানি হারায় (transepidermal water loss বা TEWL বৃদ্ধি পায়)।
৪. রক্তসঞ্চালন ও চামড়ার স্বল্প-উষ্ণতা
ঠাণ্ডায় ত্বকের রক্তনালী সংকুচিত হয় (vasoconstriction)।
এই কারণে ত্বকের তাপমাত্রা ও পুষ্টি কমে যায়, ত্বক শুষ্ক ও ফাটা হতে পারে।
৫. চামড়ার কোষের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন কমে যাওয়া
শীতকালে স্কিন সেলের turnover rate ধীর হয়ে যায়।
মৃত কোষ উপরের স্তরে জমে যায়, ফলে ত্বক রুক্ষ এবং খোসা দেখা যায়।
উপসংহার (Medical Summary):
শীতকালে ত্বকের শুষ্কতা ও রুক্ষতা মূলত কম সেবাম উৎপাদন, আর্দ্রতার ঘাটতি, NMF হ্রাস, রক্তসঞ্চালনের ধীরগতি এবং কোষ পুনর্গঠনের ধীরগতি-এর সমন্বিত প্রভাব। ফলস্বরূপ, ত্বক নরম এবং আর্দ্র থাকে না, ফাটা ও চুলকানি দেখা দিতে পারে।