05/12/2025
অনাদিকাল থেকে মানুষ বেচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বেচে থাকার প্রয়োজনে কিংবা সামাজিক জীব হিসেবে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাকে চলতে হয়। এ পৃথিবীতে নানা ধরণের বৈচিত্রময় মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। এসকল মানুষদের মধ্যে কিছু মানুষ নানা ধরণের প্রতিবন্ধিতা এবং জন্ম ত্রুটি নিয়ে জন্মায় ফলে সব ধরণের মানুষের সাথে বা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে তারা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অক্ষম হয়। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পাশাপাশি এদেরও আছে বেচে থাকার অধিকার। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এ ধরণের শিশু যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তাদের সারাজীবন এ সন্তানকে নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট স্বীকার করে বাচতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে অনেকসময় এ ধরণের শিশু জন্ম দেয়ার কারণে শিশুটির পিতা মাতাকে পারিবারিক এবং সমিাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
আমাদের দেশে নানা ধরণের প্রতিবন্ধী আছে। যেমন- অটিজম, শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, সেরেব্রাল পালসি, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী। এদের সবারই প্রতিবন্ধিতার ধরণ আলাদা। এসকল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতাকে জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এসকল শিশুরা প্রায়ই নানা ধরণের অসুস্থতায় ভুগে ফলে তাদের পিতা-মাতা সার্বক্ষণিক মানসিক যন্ত্রণায় থাকেন। বর্তমানে দেশে অটিস্টিক ও অন্যান্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য অনেক ধরণের স্কুল গড়ে উঠেছে। এসকল স্কুলে এদেরকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শরীরচর্চা ও সামাজিকতা শেখানো হয়। অনেক স্কুলে এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের থেরাপি ও কারিগরি প্রশিক্ষণও দেয়া হয় ফলে এসকল শিশুদের পিতা-মাতার অনেকখানি কষ্টের লাঘব হয়।
২০০৯ সালে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অটিজম ও সেরেব্রাল শিশুদের জন্য শিক্ষা, সেবা ও কারিগরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্দ্যোগে এনজেলস কেয়ার ফাউন্ডেশন পরিচালিত এনজেলস কেয়ার স্পেশাল স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। এসকল শিশুদের জীবনমানের অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এসকল শিশুদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার চেষ্টায় নিয়োজিত আছে বিশেষ শিক্ষায় পারদর্শী একদল প্রশিক্ষিত শিক্ষক। আজ প্রতিষ্ঠানটির ১৬ বছর পূর্ণ হলো। নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আমরা আজও সবার সহযোগিতা ও আশির্বাদ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ এ পথচলায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের উপর আস্থা-বিশ্বাস রেখে পাশে দাড়ানোর জন্য আমরা আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যে পৌছতে পারি সে দোয়া চাই।