11/05/2026
আমি ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম গত ০৯/০৫/২০২৬ ইং তারিখে বিকাল শিফটে (দুপুর ২:০০ টা হইতে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত) জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ছিলাম। দায়িত্ব পালনের পুরোটা সময়ে আগত সকল রোগীকে যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। রাত ৮:০৫ মিনিটে তখন পর্যন্ত আসা সব রোগী স্বয়ং আমি নিজের চোখে দেখে এবং কর্তব্যরত স্যাকমো ও ওয়ার্ড বয়ের সাথে কথা বলে জরুরি বিভাগে উপস্থিত সকল রোগী এটেন্ড করা নিশ্চিত করি। পরবর্তীতে রাত ৮:০৬ মিনিটে আমি ডেস্ক হইতে উঠে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগের নিচে রাখা আমার মোটরসাইকেলটি নিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসি এবং রাত ৮:০৭ মিনিটে জরুরি বিভাগে একজন নতুন রোগী দেখতে পাই।
এমতাবস্থায় বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত “রোগী সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে আসার পরও ডাক্তার দেখেননি” মর্মে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে রাত ৮:০০ টার-৮:০৫ মিনিটের মধ্যে আগত রোগীকেও চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, উক্ত সময়েই পরবর্তী শিফটের (রাত) দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তখন রোগীর স্বজনদের আমি বলি, “রাতের ডাক্তার চলে এসেছেন, উনি এখনই রোগী দেখবেন। আমার রাত ৮ টা পর্যন্ত ডিউটি টাইম ছিল।” এই কথা বলার পর ৮:০৮ মিনিটে আমি জরুরি বিভাগ ত্যাগ করতে চাইলে রোগীর ৩-৪ জন স্বজন আমার পথরোধ করেন এবং উত্তেজিত এবং উদ্ধত আচরণ শুরু করেন। তাদের মধ্যে একজন উচ্চস্বরে আমাকে হুমকি প্রদান করে বলেন, “আপনি আমার রোগী না দেখে কীভাবে এখান থেকে বের হন সেটা দেখছি এখনই। পরের ডাক্তার বুঝি না, আপনিই আমার রোগী দেখে যেতে বাধ্য।” অপর একজন তরুণ তেড়ে এসে আমাকে বলেন, “আপনি কোথাও যেতে পারবেন না, আজ কীভাবে যান তা-ই দেখব।” পরবর্তীতে তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “দাঁড়ান ফোন দিচ্ছি, (স্বজনদের উদ্দেশ্যে) এই তোরা লোকজন ডাক দে, ইনাকে আজ দেখে নিব।”
আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চেয়েছিলাম; তবে উক্ত ভীতিকর ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে আমাকে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান করা হয়নি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ ও সম্ভাব্য হামলাজনিত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠায় আত্মরক্ষার্থে আমি স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হই। উল্লেখ্য, আমার শিফট শেষ হওয়ার পরও রোগীটি দেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পরবর্তী শিফটের ডাক্তার হাসপাতালে প্রবেশ করায় দায়িত্ব হস্তান্তরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করাতেই আমার প্রতি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় উক্ত রোগী দেখার পরিবেশ রোগীর স্বজনরাই নষ্ট করে এবং আমাকে উক্ত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে।
দুঃখজনকভাবে, কিছু স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার মানহানি করার লক্ষ্যে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন না করে ঘটনাটির আংশিক ভিডিও প্রচার করেন। ভিডিওর ঘটনার আগে রোগীর স্বজনদের দ্বারা শুরুতে আমাকে যে ভাষায় ও যেভাবে হুমকি প্রদান করা হয় এবং যার ফলে আমি নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে পড়ি, সেই অংশ সম্পূর্ণভাবে ভিডিওতে উপেক্ষা করা হয়। বরং কেবলমাত্র হুমকির পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও মলিন মুখে কথোপকথনসহ আমার স্থান ত্যাগ করার আংশিক দৃশ্য জনসম্মুখে ও ঠাকুরগাঁও জেলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে প্রচার করা হয়, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং আমার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের সম্মান করি। কিন্তু আজকাল মোবাইল একটা থাকলেই সবাই সাংবাদিক সেজে কাটছাট ভিডিও দিয়ে ডাক্তারকে হয়রানি করা একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
©
ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম
এমবিবিএস (রংপুর মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস (স্বাস্থ্য) [৪৪তম বিসিএস]
এফসিপিএস (কলোরেক্টাল সার্জারি) ফাইনাল পার্ট,
এমআরসিএস পার্ট-এ (ইংল্যান্ড)
ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার,
রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও।